বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম এই কবরের পাশেই আরেকটা কবর! ওটা থেকেই আসছে শব্দটা! বাচ্চা কোনো মেয়ের কান্নার শব্দ। কিন্তু খুব দ্রুত কান্নাটা আতংকের চিৎকারে রুপ নেয়া শুরু করল। সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেলাম কি ঘটতে যাচ্ছে। আমি গায়ের শক্তি দিয়ে আমার কবরের ঐ পাশের দেয়ালের মাটি খাঁমচে ভেঙ্গে ফেলতে লাগলাম। মাটি নরম। দ্রুত পাতলা হয়ে আসতে লাগল দেয়ালটা। ওপাশের চিৎকার থামছে না।
দেয়ালে ছিদ্র হওয়া মাত্রই ওপাশের বাচ্চা মেয়েটা প্রচন্ড চিৎকার দিয়ে এক কোনায় চলে গেল ভয়ে। আমি আরো দ্রুত দেয়াল ভেঙ্গে ওপাশের কবরে এসে ঢুকলাম। অন্ধকারে কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু সময় নেই হাতে। আমি কেবল বললাম, “ মা, তুমি ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে বের করে দিচ্ছি।” মেয়েটার দিক থেকে আরো ভয়ার্ত কান্নার শব্দ হল। কিন্তু বেশ দূর্বল। নিঃশ্বাস না নিতে পেরে দূর্বল হয়ে আসছে মেয়েটা।
আমি দেরি না করে কবরের ছাদের এক পাশে জোরে জোরে ঠেলা দিয়ে বাঁশ, চাটাই খুলে ফেলতে লাগলাম। বাচ্চার কবর বলে সবকিছু অল্প ছিল। তাই ছাদটার এক পাশে দ্রুত একটা ফোঁকর করে ফেলতে পারলাম। গায়ে বালু মাটি লেগে একাকার অবস্থা। ঘুরে মেয়েটার দিকে তাকালাম। অন্ধকারে মেয়েটার সারা আর না পেয়ে চমকে গেলাম। তাড়াতাড়ি ওর কাছে গিয়ে দেখলাম খুব দূর্বল হয়ে এসেছে শ্বাস নিতে না পেরে। কেবল মাটিতে পা ঘসছে নিস্তেজ ভাবে।
আমি কোলে তুলে ওকে নিয়ে এলাম ফোঁকরটার মুখের কাছে। তুলে ধরলাম। খোলা বাতাসে শ্বাস নিতেই শক্তি পেল মেয়েটা। হাঁচড়ে পাচঁড়ে বেরিয়ে গেল কবর থেকে। ভেবছিলাম আমার জন্য দাঁড়াবে। কিন্তু দাঁড়ালো না, ভয় পেয়ে পালাতে লাগল...... চাঁদের আলোয় হারিয়ে গেল......
আমি ক্লান্ত ভঙ্গিতে একটু নিঃশ্বাস নিলাম ফোঁকরটা দিয়ে। রাতের ভাঙ্গা চাঁদের আলোয় গোরস্থানটা চিনতে পারলাম না। কে জানে কোথায় এটা?
আস্তে আস্তে বসে পড়লাম আবার কবরের ভেতর। চাঁদের আলো ঢুকছে ফোঁকর দিয়ে কবরের এ পাশে। আমি জানি অন্য পাশের অন্ধকার কোনাটায় এখনো মূর্তির মত বসে রয়েছে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা...... স্থির চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে......
চোখ মেললাম। জ্বরের তেজটা কমে এসেছে। মাথা ব্যথাটাও নেই একদম। হালকা লাগছে খুব মাথাটা।
দেখলাম আমার মাথার কাছে একটা টুলে বসে আমার মাথায় মগ দিয়ে পানি ঢালছে পারুল আর হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছছে। ঘরের জানালাটা খোলা।
মধ্য রাতের চাঁদের আলো এসে আমার ঘরটা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আমি কাঁপা হাতে পারুলের মাথায় হাত রাখলাম। মেয়েটা এখন আরো জোরে কাঁদা শুরু করল।
আহারে...... বুকের ভেতর অদ্ভূত একটা শূণ্যতা মোচড় দিয়ে উঠল। বিয়ে করিনি বলে জানি না সন্তান হলে কেমন লাগে।
কিন্তু কেন যেন হঠাৎ মনে হল আমার মেয়ে থাকলে মেয়েটা ঠিক পারুলের মতই হত,
এভাবেই হয়ত কাঁদত আমার মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে...... ঝাপসা হয়ে এল আমার চোখের দৃষ্টি......... আহারে...... মমতা বড় কঠিন জিনিস। স্রষ্টা এই একটা জিনিস দিয়ে জগৎটাকে এত সুন্দর করে ফেলেছেন!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now