বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আচ্ছা তোমার কী হুসবুদ্ধি কিছুই হবে না?
-কেন?
-কেন মানে? যাও বাইরে গিয়ে থাকো। ঘরে আর ঢুকতে পারবে না।
-বাইরে বৃষ্টি হচ্ছেতো খুব।
-তো কি হইছে? এতোক্ষণতো বৃষ্টিতে খুব ভিজলে। এখন বৃষ্টিতে থাকতে সমস্যা কী?
-আমার কী দোষ বলো? ইচ্ছা করেতো_ _ _ মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল
-তাইতো তোমার কী দোষ। দোষতো আমার তাইনা?
-আরে আমি কী তা বলেছি নাকি? আসলে
-কী আসলে?
-বৃষ্টি থামতেই চাচ্ছিল না। ছাতিও নিয়ে যায়নি। খুব জোরে সেই কখন থেকে বৃষ্টি হচ্ছে তার উপর তুমি অপেক্ষা করছো আমার জন্যে। ২ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে ভিজেই আসতে হলো।
-আমি কোন যুক্তি শুনতে চাই না বাইরেই থাকো তুমি। কেন অফিসে কলিগদের কারোর কাছে ছাতা রেইনকোট কিছুই ছিল না? এইযে বৃষ্টি এখন আর হচ্ছে না। কেন আরেকটু অপেক্ষা করা গেল না? আর তুমি ফোন বন্ধ করে রাখছো যাতে আমি কিছু বলতে না পারি তাইতো?
-ইয়ে মানে
এইরে ধরা পড়ে গেলাম। সত্যি বলতে ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে এসেছি। আর বৃষ্টিটা যে কেন হঠাৎ করে এখনই থেমে গেল। আরেকটু পর থামলে কী হতো না।
-চুপ একদম চুপ। দেখি মাথাটা একটু নিচ করো মুছে দিই।
তারপর শাড়ির আঁচল দিয়ে পরম যত্নে মাথা মুছে দিচ্ছে আর বলছে “আমাকেতো আর ভালো লাগে না তাই আমার কথা শুনো না এখন।”
-সরিগো বউ। ভুল হয়ে গেছে। এইযে কান ধরছি আর এমন হবে না।
-ঠিক আছে। আর কান ধরতে হবে না। যাও দ্রুত ফ্রেস হয়ে ড্রেস চেন্স করে নেও না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে। আর যদি অসুস্থ হয়েছো তাহলে একটুও সেবা করব না এই বলে দিলাম হু। আগের বার অসুস্থ হয়ে খুব কষ্ট দিয়েছো আমায়।
-আচ্ছা তাহলে অসুস্থ হলে সেবা করার জন্য নতুন মানুষকে আনব। তাহলে আর তোমাকে কষ্ট করতে হবে না।
বলতেই দেখি ভ্রু কুঁচকে আরো রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
-কী? কী? কী বললে আবার বলো?
‘না কিছুনা’
বলেই বউয়ের নাকটা টেনে দ্রুত ওয়াশরুমে গেলাম। আরেকটু থাকলে হয়তো ঘূণিঝড় হতো।
বউটা আমার ভীষণ রাগি বুঝতেই পারছেন।
ভাবলাম একটু যুক্তি দেখালে বুঝতে পারবে না কিন্তু বউতো না যেন পরী সব জেনে যায়। বৃষ্টিতে ভিজতে আমি খুব পছন্দ করি যদিও ভিজলে অসুস্থ হয় না কিন্তু কিছুদিন আগে একসাথে বৃষ্টিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিজেছিলাম আগে থেকে শরীর খারাপ থাকায় বৃষ্টিবিলাসের ফলে মারাত্নক জ্বর হয়েছিল।
১০৫ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠেছিল। অজ্ঞান ও হয়ে গেছিলাম। অনেকদিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। তারপর থেকেই বৃষ্টিতে ভিজতে মানা করে দেই যদি আবার ঐরকম অসুস্থ হয়ে যায় এই ভয়ে। অসুস্থ হলে আমার থেকে তিনগুণ
বেশি কষ্ট আমার বউ নিজে পাবে।
কিন্তু আমিতো জানতাম এবার অসুস্থ হবো না। তাই বউয়ের কথা অবাধ্য করে বৃষ্টিতে ভিজায় প্রচন্ড রেগে যায়।
.
-বউ আমার খাইতে দাও। খুব ক্ষুধা লাগছে।
-লাগুক। আরো বেশি করে লাগুক। নিজেরটা খুব ভালোই বুঝ। আর আমি যে সেই কখন থেকে টেনশন করছিলাম না খেয়ে অপেক্ষা করছি সেদিকে দেখলে না। আজ রাতে খাবার হবে না।
কথাগুলো বলেই মুখ ফুলিয়ে অভিমান করে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখল সুইট বউটি।
আমার এই রাগি পাগলী বউটা অনেক অভিমানী। যতো রাগ আর অভিমান শুধু আমার সাথে। অভিমান হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিমান ভাঙাতে হয় না হলে আরো বড় শাস্তি দিবে।
আমি বউয়ের গলা জড়িয়ে ধরে গালে মিষ্টি একটি পাপ্পি দিয়ে বললাম “আরে পাগলী বউ, আমার ক্ষুধা মানেইতো তোমার ক্ষুধা। আমার কষ্ট মানেই তোমার কষ্ট। আমি খাইতে বসলে তোমাকে নিয়েই বসব। একাতো আর খাব না তাইনা বলো?”
এবার দেখি হাসি খুশি মুখ করে আমার গালে ছোট্ট পাপ্পি দিয়ে বলল ”হুমম জানিগো বাবু”
কী চালাক রে অভিমান করে আদর নিল। যাক আদরের বিনিময়ে আদর।
কিন্তু একি আদরে যে আমার পেটের ক্ষুধাই ভ্যানিস হয়ে গেল। সত্যিই কী ভালোবাসাতে কারোর পেটও ভরে? হিহিহি
.
এখন একসাথে খাচ্ছি।
ক্ষুধার কথা বলে মনে হয় ভুলই করেছিলাম যা যা রান্না করেছে সব খাওয়াইলো।
পোলাও, ইলিশ মাছ ভাজা, ডিম ভুনা, চিংড়ি মাছের বড়া, বাটার চিকেন আর রোস্ট দিয়ে মোট চার প্লেট খেলাম যে আমি কী না দেড় প্লেটের বেশি খেতেই পারি না।
বউয়ের কথা “তোমার যেহেতু খুব ক্ষুধা লাগছে আর তাছাড়া সারাদিনে তেমন পেট ভরে ভালো কিছু খাইতে পারো না তাই এখন বেশি করে খাইতে হবে।
বেশি খাইলে শরীরও সুস্থ থাকবে নইলে অসুস্থ হয়ে গেলে তখনতো আমারই দোষ দিবে যে ঠিক মতো খেয়াল রাখিনি।”
অবশ্য পছন্দের খাবার সেইসাথে বউ নিজ হাতে এতো কষ্ট করে রান্না করেছে তাই এতো খাইতে তেমন সমস্যা হয়নি।
আপনারা মুখ যেমনই করেন আর যতোই হিংসা করেন একটুও দিব না কিন্তু। খাইতে ইচ্ছা করলে আপনাদের প্রিয় মানুষকে বলেন যান।
– নেও এবার ঔষধ খেয়ে নেও।
-ঔষধ? আমিতো সুস্থ কীসের ঔষধ ?
-বেশি কথা না বলে খেয়ে নেও জ্বরের ঔষধ। আগে থেকে খেয়ে নেয়াই ভালো যাতে জ্বর আমার আবির বাবুকে স্পর্শ করতে না পারে।
চুপচাপ খেয়ে নিলাম। পাগলী বউয়ের কান্ড দেখে হাসিও লাগছে আবার অবাকও হচ্ছি। আমার কতো খেয়াল রাখে।
ও হ্যাঁ আপনাদের পরিচয় দিতে ভুলেই গেছি।
আমি < আবির>। বর্তমানে মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি।
যারা এই
চাকরী করে তারাই বুঝে কেমন খাটুনি খাটিয়ে নেয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
সেই সকাল ৮টাই বেরিয়ে রাত্রি ন’টা নাগাদ বাসায় ফিরা হয়। কোন কোন দিন তার থেকেও বেশি দেরী হয় যেমনটা আজকে রাত্রে হলো।
যাওয়া আসার পথে রাস্তাতে জ্যামেই আটকে থাকতে হয় তিন ঘণ্টা মতো।
সপ্তাহে ৬দিন গাধার মতো খাটতে হয়।
একটুও ফাঁকি দেবার উপায় নেই। বুঝতেই পারছেন কেমন জীবন। তাই আর সাংসারিক ঝালেমার মাঝে আমি নেই।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লিস্ট অনুযায়ী এক সপ্তাহের বাজারটা যাস্ট করে দিই।
অপরদিকে আমার বউয়ের নাম । নামের মতোই দেখতে ভারী সুইট।
সেও কম কষ্ট করে না প্রচুর
কষ্ট করে সকাল ঘুম থেকে উঠার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত। সংসারে কখন কী দরকার, মাঝে মধ্যে বাজার করা,
শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করা,
আমার সকালে দ্রতু নাস্ত বানিয়ে দেয়া, সকল প্রয়োজনীয় জিনিস সামনে সময়মতো হাজির করে রাখা, আমার খেয়াল রাখা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, রান্না করা ইত্যাদি সে কতো কাজ আবির একা হাতেই সামলে নেই।
সত্যিই আমার থেকে বেশি পরিশ্রম করে। সুইটি এতো কিছুর পরও ভালোবাসায় কোন কমতি রাখেনি।
আপনারা অনেকে অবাক হচ্ছেন আবার অনেকে হয়তো বলবেন অসম্ভব#ব্যস্ততার_মাঝে_এত্তো_ভাল
বাবা মায়ের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করা। উভয়ের জীবনেই প্রথম পুরুষ আর প্রথম নারী আমরা।
আসলে আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম।
আবির চাহিদা বেশি কিছুই না শুধু আমার কাছে একটু সময় আর ভালোবাসা চাই আর কিছুই না। একটু সময় দিতে পারলেই যেন চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো খুশি হয়।
তাই কষ্ট হলেও সাধ্যমতো যতটুকু পারি পুরো সময়টা বউকে দিই। বাইরে কাজের মাঝে থাকলেও কয়েক
মিনিটের জন্য হলেও সময়
করে কথা বলি।
ব্যস্ততার মাঝে কয়েক মিনিট বের করা কঠিন কিছুই না থাকতে হয় শুধু ইচ্ছা আর ভালোবাসা যা আমাদের মাঝে ছিল।
কয়েক মিনিট কথা বলে খোঁজ নেয়াটা খুবই তুচ্ছ মনে করে অনেকে কিন্তু বুঝতেই পারে না কয়েক মিনিটের খোঁজ নেয়ার মাঝে কতোটা ভালোবাসা আর সুখ থাকে।
প্রিয় মানুষটির চাওয়া পাওয়া সবাইই পূরণ করতে চাই,হাজার কষ্ট করে হলেও সেই চাওয়াটা পূরণ করার চেষ্টা করে আর যদি সেই চাওয়াটা শুধুই ভালোবাসা হয় তাহলেতো কথাই নাই।
কিন্তু এই ক্ষুদ্র চাওয়াটাও কিছু ব্যস্ত পুরুষদের নিকট অনেক কঠিন মনে করে ফেলে।
প্রায় অধিকাংশ
পুরুষই বুঝতেই পারে না তার প্রিয় মানুষটি তার কাছে আসলে কী চাই।
.
কিন্তু যে বউ আমাকে এতো ভালোবাসতে পারে, কতো খেয়াল রাখে, আমার পিতা-মাতাকে এতো ভালোবাসে, পুরো সংসারকে কতো সুন্দর করে আগলে রাখে যে আমার সব প্রয়োজনে, দরকারে, ইচ্ছা পূরণে পাশে থাকে তাকে ভালো না বাসলে নিজেকে সবথেকে নিষ্ঠুর পুরুষ মনে হবে।
তাছাড়া সে যদি এতো ব্যস্ততার মাঝে এতো ভালোবাসতে পারে তাহলে আমি পারব না কেন। সৃষ্টিকর্তার নিকট
ট্রিলিয়ন কোটি শুক্রিয়া এমন একটি জীবন সঙ্গী জুটিয়ে দেয়ার জন্য।
জীবনে হয়তো এমনকিছু ভালো কাজ করেছি যার ফলে এমন সঙ্গী পেয়েছি।
.
শত শত অপরূপ ভালোবাসার বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখা
ভালোবাসার সংসার নষ্ট
হয়ে গেছে
শুধু এই ব্যস্ততা অর্থাৎ প্রিয় মানুষকে সময় না দেয়ার জন্য।
আমার মনে হয় জীবন্তরূপে মৃত সংসারের সংখ্যাটা অনেক বেশি হয়তো কোটির মতো শুধুমাত্র ভালোবাসাহীনতার জন্য।
.
একটি সংসারে লাখ টাকা ইনকামের মাঝেই প্রকৃত সুখ থাকে না
প্রকৃত সুখ থাকে একে অপরকে ভালোবাসার মাঝে, বুঝতে পারার মাঝে,
ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া পূরণের মাঝে, গুরুত্ব দেয়ার মাঝে, সর্বক্ষেত্রে একে অপরের সর্বাবস্থায় পাশে থাকার, দৃঢ় বিশ্বাসের মাঝে সুখ নিহিত।
এগুলো সব একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত।
যাহ! পরিচয় দিতে গিয়ে অনেক বক বক করে ফেললাম। সরি। কী করব যে খাওয়ানো খাওয়াইছে বসে
একটু বিশ্রামের মাধ্যমে আপনাদের সাথে গল্প করলাম।
.
বেডরুমে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।
চোখটা একটু বুঝতেই মনে হলো কেউ এসে আমার বুকের উপর মাথা রাখছে।
তাকিয়ে দেখি রোজা দুই হাত আমার বুকের দুপাশে ভর করে মাথাটা বুকে রেখেছে।
“আজকে খুব বেশি কষ্ট করেছো তাইনা?”
প্রশ্ন করেই মাথাটা
তুলে আমার মুখের সামনে মুখ এনে আমার জবাবের অপেক্ষা করছে রোজা।
আমি রোজার মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আসলেই আজকে বেশি কষ্ট করতে হয়েছে কাজের প্রচুর চাপে।
রোজা আমার মুখ দেখে ঠিকই বুঝে ফেলে। যতোই চেষ্টা
করি তবুও ধরা খেতে হয়। কেন জানি রোজার কাছে কিছুই লুকাতে পারি না।
মনে হয় যেন তার অন্তর চোখ দ্বারা সব দেখতে পারে। সব বুঝতে পারে।
খুব ভালোবাসে এই জন্যে।
কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বললাম “না তেমন না।
সামান্য কষ্ট।”
আমার চোখে চোখ রেখে রোজা বলল “তুমি এখনো মিথ্যা বলতে পারো না আমার কাছে।”
আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না।
নিজে যে সারাদিন ধরে এতো কষ্ট করে অথচ এমন ভাব করে যেন মনে হয় যাবতীয় সব কষ্ট আমি করি আর রোজা আরাম করে।
.
“আমি কফি বানিয়ে নিয়ে আসতে গেলাম।
ঘুমিয়ে যেও না আবার ঘুমালে খবর আছে।”
সারাদিন পরিশ্রমের পর ঘুমে চোখ এঁটে যাচ্ছে কিন্তু এখন যদি ঘুমিয়ে পড়ি বউকে সময় দিব কখন।
মনে মনে হাসি আসছে বউ ঠিকই বুঝে গেছে। আরেকটু সময় জেগে থাকার শক্তি এখন এই কফি।
কফি না খাইলে রোজার
সাথে আরো কিছুক্ষণ জেগে থাকাটা আর সম্ভব হবে না আমার কাছে।
.
সাধারণত বেশিরভাগ পুরুষরাই সারাদিন পরিশ্রমের পর বাসায় এসে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে আবার সকালে নাস্তা
করে ব্যস্ত শহরের কাজের মাঝে হারিয়ে যায়।
তাদের বউয়ের দিকে
একটু ঘুরেও দেখে না খেয়ালতো দূরের কথা।
একটু সময়ও দেই না।
এতে বউরা কতোটা কষ্ট পাই একটুও বুঝে না তারা।
সেসব মেয়েরাও মানুষ রোবটতো আর না তাদেরও ইচ্ছা করে সারাদিন সংসারে কাজ করে প্রিয় মানুষের সাথে একটু সময় কাটাতে।
অথচ ব্যস্ততার ক্লান্তির দোহাই দিয়ে সেসব পুরুষরা সময় দেই না তাদের
। তারা যদি বুঝতে
পারতো শত ব্যস্ততার মাঝে প্রিয় মানুষটির সাথে একটু সময় কাটানোর মাঝে কতোটা সুখ শান্তি রয়েছে তাহলে কখনোই প্রিয় মানুষকে এতোটা কষ্ট দিতে পারত না। আদৌ কী তারা বুঝবে নাকী বুঝবে ঠিকই কিন্তু অনেক দেরী করে ফেলবে?
.
“এই নেও কফি। চলো এখন বারান্দায় বসে রাতের আলোকিত ব্যস্ত শহর দেখি হাতে হাত রেখে।”
আমার এই বউটা না খুব পাগলী।
সব ভালোবাসা যেন অক্ষরে অক্ষরে আদায় করে নেই।
আবার ভীষণ রোমান্টিকও বটে। পৃথিবীর সবথেকে সৌভাগ্যবান স্বামীর মাঝে আমি একজন এমন একটি বউ পেয়ে।
দু’জনে বারান্দায় বসে কফি খাচ্ছি। শহরের চারপাশের কৃত্রিম আলোতে মনে হচ্ছে শহরের অন্যেরকম রূপ দেখছি। খুব ভালো লাগছে বউয়ের সাথে সময় কাটাতে একসাথে। মনে হচ্ছে সারাদিনের সব পরিশ্রম কষ্ট একে অপরের ভালোবাসার কাছে হার মেনে নিচ্ছে।
প্রকৃত ভালোবাসাটাই হয় এমন যার কাছে সবকিছুই হার মানে সবকিছু। এই একটু সুন্দর মুহূর্ত প্রিয় মানুষের সাথে না কাটালে হয়তো বুঝতেই পারতাম না জীবনটা শত ব্যস্ততার মাঝেও কতো সুন্দর।
আকাশে কিছু তারা দেখা যাচ্ছে। বড্ডো সুন্দর লাগছে। রাতের কালো আকাশে সাদা রঙের তারা কী সুন্দর জ্বলজ্বল করছে। বড্ডো বেশি ভালো লাগে তখন যখন প্রিয় মানুষটির সাথে একসাথে রাতের আকাশের সৌন্দর্য দেখা হয়। অন্ধকারের মধ্যে এতো সুন্দর আলোকিত তারাগুলো আমাদের মুগ্ধ করছে।সুইটি আর আমার কফি খাওয়া শেষে একে অপরের দুইটি হাত দুইটি হাতের মাঝে মুষ্টিবদ্ধ করেছি আর সুইটি আমার কাঁধে মাথা রেখে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে আছে গভীরভাবে।
-আচ্ছা তারাগুলো কী আমাদের দেখতে পাচ্ছে? তারা কী বুঝতে পারছে আমরা কতো সুখী।
-হুমম। তারাগুলো আমাদের দিকে টিপ টিপ করে কী সুন্দর করে তাকিয়ে আছে দেখছো না?
-হ্যাঁ দেখছিতো।
-রোজা চলো অনেক রাত হয়ে গেছে আজকে। চলো ঘুমিয়ে পড়ি আর পরবর্তী রাতে আরো একটি সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর পরিকল্পনা করি।
দুষ্টু মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল
-হুমম। কিন্তু পায়ে খুব ব্যাথা হাঁটতে পারছি না।
-ও তাই? কই দেখিতো পায়ের কোথায় ব্যাথা এই বলে কোলে তুলে নিলাম। বউ দু’হাত দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে রাখছে।
.
আমি শুয়ে আছি আর আমার বুকে মাথা রেখে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমার বউ শুয়ে আছে। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। আমার শরীরের সঙ্গে মিশে এক হয়ে গেছে। আসলেইতো দুইটি শরীর হলেও দু’জনে মিলে একটি প্রাণ একটি শরীর।
একজনের ব্যাথাতে আরেকজনের ব্যাথা লাগে। হঠাৎ বউ উঠে আমার পাশে একটা হাত রেখে আধশোয়া হয়ে আমার মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলল “অনেক ভালোবাসি তোমাকে। কখনো এই পাগলী বউকে কষ্ট দিবে নাতো?”
এই বলে মিষ্টি ঠোঁটে দুই গালে
স্পর্শ করে দিল পরম আদরে। আমি জড়িয়ে ধরে বললাম “আমার এই রোমান্টিক বউকে শুধুই ভালোবাসা আর কিছু দিব না।”
.
সকালের কোকিলের মতো সুমধুর রোজার কন্ঠে ঘুম ভাঙল।
আমি গাল দুটো টেনে বললাম “ঘুম ভালো হয়েছে আমার বউটার?”
-হুম। খুব হয়েছে। এই বলেই সুইটি আমার বুকের উপর ঝুঁকে পড়েছে। আমার গলাটা দুহাতে জড়িয়ে দেহটাকে আমার উপর নিয়ে বিছানায় এলিয়ে দিচ্ছে আর আমি মাথাটা খাটের উপর কোনরকম রেখে বোবার মতো তাকিয়ে দেখছি আমার বউকে।
মেয়েটার চোখে দুষ্টু মিষ্টি হাসি।
কী অপরূপ হাসি
অপরূপ মুখ এই মেয়েটার।
-তাতো হবেই যেভাবে সাপের মতো জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিলে একটু নড়ার উপায় নাই।
-ইইইইই কী বললে? বলেই ঠোঁটে কাঁমড় বসিয়ে দিল।
-আউসসসস! এতো জোরে কেউ কাঁমড় মারে? ইসস! কী ব্যাথা।
-হিহিহিহি। বেশ করেছি। আর বলবে হুমম?
-দাঁড়াও তোমার মজা দেখাচ্ছি।
বলতেই দৌড় দিল।
.
সকাল সকাল গোসল করে রেডি হয়ে একসাথে নাস্তা করলাম।
যাওয়ার সময় পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল “পৌছে ফোন করবে আর তাড়াতাড়ি আসবে কিন্তু। আজ আমরা একসাথে হুমায়ূন এর রোমান্টিক ‘অজানা’ বইটি পড়ব। খুব গল্প করব। গতকাল রাত্রে বেশি গল্প করতে পারিনি।”
গত রাতেই সব ভেবে রেখেছে আমার বউটি।
আমি পিছনে ঘুরে বউয়ের দুই কাঁধে দুই হাত রেখে বললাম
“তোমার কথা মতোই হবে সব। একটি মাত্র বউ তার কথা না শুনলে কী আর চলে আমার।”
বলেই কপালে ভালোবাসার ছোঁয়া দিলাম। খেয়াল করে দেখলাম রোজার চোখে অশ্রু জমেছে।
এটা সুখের অশ্রু।
আমি জানি এখন চলে যাবার পর কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়বে ভালোবাসার প্রকৃত সুখে আবার কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়বে আমার সারাদিনের কষ্টের, কাছে না থাকার জন্যে।
.
এভাবেই প্রতিটা দিন কাটাই নিত্যনতুন মুহূর্তের মাধ্যমে।
যেমন কোনদিন রাতে রোমান্টিক মুভি দেখে, গল্পের বই পড়ে, গল্প করে, আকাশের চাঁদ ও তারা দেখে, রাতের শহর দেখে,তুন নতুন স্বপ্ন সাঁজিয়ে এছাড়া আরো বিভিন্নভাবে সময় কাটায়। ফলে কারোর প্রতি কারোর কোন ভালো না বাসার অভিযোগ থাকে না।
এই পবিত্র ভালোবাসার কোন শেষ নেই একে অপরের মাঝে যুগ যুগ ধরে জীবিত থাকবে ভালোবাসা।.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now