বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
one O one
শেষ পর্ব
-------------------
নির্মানাধীন একটা বহুতল বিল্ডিঙ এর
দশতলার
ছাদে
ফুল হাতে দাঁড়িয়ে ভস্টার বললো,
“রোন্ডা! আমি সত্যিই ভাবতে পারিনি
তুমি আমার
টানে এতদূর পথ অতিক্রম করে ওয়ারশোয়
এসে
পড়বে।
সত্যি বলতে কি আমি কালই তোমার সাথে
দেখা
করার জন্যে ম্যানিকেশটভে যাওয়ার
প্ল্যান
করছিলাম। এই যে দেখো বাসের টিকেট
কেটেছি।“
আমিঃ “ওহ জানু, আর বলো না, তোমাকে
ছাড়া খুব
কষ্ট হচ্ছিলো তাই একদিন আগে আমি নিজ
থেকেই
চলে এসেছি।“
ভস্টারঃ “ওয়াও জানু! তুমি এতটা
ভালবাসো
আমাকে! তোমাকে পেয়ে নিজেকে
ভাগ্যবান মনে
হচ্ছে। কাছে আসো জানু। আজ রাতে
তোমাকে
দেখিয়ে দেবো আমি তোমাকে সত্যি
সত্যি কতটা
ভালবাসি।“
এইটুক বলেই ছেলেটা চোখ বন্ধ করে ঠোঁট
বাঁকিয়ে
আমাকে চুমু খাওয়ার জন্যে এগিয়ে
আসছিলো। এই
মুহুর্তে ওর চোখ দুটো বন্ধই আছে। আর এটাই
আমার
শ্রেষ্ট সুযোগ, ওকে এক ঝটকায় কুপোকাত
করে
দেওয়ার জন্যে।
ব্যাগ থেকে পেপার স্প্রে বের করে
সরাসরি ওর
মুখের উপর ঝেঁড়ে দিলাম। ও চিৎকার করে
চোখ
কচলাতে কচলাতে দু পা পিছিয়ে গেলো।
সুযোগ
বুঝে সাথে সাথেই আমি ওর দুপায়ের
মাঝখান বরাবর
একটা লাথি বসিয়ে দেই। একদম পারফেক্ট
শট,
এক্কেবারে বিচিতে গিয়ে লেগেছে।
তলপেট চেপে
ধরে আরো তিন কদম সরে এসে ও
এক্কেবারে ছাদের
কিনারায় যেয়ে বসলো। একদম যথার্থ
পজিশন।
এখান
থেকে একটা যুতসই ধাক্কা মেরে ওকে
সহজেই নিচে
ফেলে দেওয়া যাবে। আর আমি সেটাই
করলাম।
।
।
।
।
।
“মানসিক চাপ মানুষকে বদলে দেয়। চাপে
পড়লে
মানুষ নিজের বাপের নাম পর্যন্ত ভুলে
যায়।“
“ম্যাজিশিয়ানদের কৌশল ধরার জন্যে
কখনোই
ওদের
নির্দেশিত দিকে তাকাবে না। যদি কোন
ম্যাজিশিয়ান বলে এক্ষুনি আমার বাঁ
হাতের ভেতর
থেকে একটা কয়েন বেরুবে তাহলে তুমি
তোমার
চোখ রাখবে ওর ডান হাতের দিকে।“
নাক মুখ বিহিন থেঁতলানো একটা মৃতদেহের
সামনে
দাঁড়িয়ে ডাঃ লুই সিভাস্তোর সেই উক্তি
দুটো মনে
মনে পুনরাবৃত্তি করলাম।
One O One খেলা শেষ হয়ে গেছে। আমিই
বিজয়ী।
সিভাস্তোর প্রথম উক্তিটা প্রেসিডেন্টের
আচরন
ব্যাখ্যা করে। প্রেসিডেন্ট মারা যান নি।
কেবল
প্রচন্ড চাপে ছিলেন।
আমার হিসেবে একটা গুরুতর ভুল ছিলো।
পুরোটা
সময়
ধরে আমার কেন জানি মনে হচ্ছিলো
কোথায় জানি
একটা গন্ডগোল আছে। কিন্তু ব্যাপারটা
এতদিন
ধরে
ধরতে পারছিলাম না। সত্যিটা হলো
বহুরূপীটা
প্রেসিডেন্ট সাজতে যায় নি। কেননা
আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট সেজে ওর প্রস্থানের পর
পোল্যান্ডের
প্রেসিডেন্ট পদটা শূণ্য পড়ে থাকবে। আর
তাতে
পৃথিবী জুড়ে হৈচৈ আর তদন্ত শুরু হবে।
সেক্ষেত্রেও
ওর কারসাজি ধরা পড়ে যাওয়ার বিরাট
সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সে প্রেসিডেন্টকে
তার
ছেলে সেজে নিয়ন্ত্রণ করছিলো। আর এর
ফলে সৃষ্ট
প্রচন্ড মানসিক চাপের ফলে
প্রেসিডেন্টের মাথা
বিগড়ে যায়। তিনি উদ্ভট আর উল্টাপাল্টা
ব্যাবহার
করা শুরু করেন। কতটা চাপের মুখে পড়লে
কমিউনিস্ট
পার্টির একজন সাবেক চেয়ারম্যান, এই
প্রেসিডেন্ট
national convent act বা জাতীয় উপসনালয়
আইন
সংশোধন করে উপাসনালয়ের উপর থেকে
ট্যাক্স
তুলে দিতে পারে তা কি কল্পনা করা
যায়?
ভস্টার। ভস্টারই ছিলো সেই বহুরূপী। ওর
কার্যকলাপে
আপাতদৃষ্টিতে প্রেসিডেণ্টকেই বহুরূপী
মনে
হচ্ছিলো। কিন্তু সিভাস্তো আগেই আমায়
বলে
গেছে। ম্যাজিশিয়ান যদি বলে বা হাতে
ম্যাজিক
হচ্ছে তাহলে তুমি তাকাবে ডান হাতের
দিকে। এবং
আমি সেটাই করেছিলাম।
ওয়ারশো আসার আগ পর্যন্ত আমি
ভাবছিলাম
প্রেসিডেন্টই বহুরূপী। আমি ভস্টারের
উসিলাম
প্রেসিডেন্টের নাগাল পেতে চাচ্ছিলাম।
কিন্তু
বাসে হঠাত দুটো ছেলের কথোপকথনে
আমার দৃষ্টি
অন্যদিকে মোড় নিয়ে।
প্রথম ছেলেঃ “তুমি গতদিনের স্কুল
বাস্কেটবল
খেলা দেখেছিলো?”
দ্বিতীয় ছেলেঃ “আর বলো না, আমার টিম
হেরেছে। আর হারবে না কেন? আমাদের
ক্যাপ্টেন
ভস্টার তো পুরো খেলাতেই ফ্লপ মেরেছে।
ডি
বক্সের ভেতরে থেকেও বাস্কেটে বল
ফেলতে পারে
নি। প্রথমার্ধে তো দুই দুইবার হাবার মতো
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছেই পাস
দিয়ে
বসেছিলো। ওর হাবভাব দেখে মনে
হচ্ছিলো ও
জীবনে কখনো বাস্কেটবল খেলেনি।“
শেষ বাক্যটা বুলেটের মতো আমার খুলি
ফুড়ে
মস্তিষ্কে ঢুকে গিয়েছিলো। আমি এসব
খেলা ধূলা
খুব কমই বুঝি। কিন্তু আমার ও বুঝতে
অসুবিধা
হয়নি
যে সেদিন ভস্টার একদম বাজে খেলেছে।
একজন
ড্যাশিং ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে এমন
বাজে
পারফর্মেন্স কখনোই আশা করা যায় না।
যদি না
অন্যকেউ তার বেশ ধরে খেলতে না নামে।
কিন্তু আমি শুধু এক ম্যাচ খারাপ খেলার
জন্যে
কাউকে নিশ্চিতভাবে বহুরুপী বলতে পারি
না। ওকে
খুন করার আগে আরো শক্তপোক্ত প্রমাণ
চাই।
আর
সেটা পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিলো ওর
সাথে
দেখা করা।
কপাল ভালো যে ম্যানিকেশটভে
ভস্টারের সাথে
দেখা করার সময় সর্বদাই আমি পাবলিক
প্লেইসকে
প্রাধান্য দিয়েছিলাম। রেস্টোরেন্ট, বুফে,
পার্ক,
ডিস্কো, সিনেমা, বলিং স্টেড ,
গলফকোর্স, সব
জায়গাতে মানুষজন কিংবা সিকিউরিটি
ক্যামেরা
আমাদের দিকে মুখিয়ে ছিলো। হয়তো এই
জন্যেই ও
আমাকে আক্রমণ করে নি। যদি শেষ
রাতটায় ওর
আমন্ত্রণে একাকী তার হোটেল স্যুটে চলে
যেতাম
তাহলে এতদিনে হয়তো আমার লাশে পঁচন
ধরে
যেতো। আবারো একটুর জন্যে বেঁচে গেছি।
আজ রাতে ওয়ারশো বাসট্যান্ডে নেমেই
ওকে ফোন
দিয়েছিলাম। আধাঘন্টার ভেতরেই ও একটা
পুরাতন
ম্যাসট্যাচ গাড়ি নিয়ে হাজির হলো।
প্রেসিডেন্ট
ের ছেলে এমন গাড়ি চালায়, কি করে
বিশ্বাস করা
সম্ভব? আরেকটা জিনিস আমি অবাক হয়ে
খেয়াল
করলাম, এই যাত্রায় ওর গাড়িটাকে অন্য
কোন
কালো গ্লাসধারী এস,ইউ,ভি গাড়ি ফলো
করছে না।
অর্থাৎ আজ ও সিক্রেট সার্ভিসের
নিরাপত্তা
ছাড়াই বেরিয়েছে। উল্লেখ্য পোল্যান্ডের
সিকিউরিটি প্রটোকল অনুসারে
প্রেসিডেন্ট
পরিবারের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে
স্পেশাল
সিকিউরিটি প্রদান করা হয়, যেনো কেউ
প্রেসিডেন্টের নিকটাত্মীয় কাউকে
আক্রমণ করতে
না পারে। প্রতিবেশী বলিভিয়ায় একবার
স্থানীয়
সন্ত্রাসীরা সেখানকার প্রেসিডেন্টের
সন্তানদের
অপহরণ করে সরকারকে তাদের অন্যায়
দাবি দাওয়া
মানতে বাধ্য করেছিলো। এর পর থেকে
ভবিষ্যতে
এমন কোন অপ্রীতিকর অবস্থা এড়ানোর
জন্যে
পোল্যান্ডেও বিশেষ নিরাপত্তা আইন
সংশোধন
করা হয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে
ভস্টার কোন
অবস্থাতেই সিক্রেট সার্ভিসের এসকর্ট
ব্যাতীত
বেরুতে পারতো না। যদি না সে অন্য
কারো বেশ
ধরে সিক্রেট সার্ভিসের চোখকে ধুলা না
দিয়ে
থাকে।
মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম ভস্টারই বহুরূপী।
কিন্তু
শতভাগ নিশ্চিত হলাম গাড়িতে উঠার পর।
যখন ও
আমায় চুমু খেয়ে বললো, “চলো আমার
বাসায় যাওয়া
যাক। আমি পাশেই একটা নির্মানাধীন
বহুতল ভবনে
ছাদে একটা মিনি এপার্টমেন্ট ভাড়া
নিয়ে থাকি।“
আমি জানি ও এপার্টমেন্টে থাকে না, ও
থাকে
প্রেসিডেন্ট ভবনে। ওয়ারশোবাসীদের
প্রায় সবারই
নিজস্ব বাড়ি আছে। অন্তত এই শহরটায়
জনসংখ্যা
এতটা বাড়ে নি যে মানুষজনকে বহুতল ভবন
বানিয়ে
একজনের মাথার উপর আরেকজনকে থাকতে
হবে।
এখানে বহতলগুলো মূলত দাপ্তরিক
কার্যক্রম এবং
শপিং সেন্টার হিসেবেই ব্যাবহৃত হয়। আর
নির্মানাধীন বহুতলে তো রাতের বেলা
কোন মানুষই
থাকতে চাইবে না। যদি না সে ওখানে
নিরাপদে খুন
করে লাশ গুম করার মতলবে না থাকে।
গেলো
আধাঘন্টায় ও তাড়াহুড়ো করে আমাকে খুন
করার
জন্যে এই জায়গাটিকেই বেঁছে নিয়েছে।
চুমু খেতে
খেতে জড়িয়ে ধরে ছাদের কিনারায়
নিয়ে গিয়ে
নিচে ছুঁড়ে ফেললেই কেল্লা ফতে। কিন্তু
দুর্ভাগ্যক্রমে আমি ব্যাপারটা টের পেয়ে
গেছি।
সবটাই হয়েছে ডাক্তার সিভাস্তোর
কল্যানে।
কনস্ট্রাকশন ক্যাম্পের আবছা হলুদ আলোয়
হঠাত
একটা ছায়া মুর্তি দোলে উঠে হাঁক
ছাড়লো। ।“কে
ওখানে?”
ভয়ে জমে গেলাম। এটাতো কনস্ট্রাকশন
সাইটের
সিকিউরিটি গার্ড! আবারও যদি আরেকটা
লাশের
সাথে ধরা পড়ি তাহলে আর রক্ষা নেই।
এবার আর
পাগলা গারদে না, ডাইরেক্ট জেলখানায়
পাঠিয়ে
দেবে।
“হ্যালো স্যার! আমাকে একটু সাহায্য
করবেন
প্লিজ? আমি আর আমার বাবা
ম্যানিকেশটভ থেকে
এসেছি। এই কনস্ট্রাকশন সাইটটা যে
সম্পত্তির
উপরে
দাঁড়িয়ে আছে সেটা এককালে আমার
দাদার
সম্পত্তি ছিলো। বাবার শৈশব ঠিক
এখানেই
কেঁটেছে। ম্যানিকেশটভ ফিরে যাওয়ার
আগে বাবা
তাই একবার এই জায়গাটা শেষবারের মতো
দেখতে
চেয়েছিলো বলে ওকে এখানে নিয়ে
আসি। কিন্তু
আসার পর কি যে হলো, হঠাত বুক চেঁপে
ধরে
মাটিতে শুয়ে পড়েছে। প্লিজ আপনি একটু
সাহায্য
করুন, ওকে এক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে
যেতে হবে।“
সিকিউরিটি গার্ড অবাক হয়ে বললো,
“কিন্তু
কোথায় তোমার বাবা? উনাকে তো
আশেপাশে
কোথাও দেখছি না।“
ওর কথা শুনেই আমি একটা হার্টবীট মিস
করলাম।
গেলো কোথায় ঐ বহুরূপী? একটু আগেও তো
এখানেই
মরে পড়ে ছিলো।
আমি এবার কড়া দৃষ্টিতে ঐ সিকিউরিটি
গার্ডের
দিকে তাকাই। চোখের দৃষ্টিতেই ওকে ভষ্ম
করে
দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আসলে আমি
বুঝার চেষ্টা
করছিলাম এই সিকিউরিটি গার্ডটাই বহুরূপী
কি না।
কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হলো। গার্ড
এবার ঝটকা
মেরে ওর হোলস্টার থেকে পিস্তল বের
করলো।
বুঝতে পারলাম পৃথিবীতে আমার জন্যে
বরাদ্দ সময়
এতক্ষণে ফুরিয়ে গেছে। এক্ষুনি একটা
বুলেট এসে
আমাকে পরপারে পাঠিয়ে দেবে। চোখ
বুজে গুলি
খাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম,
কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে গুলির
বদলে কর্শক
কন্ঠে নির্দেশ আসলো, “মাথার উপর হাত
তুলে
পেছন
ঘুরে দাঁড়াও। খবরদার কোন চালাকীর
চেষ্টা করবে
না। তোমাকে ব্যাক্তিগত সম্পত্তিতে
অনধিকার
প্রবেশের অপরাধে গ্রেফতার করা হচ্ছে।“
ধ্যাত! বহুরূপীটাকে নিয়ে আমি এতটা
উত্তেজিত
ছিলাম যে সিকিউরিটা গার্ডের সাথে
ভালমানুষী
দেখানোর কোন প্রয়োজনই অনুভব করিনি।
ফলাফল,
ধরা পড়ে গেছি। বোকা সিকিউরিটি গার্ড
ধরেই
নিয়েছে আমি উচ্ছনে যাওয়া কোন
রাস্তার মেয়ে।
ড্রাগের টাকা যোগাড় করার জন্যে এই
কনস্ট্রাকশন
সাইটে চুরি করতে ঢুকেছি। ও এখন আমাকে
ধরে
পুলিশে খবর দেবে। আর পুলিশ আসলেই
আমার খেল
খতম। জেলে ঢুকার সময় প্রত্যেক
অপরাধীকে হাতের
ছাপ এবং ক্লোজআপ ছবি দিয়ে ঢুকতে হয়।
আর
এগুলি সংরক্ষিত থাকে পুলিশের
ইন্টার্নেট
সার্ভারে। এই সংরক্ষিত ডাটাগুলির সাথে
ক্রস
ম্যাচ করে ওরা খুব সহজেই ধরে ফেলবে
আমি কোন
খেপাটে কিশোরী নই, বরং পাগলাগারদ
পালানো
খুনে পাগলী। তারপর আবারো সেই
পাগলাগারদে
ফিরে যাওয়া! না, আমি কিছুতেই ওখানে
ফিরে
যেতে পারি না। বিশেষ করে এই মুহুর্তে,
যখন
বহুরূপীটা প্রায় আমার হাতের মুঠোয় চলে
এসেছে!
এই গার্ডটাকে যেকোন উপায়ে আমার
কপোকাত
করতেই হবে। ওর কাছে ধরা দেওয়া চলবে
না। কিন্তু
কিভাবে করবো? ও তো পিস্তলটা আমার
ঠিক
বুকের
উপরে তাক করে আছে। কিছু করতে গেলেই
গুলি করে
হৃদপিন্ডে ফুঁটো বানিয়ে দেবে। আপাতত ওর
নির্দেশ
শোনা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। তাই
ওর
নির্দেশ মতো হাঁটু মুড়ে বসে হাত দুটো
উপরে তুলে
আত্মসমর্পণ করলাম। এবার গার্ডটা
হাতকড়ি
পড়ানোর জন্যে সতর্ক ভঙ্গিমায় এক পা
এক পা
করে
আমার দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলো।
প্রথম
প্রথম
বুঝতে পারিনি ও কেন একটা বাচ্চা
মেয়ের
ব্যাপারে এত অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন
করছে।
কিন্তু ও একটু কাছে আসতেই পুরো
ব্যাপারটা
পরিষ্কার হয়ে গেলো। ওর হাতে ধরে
বন্দুকটাকে
আমি এতক্ষণ পিস্তল ভেবে ভুল
করেছিলাম। রাতের
আলো আধারীতে এমন ভুল হওয়াটাই
স্বাভাবিক। ওর
হাতের ওটা পিস্তল নয়, বরং একটা
স্টেনগান। ও
ট্রিগার টানলে আমি সর্বউচ্চ একটা হাই
ভল্টেজ
শক
খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়বো, কিন্তু মারা
যাওয়ার
সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে।
অনেক
টিনএজাররা স্টেনগানকে তোয়াক্কাই
করে না।
স্টেইনগানকে উপেক্ষা করেই ওরা একশনে
ঝাঁপিয়ে
পড়ে। আর এই ভয়টাই ওকে অতিরিক্ত সতর্ক
করে
তুলেছে।
হাঁটু মোড়া অবস্থাতেই আমি বাবা বলে
অস্ফুট
চিৎকার ছাড়লাম, যেনো আমার বাবা এই
মুহুর্তে
ঠিক ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ভরকে
গিয়ে
গার্ডটা পেছনে তাকালো। আর আমি সেই
সুযোগে
মাটিতে পড়ে থাকা একটা ভারী
কনস্ট্রাকশন
হ্যালমেট তুলে নিয়ে ওর দিকে ছুঁড়ে
দিলাম।
হ্যালমেটটা ওর ঠিক মাথায় যেয়ে
লেগেছে।
এক্কেবারে মোক্ষম্ম আঘাত, এক ঘাঁতেই ও
মাটিতে
পড়ে গেলো। ও পড়ে যেতেই আমি ওর
কাছে থাকা
স্টেইনগানটা কুড়িয়ে নেই। তারপর
বহুরূপীটার জন্যে
চারপাশে খোঁজ শুরু করলাম। বহুরূপীটা
যেখানে
আঁছড়ে পড়েছিলো তার পাশেই মাটিতে
একটা
ছেঁচড়ানোর দাগ এঁকেবেঁকে জঞ্জালের
দিকে চলে
গেছে।
কনস্ট্রাকশন সাইটের পেছনের দিকটায় বিশ
ফুট উঁচু
জঞ্জালের স্তূপ। লোহা লাক্কর, চেইন,
ভাঙ্গা
মেশিনারীজ। এমন জায়গায় মানুষ কেন,
একটা আস্ত
হাতিকেও লুকিয়ে রাখা যাবে।এমন
জায়গায় ওকে
খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। সারা রাত
এভাবে
খড়ের গাঁদায় সূঁচ খোজার কোন মানেই হয়
না।
ওদিকে আবার গার্ডটাকে একা ফেলে
রেখে
এসেছি। যেকোন মুহুর্তে ওর জ্ঞান ফিরে
আসতে
পারে। আর জ্ঞান ফেরা মাত্র ও নরক
গুলজার শুরু
করবে। খোঁজাখুজি শুরু করার আগে একবার
ফিরে
যেয়ে গার্ডের হাতপা ভাল করে বেঁধে
রেখে আসা
দরকার। কথা মনে হতেই দৌঁড়ে আগের
জায়গায়
ফিরে আসলাম। কিন্তু এঁকি! গার্ডটা
এতক্ষণে
জ্ঞান
ফিরে উঠে বসেছে।
আমাকে ফিরে আসতে দেখেই চেঁচিয়ে
উঠলো, এই
মেয়ে, তুমি একজন কর্তব্যরত সিকিরিটি
অফিসিয়ালের গাঁয়ে হাত তুলেছো। এর
জন্যে
তোমার কি সাজা হতে পারে জানো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now