বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- কাল দেখা করি??
-- না।। কাল হবেনা।
-- তাহলে পরশু দেখা করি।।
-- পরশুদিন ও হবেনা।।
-- তাহলে তুমিই বল কবে দেখা করবো।।
-- আমি দেখা করতে পারবোনা।
বাসা থেকে
কি বলে বের হব বল?
-- বলবে কলেজে একটা কাজ আছে।।
-- আমি পারবোনা। তাছাড়া আমি
মিথ্যে
বলতে যাব কেন?
-- কেন মানে? আমরা দুজন দুজনকে
ভালবাসি।। দেখা করার জন্য একটু আধটু
মিথ্যা বলতেই হয়।।
-- আমি পারবো না।
-- প্লিজ বাবু।। একটু চেষ্টা কর। ২ দিন পর
আমি ঢাকায় যাচ্ছি।। তার আগে
একবার
দেখা কর।। প্লিজ।।
-- বললাম তো হবেনা।।
-- আচ্ছা তুমি কি আমাকে না দেখে
থাকতে
পারবে?? আমি তো কয়েক মাসের জন্য
যাচ্ছি।। কবে আসবো তার কোন ঠিক
নেই।।
ততোদিন তুমি আমাকে না দেখে
থাকতে
পারবে??
-- ফোনে কথা হবে তো। তাহলেই
হবে।।
-- তার পরেও তুমি দেখা করতে
আসবেনা??
-- বললাম তো দেখা করতে পারবো
না।। এতো
কথার কি আছে??
-- তুমি এইভাবে কথা বলছো কেন??
আমি
তোমায় শুধু দেখা করতে বললাম। এতে
এতো
রিএক্ট করার কি আছে??
-- কোথায় রিএক্ট করলাম।। আমি তো
ভালভাবেই বললাম।
-- না।। something went wrong.. তোমার
কি হয়েছে বলো তো??
-- কই কিছুই হয়নি।। তুমি ভালভাবে
যাও।।
-- সত্যি করে বল কি হয়েছে??
- কিছুনা। এখন আর কথা বলতে পারবো
না।।
বাই।।
-- বাউ মানে?? কিছু তো একটা বল..
টুট টুট টুট..........
ফোন কেটে দিল রিয়া।। রিয়া হচ্ছে
আমার
একমাত্র ভালবাসার মানুষ।। যাকে
আমি সেই
প্রাইমারী থেকে ভালবাসি।।
আমি রাতুল।। অনার্স প্রথম বর্ষ।।
ছোটবেলা
থেকেই আমি শান্ত স্বভাবের হওয়াতে
বেশি
বন্ধু ছিলনা।। তবে যারা ছিল তারা
এখনও
আঠার মতো আমার সাথে লেগে
আছে।। নতুন
অনেকেই আমার বন্ধু হয়েছে।। তবে
আগের
বন্ধুদের চেয়ে ভাল বন্ধু আমার কেউ
হতে
পারেনি।। তাদের মধ্যে দু একজন সব সময়
আমার পাশে থাকে।। আমার বেষ্ট
ফ্রেন্ড হল
মুমু।। যে কিনা আমার মুখ দেখেই বলে
দিতে
পারে আমার মনের অবস্থা।। সেই মুমুর
কথা
না শুনে আমি রিয়ার সাথে রিলেশন
করছি।।
মুমু আমাকে অনেকবার বারণ করেছিল
রিয়ার
সাথে রিলেশন করতে।। কিন্তু কে
শোনে কার
কথা।। আমি তখন রিয়ার প্রেমে হাবুডুবু
খাচ্ছি।। কারিও কথা কানে না
নিয়ে
রিয়াকে বলেছিলাম আমার
ভালবাসার
কথা।। রিয়াও হ্যা করে দেয়।। তারপর
থেকে
আমাদের পথ চলা শুরু।। আজ ৩ বছর পর মনে
হচ্ছে মুমুই ঠিক ছিল। আমিই ভুল করেছি।।
প্রথম প্রথম রিয়া আমার সাথে সবসময়
কথা
বলতো।। কিন্তু ইদানিং সে আমাকে
সময়
দিতে চায়না। কথা বলতে চায়না।।
কিছু
জিজ্ঞেস করলে বলে ব্যাস্ত থাকে।।
তাই
সময় দিতে পারেনা।। মাঝে মাঝে
ফোন
ওয়েটিং থাকে। বলে ওর বান্ধবির
সাথে
কথা বলে।। আমি তো আর সেই আদিম
যুগের
প্রেমিক না যে কিছুই বুঝতে পারবো
না।।
কিন্তু মন থেকে বিশ্বাস করতে
পারিনা।।
তবে কিছু প্রমাণ পেয়েছি।। যার ফলে
এখন
সব বিশ্বাস করি।। যাই হোক মুমুকে
বললাম সব
কথা।। ও বলল মন খারাপ করে আর কি
হবে??
যা হওয়ার হয়ে গেছে।। এখন ওইসব ভুলে
যেতে।। আমি ওর কথা এইবার ফেলতে
পারলাম না।। আমি জানি দুনিয়ার
সবাই
আমার শত্রু হয়ে গেলেও এই মেয়েটা
সবার
বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে অগ্রাধিকার
দেবে।।
তার পরও প্রথম ভালবাসা ভোলা অতো
সহজ
নয়।। তাই সারাদিন ওর কথা মনে না
হলেও
রাতের আধারে ঠিকি মনে পরে।।
এইভাবে
কিছুদিন কেটে গেল। শুনলাম রিয়া
নাকি এক
বড়লোক ছেলেকে বিয়ে করেছে।।
শুনে একটু
হলেও কষ্ট লাগলো। যতই হোক
ভালবাসতাম
তাকে।। এসব ভাবতে ভাবতে মুমুকে
ফোন
দিলাম।। শুধু হ্যালো বলাতেই ও বুঝে
গেল
কাহিনী কি।। তাই আম্মুকে বলে
রাতে ওদের
বাসায় থাকার অনুমতি নিয়ে নিল।। ওর
বাসায়
গেলাম। দেখি ওর বাসা বেশ
সাজানো।
জিজ্ঞেস করলাম কোন অনুষ্ঠান হল
নাকি। ও
বলল আজ নাকি ওকে দেখতে ছেলেপক্ষ
এসেছিল।। আমি বললাম এইটা তো
খুশির
খবর।।
ও কিছু বলল না।। শুধু মুখ গোমরা করে বসে
থাকল। আমি বললাম তোর গোমরা মুখ
দেখানোর জন্য এখানে নিয়ে আসলি?
ও বলল তোকে কিছু উপদেশ দিতে
এখানে
নিয়ে আসলাম।
-- হুম।। তো কি সেই উপদেশ??
-- উপদেশ টা হচ্ছে আজ থেকে আর
রিয়ার
কথা ভুলেও মনে করবিনা। ও একটা প্লে
গার্ল। আর তুই ওর জন্য এতো মন খারাপ
করে
আছিস কেন? ও তো বড়লোক স্বামির
সাথে
ভালই আছে। তাহলে তুই কেন ভাল
থাকতে
পারবিনা?
-- আমি অনেক কিছুই পারিনা। ছোট
বেলা
থেকেই ভালমতো কারও ভালবাসা
পাইনি।।
রিয়াকে দেখে ভেবেছিলাম এইবার
হয়ত
আমার সুখের দিন আসবে। কিন্তু সেও
ধোকা
দিল। সারাজিবন আমি শুধু ভালবাসা
খুজেই
গেলাম। পাওয়া আর হলনা।
-- তুই তোর আশেপাশে ভালবাসা না
খুজে
দুরের ভালবাসা খুঁজতে ব্যাস্ত ছিলি।।
তোর
আশেপাশেই যে তোর ভালবাসার
মানুষ হাত
বাড়িয়ে রেখেছে সেটা কখনো
বোঝার
চেষ্টা করেছিস??
-- আমার আশেপাশে আবার কে আমায়
ভালবাসবে?? কাউকেই তো দেখিনা।।
-- দেখার জন্য চোখ লাগে।। তুই তোর
চোখ
রিয়ার দিক থেকে সরা।। তাহলেই
দেখতে
পারবি।।
-- সত্যি বলছিস?
-- না।। গাধা মিথ্যা বলছি।
-- এই জন্যই তো তোকে এতো
ভাললাগে।। এই
খুশিতে তোকে একতা কিস করতে ইচ্ছা
হচ্ছে।।
-- ভাগ এখান থেকে।। আমি ওর মন ভাল
করলাম।। কোথায় আমাকে থ্যাংকস
জানাবে।। উনার নাকি কিস করতে
ইচ্ছা
করছে।। যা ভাগ।
-- দোস্ত এইভাবে আমাকে সরিয়ে
দিসনা।।
তুই না থাকলে আমার এতো জালাতন
সহ্য
কপ্রবে কে??
-- কেন তোর বউ। আমাকে মাফ কর। আর
তোকে যে ভালবাসে তাকে গিয়ে
খোজা শুরু
কর।।
-- তুই একটু হেল্প কর না দোস্ত। প্লিজ।।
-- আমি পারবো না।। তোর কাজ তুই কর।
আমি
এর মধ্যে নেই।।
-- দোস্ত প্লিজ।।
-- তুই যাবি এখান থেকে??
-- তুই তো আমাকে নিয়ে আসলি। এখন
তুই চলে
যেতে বলছিস??
-- হয়েছে হয়েছে।। আর ইমোশনাল
ব্লাকমেইল
করতে হবেনা।। আয় ডিনার করে ঘুমা।
-- ওকে ডারলিং।।
-- ওইইইই।। আমি কি তোর ডারলিং
লাগি??
ভাগ এখান থেকে।।
রাতের খাবার খেয়ে ওদের
বাসাতেই
থাকলাম। এর মধ্যে জানতে পারলাম
যে
পাত্রপক্ষ মুমুকে পছন্দ করেছে।। বিয়ের
জথা
বলার জন্য লোক আসবে।। এই কথা শুনে
মুমুর
মুখ আমার গোমরা হয়ে গেল। আন্টি ওর
বিয়ের সব দায়িত্ব আমাকে দিল।।
আমি
মাথা নাড়ালাম। পরদিন সকালে মুমুকে
বাই
বলে চলে আসলাম।। কলেজে বন্ধুদের
সাথে
আড্ডা দেওয়ার সময় সবার মুখে মুমুর
বিয়ের
কথা। কেউ কেউ বলছিল আমার আর মুমুর
জুটি
দেখার মতো ছিল।। যে কেউ মনে
করতো
আমরা প্রেমিক প্রেমিকা।। এই কথা
শুনে
কাল যেমন ওর বিয়ের কথা শুনে
হাসাহাসি
করছিলাম। আজ আর তা হচ্ছেনা।। বার
বার
মনে হচ্ছে কিছু একটা আমার জিবন
থেকে
হারিয়ে যাচ্ছে।। আড্ডা থেকে
বাসায়
আসলাম। কিছুই ভাল লাগছেনা।। মুমুকে
ফোন
দিলাম। বন্ধ দেখাল।। চিন্তায় পরে
গেলাম।
ও তো কখনো ফোন অফ রাখেনা।
বিকেলে
ওর বাসায় গেলাম। আন্টি বলল ও নাকি
ক্যামপাসে গেছে। আমিও গেলাম।
গিয়ে
দেখি ক্যান্টিনে মুমু সহ সবাই মন
খারাপ করে
বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম কি
হয়েছে??
কেউ কোন উত্তর দিলনা। মুমু উঠে বলল
বাসায়
গেলাম। এই বলে চলে গেল। আমি
বাকিদের
বললাম কি হয়েছে?? সবাই যেন
একসাথে
আমার ওপর হামলে পড়ে বলতে লাগলো
তুই
মেয়েটাকে কেন এতো কষ্ট দিস? তুই
বুঝিস
না কিছু??
আমি বললাম কি বুঝবো?? সবাই যেন
আরও
খেপে গেল। বলল মেয়েটা তোকে
সেই ছোট
বেলা থেকে ভালবাসে। আর তুই
কিনা ওর
কথা একটু ও ভাবিস না। কয়েকদিন পর ওর
বিয়ে। তার পর তোকে কে আগলে
রাখে
দেখি।।
আমি এসব কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলাম
না।।
সব কনফিউশন নিয়ে বাসায় এসে শুয়ে
আছি।।
আম্মু এসে বলল মুমু নাকি একটা প্যাকেট
রেখে গেছে।। আমি প্যাকেট নিয়ে
খুলতে শুরু
করলাম। দেখি একটা কার্ড। সেখানে
বড়
করে লেখা "গাধা"। এইবার ও কিছু
বুঝলাম
না।। পরে আম্মুকে বললাম মুমু কিছু বলে
গেছে
কিনা। আম্মু কিছু বলল না।। আমার
অবস্থা
তখন শোচনিয়।। মুমুরকে ফোন দিয়ে
বললাম
দেখা করতে। ও বলল কাল সকালে
ক্যাম্পাসে আসবে।। পরের দিন
ক্যাম্পাসে
গিয়ে দেখি মুমু আসেনি।। আমি
কিছুক্ষণ
অপেক্ষা করে বাসায় চলে আসলাম।
মুমুকে
মেসেজ দিলাম। আজ রাতে ঢাকায়
যাচ্ছি।।
থাক তুই তোর ইগো নিয়ে। সারাদিন
ফোন বন্ধ
রেখে রাতে বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে
বাসে
উঠলাম। বাস ছাড়বে এমন সময় আমার বন্ধু
রিমনের গলা শুনে বাইরে তাকিয়ে
দেখি ও
আমার দিকেই আসছে। আমি বাস
থেকে
নেমে ওকে বললাম কি হয়েছে?
ও বলল মুমু নাকি সুইসাইড করার চেষ্টা
কপ্রেছে। আমি তখন এক দৌড়ে
হাসপাতালে
গেলাম। গিয়ে দেখি মুমুর আব্বু আম্মু,
আমার
সব বন্ধুরা হাজির। আন্টির কাছে গিয়ে
জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে হল এসব।
আন্টি
বললউনি কিছুই জানেন না।। কাল
বাসায়
আসার পর থেকে নাকি মন মরা হয়ে
ছিল।।
আর আজ রাতে খাওয়ার জন্য ওর ঘরে
গিয়ে
দেখে হাতের শিরা কেটে মাটিতে
পরে
আছে।। তখনি তাকে এখানে নিয়ে
আসা হয়।
ডাক্তার এসে বলল এখন ও সুস্থ।। দেখা
করা
যাবে।। একে একে সবাই দেখার পর
আমি
গেলাম। যাওয়ার সাথেই বকা শুরু।
--তোকে এখানে কে আসতে বলেছে??
যা তুই
ঢাকায় গিয়ে মর।। আমার কাছে আসার
কি
দরকার?? আমি তো তোর কেউ না।।
-- ঠিকি তো। আমি এখানে কি করছি।।
আমার
তো এখন ঢাকায় যাওয়ার কথা।। এক্ষুনি
যাচ্ছি।। তা না হলে বাস মিস হয়ে
যাবে।
-- যা না যা।। আমাকে দেখতে আসতে
কে
বলেছে?? তুই তোর রিয়াকে নিয়েই
পড়ে
থাক।।
-- ওওওও তাহলে এই বেপার।। আমি
রিয়ার
সাথে রিলেশন করতাম বলে
মহারানীর
এত্তো রাগ।। ঠিক আছে। আমি রিয়ার
কাছেই
যাচ্ছি।। বাই।।
-- ওইইই। এখান থেকে বের হয়ে দেখ।
থাপ্পড়
মেরে সব কটা দাঁত ভেঙে দেবো।।
সারাজিবন আমি আগলে রাখবো আর
উনি
এখন যাবেন রিয়ার কাছে।। চুপ করে
আমার
পাশে বসে থাক।। এক পাও এগোবিনা।
-- ওকে ওকে।। কুল কুল।। আমি তো
এখানেই
আছি।। তার আগে এইটা বল। তোকে এই
হাত
কেটে মরার আইডিয়া কে দিয়েছে??
-- আমার শাশুড়ি দিয়েছে।।
-- তুই উনাকে চিনলি ক্যামনে??
-- সম্পর্কে উনি তোর আম্মু হয়। তাই।
-- তার মানে??
-- মানে তুই এক্ষুনি আমাকে জড়িয়ে
ধরে
প্রোপজ করবি।।
-- না করলে??
-- না করলে এই হাসপাতালেই তোকে
মুর্দা
ঘরে পাওয়া যাবে।। তাড়াতাড়ি কর।।
-- করতেই হবে?? পরে করলে হয়না??
-- এক্ষুনি করতে হবে মানে এক্ষুনি।। no
other
option..
-- এখানে তো একটা option ই দেখতে
পাচ্ছি।।
-- ওইটাই তোর একমাত্র উপায়।। এখন কথা
না
বলে প্রোপজ কর।
-- ওকে। আমার বউ হবি?
-- না। গাধার বউ হব।
-- অকে ডান।।
পুরো হাসপাতাল হাত তালির শব্দে
ভরে
গেল।। আর ওইদিকে মুমু লজ্জায় আমার
বুকে
মুখ লুকিয়ে ফেলল।।
.
# Happy_Ending
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now