বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writerpurbo pais
আপনে আমারে বিয়ে করলেন কেন?
আপনিকি পাগল নাকি মাথামোটা, জেনে শুনে
অন্ধ মেয়েকে বিয়ে করলেন।।
না পারবো কখনো আপনার সেবা করতে
না পারবো আপনার খেয়াল রাখতে।
আপনে আমারে ডিভোর্স দিয়া..
.
--এত কথা বলেন কেন আপনি?
আর আমি পাগলও না, ছাগলও না।।
তাছাড়া আপনাকেতো আর এমনি এমনি বিয়ে
করিনি, আপনার বাবা আমাকে লাখ টাকা
দিয়েছে, তাই আপনাকে বিয়ে করেছি। (আমি)
.
--টাকা নিয়েওতো অনেকে বিয়ে করতে
চায়নি, তবুও কোন এক কারনেতো আপনার বউ
হতে পেরেছি, তাতেই আমি ধন্য, আমি
ভাগ্যবতী
.
-- এর জন্য এত ভাগ্যবতী মনে কইরেন না
নিজেকে।
সামান্য হোটেলের কর্মচারি, নিজেরই ভাত
জুটেনা,
আপনারে কি খাওয়াবো তা আমি নিজেই
জানিনা।।
আপনার বাবার টাকা দিয়ে ঘড় একটু ঠিক
করাবো আর সংসারের কিছু জিনিস কিনতে
হবে।।
.
--আচ্ছা, বাদ দিন।। আজ আমাদের বাসর রাত
তাইনা?
.
--হ্যাঁ বাসর ঘড়, কিন্তু ফুল নেই।। এমনই
সৌভাগ্যবানের কাছে বিয়ে হইছে আপনার।
.
--শুধু ফুল হলেইকি বাসর হয়, আমি মনে মনে
সাজিয়ে নিয়েছি।। তাছারা ফুল দিয়ে
সাজালেওতো দেখতে পারবো না, বলেন
.
--আচ্ছা বাদ দেন, অনেক রাত হলো,আমি
বিছানা পেতে দেই ঘুমান।। আর রাতে
বাতরুম পেলে ডাকবেন।।
.
--আমি আপনার জীবন বিষময় করে দিলাম।
.
--আবার সেই কথা
.
--আচ্ছা বাদ দিলাম।
.
বিছানাটা করে চকির উপরে দুজন শুয়ে আছি,
দুজন দুজনের মুখ করে,
এত সুন্দর আমার বউ হবে কখনো ভাবিনি,
আমার ভাঙাঘড়ে আজ বুঝি চাঁদ নেমে এসেছে,
আজ দুচোখ ভরে শুধু দেখবো আর দেখবো।।
.
--কি দ্যাখেন অমন করে? (স্নেহা)
.
.(একটু অবাক হয়েই বল্লাম,)
.
--আপনি জানলেন কিভাবে? আমি আপনার
দিকে তাকিয়ে আছি।
.
--এটা মেয়েদের আলাদা বৈশিষ্ট। কোন
ছেলে তাকিয়ে থাকলে বুঝতে পারা যায়।
অন্ধ হলেও মেয়েতো।
.
--সব সময় অন্ধ অন্ধ করেন কেন,, আজ যদি
আমি অন্ধ থাকতাম তবেকি।, আমাকেও অন্ধ
অন্ধ বলতেন।
.
--অমনটা বলবেন না, আমি আর বলবো না।
.
বলতে বলতেই কেঁদে দেয়, কি করা উচিৎ
বুঝতে পারছি না, ওকে খুব জড়িয়ে ধরতে
ইচ্ছে করছে,,
কিন্তু কেন জানি মনে হলো, ওর চোখ ভাল
হয়ে যাবে, আমি ভাল করে ওকে ওর যোগ্য
স্থানে বিয়ে দিয়ে দেবো।।
.
৭ ভাই বোনের ভেতর ওই ছোট, কিন্তু অন্ধ
বলে সবাই ওকে নিয়ে চিন্তিত ছিলো।
সবার অনেক বড় বড় জায়গায় বিয়ে হয়,
ভাগ্যের পরিহাসে আমার সাথে বিয়ে হয়।।
.
যাইহোক, ওকে আমি বড় ডাক্টার দেখাবো।
দরকার হলে ভিটা মাটিটুকু বেচে দিবো।
বাবা নাই, মা নাই কি হইবো এগুলা দিয়া।
তবু যদি ওর চোখ ভাল হয়, তাইলে একটু
শান্তি লাগবো।।
.
--কি ভাবেন এত? (স্নেহা)
.
--কই কিছুনা,
.
--আমারে জড়ায়ে ধরবেন না?
.
--আচ্ছা আমার হাতের উপর মাথা রেখে
ঘুমান।।
.
আমার হাতের উপর মাথা রেখে ও ঘুমিয়ে
যায়,,
ওকে দেখতে দেখতে কখন যে আমিও ঘুমাই
মনে নেই।।
সকালে ওর ডাকে ঘুম ভাঙে,
.
--এইযে শুনেন,,
.
--হুম, হ্যাঁ বলেন
.
--একটু ওয়াশরুমে যাবো, একটু নিয়ে চলেন
.
ওয়াশরুমে দিয়ে এসে, স্টবে একটু চা
বসালাম
কিন্তু কি দিয়ে খাবে, ঘড়েযে কিছুই নেই,
একা মানুষ বাইরে বাইরে থাকি বলে কিছু
আনা হয় নি।।
খুচড়ো কিছু টাকা দিয়ে আমার জন্য মুড়ি আর
৫ টাকা প্যাকেটের ২ প্যাকেট বিস্কুট
নিয়ে আসলাম।
.
--স্নেহা,, স্নেহাাা,,,, কোথায় আপনি?
স্নেহা।
.
বাথরুমেওতো নেই, আশে পাশে কোথাও নেই,
ওতো কিছু দেখতেও পা কোথায় গেলো।
খুজতে খুজতে হাত পা ভেঙে আসছে,
আমার হাতে বুঝি চাঁদ ধরা দিতে গিয়েও
পালিয়ে গেলো।
অনেক খোজাখুজির পর কোথাও পেলাম না
তখন দুই মন দু আশা করে আবার বাথরুমে
গেলাম
তাকাতেই দেখি বাথরুমে ফ্লোরে পড়ে আছে,
জ্ঞান হারিয়েছে।
একি হলো, কিভাবে হলো কিছুই বুঝতেছি না।
কোলে তুলতেই শরিরটা এলিয়ে দিলো।, হাত
পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
আমি যতটা বুঝি হাত পা ঠান্ডা হওয়াটা খুব
একটা ভাল লক্ষন না।।
কারন আমার মা" ও এমন হাত পা ছেড়ে
দিয়েছিলো, কিন্তু আর ফিরেনি।
.
কোনরকম কোলে তুলে চকির উপর শুইয়ে দিয়ে
মুখে পানি ছিটা দিতেই জ্ঞান ফিরলো।
অবস্থা তেমন একটা ভাল লক্ষ করলাম না।।
দৌড় দিয়ে কালু ডাক্টারের কাছে সব খুলে
বলে তাকে নিয়ে আসলাম।। ডাক্টার প্রেশার
টেশার মেপে বল্লেন
.
-- উনিকি সকালে কিছু খেয়েছেন?
.
--না ঘুম থেকে উঁঠে বাথরুমে গিয়েই এ
অবস্থা
.
--উনার প্রেশার একদম কম।। আমি ঔষধ লিখে
দিচ্ছি।। আর হ্যাঁ ডিম দুধ ভাল করে
খাওয়ায়েন। নইলে ঔষধে কোন কাজ হবে না।।
তাছাড়া খেতে না চাইলেও জোর করে
খাওয়াতে হবে।।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে।।
.
ডাক্টার চলে যাওয়ার পর, বাজারে চলে
গেলাম।
দেরি হলে পরে আবার দুধ পাবো না।
আধাকেজি দুধ আর হাঁসের ডিম নিয়ে এলাম।
হাঁসের ডিমে নাকি পুষ্টি বেশি।
দুধটা জাল দিয়ে ডিমটা বসিয়ে দিলাম।
.
ভাবতেছি বড় ডাক্টার দেখাবো, ছোট
ডাক্টার দিয়ে বিস্বাস নাই, ডিম দুধ
খাইয়ে দেখি কি হয়।।
.
--এইযে উঠুন একটু (আমি)
.
--আপনি নাস্তা করেছেন? (স্নেহা)
.
--হ্যাঁ, আপনি দুধটুকু খেয়ে, ডিমটা খান।।
কাজে যেতে চাইছিলাম। আপনার শরিরটা
ভাল না। তাই আজ যাবো না।।
.
--না না ঠিক আছি আমি। আর দুধ ডিম আনছেন
কেন? টাকা পেলেন কই?
.
--আপনাকে অত ভাবতে হবে না।। আমি যা
দিবো খাবেন।। আপনার দাইত্ব নিছি
খাওয়াতেতো হবে বলেন।।
.
--আপনিওতো খান নি।। ডিমটা আমি একটু খাই
আপনি একটু খান।।
.
--না, আমি ডিম খাই না।
.
--Okay আমিও খাবো না।
.
--দুর খাইলে খান না খাইলে যা ইচ্ছা
করেন।।
.
উচু গলায় বলেই বেরিয়ে গেলাম। কি আল্লাদ
জানে আল্লাহই ভাল জানে।
খুদা পেটে নাকি রাগ বেশিই উঠে। আমারও
তাই হলো।। বেশ রাগ করেই চলে এলাম।
একা ছিলাম ভাল ছিলাম। না পারবো ফেলে
দিতে, না পারবো কিছু করতে।।
.
চায়ের দোকানে বসে বসে শুধু ভাবছি
মেয়েটা দেখতেও পায় না, কিছুু খেতেও
পারবে না। তার উপর নতুন জায়গা কিভাবে
কি করবে।।
.
ভাগ্যের পরিহাসেই আমার কাছে এসে
পড়েছে।
নইলে আমার মত ছেলের এত বাজে কথা ওর মত
এত সুন্দর মেয়ে কোনদিন এভাবে শুনবে না।।
তাই রাগ ভেঙেই বাসায় গেলাম।
গিয়ে দেখি স্নেহা কাঁদছে। একি করলাম,
মেয়েটাকে কাঁদিয়ে দিলাম।
কি এমন বলেছে, আর আমিও এমন করলাম।।
তাছাড়া ওর কান্নাটা এমন বুকে বিধছে
কেন।।
আর থাকতে পারলাম না। কাছে গিছে ওর
হাতটি ধরলাম।
.
--I'm sorry, আমার ভুল হয়ে গেছে, মাফ
করে দিন।
.(চোখ মুছতে মুছতেই বল্লো)
--কি বলেন এসব, আপনি আমার স্বামী, আপনি
শত অন্যায় করলেও আমার কাছে ক্ষমা চাইতে
পারেন না।
.
--আমিতো ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করো
.
-করতে পারি ১ শর্তে
.
--কি শর্ত?
.
-- আমি এই ডিমটা খাইয়ে দিবো, অর্ধেক
খেতে হবে।
.
কোন উপায় না দেখে দুধ আর ডিমের
অর্ধেকটা খাইয়ে দিলাম।
লক্ষি মেয়ের মত খেতে খেতে কেঁদে দিলো।
এইমেয়েটা শুধু কাঁদতেই পারে নাকি কে
জানে।।
.
--এই আবার কাঁদছেন কেন?
.
--না এমনি। জানেন আমাকে এভাবে কেও
কখনো খাওয়ার জন্য বকেনী। বাবা ছাড়া
এভাবে কেও খাইয়ে দেয় নি। ছিলামতো
পরিবারের বোঝা, আম্মুও জন্ম দিয়েই মরে
গেছে।।
এবার এসেছি আপনার বোঝা হতে।
.
--আপনিনা অনেক বাজে বকতে পারেন। আর
বকবেন না।। আর হ্যাঁ একটু রেডি হয়ে
থাকবেন,
সংসারের কিছু জিনিস কিনতে হবে। আপনি
পছন্দ করে দিবেন।
.
--আমিতো চোখেই...
.
--আবার সেই কথা। ও দুপুরে আজ বাইরে
খাবো।।
.
--ঠিক আছে।।
.
বাসন্তি রঙের শাড়িটা বেশ মানিয়েছে,
কপলের টিঁপটা এক পাশ হয়ে গ্যাছে,
হয়তো দ্যাখেনি।
.
--এইযে শুনুন, টিপটাতো জায়গা মত বসেনি।
.
--আপনি বসিয়ে দিবেন তাহলে?
.
--আচ্ছা এদিকে আসুন।।
.
টিপ পড়ানোর ছলে খুব কাছে থেকে দেখছি,
কি মায়াবী চোখ, যে কাওকে পাগল করতে
পারে।
ঠোঁটদুটোও কাপো কাপো, বেশ ছুয়ে দেখতে
ইচ্ছে করে।
.
--একটা টিপ পরাতে এত সময় লাগে?
(স্নেহা)
.
-- না ইয়ে মানে হয়ে গ্যাছে।
.
--আচ্ছা চলুন
.
ঘড়টা কোন মতে তালা দিয়ে বেরোলাম।
ও দেখি আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে।
সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।
দেখে কেমন যেন একটু লজ্জা লাগছে।
কিন্তু কি করবো ও তো দেখতে পায় না, আর
এমন ভাবে ধরেছে যেন ভয় পাচ্ছে।
.
--স্নেহা, আপনিকি ভয় পাচ্ছেন?
.
--আসলে কখোনো এভাবে বের হইনিতো, তাই
একটু ভয় লাগছে।
.
--আচ্ছা আপনাকে যদি আমি এখন রেখে চলে
যাই?
.
--আমি জানি আপনি কখনো যাবেন না।
.
--এমনটা মনে হলো কেন?
.
--কেওতো হাতই ধরেনি, আপনি যেহেতু
ধরেছেন, আমার বিস্বাস আপনি ছাড়বেন না।
.
--যদি কখনো ছেড়ে দেই?
.
--যদি কখোনো ছেড়ে দেন তবে বুঝবো আমার
ভালর জন্যই ছেড়েছেন।।
.
(কেন জানি আমিও শক্তকরে হাতটা ধরেই
বল্লাম।)
.
--এ হাতটা ছাড়া যাবে না।। কোটি টাকার
বিনিময়েও
.
রিক্সা করেই বড় একটা স্টোরে গেলাম,
অনেক জিনিসই আছে।।
ওর হাতটা তখনো ধরে আছি।। হাড়ি করাই
একটা একটা করে দেখছি, আর ওর হাতে দিয়ে
বলতেছি
.
--দ্যাখোতো এটা কেমন?
.
--ওনিতো কিছু চোখে দ্যাখে না। ওনাকে
দেখিয়ে লাভ কি? আপনিই দ্যাখেন।।
(দোকানী)
.
--দোকান্দারতো ঠিকই বলেছে।। আমিতো...
(স্নেহা)
.
--চলেন এখান থেকে ( আমি)
.
--কি হলো? কেনাকাটা করবেন না?
.
--করবো কিন্তু এ দোকান থেকে না।
.
--কেন, এ দোকানে কি হইছে?
.
--দ্যাখলেন না? কিভাবে আপনাকে অপমান
করলো।
.
--উনিতো ঠিকই বলেছেন, আমিতো দেখতে
পাই না।
.
--এইযে শুনুন, টাকা দিয়ে কিনবো। আপনি
ধরে দেখবেন, পছন্দ হলে তবেই নিবো।।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে, এবার একটু শান্ত হোন।।
.
সংসারের যাবতীয় জিনিস কিনে বোঝাই
করলাম,
সবই ও পছন্দ করে দিছে।
চয়েজ আছে বলতে হবে।
শুধু একটু বিরক্ত হচ্ছিলাম, যখন ওর হাতে
দিয়ে দেখাচ্ছিলাম, বাকি সব লোক কেমন
যেন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো।
.
যাইহোক দুজনে হোটেলে ঢুকে দুই প্লেট
বিরানী নিয়ে নিলাম। এবং ম্যারেজারকে
বল্লাম.
.
--মামা ২ টা বিরানী পার্সেল কইরেনতো।
.
--২ টা বিরানী কেন? ( স্নেহা)
.
--রাতের জন্য, আজতো গিয়ে আর রান্না করতে
পারবো না।
.
--তাইবলে ২ টা কেন, ১ টাই দুইজনের হবে।
১৫০ টাকা দিয়ে ১ টা মুরগি নিলে ২ দিন
হবে আমাদের।।
.
-- এত হিসেব?
.
--হুম, আমার সংসারনা?
.
--হ্যাঁ, তাইতো লোকে বলে, সংসার সুখের হয়
রমনীর গুণে।। আজ বুঝলাম কেন বলে।।
.
দুজনে খেয়ে দেয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা
হলাম।
দুহাতে জিনিসপত্র তাই ওর হাতটা ধরতে
পারলাম না। রাস্তায় এত জ্যাম, রিক্সাও
পেলাম না।।
কিভাবে পার হই এতগুলো জিনিস নিয়ে।
.
--আচ্ছা আপনি এখানে দাঁড়ান আমি রিক্সা
নিয়ে আসি।। কোথাও এক চুলও নরবেন না।।
আর কেও পথ দেখাতে চাইলেও যাবেন না।।
.
-- অতিপতি করে রিক্সা খুজতে চলে গেলাম।
কত রিক্সা সামনে দিয়ে ঘুড়ে, আজ আর পেলাম
না। খুজতে খুজতে অনেক ক্ষন পর পেলাম।
.
রিক্সা নিয়ে এসে দেখি, জিনিসপত্র আছে
কিন্তু স্নেহা নেই।।
বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো,
হাত-পা ঠান্ডা হবার উপক্রম।
জিনিসগুলো আছে কিন্তু স্নেহা নেই
চারপাশে খুজে দেখলাম
কি করবো বুঝতে পারছি না।
কিছুক্ষর খোজা খুজির পর এক ভাই ডাক
দিলো।
.
---ভইয়া কাওকে খুজছেন?
.
-- এখানে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো
দেখেছেন?
.
--হুম, এই দোকানের ভেতর বসিয়ে রেখেছি।
এই রোদে অনেক ক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলো বলে।।
.
আত্মায়! যেন পানি ফিরে এলো, এমনিতেই
টাকা নিয়ে বিয়ে করেছি। তার উপর যদি
ওর কিছু হয়ে যেত।
তাছাড়া বুকটা কেমন যেন খালি খালি মনে
হচ্ছিলো।
আগে শুধু ভাবতাম বিয়ে করলে মানুষ কেন
পরিবর্তন হয়ে যায়। আজ বুঝতে পারলাম এর
আসল কারন কি।।
১০ মিনিটে প্রাণ পাখি উড়াল দিচ্ছিলো।।
হাপাতে হাপাতে গিয়ে দেখলাম বসে আছে।
.
--আপনি এখানে!? আর আমার কি অবস্থা
হচ্ছিলো জানেন? (আমি)
.
--কেন কি হইছে, এক্সিডেন্ট, ট্যাক্সিডেন্ট
হন নি তো? কোথাও লাগেনিতো?
.
--আরে তেমন কিছু না। দেখলাম জিনিস গুলো
আছে আপনি নেই। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম।।
.
--ভয় পাবার কিছু নেই, এই অন্ধকে কেও
নিয়ে গিয়ে নিজের বোঝা বাড়াবে না।।
আপনার মত মন কয় জনের আছে বলুন।।
.
--যাই বলেন, দিনকাল কিন্তু ভাল না।। আর
এমন করবেন না।।
.
--আচ্ছা চলুন,
.
--আচ্ছা আমার হাত ধরুন।
.
দুজনে রিক্সায় আসছি, জিনিসপত্রের জন্য
ঠিক মত বসা যাচ্ছে না।
স্নেহা আমার বুকের সাথে লেপ্টে আছে,
প্রচুর গরমেও কেমন যেন শীতলতা অনুভব
করছি।
বাম হাত দিয়ে ওকে ডিঙিয়ে রিক্সাটা ধরে
রেখেছি,
যেন পরে না যায়। আর এক হাতে জিনিসগুলো।
.
ওগুলো পরে পরুক, বাট ও যেন না পড়ে তার
জন্য
শক্ত করে ধরে রেখেছি।
নিজে যাই হই, দশটা না পাঁচটা না একটা
মাত্র বউ।।
.
ভাড়া দিতে দিতে রিক্সাওয়ালা স্নেহাকে
বলতে লাগলো।।
.
--আপা আপনে জীবনে কোন ভাল কাজ করছেন
তাই এমন একটা জামাই পাইছেন।
আপনের যখন পাতাছিলো না, তখন কুত্তার মত
পাগল হয়ে গেছিলো।
আপনে কোন দিন তার হাত ছাইরেন না।।
.
--দুর মামা, এত বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলো
কেন।। আর আপনে হয়তো জানেন না। এর জন্য
১ লক্ষ টাকা নিছি।।
.
জিনিসগুলো আর স্নেহাকে নিয়ে ঘড়ে
ফিরলাম।
সন্ধা হয়ে আসছে, শরিরটা বেশ ক্লান্ত।
চকির উপর শরিরটা এলিয়ে দিতেই কখন যে
ঘুমিয়ে পরি মনে নেই।।
সন্ধার কিছু পর স্নেহার ডাকে ঘুম ভাঙে।
ওর সব কাজই করে দিতে হয়, নতুন এসেছে,
তার উপর আবার একটা সমস্যা মানিয়ে নিতে
একটু সময় লাগবে।।
.
এই ঝাই ঝামেলায় ৫ দিন ধরে হোটেলে
যেতে পারি না। মহাজন কি বলবে জানিনা,
কাল কাজে না গেলে চাকরিই থাকবে না।।
সবে মাত্র সংসার শুরু করলাম।
এখন যদি আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায় তবে
খাওয়াবো কি।
নিজে যেভাবে হোক চলা যেতো, কিন্তু ওকে
নিয়ে কিভাবে চলবো, তাছাড়া ওর চোখের
ডাক্টারও দেখাবো।।
কিন্তু ওকে একা রেখে যাবো কিভাবে,
কাল তবে ওকে ফোনটা দিয়ে যাবো।।
.
সেদিনের মত ১ প্যাকেট বিরিয়ানি দুইজনে
খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
ওকে খুব জড়িয়ে ধরকে ইচ্ছে করছে, কিন্তু
আমিতো মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি ওর চোখ
ভাল করে ওকে অনেক বড় ঘড়ে বিয়ে দিয়ে
দিবো।
আমার কাছে থাকলে ও জীবনে কিছুই পাবে
না।।
.
খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে, ইচ্ছে করছে ওর
কপলে আসা চুলগুলো ঠিক করে দেই,
ইচ্ছে করছে খুব শক্ত করে
ধরে বলি,"স্নেহা তোকে বড্ড ভালবেসে
ফেলেছি"
.
ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি,
সকালে উঠে ওকে সব ঠিক ঠাক করে দিয়ে
যাই
যেন কোন সমস্যা না হয়।।
দুজনে খুদের ভাত খেয়ে উঠি।
.
--স্নেহা!
.
--জ্বী,,
.
--এই ফোনটা রাখুন, এটার ভেতরে 1 দিয়ে
আমার মালিকের নাম্বার সেট করা আছে।।
1 চেপে ধরে রাখলে আমার মালিকের কাছে
ফোন যাবে।।
কোন কিছু লাগলে বা কোন সমস্যা হলে ফোন
দিয়েন।।
.
নিজের হাত দিয়ে ধরিয়ে ধরিয়ে শিখিয়ে
দিলাম।।
কিভাবে কিভাবে দরজা বন্ধ করতে হয়
কিভাবে খুলতে হয় সব হাতে ধরিয়ে ধরিয়ে
শিখিয়ে দিলাম।।
.
--স্নেহা, আমি তবে এখন যাই, দরজা বন্ধ
করে দিন, আর ফোনটা কাছে রাইখেন।।
.
দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলো, দরজাটা
লাগানো হয়েছে কি না তা ধাক্কা দিয়ে
২,৩ বার চেক করে নিলাম।
কেন জানি বার বার মনে হচ্ছিলো খুব
মুল্যবান কিছু রেখে যাচ্ছি।
.
দোকানে যেতেই মহাজনের সামনে পড়লাম,
অনেক দিন ধরে এখানে আছি, আর আমার
মহাজনটাও মাটির মানুষ।
কিছুই বল্লোনা, শুধু জিজ্ঞেস করলো শরির
টরির খারাপ কি না।।
.
যথারীতি কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করলাম,
কিন্তু মনে যেন কেমন করছে,
শুধু মনে হচ্ছে, কোন প্রবলেম হলো কি না,
ফোন দিতে পারবে কি না।
তাই একটু পর পর গিয়ে জিজ্ঞেস করি কোন
ফোন এসেছিলো কি না।।
.
--কাকা কোন ফোন আইছিলো?
.
--ওই তোর আইজ হইছে কি রে, আজ আসার পর ৫
বার জিগাইলি ফোন দিছিলো কি না।।
.
--কে ফোন দিবো?
.
--না কিছুনা, আরকটা কথা চাচা, আমি এখন
থেকে আমার ভাত বাড়ি নিয়া খামু।।
এখানে খাইতে কেমন যেন লাগে।।
.
--আইচ্ছা খাইস।। যা অহন প্লেট কয়ডা
মাইজা ফালা, দুপুর হয়ে গ্যাছে কাস্টোমার
নামবো।।
.
--আইচ্ছা চাচা।।
.
দুপুর গড়িয়ে ৩.৩০ বেজে গ্যাছে, আমারই
পেটটা কেমন করতেছে,
ও কি করতেছে আল্লাহই ভাল জানে, খুদায়
কেমন করছে, খুদা সইতে পারছে কি না।।
এমনওতো না যে বিস্কুট বের করে খেতে
পারবে।।
.
টিফিন বক্সে করে ভাত নিয়ে গেলাম,
কোন দিন দোকানে বড় মাছটা ধরিনি,
আজ বড় মাথাটা নিয়ে গেলাম।
.
--স্নেহা,, স্নেহা....
.
--হ্যাঁ আসছি।।
.
-- এইযে ভাত এনেছি,, আচ্ছা আপনি একটু বশুন
আমি কলে পানি চেপে আসছি, গোছল করবেন।
কাল গোসল করেন নি।।
.
পানিটা চেপে বাল্তি করে গোসলখানায়
দিয়ে আসলাম।
যতক্ষন গোছল করলো বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
যদি পরে টরে যায়।।
না মেয়ে এই দিকে এক্সপার্ট আছে বলতে
হবে।
.
গোসল খানা থেকে ধরে সোজা খেতে বসিয়ে
দিলাম।
কারন আমাকে আবার দোকানে যেতে হবে।
.
--এই নিন ভাত খেয়ে নিন, আমাকে আবার
দেকানে যেতে হবে।
.
--আপনি খাবেন না?
.
--আমি খেয়ে এসেছি
.
--মিথ্যে কথা।
.
--আরে না, মহাজন জোর করে খাইয়ে দিছে।।
.
মাছের মাথাটা তুলে দিতেই নেরে চেরে
দ্যাখে।
.
--একি, এত বড় মাথা কেন?
.
--খাবেন
.
--আমিতো চোখে দেখি না, তাছাড়া কোন দিন
খাই নি।
.
--আচ্ছা আমি খাইয়ে দেই।।
.
নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি, আর ওর চোখ
দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।।
কেন জানি ওর চোখের জলটা আমার বুকে ঢেও
তুলে দেয়।।
.
-- জানেন, আমাকে কেও কখনো এভাবে খাইয়ে
দেয় নি।।
আজ আমার আল্লাহর কাছে কোন কৈফিয়ত নেই
যে আমাকে অন্ধ করলো কেন।
আল্লাহ আমাকে তার বদলে বড় একটা মনের
মানুষ দিয়েছে।
কোন রকম খাইয়ে দিয়েই চলে এলাম,
প্রচুর খুদায় পেট শেষ।
.
তবুও একটু শান্তি লাগছে, নিজ হাতে খাইয়ে
দিছি।
সংসারের বোঝার মত যা থাকতো তাই খেতে
দিতো।
আমিইবা আর কতটুকু খাওয়াবো সাধ আছে কিন্তু
সাধ্য নেই।
.
দোকান থেকে দুইটা সিঙারা নিয়ে খেয়েই
পানি খেলাম। নইলেযে শরিরে শক্তি পাবো
না।
সন্ধার কিছুটা পরে মহাজন বল্লো।
.
--কিরে কই গেলিরে, তোর বউ ফোন দিছে।
.
দৌড়ে এসে দেখি সত্যি। মনে মনে খুশি
হলাম, আবার চিন্তাও হলো যে কোন বিপদ
টিপদ হলো নাতো?
.
--হ্যালো, স্নেহা
.
--হ্যালো, আপনের ফোন দিলাম একটা কারনে
.
--কি কারন, কোন সমস্যা?
.
--না সমস্যা নাই, তবে কেমনে যে বলি
.
--কি সমস্যা বলেন,
.
--আব্বু ফোন দিছেলো,
.
--ওও,, কিছু বলছে?
.
--কাল আসতে চায়, আসতে বলবো?
.
--পাগল নাকি, এখনো বলেন নাই?
.
--না মানে, ঘড়েতো কিছুই নাই। কাওরে যদি
নিয়ে আসে..
.
--ও এই কথা,, আচ্ছা আমি বিকেলে বাজার
করে আসবো।।
.
--রান্না করবে কে?
.
--কেন, আপনি আর আমি
.
মুচকি একটা হাসি দিয়েই ফোনটা রেখে
দিলো,
কি ভাল লাগছে।
কি যেন হিন্দি সিরিয়ালে বলে, "হাছি তো
ফাছি"
.
সন্ধার পর, ব্যাগ ভর্তি বাজার করে নিয়ে
আসলাম,
বিয়েতেতো অনুষ্ঠান করতে পারিনি।
তাছারা প্রথমবার শ্বশুর আসছে, কয়েকজন
লোকও যদি আসে।।
শ্বশুরের ইজ্জতওতো আছে, ৫ জনের মাঝে
চলে।।
.
সেদিন দুজনে তারাতারি শুয়ে পড়লাম,
সকালে উঠে কাজ করতে হবে বলে।
আবার বাজারেও যেতে হবে, বিকেলে মাছ
পাই নি।।
.
--এই আপনিকি বসে বসে শাক বাছতে
পারবেন? অনেক কাজতো, একা হাতে কি কি
করবো বলেন।। (আমি)
.
--আচ্ছা পারবো, শুধু একটা ঝুঁড়ি দিয়ে যান
রাখার জন্য।
.
ঝুঁড়িটা দিয়েই চলে আসলাম, কি মাছ নিবো
ভাবতেছি,
মাছের যে দাম, কিন্তু শ্বশুর বলে কথা,
দামের দিকে তাকালে চলবে না।
.
২ টা ইলিশ মাছ, বড় সরো একটা বোয়াল
মাছ, আর কিছু কাকচির গুড়া নিলাম।
২ টা মুরগিও নিলাম, পোলাওর চাল গুলো
গতকালই নিয়েছি।
.
বাসায় গিয়ে দেখি সুন্দর করে শাক গুলো
বেছে রেখেছে।।
.
মাছ আর মুরগিটা কেটে, কাচামরিচ পিয়াজ
ও সবজি কেটে নিলাম,
তারাহুরো করে আদাটাও বেটে নিলাম।
.
সব মিলিয়ে রান্না করতে করতে বেশ দেরি
হয়ে যায়।
ওকে গোসলের পানি দিয়ে, ঘড়টা কোন রকম
মুছতে মুছতেই তারা চলে আসে।।
.
--আস্সালামু আলাইকুম।( আমি)
.
--ওলাইকুম ওয়া আস্সালাম। কেমন আছো
বাবা?(শ্বশুর)
.
--এইতো আব্বাজান, বসেন।।
.
--ভাই আপারা কেও আসে নাই?
.
--না, আমি আর আমার এই ৪ জনই আইছি, এই
তোমার চাচা শ্বশুর। এটা দাদাশ্বশুর, আর এ
আমার বন্ধু।।
.
--আস্সাল্ম আলাইকুম।
.
--তা বাবা, স্নেহা কই?
.
--ও গোছলে ঢুকছে, এখনই আসবে বলে।।
আপনেরা বসেন আমি একটু আসতেছি।।
.
কিছু ফল আর সরবত করে দিলাম, দুপুর ব্যালা
খানা খাবে বলে বেশি কিছু দিলাম না।।
ওফ একটা জিনিসতো ভুল হয়ে গ্যাছে।
দইতো আনিনী।
.
--স্নেহা, স্নেহা
.
-- কি এইতো,
.
--এক কাজ করেন আপনি বসে তাদের সাথে
কথা বলেন আমি একটু আসছি।
.
--কোথায় যান?
.
--বাজারে।।
.
বাজার থেকে জলদি করে এক পাতিল দই এনে
খেতে বসিয়ে দিলাম।
রান্নাটা আগে থেকেই একটু একটু পারি তাই
অতটা সমস্যা হয়নি।
.
লাউশাক, গুড়া মাছ চচ্চড়ি, বোয়াল মাছ
কসানো আর ইলিশ মাছ, পোলাও মাংশ দেখে
শ্বশুর বেশ খুশি হয়। খেতে খেতে কথা
.
--আমার মেয়েটারে নিয়া তুমি বড় কষ্টে
আছো তাইনা?
.
--না আব্বাজান, আপনার মেয়ে অনেক লক্ষি
তাছাড়া আমি যদি এমন হতাম আপনার
মেয়েকি আমারে করতোনা?
.
--জানো বাজান, ওরে চাইছিলাম ভাল
ডাক্টার দেখামু কিন্তু কি করুম কউ পোলাগো
কামাই খাই, তাছাড়া পোলারাও কেমনে যে
সব লেইখা নিলো বুঝি নাই।
.
--এগুলো থাক এখন, আর চিন্তা করতেছি ওকে
বড় ডাক্টার দেখাবো।।
.
--দ্যাখাইছিলাম, কিন্তু অনেক টাকার
ব্যাপার বলে অপারেশন করানো হয় নি।
.
--সমস্যা নাই, এখন আমিই দেখাবো। এখনতো
ও আর শুধু আপনার মেয়ে না আমার ধর্মিনীও।।
.
খেতে খেতে অনেক কথাই হলো, চাচাশ্বশুরও
আমাদের দোয়া করলো।
খেয়ে দেয়ে চলে যাওয়ার সময়।।
.
সন্ধার পর শুয়ে আছি, মাথায় শুধু একটাই
চিন্তা
স্নেহাকে ডাক্টার দেখাতে হবে।
কিন্তু বাড়িটা ছাড়া আর কিছুই নেই,
মায়ের মরার সময় বেচতে চাইছিলাম, মা
বেচতে দেয় নি,, ধুকে ধুকে মারা গেছে তবুও
না।।
.
চিন্তা করতেছি কাল ডাক্টারের কাছে
যাবো,
প্রতিদিনের মত দুজনে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে
গেলাম,
.
একটু একটু শীত পড়তে শুরু করেছে,
ভোর রাতে বুকের কাছে কিছু একটা অনুভব
করলাম, চোখ খুলতেই দেখি স্নেহা ঠান্ডায়
কুচকে বুকের ভেতর আসতে চাইছে,
সুযোগটার লোভ সামলাতে পারলাম না,
আমিও ওকে বুকে টেনে নিলাম।।
.
কেমন বাচ্চাদের মত বুকের ভেতর আসতে
চাইছে,
বেশ আদর করতে ইচ্ছে করছে,
ঘুমের ঘোড়ে ওকে যেন আরো মায়াবী লাগছে,
ইচ্ছে করছে, নাকটা চিপে দিয়ে বলি, "
এতদিন কই ছিলা"
.
.
সকালে উঠে নাস্তা বানিয়ে আমি আমার
কাজে চলে যাই, এ কয়েক দিনে সবকিছুতে
বেশ মানিয়ে নিয়েছে।
এখন ধরে ধরে এখানে উখানে যেতে পারে।
.
.
যথারীতি দুপুরে ভাত নিয়ে এসেছি,
মনে হলো সেজে গুজে বুঝি আমারই অপেক্ষা
করছে।।
.
--এই গোছল করেছেন?
.
--হ্যাঁ।। আপনি দৌড় দিয়ে করে আসেন,
একসাথে খাবো।
.
--আমিতো খেয়ে এসেছি।।
.
--রোজ রোজ আপনাকে দুই বার ভাত দিবে,
এটা আমাকে বুঝান?
.
--ইয়ে মানে
.
--মানে টানে কিছু বুঝিনা, গোছল করে আসেন
একসাথে খাবো।।
.
কেমন যেন নেকা নেকা কথা বল্লেও বেশ
ভালই লাগছে, বুঝতে পারছিলাম, এটা জেদ
নাহয় বায়না।
.
দুপুরে খেয়ে দেয়ে ডাক্টারের কাছে চলে
গেলাম।
ডাক্টার চোখ দেখে বল্লো--
.
--অপারেশনটা ছোট ব্যালা করলেই ভাল
হতো, এখন করে মনেহয় তেমন একটা কাজে
আসবে না।।
.
--আর কোন উপায় নেই?
.
--আচ্ছা কাল রিপোর্টটা বের হোক তার পর
ফাইনালো বলা যাবে।।
.
বাসায় গিয়ে শুয়ে এপাশ উপাশ করছি, কিছুই
ভাল লাগছে না।
স্নেহাকে কিছু জানাইও নি, নইলে টেনশন
করে অসুস্থ হয়ে পড়বে।।
শুধু একটা চিন্তাই মাথায় ঘুড় পাক খাচ্ছে,
কি আসবে রিপোর্টে?
.
কি হবে ওর চোখটা?
.
ও দেখতে পাবে তো?
ঘড়ির কাটা বুঝি আজ উলটো ঘুড়ছে
সময় যেন থেমে থেমে যাচ্ছে,
অপেক্ষার প্রহর কঠিন হয় কিন্তু এত
কঠিন
জানা ছিলো না।
.
আনমনা ভাবেই টুকি টাকি কাজ
করলাম,
ওকে রাতের খাবার খেতে দিলাম,
কিন্তু ও যেন কি ভাবছে
.
--এই খাচ্ছেন না কেন? (আমি)
.
--না, এমনি, কিছুনা
.
--তবে খান।
.
--কাল ডাক্টারে রিপোর্ট দিবে
তাইনা? আর আপনি এর জন্য টেনশন
করছেন
.
-- না তেমন কিছু না, আর আপনি
জানলেন কিভেবে যে কাল রিপোর্ট
দিবে।
.
-- আমি জানি, সাথে সাথে কখনো
রিপোর্ট দেয় না।। আপনি শুধু শুধু টাকা
নষ্ট করছেন, আমার চোখ কখনো ভাল
হবে না।।
.
--আরে ডাক্টার বলেছে সব ঠিক হয়ে
যাবে। আর আমার টাকা নাতো, আপনার
বাবার সেই ১ লাখ টাকা থেকেইতো
ডাক্টার দেখালাম।।
আমারকি আর সামর্থ আছে বলুন।।
.
--আপনি যাই বলেন, শুধু শুধু টাকা নষ্ট
কইরেন না।
.
--আচ্ছা আমি কি করবো, না করবো তা
আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি খান।
.
ভাত খেতেই চাইছোলো না, ঔষধ খেতে
হবে বলে
আমিও জোর করে খাওয়ালাম, কিন্তু
তাকে বেশি একটা লাভ হলো না, ১
চামচ ভাত নিয়েই নারা চারা
করছে।।
.
কোন রকম খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে শুইয়ে
দিলাম,
পাশেই শুয়ে আছি,
রাত যত গভির হয়, চিন্তাগুলো তত
অঙ্কুরিত হতে থাকে, মনে হয় যেন তা
গাছের রূপ নিবে।
.চিন্তার রাত বুঝি দীর্ঘ হয়।
.
ভোর রাতের দিকে একটু ঘুম আসলেও,
তাতে শান্তি খুজে পেলাম না।
তাই উঠে সকালের কাজ গুলো সেরে
নিলাম।
নাস্তা করতে করতে মহাজনকে জানিয়ে
দিলাম,
যে আজ কাজে যাবো না, দরকার আছে।।
ওকে ঘড়ে বসিয়ে রেখে ছুটলাম
রিপোর্টের জন্য।
.
রিপোর্টটা নিয়ে সোজা সেই
ডাক্টারের চেম্বারে,
কিন্তু চেম্বার এখোনো খুলে নি, তার
আগেই লম্বা লাইন, লাইনে দাড়িঁয়ে
থাকতে থাকতে আমার সিরিয়াল এলো।।
.
-- আচ্ছা কি সমস্যা আপনার?
(ডাক্টার)
.
--স্যার, কালযে মেয়েকে নিয়ে
আসছিলাম, ও আমার স্ত্রী।। এইযে
রিপোর্ট গুলো।।
.
(রিপোর্টগুলো দেখতে দেখতে কথা)
.
--হুম, তা কি করেন আপনি?
.
--আমি এক হোটেলে আছি
.
-- কি কাজে?
.
-- এই আপনার, খাবার আনা নেওয়া
করি।
.
-- তা স্ত্রীর অনেক টাকা লাগবে,
অপারেশন করাতে হবে।
.
-- টাকা লাগে লাগুক, ভাল হবেতো?
.
-- আশাকরি হবে ইনশাআল্লাহ,
বাকিটা আল্লাহর হাতে।।
.
-- কত টাকা লাগতে পারে?
.
-- এই ধরুন ৮, ১০ লাখ।।
.
ভাল হওয়ার খুশিটা যেন টাকার
পাহাড়ের কাছে চাপা পড়ে যায়।
বাড়িটা, আর মায়ের ৮ আনা সর্ণের
চেন ছাড়াতো আর কিছুই নেই।
আর সবাই তেলের মাথায় তেল দেয়,
যার আছে তাকেই টাকা হাওলাত দেয়,
যার কিছু নেই তাকে দেয় না।।
.
তবুও লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে সবার
কাছে চাইলাম, সবাই ২, ৪ হাজার
টাকা দিতে চায়।
কিন্তু তাতে কতটুকু এগোবে তা শুধুই
চিন্তার বিষয়।।
.
গত হওয়া দিনগুলোর মত সব কাজ সেরে
শুয়ে পড়লাম।
শুধু ভাবছি, টাকা কোথায় পাবো।
বাবার ভিটাটাই শেষ সম্বল, তার
চেয়ে বড় সম্বল আমার স্নেহা।
.
যাইহোক জীবনে আছে কি, আজ মরলে
কাল ২ দিন।।
.
সকালে নাস্তা টাস্তা করে ছুটলাম,
দালালের কাছে,
বাড়িটা বেচে দিবো।।
.
--আস্সালামু আলাইকুম
.
-- আলেকুম সালাম, তা মিঞা কি
সমাচার?
.
--চাচা, আমার বাড়িতো চিনেন
.
-- হহ চিনি, তাই কি হইছে?
.
-- বাড়িটা বিক্রি করবো।।
.
-- হুনছিলাম, বাড়ি ছাড়া তোমার আর
কিছু নাই, বাড়ি বেচলে থাকবা
কেমনে?
.
--সে ব্যাবস্থা হয়ে যাবে, আপনি
ব্যাচার ব্যাবস্থা করুন।।
.
-- আইচ্ছা নাম্বার দিয়া যাও কথা
কমুনে।।
.
--01.....
.
--কত কইরা বেচবা কইয়া যাইতা
যদি।।
.
-- ৬ শতাংশ জাগা, বাড়ি সহ ১০
লাখ বইলেন।।
.
-- এত দামতো যাইবো না, ও তোমারতো
আবার বাজারের কাছেই।। আচ্ছা
দেহুমনি।।
.
কথাগুলো বলে চলে আসলাম, চিন্তা
যেন বাড়তে থাকে।
বাড়িটা চলে গেলে থাকবো কিভাবে।
ও থাকবে কিভাবে।
টেনে টুনে পাওয়া ৮ হাজার টাকা
দিয়ে বাড়ি ভাড়া করে চলতে গেলে
বহু কষ্ট করতে হবে।।
যাইহোক, ওতো পৃথিবী দেখতে পাবে।
আর ছেলে মানুষ, যে কোন কাজই করতে
পারবো, সমস্যা হবে না।
.
যথারীতি কাজে গেলাম, প্রতিদিনের
মত আজও ভাত এনেছি, আজ কাস্টমারের
চাপ বলে, ভাত বেশি একটা নেই, যা
ছিলো টুকিয়ে টাকিয়ে নিয়ে এসেছি।।
কি আর করার, খাওয়াতেতো হবে।। দুটো
শিঙারা নিয়ে খেতে খেতে চলে
এলাম, এখন এক গ্লাস পানি হলেই
আমার যথেষ্ট।।
.
ভাতগুলো দিতে দিতেই কথা..
.
--আজ ভাত কম আছে একটু, আমি ওখান
থেকে খেয়ে এসেছিতো তাই।। (আমি)
.
--ও আচ্ছা সমস্যা নেই।
.
আর কোন কথা বল্লো না, যা আছে তা
দিয়েই খেয়ে উঠছে। হয়তো খেয়ে
এসেছি ভেবে রাগ করেছে।
যাইহোক, ভাবলে ভাবুক, ওর পেট ভরা
দিয়ে কথা। দোকানে থাকলেতো আমি
টুকি টাকি খাই, ও তো তাও পায় না।।
.
ও ভাত খেতে খেতেই ফোন। কে ফোন
দিলো আবার এ সময়।।
.
--হ্যালো আস্সালামু আলাইকুম.
.
--আলেকুম সালাম, কি বাবা
চিনছোনিহি?
.
--জ্বী চাচা চিনেছি, ১ মিনিট একটু
বাইরে গিয়ে নিই।।
.
(বাইরে গিয়ে কথা বলছি)
.
--হ্যাঁ চাচা বলুন।।
.
-- কাষ্টমার একখান পাইছি, তয়
দামযে ৮ দিবার চায়।।
.
--আরেকটু বাড়ানো যায় না?
.
--হুন মিয়া, এত দাম কেও দিবো না,
আর না কইরো না।।
.
--আচ্ছা, তবে আমার একটা শর্ত আছে।
.
--কি শর্ত?
.
-- আমারে ৪,৫ মাস থাকতে দিতে
হইবো।।
.
--আইচ্ছা, আমি ব্যাবস্থা করুমনি।
.
২ দিন পর, ক্রেতা টাকা নিয়ে
হাজির, ২ লাখ টাকা দিয়ে বাড়িটা
দেখে যায়।
বাকি টাকাটা যেদিন রেজিস্টারি
হবে সেদিন দিবে।
.
দেখতে দেখতে রেজিস্টারির দিনও
চলে আসে,
আল্লাহ বুঝি এ কাজে সহায় দিচ্ছে,
তাইতো সব এত দ্রুতোই হয়ে যাচ্ছে।।
.বাকি টাকাগুলো নিয়ে বাসায় চলে
এলাম,
ও ঘুমিয়ে আছে তাই আর ডাকলাম না।।
.
চোখদুটির সামনে পুরোনো স্মৃতি গুলো
ভাসতে লাগলো।
মা মরার সময় বলেছিলো," বাজান,
কিছুতো দিবার পারলাম না, তোর
বাপের ভিটাটা তুই রাইখা খাইস"
.
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে," মা,
আমায় মাফ করে দিস মা, তোর শেষ
কথাটা আমি রাখতে পারলাম না।"
.
চার পাশের দেয়ালটা আজ যেন
হাসছে, মুরব্বীরা বলতো, বাড়ি বেচার
সময় বাড়ি নাকি হাসে।।
আজ বুঝতে পারলাম।
.
আশেপাশের জিনিসগুলো আজ বেশ অচেনা
অচেনা লাগছে।
কিছুক্ষ আগেও সব কেমন যেন নিজের
নিজের লাগছিলো।
২৬ বছরের সব এক নিমিশেই শেষ।।
যাইহোক ওতো দেখতে পারবে।।
এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে
পারে।।
.
শ্বশুরের কাছে ফোন দিলাম-
.
-- হ্যালো আব্বাজান।
.
--জ্বী বাবা বলো।
.
-- আপনার মেয়েরে অপারেশন করাইতে
চাইছিলাম।।
.
-- তুমিতো ওর স্বামী আমার চেয়েতো
এখন তুমিই ওর ভাল গার্ডিয়ান।।
.
--তবুও আপনার যদি কোন আপত্তি থাকে,
তাই।
.
-- না আপত্তি নেই, তয় অপারেশন
করাইতেতো অনেক টাকা লাগে, তুমি
টাকা পাইবা কই বাজান।
.
-- আরে সরকারি হাসপাতালে, বেশি
টাকা লাগবোনা, এই হাজার বিশেক
লাগবো আরকি।।
.
কথা বলে রেখে দিলাম, কাপড় চোপড়
গুছিয়ে নিলাম, কত দিন থাকতে হয়
ঠিক নেই।
.
মহাজনের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে চলে
গেলাম, হসপিটালে, অপারেশন যত দ্রুত
হবে তত ভাল।।
এর মাঝে ওর সাথে অনেক কথা হয়,
অনেক কিছু জানতে চায়, টাকা পেলাম
কই, কিভাবে কি।
কিন্তু মুরব্বিরা বলে, সব কথা
মেয়েছেলেদের বলতে নেই।। তাই কিছু
বল্লাম না
শুধু বল্লাম," আপনার অপারেশন, আপনি
দেখতে পাবেন"
.
পরদিন OT তে ঢুকানোর পূর্বে বার
বার বলে দিলো আমি যেন তার পাশে
থাকি।
কিন্তু ডাক্টাররা তা দিলোনা।
OTএর বাইরে দাঁড়িয়ে ছট ফট করা
ছাড়া কিছুই
কিছুই করার নেই।।
.
চলতি দেড় ঘন্টা যেন, দেড় বছরের মত
যাচ্ছে।
ঘাম পরতে পরতে শেষ, আর বাকি নেই।
মনে শুধু একটাই প্রশ্ন,
কি হবে? কি না হবে?
যদি চোখ ভাল না হয়, তবে সবই শেষ
হয়ে যাবে।
ডাক্টার বেরুতেই ছুটে গেলাম তার
পেছনে-
.
--ডাক্টার সাহেব, কি অবস্থা এখন?
-দেখুন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
অপারেশন Success হয়েছে।। (ডাক্টার)
.
-- চোখ কত দিন পর খুলবেন? ( আমি)
.
--এই সামনে শুক্রবার বিকেলে।
.
--ও আচ্ছা, আসলে জানেনতো হসপিটালের এত খরচ। রাত পেরুলেই এক গাদা টাকা।
.
--কি করেন আপনি?
.
--একটা হোটেলে, সারভেন্ট হিসেবে আছি।।
.
--ও তাহলেতো একটু সমস্যাই।। আচ্ছা আমি দেখছি, যত দ্রুত সম্ভব চোখ খুলবো।।
.
--ধন্যবাদ, ডাক্টার সাহেব।
.
--আর হ্যাঁ সে অনেক ভয় পেয়েছে বোধয়।।
I think you should be next to her
.
--আচ্ছা তবে পরে কথা হবে।।
.
স্নেহাকে OT থেকে রুমে সিফট করেছে,
ওর প্রতি দাইত্ব, যত্ন যেন আরো বেরে গ্যাছে,
খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, সবই করতে হয়।
হসপিটালের অন্য রুগীরি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে।
কি দ্যাখে বুঝি না। স্নেহা কি যেন আনমনে শুধু ভাবে।
.
--কি ভাবেন এত? (আমি)
.
--না কিছুনা,
.
--আপনি অত টেনশন কইরেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
.
--যদি ঠিক না হয়?
.
--যদি কথার কোন মানে নেই। ঠিক হবে টেনশন কইরেন না।
.
--আচ্ছা যদি আমি ঠিক না হই তবেকি আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন?
.
--না তেমনটা না, তাহলেতো আর আপনাকে বিয়ে করতাম না বলেন।
.
--আপনিতো টাকার জন্য বিয়ে করেছেন। টাকা না পেলেকি করতেন?
.
স্নেহা এমন কথাটি বলতে পারবে কখনো কল্পনা করিনি। বলবেইবা না কেন, আমিতো সত্যিই টাকা নিয়ে বিয়ে করেছি। সত্যিটাইতো বলেছে এর মাঝে কষ্টের কি আছে।।
.
-- হ্যাঁ সত্যি বলেছেন। আর এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার চোখ ভাল হোক বা না হোক আমি কখনো আপনাকে রেখে পালাবো না। তাছারা আপনি দেখতে পাবেন।
.
--জানিনা কি হবে। ডাক্টার কবে চোখ খুলবে, আমারতো এখনই চোখ চুলকায়।
.
--কাল বিকেলে যে ডাক্টার অপারেশন করেছে সে আসবে। এসেই সর্বপ্রথম আপনারটা খুলবে।
.
ওকে ঔষধ খাইয়ে দিয়ে পাশের সিটে শুয়ে পড়লাম। শুধু একটা কথাই বার বার তাড়না দিচ্ছে, টাকার জন্য ওকে বিয়ে করেছি।
যার চোখের জন্য বাবার ভিটা বেচে দিলাম সে এমনটা বল্লো?.
.
ধুর এগুলো এখন ভাবার সময় না, কাল চোখ খুলবে, । কত আনন্দই লাগছে ভেবে।
প্রথমবার ও দেখতে পাবে, ওকি আমায় চিনতে পারবে? নাকি পারবে না।
.ভাবতে ভাবতে চোখ বুজে ফেলি।
.
পরদিন দুপুর গড়াতে গড়াতে চিন্তা গুলো যে আরো বৃহৎ আকার নিচ্ছে।। প্রতিদিন হালকা পাতলা কিছু খেলেও আজ তাও পেটে গেলো না। বিকেল হতেই ডাক্টার চলে এলো।
.
ডাক্টার চোখের বাধন একটু একটু করে খুলছে, আমার পরাণ যেন একটু একটু করে উড়াল দিচ্ছে।। ডাক্টার কেন যে এত ধিরে ধিরে খুলে।
বেশি দেরি হলে হয়তো আমাবেও হার্ড ইওনিটে ভর্তি করতে হবে।।
ডাক্টার চোখ খুলতেই স্নেহাকে চোখ খুলতে বলে-
.
--এবার ধিরে ধিরে চোখ খুলুন।
.
--ব্যাথা করছে (স্নেহা)
.
--একটুতো করবেই, চেষ্টা করুন চোখ খুলতে।
.
--হ্যাঁ।
.
--দেখতে পাচ্ছেন? আপনিকি দেখতে পাচ্ছেন?
.
--হ্যাঁ, কিন্তু ঘোলা ঘোলা লাগছে সব।।
.
--Congratulations, ,, ঘোলা ঘোলাটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
.
ওর চোখে দ্যাখাটাযে কি আনন্দ লাগছে, কি খুশি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না।
এত খুশি লাগছে কেন, চোখ বেয়ে আজ কেন জানি জল চলে আসছে। না আজ কাঁদছি না আমি, এটা কষ্টের জল না।।
.
--আচ্ছা ওনি কই? (স্নেহা)
.
-- এইতো ইনি, চিন্তে পাচ্ছেন না? (ডাক্টার)
.
--ও হ্যাঁ চিনতে পেরেছি।
.
ভেবেছিলাম চিনতে পারবে, কিন্তু পারে নি,
আসলে এমনিতেই যে চেহারা, তার ভেতর সপ্তাখানেক ঘুম না আসায়, চেহারা যেন পাগলের ন্যায়। না চেনারই কথা।।
ওর সামনে যেতে কেমন যেন লজ্জা লজ্জা লাগছে।।
.
--আচ্ছা আপনি বসুন। আমি ডাক্টারের সাথে কথা বলে আসি। (আমি)
.
ডাক্টারের সাথে কথা বল্লে ডাক্টার বাসায় নিয়ে যেতে বলে এবং সপ্তাখানেক পর স্থানীয় যে কোন হসপিটালে একবার দেখাতে বলে।
.
.ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে বাসায় যাচ্ছি, স্নেহা কেমন যেন বদলে গ্যাছে এক নিমিশে।
যে মেয়েটা রাস্তায় হাটার সময় হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতো সে মেয়েটা পাশে হাঁটলেও দূরে দূরে থাকছে।
হয়তো আমাকে ওর পছন্দ হয় নি, নয়তো ওর মনের মত আমি হই নি।।
.
বাসায় নিয়ে গিয়ে ওকে আগে ওদের বাসায় দিয়ে আমি আমার কাজে চলে আসি।
অনেক দিন দোকানে আসি না, এর চেয়ে দেরি করলে আমাকে আর রাখবে না।।
.
অনেক আশায় থাকতাম যে ও ফোন দিয়ে বলবে চলে আসতে।
বলেছে কিন্তু তাতে ভালবাসা না, ফরমালেটিই ছিলো তাই আর যাওয়া হয় নি।
.
৩ দিন পর ওকে নিয়ে আসলাম। বাসায় রেখে যেতেই ফোনটা চেয়ে রাখে।
বেকার থাকে বলেই হয়তো গান টান শুনবে।।
.
এভাবে চলতে থাকে মাস খানেক।
এদিকে বাড়িওয়ালাও বেশ চাপ দিচ্ছে। ৬ মাসের কথা বলেছিলো, ৩ মাসেই চাপ দিচ্ছে।।
টেনশন নিয়েই আজ দ্রুত বাসায় চলে এলাম।
বাসায় দরজার সামনে যেতেই ফোনে কথা বলার শব্দ পাচ্ছি।
.
কথাগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ওর খুব কাছের কেও।। নইলে এভাবে কথা বলতো না।।
.
দরজাটা খোলা থাকলেও বেশ কেয়েকবার ডাকলাম
.
--স্নেহা, স্নেহা,,,
.
--আসছি..
.
--কি করছিলেন?
.
--এইতো শুয়ে ছিলাম।।
.
ওর মিথ্যেটা শুনে বুকের ভেতরটা কামর দিয়ে উঁঠে।
কিছু বলার ভাষা খুজে পেলাম না। চুপ চাপ শুয়ে পড়লাম।।
শুয়ে শুয়ে ভাবছি, যাক আমি ওর বিয়ে অন্য কোথাও দিতে চেয়েছি, আল্লাহ আমার মনের কথা শুনেছে।
ও নিজের ব্যাবস্থা নিজেই করে ফেরেছে।
যাক স্নেহা আমার চিন্তার বোঝা কমিয়ে দিচ্ছে।
।
যত দিন যেতে থাকে ওদের কথার গভিরতা বারতে থাকে।।
বেশ খারাপ লাগলেও বলার কিছুই নেই। আয়নায় নিজের চেহারা দেখলে মনে হয় ও যা করছে একদম ঠিক করছে।।
।
এদিকে বাড়িওয়ালা ১ সপ্তাহ সময় দিয়েছে বাড়ি ছাড়তে। কি করবো বুঝতে পারছি না।।
তাই দোকান থেকে মনে মনে ঠিক করলাম আজ ঝগড়া করে ওকে ওর বাড়ি পাঠিয়ে দিবো। আর আমি মহাজনকে বলে হোটেলে থাকারই ব্যাবস্থা করবো।। যথারীতি তাই করলাম।
যতটা কঠিন ভেবেছিলাম, বিষয়টা তেমন কঠিন হলো না।
।
--আপনাকে বিয়ে করে আমার জীবনটা শেষ হয়ে গ্যাছে। (আমি)
.
-- আমাকে বিয়ে করে আপনার না, আপনাকে বিয়ে করে আমার জীবন নষ্ট হয়ে গ্যাছে।
.
--হ্যাঁ হ্যাঁ জানি জানি।
.
--দশটাকা খরচ করার মুরদ নেই বড় বড় কথা।
.
--মুখ সামলে কথা বলুন
.
--কি মুখ সামলাবো? কি মুখ সামলাবো? শ্বশুরের টাকা বসে বসে গিলকে লজ্জা করেনা?
৪ টাকা বেতনের চাকরি করে কথা বলতে লজ্জা করেনা?
.
--না করেনা।।। ছিলেনতো পরিবারে বোঝা। এখন চোখ মুখ ফুটে গ্যাছে।
.
-- আমার অপারেশন আমার বাবার টাকায়ই হয়েছে।
আপনার টাকায় না। আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছেন? না দেখলে দ্যাখে নিয়েন।।
.
অনেকটা ঝগড়া করে স্নেহা ওর বাড়িতে চলে যায়।
ভেবেছিলাম একটি বার পেছনে তাকাবে, কিন্তু তার আর বোধয় প্রয়োজন নেই।
বার বার বলতে ইচ্ছে করছে,
" I am sorry স্নেহা, আমাকে মাফ করে দিও, এছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা ছিলো না।"
.
২ মাস পরের কথা,
.
এখন বিন্দাস হয়েছে, আমি হোটেলে আর স্নেহা ওর বাবা মার কাছেই আছে।
ভাবছি একটা ঘড়ের ব্যাবস্থা করে ওকে ফিরিয়ে আনবো।
সরি টরি বলে দিবো। বউ ছাড়া ভাল লাগে না।
হয়তো আমার মত আমাকেও মিস করছে।
.
সকালে উঠেই আমার ভুল ভেঙে যায়।
একজন দিয়ে যাওয়া হাতের পেপারটা কোন সাধারন পেপার না,
ডিভোর্স পেপার।।
.
কান্নাটা আজ আর চাপতে পারলাম না,
কেও বুঝি কলিজাটা টেনে বের করে ফেলছে।
পুরোনো দিনগুলো আজ চোখে ভাসছে,
সেই প্রথম রাত, সেই রাস্তায় ধরা হাত।
সেই রিক্সায় চেপেচুপে বসাটা।।
সবই আজ শুধু স্মৃতি।
মা"র কথাটাও রাখতে পারলাম না, বাবার ভিটেটাও বেচে দিলাম।
.
কোনরকম হাত মুখে পানি ছিটা দিয়ে কাজে লেগে গেলাম।।
.
বিকেলে মনটা ভাল নেই, তাই রাস্তার পাশের মাঠটায় বসে আছি আমি আর আমার সাথে কাজ করে ছেলাটা।।
কোন এক রোমেন্টিক কাপল আমাদের দৃষ্টি কারে,
বেশ হাসি খুশি আর, হাত ধরে পাশে চলাটা বেশ ভালই লাগছে।
সে আর কেও না স্নেহা আর পাশেরটা হয়তো তার ভবিষ্যৎ।
.
--ভাই, ও ভাই ঐটা ভাবি না? (পাশের ছেলেটা)
.
--কোনটা, কি দেখস আবল তাবল (আমি)
.
--আবল তাবল না, ওইযে ওইটা আপনের ধর্মিণী না?
.
--দুর পাগল, দেখসনা ও দেখতে পায়। ঐ লোকের ধর্মিনী ও।
আমার ধর্মিনীতো দেখতে পায় না,
.
আমার ধর্মিনীতো" অন্ধ ধর্মিনী """
জানি শেষটা পড়ে অনেকের মনে খারাপ লাগবে। কিন্তু আমাদেরকে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।।কারণ আমাদের সমাজে অনেকের গল্পটা এই রকম। ????????????????????
(Apurbo_pias)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now