বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুঃস্বপ্ন প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণে পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তু খুব দ্রুত বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।এর নাম বিগ ব্যাং।বিস্ফোরণের পর- মুহূর্ত থেকেই মনে হচ্ছে যেন একটা স্টপ ওয়াচ চালু হয়ে গিয়েছে।টিক টক টিক টক করে চলছে সে ঘড়ি।বিস্ফোরণের আগ মুহূর্তে অভিকর্ষজ শক্তির কারণে সব কিছু একসাথে পুঞ্জিভূত হয়ে ছিল।হঠাৎ সেখানে একটি বিপরীতমুখী অভিকর্ষজ শক্তি কাজ করতে লাগলো,যার নাম ফলস ভ্যাকুয়াম।বিস্ফ োরণের পর সেই ফলস ভ্যাকুয়াম ভেঙ্গে গিয়ে অনেকগুলো ভ্যাকুয়াম বা স্পেস তৈরি করলো যাকে বলে বাবল।প্রতিটা বাবল একই রকম পদার্থ দিয়ে তৈরি।সেই বাবলগুলোর প্রত্যেকটি থেকে তৈরি হল একেকটি মহাবিশ্ব।এই আলাদা মহাবিশ্বগুলোকে বলা হয় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। প্রতিটি প্যারালাল ওয়ার্ল্ড একই রকম পদার্থ দিয়ে তৈরি হলেও তাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য এতই বেশি যে তাতে গঠিত জীবন আমাদের এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।এই গল্পটি এমনি এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে,যেটি আমাদের ওয়ার্ল্ড এর মত একই পদার্থ নিয়ে গঠিত,কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম আলাদা,সময় আলাদা।সেটি ভিন্ন এক পৃথিবী। এই পৃথিবীতেও মানুষ আছে।তবে প্রাকৃতিক নিয়মের ভিন্নতার কারণে তাদের মাঝে অদ্ভুত রকমের ক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে।তারা সাধারণ মানুষ নয়।তারা উইজার্ড।তাদের সেই অদ্ভুত জগত নিয়েই এই গল্প। জাদুর দুনিয়ায় সবাইকে স্বাগতম। বিশাল লেকের অপর পাশে অনেক বড় একটা প্রাসাদ।দেখতে আর দশটা সাধারণ প্রাসাদ এর মত হলেও এটা সাধারণ কোন প্রাসাদ না।এখানে যারা থাকে তারা সাধারণ কোন মানুষ নয়।তারা উইজার্ড।জাদু ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো মানুষ।প্রাসাদটার নাম,"দ্যা সার্কেল ক্যাসেল অফ ব্রিস্টব্যান'স উইজার্ডস এন্ড উইচেস।"ব্রিস্টব্যান হচ্ছে জাদুকরদের একটা কমিউনিটি যাকে ওরা সার্কেল বলে থাকে।আমাদের ভাষায় দেশ বলতে যা বোঝানো হয়,সার্কেল বলতে জাদুকররাও ঠিক তাই বুঝে থাকে।।আর এই প্রাসাদটা হচ্ছে ব্রিস্টব্যান সার্কেলের পুরো উইজার্ডিং কমিউনিটির কেন্দ্রস্থল।ব্রিস্টব্যানের প্রশাসনিক ব্যাপার স্যাপার এই সার্কেল প্রাসাদ থেকেই পরিচালনা করা হয়ে থাকে।আবার ব্রিস্টব্যান এর জাদুকরদের জাদু শিক্ষা দেয়ার দায়িত্বও এই সার্কেল প্রাসাদেরই।এই প্রাসাদটা একই সাথে একটা মন্ত্রণালয় আবার একই সাথে একটা স্কুলও বটে। আমাদের গল্পের শুরু এখান থেকেই। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে ব্রিস্টব্যান এর অধিবাসীদের হাঁসফাঁস অবস্থা।তাই আজ ক্লাসগুলো অনেক তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও বাড়ী ফিরে গেছেন।অন্যসব ছাত্র ছাত্রীর মত এলিস এলফিয়্যান আর অ্যারন এথ্রেন্ডিল ২ বন্ধু লেকের পাড়ে এসে বসেছে।অ্যারনের মাথায় লম্বা লম্বা কালো চুল যা এলোমেলোভাবে আঁচড়ানো।নাকটা একটু ভাঙা।কিভাবে ভেঙ্গেছে কে জানে।আর এলিস দেখতে বেশ সুন্দরী,মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত লম্বা কালো চুল।তারা ২জনেই ব্রিস্টব্যান স্কুলে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল ১ এ পড়ে।বসে বসে ২ জনেই "ম্যাজিকেল হিস্ট্রি" সাবজেক্ট এর হোম-ওয়ার্ক করছে। প্রশ্ন,"ম্যাজিক এর সঠিক ব্যাবহার এবং তার নিয়ন্ত্রণে ১২১০ সালের ওয়ার্লক কনভেনশন এ নেয়া সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা আলোচনা করো।" -"অ্যারন দেখ তো...এর শুরু কিভাবে করা যায়...আমার তো মাথায় ঢুকছে না কিছুতেই।"এলিস এলফিয়্যান বলল। -হুম।বই এর ৫৭৪ পৃষ্ঠায় দেখ।লেখা আছে, "১২১০ সালের ওয়ার্লক কনভেনশন এ ম্যাজিক এর ব্যাবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি আলোচনা প্রস্তাব আনা হয়। প্রস্তাবনায় বলা হয়,ম্যাজিক্যাল ক্ষমতা শুধু মানব কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।ধ্বংসে নয়।এ লক্ষে প্রত্যেক জাদুকর গোষ্ঠীকে অনেকগুলা সার্কেল এ ভাগ করা হয়।প্রত্যেকটা সার্কেল স্বতন্ত্র ক্ষমতার অধিকারী। তবে যেকোনো সার্কেল এই অধিবেশনে সৃষ্ট সন্ধিপত্রের বিভিন্ন শর্ত মেনে চলতে বাধ্য।ম্যাজিকেল ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রত্যেক জাদুকরকে ৭ বছর বয়স থেকে সংশ্লিষ্ট সার্কেল এ শিক্ষা নিতে হয় যা বাধ্যতামূলক।কেউ যদি শিক্ষা নিতে অস্বীকৃতি প্রদান করে তাহলে তার জাদু ক্ষমতা জোর পূর্বক কেড়ে নেয়া হবে ।"অ্যারন একনাগাড়ে বলে চলল। চোখ কপালে উঠে গেছে এলিসের। -"কি বলছিস।আমি তো কখনো শুনিনি কারো জাদু ক্ষমতা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়া হয়েছে?" -"শুনিসনি কারণ আমাদের বর্তমান সমাজে কেউই চায় না যে তার সন্তান জাদু ক্ষমতা হারিয়ে এক ভয়ানক পরিণতি বরন করুক।" -"ভয়ানক পরিণতি?" -"হুম।মৃত্যুর চেয়ে বিষাদময়।" -"মৃত্যুর চেয়ে বিষাদময় আর কি হতে পারে?"ভাবতেই এলিসের গায়ে কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। -"হতে পারে পাগলি।হতে পারে।দেখ,তুই চাইলেই কোন জাদুকরের 'শুধুমাত্র' ম্যাজিকেল পাওয়ারটা নিয়ে নিতে পারবি না।" -"কিছু বুঝলাম না।" -"বুঝাই তোকে।ধর একটা পানি ভর্তি পাত্র।এখন যদি তুই সেখান থেকে পানি সরিয়ে নিস তাহলে আর কি থাকে?" -"শূন্য পাত্র?" -"ঠিক তাই।জাদুকররাও সেই পানি ভর্তি পাত্রের মতই। তাদের শরীরটা হচ্ছে শুধুই একটা পাত্র।একটা কন্টেইনার।যেই কন্টেইনার শুধু ম্যাজিক ধারণ করার জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে।আর কিছু নয়।একজন জাদুকরের আবেগ,ভালোবাসা,রাগ,দুঃখ,ক্ষোভ,জ িঘাংসা,হিংসা,তার বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি এ সব কিছুর মিলিত ফলাফলই হল তার ম্যাজিক।তার জাদু ক্ষমতা।অতএব তুই যদি কারো জাদু ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাস,তোকে এসব কিছুই কেড়ে নিতে হবে।"তিক্ততার সাথে বলল অ্যারন। এলিসের যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। -"তুই বলতে চাস যাদের জাদু ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয় তারা স্রেফ একটা শরীর সর্বস্ব প্রাণীতে পরিণত হয়?" -"তার চেয়েও খারাপ।তারা আত্মাহীন একটা খালি পাত্রে পরিণত হয়।" এলিসের আর কিছু ভালো লাগছিলো না।একজন জাদুকর কিভাবে তার স্বজাতির উপর এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারে? * * * * সে রাতে এলিস ঘুমের ভেতর অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে লাগলো।প্রথমে কিছু বিচ্ছিন্ন স্বপ্ন।দেখল ওর বয়স ৭ বছর। ওকে কিছু জাদুকর তাড়া করেছে।বলছে,"তুম ি ১২১০ সালের ওয়ারলক কনভেনশনের নিয়ম ভেঙ্গেছ।তুমি ম্যাজিক দিয়ে তোমার টেডিবিয়ারের একটা পা উড়িয়ে দিয়েছ যা ১২১০ সালের সংবিধানের ১২তম অনুচ্ছেদের পয়েন্ট 'সি' এর বিরুদ্ধে যায়।যাতে স্পষ্ট লেখা আছে তোমার টেডিবিয়ারের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা তোমার দায়িত্ব। যা করতে তুমি ব্যর্থ হয়েছ।তাই এই আদালত তোমার জাদু ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তোমাকে একটি আত্মাহীন খালি কন্টেইনার এ পরিণত করার হুকুম দিচ্ছে।" হঠাত স্বপ্নটা পরিবর্তন হয়ে গেলো।এখন সে দেখতে লাগলো নতুন কোন স্বপ্ন।একটা বিশাল লম্বা গাছ। গাছটি আগুনে পুড়ে একদম কয়লা হয়ে গিয়েছে। গাছটার পাশেই একটা কবরস্থান।তার সামনেই একটা পোড়ো বাড়ি। ভয়ংকর বিষণ্ণ সে বাড়ি।পুরো বাড়িটাকেই কেউ যেন জ্বলন্ত আগুন ছেড়ে দিয়েছিল।জায়গায় জায়গায় পোড়া দাগ। দেখে মনে হচ্ছে এখুনি ভেঙ্গে পড়বে। এলিস স্বপ্নের ভেতরেই ভাবতে থাকে নিশ্চয়ই কোন ম্যাজিক এই বাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।এলিস সামনে এগিয়ে যায়।সদর দরজায় পোড়া পোড়া হরফে লেখা: "দ্যা হাউস অফ ফ্র্যাঙ্কস" দরজায় আলতো করে টোকা দেয় এলিস।সদর দরজাটা সাথে সাথে খুলে যায়।যেন দরজাটা এলিসের প্রতীক্ষাতেই ছিল এতদিন।সামনে এগোয় এলিস।বিশাল হল রুম।যার অপর পাশে গোলাকার সিঁড়ি।দেয়ালে ঝোলানো নানা জীব জন্তুর ছবি।তবে সবগুলো ছবিকে ছাপিয়ে একটা বড় পোর্টরেট সবার আগে চোখে পড়ে। একটা ৭-৮ বছর বয়সী বাচ্চা ছেলের পোর্টরেট।ছেলেটা হাসছে।হাসতে হাসতে তাকে সিঁড়ির দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। টিপটিপ পায়ে সিঁড়ি দিয়ে এগিয়ে যায় এলিস।ধাক্কা দিয়ে ল্যান্ডিং এর সামনে থাকা বড় দরজাটা খুলে ফেলে সে।সামনে একটা বৃত্তাকার রুম।সেই রুমে অনেক দরজা।তার মাঝে কেবল একটা দরজা খোলা। সেই দরজা দিয়ে এগিয়ে গেলো সে।একটা বিশাল করিডোর।করিডোর এর একদম শেষ মাথায় একটা রুমের খোলা দরজা দিয়ে মোমবাতির আলো এসে বাইরে পড়ছে।সেই খোলা দরজা দিয়ে কার যেন করুন সুরে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে।একটা মেয়ে কাঁদছে। রুমের সামনে দাঁড়াতেই মেয়েটির কান্না থেমে গেলো। অন্ধকারে বসে আছে সে।তার মুখ বোঝা যাচ্ছেনা।এলিসকে দেখতে পেয়েই খুব মিষ্টি এবং অদ্ভুত রকম ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো, "এসো এলিস,এটার জন্যেই তো অপেক্ষা করছি এত বছর।" ধড়মড় করে জেগে উঠে এলিস।সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে।হাঁপাতে লাগলো ভীষণভাবে।এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লো।কিন্তু ঘুম আর আসলো না।শুয়ে শুয়ে আবছা আলোয় সিলিংটার এর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিলো এ স্বপ্নের মানে কি হতে পারে। এ কি শুধুই এলোমেলো স্বপ্ন?নাকি কেউ চেয়েছে সে এই স্বপ্ন দেখুক?যে চেয়েছে তার কি দরকার ওর সাথে?আর এই মেয়েটিই বা কে? (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now