বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এলাম। একটু খারাপ লাগছে বটে! কিন্তু ভালোও লাগছে এই ভেবে যে একটা কাজ ভালোভাবে শেষ করতে পারলাম। বাবার প্রতি দায়িত্বও শেষ হলো। সংসারটা এবার নতুন করে গুছিয়ে নিব। বাবার ঘরটা গেস্টরুম বানাতে হবে। বাসায় একটা গেস্টরুম ছিল না বলে তানজিলার কত অভিযোগ! বাসায় কোন গেস্ট এলে নাকি ওর মানসম্মান থাকে না। বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর বুদ্ধিটাও তার। আমারও যে মত ছিল না তা নয়। বাবারও মনে হয় এটাই ইচ্ছা ছিল। কারণ তিনি আমাদের মতামতের কোন বিরোধিতা করেন নি। তাছাড়া মায়ের মৃত্যুর পর বাবা খুবই নিঃসঙ্গ ছিলেন।।
.
আমি আর তানজিলা দুজনেই চাকরিজীবী, অফিসে যাই। বাবাকে কে সময় দেবে?? তাছাড়া বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে বাবা নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন। সমবয়সী অনেককে পাবেন সঙ্গী হিসেবে। নাহ কাজটা ভালোই করেছি। আমার সব স্বপ্ন আমার পরিবারকে ঘিরে। তানজিলাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। আমাদের দুজনের সংসারে অনাবিল আনন্দ বয়ে এনেছে আমাদের সোনার টুকরো ছেলে। ওর নাম রেখেছি তানভীর সাইফ চৌধুরী। তাকে পেয়ে আমার জীবনটা আনন্দময় হয়ে উঠেছে। আমার সব মনোযোগ এখন স্ত্রী-পুত্রের দিকে।
.
বাবার বিষয়-সম্পত্তি তেমন ছিল না। তবে আমাদের একটা ছিমছাম একতলা বাড়ি ছিল। ছোটবেলা থেকে সেখানে বড় হয়েছি বলেই হয়ত বাড়িটাকে ভালোই মনে হতো। কিন্তু তানজিলা আধুনিক মেয়ে। বাড়িটা ওর মোটেও পছন্দ হতো না। সে বলতো পুরোনো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। আমি তখন সবেমাত্র চাকরিতে ঢুকেছি। অন্যত্র বাসা নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আমার হয়ে উঠে নি। তাই তানজিলার পরামর্শে বাবাকে বুঝালাম জমিসহ এই বাড়িটা বিক্রি করে দিলেই মোটামুটি হালকা ফ্যাশনের একটা ফ্ল্যাট কিনেও কিছু টাকা ব্যাংকে জমা রাখা যাবে। আমার এই প্রস্তাবে বাবা রাজি হলেন না।
.
আর উপায় না ভেবে শেষে আমি রাগ করে তানজিলা কে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে চাইলাম। জানি এটা আমার সামর্থ্যের বাইরে। তানজিলা তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ সময় ওর বাড়তি কিছু যত্নের প্রয়োজন। এ অবস্থায় মা এগিয়ে এলেন। তিনি বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করালেন। অবশেষে বাবা রাজিও হলেন। কিন্তু আমার সাথে ঠিকমতো কথা বলতেন না। সেই থেকে বাবা-মা এর সঙ্গে একটা দুরত্ব তৈরি হয়ে গেল আমার।।
.
নতুন ফ্ল্যাটটা বাবা-মা আমার নামে দিতে চাইলেন। কিন্তু আমার অনুরোধে বাবা ফ্ল্যাটটা তার নাতি তানভীরের নামে উইল করে দেন। আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে এই কাজ করেছিলাম। যেদিন নতুন ফ্ল্যাটে আমরা শিফট করলাম, সেদিন তানজিলার আনন্দ যেন বাঁধ মানছিল না। আমারও ভালো লাগছিল ওর হাসিমুখ দেখে। আমাদের ছেলে তানভীরের বয়স তখন চার বছর। ওকেও একটা আলাদা ঘর দেয়া হলো। ছেলের ঘরটি ছবির মতো করে সাজালো তানজিলা। শুধু ছেলের ঘরই নয়, পুরো ফ্ল্যাটটাই সুন্দর করে সাজালো সে। ফ্ল্যাট কেনার পর যে টাকা বেচেছিল, এর অনেকটাই ব্যয় করা হলো ঘর সাজানোর কাজে। শুধু বদলায়নি বাবা-মায়ের ঘরটি। সেই আগেকার খাট, ঘুণেধরা চেয়ার-টেবিল, আলমারি ঠিক আগের বাড়ির ঘরটির মতো। এই ঘরটি সাজাতে দেননি মা। তিনি বলেছিলেন, থাকুক কিছু স্মৃতি। আমি কিছু মনে করিনি। কিন্তু তানজিলার মনে ক্ষোভ ছিল খুব। মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সেই কবে, বাবাকেও আজ বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এলাম, সেই সাথে বাধামুক্ত হলো তানজিলার ঘর সাজানোর পথটা।।
.
এতক্ষণ নিজের লেখা ডায়েরির পাতা পড়ছিলেন অপুর্ব চৌধুরী। তার চোখের কোণে পানি। এখন তার বয়স পঁচাত্তর। পাঁচ বছর আগে তানজিলা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর তার আদরের ছেলে তানভীর সাইফ চৌধুরী আজ সকালে তাকে রেখে গেল বৃদ্ধাশ্রমে।।।।
শিক্ষণীয় দিক আপনি নিজেই বুঝে নিন______
মোঃ শহিদুল ইসলাম ছাহিদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now