বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্যরকম প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Nur alam (০ পয়েন্ট)

X রাস্তাটা ভিজেছিলো তখন বৃষ্টির পানিতে। সেই পানিতে একপা দু'পা করে কলেজ ড্রেস পড়ুয়া মেয়েটা ছাতা হাতে হাঁটছিলো। আর কাঁধের ব্যাগ সামলাচ্ছিলো। শার্টের ইন খুলে ছেলেটাও আসছিলো মেয়েটার পিছন পিছন। মেয়েটার চোখে লজ্জা। ছেলেটার চোখে উন্মাদনা। মেয়েটা হাঁটছে ধীরে ধীরে যেন ছেলেটার চেয়ে তফাৎ না বাড়ে। রাস্তায় পানি জমেছে- গলিটা ভিজছিলো আপন মনে। ছেলেটার বুকে হাতুড়ি বাজছে যতোই মেয়েটার কাছে যাচ্ছে। মেয়েটার পিঠের ব্যাগ ভিজে গেছে। চুলের বেনী ভিজে গেছে। বেনীতে বাঁধা লাল ফিতেও। ছেলেটার খেয়াল নেই হাত ঘড়িটা ভিজে নষ্ট হয়ে গেলে বাসায় বকবে। একটু বাঁক নিয়েই মেয়েটা ইটের রাস্তায় টুপ করে ঢুকে গেল। ছেলেটার গলার কাছে দলা পাকালো শূন্যতা- হারিয়ে গেলো মেয়েটা! ছেলেটা একটু জোরে হেঁটে যেই ইটের রাস্তায় গলির মুখে দাঁড়ালো; ওমনি ওর পা কেঁপে উঠলো। মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে ছাতা হাতে। ছেলেটা রাস্তার পানিতে টুপ টুপ করে পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। পানিতে ছেলেটার পায়ের শব্দ মেয়েটার মুখ লজ্জায় আরো লাল করে দিল। ছেলেটা সামনে এসে দাঁড়ালো। নীল সাদা ইউনিফর্মে মেয়েটাকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মনে হচ্ছে। দু'জনের ছাতায় টপ টপ বৃষ্টির শব্দ। কেউ কারো চোখে এক সেকেন্ডের বেশি তাকাতে পারছে না। ছেলেটার চিবুকে দুর্বাঘাসের মতো দাড়িতে বৃষ্টির ফোটা লেগে আছে। মেয়েটার ইচ্ছা হচ্ছে হাত দিয়ে মুছে দিতে কলেজ ছুটির পরে রোজ বান্ধবীদের সাথে ঘরে ফিরতো মেয়েটা। দু'জনেই আজ এক ঘন্টা আগে কলেজ থেকে পালিয়েছে। ভাগ্যিস মেয়েটা এক ইয়ার নিঁচুতে পড়ে। নইলে বন্ধুরা বুঝে যেত। ওরা কেউ কিছুই বলতে পারছে না। ছেলেটা ঢোক গিলছে আর ভাবছে কি বলবে। মেয়েটা ভাবছে কিছু না বলুক অন্তত একবার হাতটা তো ধরতে পারে। বৃষ্টি বাড়ছে গলিটা ভিজছে শ্রাবণ জলে। ছেলেটার সেই চিরকুট এখনো মেয়েটা হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে, "শেষ ক্লাসের আগে আজ কলেজ থেকে বের হয়ো- আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো বড় গাছের নিচে।" কিন্তু এখন কি যে করবে দুজন কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। তবুও বুকে একটু সাহস নিয়ে ছেলেটা মেয়েটার গালে হাত রাখলো। ছেলেটি মেয়েটির সমস্ত উষ্ণতা আঙুলের মধ্যে চুরি করে নিল। মেয়েটার গরম গালে কি মায়াবী উষ্ণতা। ছেলেটার শীতল হাতে উন্মাদনার আমন্ত্রণ। মেয়েটা চোখ বুজে কেঁপে কেঁপে উঠলো। একটা একটা অদ্ভুত শিহরণ মেয়েটার শিরদাঁড়া দিয়ে নেমে গেল। ছেলেটার শীতল হাতের স্পর্শ উলোটপালট করে দিলো মেয়েটার ভিতর। হঠাৎ গলির মুখে একটা রিক্সার টুংটাং আওয়াজ আসতে দুইজনে দুই দিকে হাঁটা শুরু করলো। প্রথম প্রেম ভিজছিলো তখন গলির সাথে শ্রাবণ জলে। ওরা হাঁটছে দুই দিকে আর ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখছে পিছু ফিরে ফিরে। মেয়েটা রিক্সায় উঠে গেল। ভাগ্যিস মেয়েটার বাবা কিছু দেখেনি। ছেলেটা ব্যাগে করে মেয়েটার জন্য কদম ফুল এনেছিলো। ব্যাগ খুলতেই দেখে কদম ফুল তেমনই আছে। কিন্তু প্রথম প্রেমের ফুল কখনো কি আর দেয়া হবে! ছেলেটা হাঁটছে, বৃষ্টি বাড়ছে। মেয়েটা কাঁদছে গুমরে গুমরে- ওর যে সেই শীতল স্পর্শটা চাই। ছেলেটা হাতটা নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ নিতে চাইলো। শিউরে উঠলো। কেমন একটা মন ভরে দেওয়া গন্ধ লেগে আছে ওর হাতে। বৃষ্টি ভিজিয়ে দিচ্ছে এ শহর। ধূলোবালি পথ। ইটের রাস্তা। গাছের পাতা। শুধু এক জোড়া স্কুল পালানো ছেলে মেয়ে ভিজছিল, প্রথম প্রেমের প্রথম অভিসারের প্রথম আলতো স্পর্শে। এটাই ছিল অদ্ভুত প্রেমের গল্প ????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্যরকম প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now