বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্যরকম আবেগ এবং আমি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X “অন্যরকম আবেগ এবং আমি” . . অনেক্ষণ যাবত দাঁড়িয়ে বাসের জন্যে ওয়াইট করছি কিন্তু কোনো বাস পাচ্ছি না। এদিকে আমার ক্লাস মনে হয় অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কারণ ক্লাস শুরু হবার কথা সকাল ৯টায়। ঘড়িতে বাজে এখন ৯টা ১৫। আর আমি এখনো বাসে উঠতেই পারি নাই। . . অবশেষে একটা বিআরটিসি বাস পাওয়া গেল। তাড়াতাড়ি করে উঠে গেলাম। লোকাল বাস তাই যা হবার তাই। দাঁড়িয়ে থাকার মত জায়গাটাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আর কাঁধে আছে সেই চিরচেনা একটা উইলসন ব্যাগ। তাই সমস্যাটা আরো বেশি হচ্ছে। যাই হোক কোনোমতে এক জায়গায় দাঁড়ালাম। মাইরিইইই আমরা ভাল করে দাঁড়াতেই পারছি না, আর এই ভাই এখানে মেসেঞ্জারে চেটিং করছে। সিরিয়াসলি বলতেই হবে, ফেবুকারদের যদি কোনো অ্যাওয়ার্ড দেয়ার নিয়ম থাকতো তাহলে আমি ২০০% সিউর যে এই ভাইই সেটা পেতো। আশেপাশে কি হচ্ছে এতে তার কোনো খেয়ালই নাই। ওনি ওনার মত চেটিং করে যাচ্ছেন। নিজের জিএফ অবশ্যই না। কারণ জিএফ হলে এই লোকাল বাসে এত ভিড়ের মধ্যে এত কষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। অবশ্যই নতুন শিকার এর চেষ্টায় আছে। মানে নতুন আরেকজন জিএফ যোগাড় এর চেষ্টায় আছে বেচারা। আমিও খুব আগ্রহের সাথে তার পাশে দাড়িয়ে তার চেটিং করা দেখছিলাম। কিন্তু কি কি লিখছে তা ঠিক ভালভাবে বুঝতে পারছিলাম না। তো আর ওইদিকে খেয়াল না করে কানে হেডফোন গুজে দিয়ে লিংকিন পার্ক এর লস্ট ইন দা ইকো গান টা প্লে করে শুনতে থাকলাম। ভালই লাগছিলো। এভাবেই গান শুনতে শুনতে আমার গন্তব্যে যেয়ে পৌঁছলাম ৯টা ৫০ মিনিটে। . . মাথা নষ্ট। প্রায় ১ ঘন্টা লেট। তো গেলাম ক্লাসে। আমার একটা বদঅভ্যাস আছে। ক্লাসে যত মহাটিচারই থাকুক না কেন আমি কখনো অনুমতি নিয়ে ক্লাসে ঢুকি না। যে যা ইচ্ছা ভাবুক এটা নিয়ে, আমার দেখার বিষয় না। এইবারও এর ব্যতিক্রম করলাম না। কিন্তু ক্লাসে যেতেই স্যার কিছুক্ষন অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। হয়তবা ভাবতেছে, এইরকম ফাজিল স্টুডেন্ট যে কোথেকে আসে। এই সেই আরো অনেক কিছুই ভাবতে পারে। ব্যাপার না। সিটে যেয়ে বসলাম, স্যারও আবার তার লেকচারের দিকে মনোযোগ দিলো। কিন্তু আমার মন লেকচারের দিকে ছিল না। উল্টা পাল্টা চিন্তা আসছিল মাথায়। কাউকে খোঁচা দিতে খুব ইচ্ছা হচ্ছিল। কিন্তু কি মনে করে জানি আর কিছু করলাম না। কোনোমতে ক্লাসটা শেষ করেই বেরিয়ে পড়লাম। আজকে আড্ডা-ফাড্ডাও দিতে হচ্ছে না। তাই ভাবলাম চলে আসাটাই ভাল হবে। . . আবার বাসায় যাওয়ার জন্য একটা লোকাল বাসে উঠলাম। তবুও বাসটা অনেকটা ফাঁকা ছিল। হঠাৎ আমার চোখ গেল বাসের হেল্পার এর দিকে। আসলে হেল্পারটা ছিল একটা বাচ্চা ছেলে। বয়স ৮ বছর এর মত হবে। একটা ছেঁড়া হাফপ্যান্ট পড়া। আর পড়নে এক্সইজার্স গেঞ্জি। কি সুন্দর করে বাসে ঝুঁলে ঝুঁলে তার কাজ সিধ্যি করছে। এটাকে সুন্দর দৃশ্য বললে অবশ্যই ফাজলামি হবে। কারণ এটা কখনোই সুন্দর হতে পারে না। করুণ দৃশ্য। একটা ছেলে যেইসময় তার স্কুলে যাবার কথা, মা তার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কথা, বাসায় বসে কার্টুন এর সামনে বসে থাকার কথা। আর এইসময়ই তার নিজের ইনকামের পথ দেখতে হচ্ছে। নিজে যদি কিছু করতে পারে তাহলে কপালে খাবার জুটবে নাহলে না খেয়েই থাকবে। এদেরকে দেখার মত কেউ নাই। বিষয়টা চিন্তা করে খুব কষ্ট লাগলো। আবার কষ্টটা আরো বেশি লাগলো কারণ এদের জন্য আমি কিছু করতে পারছি না। দোষ একটাই, আমি মধ্যবিত্ত। কিন্তু অর্থ দিয়ে না করতে পারলেও ভালবাসা দিয়ে কিছু করতে ইচ্ছা হচ্ছে। . . বাসটা ছেড়ে দিছে অনেক আগেই। একটু পরেই আরেকটা স্টপেজে যেয়ে থামবে। আমি বাসের গেইটের পাশে সামনের সিটেই বসে ছিলাম । তো ওকে বললাম, -কিরে কেমন আছিস? -মামা ভালা। কই যাইবেন? (একটা সুন্দর করে হাসি দিয়ে ওর ভাষার বলছে) -কলেজগেইট। তুই আমার সিটে বস। আমি তোর কাজটা আজকে করবো। -আরে না ভাই কি কন, আপনে হইছেন ছাত্র মানুষ আপনেরে এই কাম মানাইবো না। হিহিহি (আবারও হাসি দিয়ে বললো) -তোরে বলছি তাই তুই যাবি। সমস্যা নাই তোর ইনকাম তোর কাছেই থাকবে। আমি নিয়ে যাবো না। ছেলেটা ফ্যাল ফ্যাল করে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। হয়তবা ভাবছে কোন পাগল এর পাল্লায় পড়লো সে। কিছু বলতেছে না দেখে আমি আমার ব্যাগটা তার হাতে দিলাম। আর পড়নের শার্টটাও খুলে দিলাম। শার্টটা আমাকে এক ধনীর দুলালী মেয়ে ফ্রেন্ড গিফ্ট করছিল। অনেক দামী হবে হয়তো। কিন্তু ব্যাপার না। ভেতরে একটা টি-শার্ট ছিল তাই সমস্যা হবে না। আর বললাম, -এই শার্টটা নে, আর আমার সিটে বস। (আমি আমার সিটে ওকে বসিয়ে দিলাম) ও আবারো অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। বাসের যাত্রীদের চোখগুলাও এখন আমাদের দিকে। যাই হোক, আমি ওকে আমার সিটে বসিয়ে রেখে গেলাম ওর কাজ সিধ্যি করতে। আমি বয়সে ওর থেকে বড় হলেও অন্তত এই কাজে এক্সপেরিয়েন্স ওর অনেক বেশি। সমস্যা নাই যতটুক পারি চেষ্টা করবো। বাসটা তখন এয়ারপোর্ট রোডে। স্টপেজে এসে দাঁড়ালো। আমার কেন জানি কাজটা করতে বেশ ভালই লাগছিল। আমিও হেল্পার এর কাজ শুরু করলাম। জোরে জোরে ডাকতে থাকলাম, -ওই গাজীপুর-চৌরাস্তা, টঙ্গী, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর। ওই চৌরাস্তা-চৌরাস্তা। ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কিছু বলছিলাম। বাস থেকে নেমে বাসে থাপড়া দিচ্ছিলাম আর বলছিলাম এইগুলা। ভালই যাত্রী হইছে। নিজেকে ভালো এক্সপেরিয়েন্সড মনে হচ্ছে এখন। আব্বু সবসময় বলে আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। সমস্যা নাই কিছু না হলে বাসের হেল্পার হব। হিহিহিহি। . . যাই হোক কোনো সমস্যা ছাড়াই আমি ডিউটি কম্পলেট করলাম। এখন আমি আমার গন্তব্যস্থলে এসে পড়ছি। বাসটাও থামলো। নিজের ভাড়া অনেক আগেই মিটিয়ে দিছি। তো ওই পিচ্চিও বাস থেকে নেমে এসে আমার হাতে ব্যাগটা দিয়ে বলে যে, -ভাইজান কলেজগেইট তো আইসা পড়ছেন। আর এই যে আপনের শার্ট। (শার্ট টা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। প্রথমবার মামা বলছিল, এখন ভাইজান বলছে। আমার এটা মনে ছিল।) -হু। এই নে তোর বকশিস। সাবধানে থাকবি। শার্ট টা তোর কাছেই রাখ। আর হ্যা তোর নাম যেন কি? (শার্টটা ওর হাত থেকে নিয়ে ওকে পড়িয়ে দিলাম। ওর কাছ থেকে ব্যাগটা নিয়ে মানিব্যাগ থেকে একটা পাঁচশ টাকার নোট ওর হাতে গুঁজে দেই। টাকাটা টিউশনি করে পেয়েছি।) -রিফাত (ছেলেটা আবারো অবাক হয়েছে। এটা তার চোখই সাক্ষী দিচ্ছে। তার এই চোখগুলা দেখে আমার অনেক মায়া হচ্ছিল। কিন্তু এর থেকে বেশি কিছু করার সামর্থ্য আমার নাই) -হু সুন্দর নাম। আচ্ছা আমি যাই। ‍তুই ভাল থাকিস। চলে আসার জন্য পা বাড়ালাম। বাসও ছেড়ে দিছে। রিফাত দৌঁড় দিয়ে বাসে উঠলো। আর কি মনে করে জানি অনেক জোরে আবার আমাকে ডাক দিল। পিছনে ফিরলাম, -ভাইজান? পিছনে ফিরলাম -আপনের নামটা তো কইলেন না? -ফারাবী বাসটা ততক্ষণে একটু দূরে চলে গেছে। তবুও সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ইশারায় কি যেন বুঝানোর চেষ্টা করছে। . . বাসটা এখন চলে গেছে। হু আমার দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেছে। . . . বিঃদ্রঃ হু ওরা গরিব, আর আমরা না হয় কেউ মধ্যবিত্ত কিংবা কিউ ধনী। তাই বলে ওদেরকে কষ্ট দেবার কোনো অধিকার আমাদের নাই। অর্থ দিয়ে সাহায্য না করতে পারলে ভালবাসা দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করুন। কারণ অর্থটা সাময়িক আর ভালবাসা-মায়া-মমতা এগুলা চিরঞ্জীব। আর যদি কিছুই করতেই না পারেন তবে নিরব থাকুন। তবুও ওদেরকে কষ্ট দিবেন না। . . লিখা- Namhin Pothik Ami (নামহীন পথিক আমি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্যরকম আবেগ এবং আমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now