বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
..
আমার বড় আপা যখন মারা যায়, আমার বয়স তখন সাত
বছর। সাত বছরের একটি শিশুর সাধারণত মৃত্যুর
মতো ভয়াবহ ঘটনার দৃশ্য মনে থাকার কথা নয়। শিশুরা
মনে রাখে গভীর আনন্দময় স্মৃতি। কিন্তু
আশ্চর্য্যজনক সত্যি হলো, আপার মৃত্যুর প্রতিটি
খুঁটিনাটি আমার মনে আছে। বাস্তবিকভাবে আপাকে
নিয়ে ঐটুকু স্মৃতি ছাড়া আর সবকিছুই আমার ঝাপশা
মনে হয়। আপার স্মৃতি মানেই, ওর মরে যাওয়ার
স্মৃতি। ওইদিনটি কোন এক উৎসবের দিন ছিলো।
উৎসবের ব্যাপারটা মনে আছে, কারণ সেদিন
আমার স্কুল বন্ধ ছিলো। আমি আর খোকন বাড়ির
উঠোনে খেলছিলাম। খোকন যদিও ওইটুকু
বয়সে খেলার কিছুই বুঝতোনা, তাও আমার
একমাত্র খেলার সাথী ছিলো ও। বিশাল প্রাচীর
দেয়া বাড়ির ভেতরে আমার আর খোকনের
নিজের একটা পৃথিবী ছিলো।
আমাদের বাড়িটা থেকে পাড়ার সবাই দূরে দূরে
থাকতো। মায়ের মুখে শুনেছি, আমার দাদাজানের
দুটো পোষা জ্বীন ছিলো বলে গুজব আছে।
তাই সবাই আমাদের খুব ভয় খেত। আমার বাবা একদম
ছাপোষা মানুষ। বিশাল বটগাছ যেখানে থাকে,
সেখানে নাকি আর কোন মহীরুহ জন্মায় না,
বটের বিশালত্বের কাছে তারা অস্তিত্ব হারিয়ে
ফেলে। কথাটা গাছের বেলায় কতটা সত্যি, আমি
জানিনা। কিন্তু বাবার বেলায় পুরোপুরি সত্যি।
দাদাজানের প্রতিপত্তির টুকরোর ওপর ভর করেই
তার পুরো জীবন কেটে গেছে। এলাকার
কাউকে কখনো আমাদের বাবার নামে পরিচয়
করিয়ে দিতে শুনিনি। বরাবরই আমরা ছিলাম, বড়
চৌধুরীর নাতি- নাতনী। বাবাকে কেউ ভয় পেত না,
এমনকি আমরাও না। তিনি সারা জীবনই চুপচাপ খুব।
আমরা কখনো তাকে কাছ থেকে দেখিনি, বড়
দূরের মানুষ আমাদের সাধাসিধে বাবাটা। আমাদের
মধ্যে বাবাকে একমাত্র চিনতো আমার আপা, বড়
আপা।
সারা বাড়িতে আপার অনেক অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে
ছিলো। এলবাম ভরা কেবল আপারই ছবি। বাবার
কোলে চড়া ওর ছবিগুলো দেখে আমার হিংসে
হতো বরাবরই। মায়ের শাড়ির প্রথম ভাঁজ ভাঙার
অধিকার কেবল আপার, ঘাটের সিড়িতে খোঁদাই
করে লেখা নামটা আপার। ফসলের প্রথম চালের
পায়েসটা আপার, মেজোবুর সব গোপন কথার
সাক্ষী হবে আপা, আমার স্কুলের ব্যাগ,
খোকনের নীল গাড়ি আনবে আপা…
সেই আপাকে যখন ওর বর একটা ভাড়ার গাড়িতে
করে আমাদের দুয়ারে ফেলে গেলো, আমিই
সবার আগে ওদের দেখেছিলাম। আপার বরকে
আমি দাদাভাই ডাকতাম। দূর থেকে দাদাভাইকে দেখে
বিশাল শোরগোল করে আমি ছুটে গিয়েছিলাম।
মূল ফটকের কাছে পৌছে দেখি, দাদাভাইয়ের গাড়িটা
ছেড়ে যাচ্ছে, পুটুলীর মতো কিছু একটা
গেটের কাছটায় পড়া। কিছু একটা, কারণ জিনিসটাকে
কিছুতেই কেউ একজন বলা যাচ্ছিলো না। মৃদু
আর্তনাদের শব্দ শুনে আমি বুঝতে পারি সেই
কাঠকয়লা জিনিসটা আমার আপা, আমার বড় আপা। বাবার
অতি প্রিয় মণি।
আমাদের ভাইবোনদের বড় অদ্ভূত নামকরণ!! বড়
আপা নয়নতারা, মেজোবু মায়ালতা আর আমি প্রিয়ংবদা।
খোকনের নামটা সবচেয়ে মজার। রাজকুমার!!
এমন রুপকথার বইয়ের চরিত্রের মতো কি কারো
নাম হয় কখনো?? আমাদের নাম রেখেছেন
আমাদের দাদী। দাদীর দেয়া পোষাকী
নামগুলোর বাহিরে সহজ ভাবে ডাকার মতো
আমাদের কিছু নাম আছে। মেজোবু মায়া, আমি
প্রিয়তা, খোকন হলো খোকন আর বড় আপা…
মণি।
সেই মণি যখন আধপোড়া শরীরটা নিয়ে দুয়ারে
পড়ে ছিলো, আমি প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলাম। এটা
আমার আপা, সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো
না। আমি চেঁচিয়ে বাড়ি জড় করেছিলাম। আমার বাবা
দৌড়ে এসে আপাকে দেখে হতবিহ্ববল হয়ে
গেলো! ফ্যালফ্যাল করে আপার দিকে তাকিয়ে
রইলো অপলক। যেন কি হবে, কিছুই বুঝতে
পারছিলো না। মার গলা চিরে বের হওয়া তিক্ষ্ণ
আর্তনাদটা ঘোর ভাঙাতে টনিকের কাজ
করেছিলো। বাবা দৌড়ে গাড়ি বের করলেন, আমরা
সবাই তাতে চেপে সদরের দিকে রওনা দিলাম।
উৎসবের আমেজ লেগেছিলো সদরের
হসপিটালটাতেও। বাবা অনেক দৌড়োদৌড়ি করেও
একজন বার্ণ স্পেশালিষ্ট জোগাড় করতে
পারলেন না। টানা দুটো দিন অবর্ণনীয় কষ্ট
পেয়ে আপা অবশেষে শান্তিতে চোখ বন্ধ
করতে পারেন। আপার শেষ সময়টাতে আমরা সবাই
চুপচাপ আপাকে ঘিরে বসে ছিলাম। কেউ একটুও
কাঁদেনি। বাবাও না। খোকন একটু দূরে চুপটি করে
বসে অবাক চোখে এই ভয়াবহ দৃশ্যটা
দেখছিলো। এইটুকু একটা বাচ্চা, নিজের ভেতরে
এত গাম্ভীর্য্য আটকে রেখেছিলো কি করে,
কে জানে! কেবল মা বিড়বিড় করে কিছু একটা
বলছিলো।
অনেকক্ষণ মন দিয়ে শোনার পর বুঝতে
পারলাম, মা প্রার্থনা করছেন “খোদা, আমার
মেয়েটার মৃত্যু দাও... দ্রুত মৃত্যু দাও। এই পাশবিক
যন্ত্রণা পাবার মতো কোন পাপ আমার মেয়েটা
করেনি… ওকে মৃত্যু দিয়ে দয়া করো”
আপা চলে যাবার সময় সাথে করে আরো একটা
জিনিস নিয়ে গেলো, মায়ের কন্ঠস্বর। আমার মা…
সারাদিন নানা ব্যস্ততায় হইচই করে বেড়ানো মা
টাকে আর কখনো কিছু বলতে শুনিনি আমি। বিধাতার
প্রচন্ড অন্যায়ের প্রতিবাদে কিংবা নিজের
অসহায়ত্বের উপর নিষ্ফল রাগে মা মূক জীবন
বেছে নিয়েছিলেন। আপার জন্য করা প্রার্থনাটুকুই
মার শেষ বাক্য ছিলো। এরপর মা আর কখনো
রঙিন পাড়ের শাড়ি পরেন নি, নতুন চালের পায়েস
রাঁধেন নি, বিনুনী করে চুল বাঁধেন নি। মাকে
শেষদিন অবধি আমি আর হাসতে দেখিনি।
আপার সাথে হওয়া এই অন্যায়টা বাবা একদম মেনে
নিতে পারেন নি। খুব করে চেয়েছিলেন, আপার
আত্মাটা একরত্তির শান্তি পাক। থানা পুলিশ দৌড়েছেন
বেশ কিছুদিন। তারপর একদিন চিলেকোঠার কামরায়
বাবার ডাক পড়লো। ওখানটাতেই এই পরিবারের
ভাগ্যের সবটা নির্ধারিত হয় বরাবরই। আধঘন্টা পর বাবা
যখন বেরিয়ে এলেন, আর কোনদিন আপার নাম
মুখে আনেন নি। দৃশ্যত কিছুই হয় নি সেদিন। শুধু
আমার ছোট্ট বাবাটা আরো ছোট্ট। ক্ষুদ্র হয়ে
গেলেন। আলোয় এলে কুঁকড়ে যেতেন।
ঘন্টার পর ঘন্টা কালো ফ্রেমের চশমা চোখে
পুরে মা-বাবার শোবার রুমে বড় করে বাঁধানো
আপার ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
দাদী, যিনি কখনো চিলেকোঠার ছোট্ট ঘরটা
থেকে নীচে নামেন না। বাতাসের গন্ধ
শোনেন না, গাছেদের গায়ে হাত বুলান না।
মায়ের মতো উনুন ঠেলেন না, অথচ এই বাড়ির
প্রতিটা জিনিস তার নখদর্পনে। কোন এক অজানা
ভাবে তিনি জেনে যান আমাদের দুধেল গাভীটা
কতটা দুধ দিলো, ডিম পাড়া মুরগীর সংখ্যা কত,
কোন ক্ষেতে কতটুকু ফসল হয়েছে, আর
আমাদের সবার মনের ভেতর কি কথার ঝড়
চলছে!! এবাড়ির একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী
আমার দাদী। যিনি সারাদিন মিহি সুরে কুরআন পড়েন
আর বাকি সময় হামানদিস্তায় পান সুপুরি ভাঙেন… ঠুক
ঠুক ঠুক…
দাদীকে আমি বরাবরই একইরকম দেখে এসেছি।
শনশনে সাদা চুল, পানের রস গড়িয়ে পড়া চিবুক,
কুঁচকে যাওয়া মুখাবয়ব আর মৃত মানুষের মতো
নির্জীব চোখ।
বাবা মা থেকেও না থাকা আমাকে আর খোকনকে
বুকে আগলে নিলো মেজোবু। আমার
মেজোবু… শান্ত খুব। সারাদিন বাড়ির পেছনের
দিঘীর জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা জলকন্যাটা,
আমার মেজোবু। বড় আপা যাওয়ার পর বুবু খুব একা
হয়ে গিয়েছিলো। সারাদিন বাগানের কালচে
সবুজে হারিয়ে থাকতো। অপার্থিব নীলচে
আলো খেলা করতো ওর চোখে মুখে।
যেন জন্মান্তরের দুঃখ চাপা দিয়ে রেখেছে
মনের গোপন কৌটোটায়। একাকী হলেই
কেবল ও কৌটোখানার মুখ খোলা হতো। গাছ
পাখি, ফুলেদের সাথেই বন্ধুতা ওর। আমার আর
খোকনের প্রতি ওর অনেক খেয়াল ছিলো।
আমাদের ধূষর এই জীবনে যতটা শৈশবের সবুজ
স্মৃতি জমা আছে, তা কেবল মেজোবুর
বদান্যতায়। খাতা বইয়ের টান পড়তেই আমরা
মেজোবুকে গিয়ে ধরতাম। সে তার গোপন
সিন্দুক থেকে আমাদের পয়সা দিতো।
খোকনের ঘুড়ি কেনার আর আমার পুতুলের
বিয়ের খরচও জোটাতো ও। মেজোবুর মতো
একটা বায়না পূরণের কারীগর পেয়ে আমরা
যারপনাই আনন্দিত ছিলাম। মায়ের পাগলামীকে ভয়
পেতে পেতে মা কে জড়িয়ে ধরে যে
ঘুমোনো যায় সেটাই আমরা ভুলে গিয়েছিলাম।
সেই জায়গাটা অনায়াসে দখল করে নিয়েছিলো
মেজোবু। মা বলতে আমরা মেজোবুকেই
বুঝতাম।
সেই মেজোবুটাও একদিন টুপ করে হারিয়ে
গেলো বড় আপার মতো। পার্থক্য শুধু, বড় আপা
হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিলো, মেজোবু সবাইকে
জানান দিয়ে হারিয়েছে। রীতিমতো দাওয়াত
খাইয়ে দশ গ্রামের লোক জড়ো করে আমার
শান্তসিষ্ট বুবুটাকে একটা দোজবরের হাতে
তুলে দিয়েছিলো ওরা… নাহ, ওরা নয়, ওই
চিলেকোঠার প্রেতাত্মাটা। কি জানি কি ছিলো তার
মনে! বিয়ের পর ওরা একদিনও বুবুকে আমাদের
এখানে আসতে দেয় নি, কেউ বুবুকে
দেখতে যায় নি। যায় নি তা না, কাউকে যেতে
দেয়া হয় নি। সব ওই ডাইনিটা…
বড় আপার সংসারে মেজোবুর চেয়ে ভালো
বিকল্প ওরা খুঁজে পায় নি। পাবেই বা কী করে?
আমার মেজোবু, শান্তসিষ্ট মেজোবু, সাতচড়ে
যে রা করে না তাকে ছাড়া ওই লোকটা আর
কাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে পারতো??
আর কে চুপ করে ওই পাষন্ডটার ঘর করতো,
যে দুটো মেয়ে হবার অপরাধে তার নিজের
স্ত্রীর গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে
দিতে পারে? ওর শ্বশুর শাশুড়িও লোকটাকে কিচ্ছু
বলেনি। দুটো মেয়ে হবার সব দোষ
তো কেবল আমার আপারই ছিলো। স্ত্রীকে
পুড়িয়ে মেরেছে, বেশ করেছে। পুরুষ হবার
জন্মগত সুবিধাটুকু আছে কি করতে? ওদের সাথে
সাথে এবাড়িতেও তো কেউ একজন ছিলো, যার
চোখে ওই লোকটা নির্দোষ! সেই যে সব
সিদ্ধান্তগুলো নেয়। মেজোবু না জানি কত কষ্ট
করে আপার সংসারটাতে নিশ্বাস নিতো। বড়পার
জ্বলে যাওয়া চোখদুটো কি ভেসে উঠতো না
চোখের সামনে প্রতিদিন?? আহারে আহারে…
অবশ্য আমার বোনগুলো খুব ভাগ্যবতী।
বেশিদিন এই পিশাচগুলোকে সহ্য করতে হয় নি।
মেজোবু মারা যায় পানিতে ডুবে। ও খুব ভালো
সাতার জানতো। ওকে জলকন্যা বলেই ডাকতো
সবাই। সেই মেজোবু যখন পানিতে ডুবে
হঠাৎ মরে গেলো, আমি নিশ্চিত জানতাম ওর
বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকুও ফুরিয়েছিলো
বলেই ও মরে গেছে। কাউকে কষ্ট দেয় নি,
কারুর কাছে প্রতিবাদ করে নি। শুধু একদিন সকালে
উঠে সারাবেলার কাজ দুঘন্টায় সেরে ফেলে টুপ
করে মরে গেছে।
বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তাটা ধরে হাঁটতে হাঁটতে
ভাবছিলাম সব। মেজোবুর পর মা, তারপর বাবা… সবাই
চলে গেলেন একে একে। আমি যখন আমার
শেষ অবলম্বনটুকু হারালাম, তখন আমার বয়স মাত্র
কুড়ি। এইটুকু বয়সেই আমি খোকনের একমাত্র
অভিভাবক হয়ে গেলাম। আমি আর খোকন…
কেবল দুজনার সংসার। আরো একজন অবশ্য
ছিলো, কিন্তু তাকে আমি, আমরা আরো বহু
আগেই দুঃস্বপ্ন বলে ভেবে নিয়েছি। খোকন
কে নিয়ে আমার নতুন সংগ্রামটা শুরু হলো এর
পরেই। মফস্বলে আর থাকবো না - সিদ্ধান্ত
নিলাম। টাকা পয়সার অভাব ছাড়াও যে কত রকম অভাব
হতে পারে, আমরা দু ভাইবোন তা হাড়ে হাড়ে
টের পেয়েছি। অভিভাবকহীন হয়ে নিজেদের
সামলানো, খুব সহজ নয়। জবাবদিহির বালাই থাকেনা
বলেই হয়তো নিজের কাছে জবাব দেয়ার
প্রয়োজনটা অনেক অনেক বেশি বেড়ে যায়।
কেউ শাষণ করার নেই, আদর করে দুটো কথা
বলার মানুষের বড় অভাব ছিলো একটা সময়।
জীবনের প্রতিটি মোড়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো
ভুল কি সঠিক কেউ বলে দেয় নি কখনো।
জীবন নিয়ে জুয়া খেলে খেলেই আমাদের
আজকের এই অবস্থান। বহু বিপত্তি পেরিয়ে আজ
আমাদের নিজেদের নামে পরিচিত হবার গল্পটা
বেশ বিচিত্র এবং অদ্ভূত। আমরা বাবার মতো আগাছা
হয়ে থাকি নি, মহীরুহ হয়েছি। সময়ের ভেসে
চলার সাথে সাথে জীবনের গল্পগুলোও নানা শাখা
প্রশাখায় ছড়িয়ে গেছে। এই বাড়িটা আজ আর
স্মৃতির খনখনে ভান্ডার ছাড়া কিছু না।
আমাদের বাড়ির নাম ইদানিং হয়েছে লাশের বাড়ি।
অসংখ্য মৃত্যুর সাক্ষী এটা। আজ এই বাড়িটাকে
আঁকড়ে পড়ে থাকা শেষ মানুষটাও মরে
গেলো। তাকে মাটিচাপা দিতে এসেই তো
পুরোনো সব কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে!
আমার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটা দূর্ঘটনার
পেছনে তার হাত আছে। ভেতরটাকে আচড়ে
খাবলে লাশ বানিয়ে দিয়েছে যে মানুষটা, সে আর
নেই। আমার শৈশব কৈশোর কেড়ে নেয়া নোংরা
মানুষটার আজ মৃত্যদিন। আজ আমার খুশী হওয়া উচিত।
কি প্রচন্ড ঘৃণা বুকে জমা করে রেখেছিলাম তার
জন্য। অথচ আজ সেই অনুভূতিগুলো বেশ নিষ্পৃহ।
আমার মেয়েটা যখন হাত ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে আমাকে
জিজ্ঞেস করলো “who is this old lady
mom?’ আমি কি শান্ত স্বরে গলার কাঁপানো ভাব আর
ঘৃণাটুকু আড়াল করে বলে ফেলতে পারলাম “আমার
দাদী… my grandmother dear”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now