বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অন্তর সবে নতুন অধ্যাপক হিসাবে আর-রহমান সরকারী কলেজে যোগ দান করেছে । প্রথম ক্লাসে অনন্তর খেয়াল করলো্ একটা মেয়ে খুব চঞ্চল , অনেক প্রশ্ন করলো , একরকম বলা চলে অনন্তরকে ঠিকমত ক্লাস নিতেই দিলো না ।পরের দিনও এমন করলো ফলে অনন্তর রাগান্বিত ভাবেই মেয়েটাকে ধমক দিলো যেন এ রকম না করে । কিন্তু পরের দিন আর বেশি প্রশ্ন করলো । অনন্তরের কিছুটা রাগ হলেও কিছু বললো না ।
.
এ ভাবেই আর বেশ কিছু দিন চলে গেল । ইদানিং অনন্ত লক্ষ করছে লামিয়া বইয়ের বাহিরেও প্রশ্ন করছিলো । ও বলাই হয়নি তো আপনাদের যে ঐ চঞ্চল মেয়েটার নাম লামিয়া । লামিয়া প্রশ্ন গুলো শুনো ক্লাসের সবাই হাসাহাসি করত । তাই অনন্ত খুব বোর হচ্ছিলো । অনন্ত রাগের মাথাই একদিন বলেই ফেললো, লামিয়া যদি তুমি এ ভাবে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকো । তাহলে কিন্তু এই কলেজ হতে চলে যাবো । অনন্ত আর কিছু কথা বললো লামিয়াকে কটাক্ষ করে । অনন্ত লক্ষ করলো লামিয়া কিছু বলছে না বরং তার দুই চোখ ছল ছল করছে । হঠাৎ করেই লামিয়া হু হু করে কেঁদে উঠলো এবং দৈাড় দিয়ে ক্লাস হতে বের হয়ে গেল । কান্না দেখে অনন্তের সামান্য মন খারাপ হলেও মনে মনে খুসি হলাম এই ভেবে যে , আজ হতে ক্লাস ভালো ভাবে নেওয়া যাবে ।
.
পর দিন ক্লাস নিতে গিয়ে অনন্ত খেয়াল করলো লামিয়া আসে নি । তাই খুসি মনে ক্লাস নেওয়া শুরু করলো । কিন্তু অনন্ত কিছু সময় পর ই কিছু মিছ করতে লাগলো । কিন্তু তা পাত্তা না দিয়ে অনন্ত ক্লাসে মনযোগ দিলো । তারপর দিনও অনন্ত ক্লাসে কিছু একটা মিছ করতে লাগলো । অনন্ত ভাবতে লাগলো , সে তো লামিয়ার প্রেমে পড়নি । এভাবে বেশ কিছু দিন পর অনন্ত উপলদ্ধি করতে পারলো লামিয়ার গুরুত্ব । তাই পরদিন অনন্ত লামিয়ার বান্ধবী তানিয়াকে জিজ্ঞেস করলো “ লামিয়া কেন কলেজে আসছে না ?” । তানিয়া বললো লামিয়া হাসপাতালে তাই এ কইদিন আসে নি । আর বললো লামিয়া ঐ দিন সুইসাইড করতে চেয়েছিল । অনন্ত তানিয়ার কাছ হতে হাসপাতালের ঠিকানা নিয়ে হাসপাতালে লামিয়াকে দেখতে গেল ।
.
হাসপাতালে গিয়ে অনন্ত লামিয়াকে খুজে পেল না । অনন্ত রিসিপশন হতে জানতে পারলো আজ লামিয়াকে রিলিজ দিয়েছে । অনন্ত হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো ।
.
পরদিন অনন্ত তাড়াতাড়ি কলেজে গেল কেননা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিলো । কলেজ গিয়ে লামিয়াকে দেখে অনন্ত অবাক হলো কেননা অনন্ত এত দিন লামিয়ার এই ব্যাপারটি লক্ষ করেনি । লামিয়া আজ হলুদ শাড়ি পড়েছে । কাজল দেওয়া চোখ গুলো যেন লামিয়াকে টানছিলো । অনন্ত লামিয়ার সাথে কথা বলতে গেল কিন্তু পারলো না কেননা লামিয়া অনন্তকে এড়িয়ে গেল । পরদিন ক্লাসে লামিয়াকে দেখে অনন্ত খুসি হলো । ক্লাস শুরু করলো কিন্তু আজ লামিয়া কোনো প্রশ্ন করলো না , যা অনন্ত কে মর্মাহত করলো । লামিয়ার এই অবহেলা দেখে অনন্ত মনে খুব কষ্ট পেল ।
.
পরদিন কলেজে গিয়েই অনন্ত খেয়াল করলো , লামিয়া হেসে হেসে ওর এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলো । যা সহ্য করতে না পেরে অনন্ত দ্রুত হেটে লামিয়াদের কাছে গিয়ে লামিয়ার কাছে গিয়ে বলে, লামিয়া তোমার সাথে আমার একটু ব্যক্তিগত কথা আছে । একটু কলেজ গেটের বাহিরে আসবে । এরপর লামিয়া ও অনন্ত কলেজ গেটের বাহিরে আসে ।তারপর-
.
-এ ভাবে হেসে হেসে কথা বলার কি আছে ।
-কেন ? আপনার কি অসুবিধা হচ্ছে ?
-হ্যা । তুমি আজ হতে কারো সাথে কথা বলতে পারবে না । শুধু আমার সাথে বলবে ।
-কেন আপনার কথা শুনবো ? আর আমি কি আপনার বিয়ে করা বউ ?
-হ্যা । চলো আজ তোমাকে বিয়ে করবো ।
-কিন্তু আপনার সাথে আমি তো প্রেম করি না , যে হুট করে বিয়ে করে ফেলবো ।
-প্রেম করি নাই ঠিক আছে কিন্তু আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি অনেকদিন ধরে ।
-কই ?আপনি তো আমাকে এখনো প্রোপোজ করেনি ?
-অবশেষে অনন্ত হাটু গেড়ে লামিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো “Will You Marry Me ?”
-না ।
-কেন ?
-আগে আমরা প্রেম করবো । তারপর বিয়ে করবো । কি রাজি আছো ?
-হ্যা ।
-অনন্ত হ্যা বলার সাথে সাথে লামিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো । বুদ্ধ এই কথা বলতে কথা বলতে এতো সময় লাগে । তোমাকে সেই প্রথম দিন দেখেই প্রেমে পড়ছিলাম । তাই তো ক্লাসে এতো কথা বলতাম ।কিন্তু তুমি তা ন বুঝে আমাকে ঝাড়ি দিয়ে ছিলে ।
-তাই বলে তুমি সুইসাইড করতে যাবে ।
-হ্যা । একশবার যাবো । যদি ভবিষ্যতে আবার ঝাড়ি দেও তাহলে কি হবে বুঝছো তো ?
-কি হবে ?
- আবার সুই...
পুরো কথা লামিয়া বলতে পারলো না । তার আগেই লামিয়া অনন্তকে জড়িয়ে ধরলো ।
বেঁচে থাকুক লামিয়া ও অনন্তের ভালোবাসা ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now