বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। অলৌকিক জল্লাদ - শেষ পর্ব ।।
কাহিনীঃ মানবেন্দ্র পাল
।। রাত্রে বাগানের পথে।।
নোটন আর নোটনের মা চলে গেছে মাত্র তিনদিন। কবে ফিরবে জানি না। যদি নোটনের দিদিমার খারাপ কিছু হয় তাহলে কবে ফিরবে কে জানে! ছোট ভাই'রা চলে গেছে এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। বিয়ে কি এখনো মেটেনি? মেজ বৌমাদের বিষয়সম্পত্তি ভাগ হতে আর কতদিন লাগবে? আমি তো আর এভাবে একা থাকতে পারছি না। অথচ আমাদের পাড়াতে প্রতিবেশীরা রয়েছে। তাদের কাছে যাই আসি। ওদের এত কাছে থেকেও আমি কি নিদারুণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি, তা ওরা ভাবতেও পারবে না। ওদের কিছু বলতেও পারি না। কেননা বললে ওরা কেউ বিশ্বাস করবে না।
আমি এখন নিজের ঘরেই স্টোভ জ্বেলে যা হোক কিছু রেঁধে নিই। একা রান্নাঘরে যেতে সাহস হয় না। রাজুর খাবারটা রান্নাঘরে রেখে আসি। আমি যে ভয়ে ভয়ে আছি রাজু তা বুঝতে পারে।
এখন আবার মাঝেমাঝেই আর একটা প্রশ্ন জাগে, হাঁড়িকাঠটা পোঁতার কারণ কি? উত্তর পাই না। তখন আবার মন থেকে ব্যাপারটা ঝেড়ে ফেলি।
বিকেলে একটু বেরোই। বড় রাস্তাটা ধরে হাঁটি। সন্ধে হবার আগেই বাড়ি এসে ঢুকি। তখন বাইরে থাকতে ভয় করে। আবার বাড়িতে থাকতেও ভয়। বাড়িতে তো সেই মূর্তিমান আতঙ্কটি রয়েছে। সে বাড়ি থাকলেও ভয়....বাড়ি না থাকলেও ভয়। কোথায় কি মতলবে ঘুরে বেড়াচ্ছে কে জানে!
সেদিন রাত তখন সবে ন'টা। এরই মধ্যে পাড়াটা নিঝুম। আমি যৎসামান্য রাতের খাওয়া সেরে একটা বই নিয়ে শুয়ে পড়লাম। রাত দশটা নাগাদ হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে গেল। ব্যস, ঘুরঘুট্টি অন্ধকার।
সন্ধের পর থেকেই বাড়ির বাতাসটা ভারী হয়ে আছে। বাতাস ভারী হলেই নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। একটা চাপা কাশি গলা চেপে ধরে। এখনও তাই হচ্ছে। বুঝলাম রাজু বাড়ি আছে। কিন্তু কোথায় আছে জানি না। কেননা সন্ধে পর্যন্ত ও ওর ঘরে ছিল না। বইটা বুকের ওপর রেখে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, হঠাৎ মনে হল বারান্দার দিকের জানলাটা কেউ খোলার চেষ্টা করছে। আমি রিভলভারটা হাতের মুঠোয় নিয়ে শক্ত হয়ে শুয়ে রইলাম।
শব্দটা থেমে গেল। তারপরেই নিচের দরজাটা খোলার শব্দ। আমি লাফিয়ে উঠে রাস্তার দিকে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম রাজু বেরোচ্ছে পা টিপে টিপে। আরও দেখলাম ও যাচ্ছে পিছনের রাস্তা দিয়ে বাগানের দিকে। তখনিই আমি টর্চ আর রিভলভার নিয়ে রাস্তায় নেমে এলাম।
আমি জানি কতবড় মারাত্মক ভুল করে সর্বনাশের পথে এগোচ্ছি। কিন্তু আজ আর কোনো বাধাই মানলাম না। আমার পৌরুষ অথবা নিয়তি আমায় ঠেলে নিয়ে চলল।
বিশ হাত দূরে রাজু চলেছে। আমিও নিঃশব্দে ওর পিছু পিছু চলেছি। রাজু বাগানের ভেতর ঢুকল। আমিও ঢুকলাম। শুকনো পাতায় যাতে শব্দ না হয় তার জন্য খুব সাবধানে পা ফেলতে লাগলাম। অন্ধকারে রাজু বার বার হারিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু আমি হুঁশিয়ার। আবার রাজুর সেই ঢ্যাঙা চেহারা। আমার গা শিউরে উঠল। কিন্তু না, আজ আমায় দেখতেই হবে ও কোথায় যায়। নিজেকে ঝাঁকানি দিয়ে দেখে নিলাম.....আমি ঠিক আছি।
প্রায় মিনিট দশেক এগোবার পর দেখি এক জায়গায় আলো জ্বলছে। পরে বুঝলাম আলো নয়, আগুন। অবাক হলাম। এই নির্জন জঙ্গলে আগুন জ্বালল কে? ওদিকে রাজুর গতি দ্রুত হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওকে যেন কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে কি আমাকেও কেউ টানছে?
আর একটু এগোতেই দেখলাম একজন সন্ন্যাসী ধুনি জ্বেলে এই দিকেই তাকিয়ে আছে। আমি চট করে একটা গাছের আড়ালে সরে গেলাম। চোখের সামনেই দেখলাম রাজু গিয়ে সেই সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে লম্বা হয়ে আছড়ে পড়ল। আর ঠিক তখনিই ধুনির আগুনের আভায় সন্ন্যাসীর মুখটা ভাল করে দেখতে পেলাম। চমকে উঠলাম...... এ কি! এ যে কাঠমান্ডু পাহাড়ের সেই তান্ত্রিক!
কিন্তু কি করে সে পাহাড় পর্বত ডিঙিয়ে পথ চিনে আমার দেশে হাজির হল?
আমার হাত পা কিরকম অবশ হয়ে এল। বুঝলাম এখানে আরেক মূহুর্ত থাকলে আমি জ্ঞান হারাব। আর জ্ঞান হারালেই তান্ত্রিকের হাত থেকে আমার রেহাই নেই।
আমি পায়ে পায়ে পিছোতে লাগলাম। একবার রাজুর দিকে তাকালাম। দেখি একটা কঙ্কালসার দেহ....দেহ তো নয়, মৃতদেহ উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
সেরাত্রে কি করে যে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম মনে করতে পারি না। তবু ওরই মধ্যে ইচ্ছে করেই বাইরের দরজায় খিল এঁটে দিয়েছি যাতে রাজু আর বাড়ি ঢুকতে না পারে। নিজের ঘরের দরজাতেও ভালো করে খিল দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ততক্ষণে কারেন্ট এসে গেছে।
ঘুমের ঘোরের মধ্যেই একটা কথা মনে হতে চমকে উঠে বসলাম। মেলার ক'দিন ঐ বাগানের মধ্যে দিয়েই লোকজন নদীর ধারে জোড়া বটতলায় পূজো দিতে গিয়েছিল। তখন বাগানে কেউ এই তান্ত্রিককে দেখেনি। সব তান্ত্রিক, সাধু সন্ন্যাসীই ছিল নদীর ধারে। সম্ভবত ইনিও ওখানে ছিলেন।
মেলা তো শেষ হয়ে গেছে বেশ কয়েকদিন হলো। সব সাধুরাই ফিরে গেছেন। ইনি যাননি কেন? কেনই বা এখন বাড়ির কাছে আমবাগানে এসে আস্তানা গেড়েছেন? রাজুর সঙ্গেই বা চেনা হল কি করে? রাজু চুপিচুপি মেলায় গিয়েছিল সেদিন। সে কি তবে ঐ তান্ত্রিকের সাথে দেখা করতে? তবে কি রাজু ঐ তান্ত্রিকেরই পাঠানো অলৌকিক জল্লাদ? আমায় শেষ করে দেবার জন্য অথবা আমার ওপর প্রতিশোধ নেবার জন্য নিজেই ক্রমশ এগিয়ে আসছে আমাদের বাড়ির দিকে? রাজু শুধু ওঁকে নিশানা দিয়ে যাচ্ছে? তাহলে...... তাহলে নির্জন বাড়িতে আমায় বলি দেবার জন্যই কি হাঁড়িকাঠ পোঁতা হয়েছিল?
।। সিঁড়ির ঘরে চোর ।।
পরের দিন সকালে দেখলাম বাইরের দরজার খিল বন্ধই আছে। বুঝলাম রাজু ফেরেনি। অথবা বাড়ি ঢুকতে পারেনি। খানিকটা নিশ্চিন্ত হলাম।
একটু বেলা হলে পাড়ার একটা ছেলেকে ডেকে বললাম, " শুনছি একজন সাধু নাকি পেছনের আমবাগানের শেষের দিকে বসেছেন। একটু দেখে এসো তো। "
ছেলেটা তখনিই যাচ্ছিল, ফের ডেকে বললাম, " ওঁর কাছে যাবার দরকার নেই। দূর থেকে দেখো। "
ঘন্টাখানেক পর ছেলেটা ফিরে এসে জানাল, জঙ্গলে কেউ নেই।
...... " কেউ নেই! তুমি জায়গাটা খুঁজে পেয়েছিলে তো?"
ছেলেটি বলল, " হ্যাঁ, পোড়াকাঠ আর ছাই পড়ে আছে দেখলাম। "
নিশ্চিন্ত হলাম। যাক, আপদ বিদেয় হয়েছে। সেইসঙ্গে রাজুও।
কিন্তু সেদিনই সন্ধেবেলায় ছেলেটি হন্তদন্ত হয়ে এসে বলল, " সাধুবাবা আবার এসেছেন। ধুনি জ্বালিয়ে বসেছেন। এবার অত দূরে নয়, আরও কাছে।"
আমি চমকে উঠলাম। ওকে বললাম, " ঠিক আছে।"
ছেলেটা চলে গেলে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। অদ্ভুত তো ঐ তান্ত্রিকটা! কেমন ধীরেধীরে তিন মাইল দূরের জোড়া বটতলা থেকে আমাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। কেউ বাধা দেবার নেই। এবার তো বাড়ি এসে ঢুকবে।
তাহলে একা আমি এখন কি করব?
তখনই সাহস এনে মনকে বোঝালাম - এটা যে নেপালের নির্জন অরণ্য কিংবা পাহাড়ের গুহা নয়, কলকাতার কাছেই কোনও লোকালয়, হাঁক দিলে দশটা লোক এসে পড়বে....এটা কি তান্ত্রিক বাবাজি জানেন না? না কি লোকবল, অস্ত্রবলের চেয়েও ওঁর কাছে আরও কোনও অব্যর্থ ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র আছে যা দিয়ে আমায় শেষ করে দিতে অসুবিধে হবে না? চোখের সামনেই তো দেখলাম কি ক্ষমতায় রাজুকে অস্ত্র বানিয়ে আমার বাড়িতে পাঠিয়েছে! রাজু কি সত্যিই রক্ত মাংসে গড়া মানুষ, না কোনও মৃতদেহ? তান্ত্রিকের পায়ের কাছে ও যখন আছড়ে পড়েছিল তখন স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলাম ওর দেহে প্রাণ ছিল না। একটা শুধু চামড়া ঢাকা কঙ্কাল যেন ঝপ করে পড়ে গেল.....
আরও সন্দেহ হচ্ছে কাঠমান্ডু হোটেলের ঐ জং বাহাদুরও ঐ তান্ত্রিকের দলের একজন। তান্ত্রিকের সঙ্গে সেই-ই হয়তো যোগাযোগ করে রাজু সুব্বা নাম দিয়ে একটা মৃতদেহকে জ্যান্ত করে তুলে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
....... এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল কাঠমান্ডু পাহাড়ের নীচে সেই গুহার প্রবেশ মুখে ঝুলন্ত সেই কঙ্কালটা.....বাতাসে দুলছে।
রাজু আজ দু'দিন হল বাড়ি ঢোকেনি। বাগানে তান্ত্রিকের কাছেও ওকে দেখা যায়নি। দেখা গেলে পাড়ার ছেলেটা বলত।
আজ রাত্রে পাড়ায় একজনের বাড়িতে আমার নেমন্তন্ন ছিল। আমি একা আছি বলে মাঝেমাঝে নেমন্তন্ন পাই।
রাত মাত্র আটটা।
আকাশে ঘন মেঘ থমথম করছে। এখনি হয়তো বৃষ্টি নামবে।
আমি তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম।
রাস্তা ঘোর অন্ধকার। কোনওরকমে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে বাড়ি এসে তালা খুলে ঢুকলাম।
একতলার উঠোন পার হয়ে ডান দিকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। সবে অর্ধেক উঠেছি.....ওপরে সিঁড়ির ঘরে যেখানে সুব্বা থাকত সেখানে কার যেন পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম।
অবাক হলাম। তালাবন্ধ বাড়িতে কে কিভাবে আসতে পারে? থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। চোর নয় তো? ছাদ দিয়ে উঠে এসেছে?
ইস! রিভলভারটাও কাছে নেই। এদিকে সদর দরজাটাও ভুলে খুলে এসেছি। এখন ওপরে উঠব, না পালাব? রুদ্ধ নিশ্বাসে কয়েক মূহুর্ত ভাবলাম। আর ঠিক তখনিই সিঁড়ির ওপর নজর পড়ল। অন্ধকারের মধ্যে দুটো জ্বলন্ত চোখ আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।
আমার গায়ের প্রত্যেকটি লোম খাড়া হয়ে উঠল। ও কার চোখ?
কিছু ভেবে দেখবার আগেই দেখি চোখদুটো নেমে আসছে। শুধু চোখ নয়, একটা ছেলের আবছা দেহ। সে দেহে এতটুকু মেদ নেই, মাংস নেই, হয়তো বা রক্তও নেই। শুদু কালো কুচকুচে চামড়া দিয়ে ঢাকা। চিনতে পারলাম নারকেলের মতো মাথাটা দেখে।
রাজু সুব্বা!
তিনদিন পর কোথা থেকে রাজুর আবির্ভাব?......কিন্তু....... এ কি সেই রাজু, না তার প্রেতাত্মা?
দুটো সরু সরু হাত বাড়িয়ে রাজু এগিয়ে আসছে। আগে দুবার চেষ্টা করেছিল পেছন থেকে। এবার আর চুপিচুপি লুকিয়ে নয়.....একেবারে সামনে.....মুখোমুখি।
পালাতে গেলাম। কিন্তু পা দুটো থরথর করে কেঁপে উঠল। আমি আর দাঁড়াতে পারছিলাম না। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে সিঁড়ির দেওয়ালে ঠেস দিয়ে কোনওরকমে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিছু করার নেই.....।
রাজু মুখে একরকম অদ্ভুত শব্দ করতে করতে ক্রমশ আমার দিকে এগিয়ে আসছে। ওর দুটো হাত তখন আমার গলার কাছে। আমি নিজের দু'হাত দিয়ে ওর সরু সরু হাত দু'খানা চেপে ধরতে গেলাম......কিন্তু বরফের ছুরির মতো ওর হাত দুটো আমার হাত অবশ করে দিল। আমি শেষবারের মতো চিৎকার করে উঠলাম......" বাঁচাও...ও....ও"।
কাকে উদ্দেশ্য করে চেঁচালাম জানি না, তবে নিচ থেকে সাড়া পেলাম তখনি।
......" সুশান্ত, তুমি কোথায়? বড্ড অন্ধকার! "
চমকে উঠলাম! এ যে আমার সহকর্মী প্রণবেশের গলা! সে তো আমায় কথা দিয়েছিল, ছুটির মধ্যে একবার আমার দেশের বাড়ি বেড়াতে আসবে।
আমি দ্বিগুণ জোরে আবার চেঁচিয়ে উঠলাম, " বাঁ.....চা.....ও!"
সঙ্গে সঙ্গে নিচ থেকে জোরাল টর্চের আলো এসে পড়ল সিঁড়ির ওপর।
..... " এ কি! সুশান্ত! তুমি এখানে দাঁড়িয়ে? কি হয়েছে?"
হঠাৎ জ্বলন্ত চোখদুটো নিভে গেল। টর্চের আলোয় রাজুকে পরিষ্কার দেখা গেল। রাজু একটা বিকট চিৎকার করে আমাকে আর প্রণবেশকে ধাক্কা দিয়ে বিরাট এক লাফ মেরে নিচে নেমে অদৃশ্য হয়ে গেল।।
।। শেষ কথা ।।
রাজু সুব্বাকে নিয়ে এই অলৌকিক কাহিনীও আমার ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। তবে শেষটুকু লেখা হয়নি।
পরের দিনই সবাই ফিরে এল। সকলেই আমার এ'কদিনের ঘটনা শুনল। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলল, " আমি তখনিই বুঝেছিলাম ও ছেলেটা মানুষ নয়, সাঙ্ঘাতিক কিছু। যাক, খুব বেঁচে গেছেন।"
আমার স্ত্রী তখনো ভয়ে নির্বাক।
তখনও তিনদিন ছুটি বাকি ছিল। ভেবেছিলাম প্রণবেশকে নিয়ে এই তিনটে দিন এখানেই কাটিয়ে যাব। কিন্তু সন্ধেবেলায় এসে সেই ছেলেটা এসে খবর দিল, " সাধু, আজও এসেছে। এবার বাড়ির আরও কাছে।"
শুনে সবার মুখ শুকিয়ে গেল। এ কি আমায় শেষ না করে এখান থেকে যাবে না?
সেদিনই আমার স্ত্রী স্যুটকেস গুছিয়ে নিল। বলল, " আর নয়। কাল ভোরের ট্রেনেই কলকাতায় ফিরে চলো। ওসব পাহাড়ে তান্ত্রিকদের হাত থেকে সহজে নিস্তার পাওয়া যায় না।"
ভয়ে ভয়ে ভোরবেলাতেই একরকম পালিয়ে এলাম বলা চলে। যথাসময় ট্রেন এল। তাড়াতাড়ি সামনে যে বগি পেলাম তাতেই উঠে পড়লাম।
গার্ড হুইসল দিল। সবুজ ফ্ল্যাগ দুলে উঠল।
হঠাৎ নোটন চেঁচিয়ে উঠল, " বাবা, দ্যাখো দ্যাখো সুব্বা!"
জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি চামড়া ঢাকা একটা কঙ্কাল যেন অস্বাভাবিক জোরে ছুটে আসছে ট্রেন ধরার জন্য। অন্তত পেছনের বগিতেও যদি উঠতে পারে। কিন্তু তখনিই ট্রেন চলতে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে গেল। রাজু অল্পের জন্য ট্রেনের নাগাল পেল না।
প্রণবেশ বলল, " সুব্বা তোমায় ছাড়বে না দেখছি।"
নিরাপদে কলকাতা এসে পৌঁছেছি। কিন্তু এখনও সুস্থির হতে পারিনি। কি জানি রাজু আবার এখানেও না এসে পড়ে!
।। সমাপ্ত ।।
।। এই কাহিনীর ২ য় খন্ডে, রাজু আর সেই তান্ত্রিক কলকাতায় এসে পড়েছিল। সেই গল্পটা পড়েছিলাম কিন্তু আমাদের কালেকশনে নেই বলে সংক্ষেপে বলে নিই। কাহিনীকার সুশান্তের বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে পুরোহিতের বেশে আশ্রয় নেয় কাঠমান্ডু পাহাড়ের সেই তান্ত্রিক। এদিকে কলকাতার রাস্তায় বেশ কিছুদিন ধরে গভীর রাতে একটি অদ্ভুত দর্শন ছেলেকে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বিচরণ করতে দেখে শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ডাকলে সাড়া দেয় না, অনুসরণ করতে গেলে উল্কার বেগে ছুটে মিলিয়ে যায়। কাগজেও বেরোতে থাকে এই খবর। কাহিনীকার সুশান্ত খবরটা পড়ে আন্দাজ করে, ঐ ছেলেটিই রাজু সুব্বা। প্রতিশোধ নিতে কলকাতায় চলে এসেছে। সে শরণাপন্ন হয় এক প্রেততত্ত্ববিদের। তাঁর সাহায্যে কোনওরকমে পিশাচরূপী রাজুর হাত থেকে রক্ষা পায় সুশান্ত। ব্যর্থ হয় রাজু আর তান্ত্রিক। ওই তান্ত্রিক কঠোর সাধনার দ্বারা একটা কঙ্কালকে চামড়া দিয়ে ঢেকে, মানুষের রূপ দিয়ে, তাতে প্রাণসঞ্চার করে, রাজু সুব্বা নাম দিয়ে কাহিনীকার সুশান্তকে হত্যা করতে পাঠিয়েছিল। সুশান্তকে মারতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ সেই তান্ত্রিক কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাজুর কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা যায় সুশান্তের বাড়ির ছাদে। কঙ্কালটাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।।
।। গল্পটি কেমন হলো জানাবেন ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now