বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অজানা দ্বীপ

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আশিকুর রহমান (guest) (০ পয়েন্ট)

X ১ম পর্ব "রনি!হেলিকপ্টারটি কোনদিকে যাচ্ছে?" বেশ ভয় নিয়ে সেলিম বললো।"আরে আমি তো মালদ্বীপ এর দিকে নির্দেশনা দিয়েছি।চিন্তা করিস না তোরা,মামার বানানো লেটেস্ট মডেলের হেলিকপ্টার এটা, নির্দেশনা অনুযায়ী সয়ংক্রিয় ভাবে চলে"।বলেই একমুঠ পপকর্ন চিবোনো শুরু করলো রনি। "তোর মামাকে নিয়ে আসলে কী বা হতো,উনি কিন্তু বেশ মজার মানুষ,!" হালকা বিরক্তি নিয়ে লিমা বললো। রনির মামা মি:নজরুল চৌধুরী আমেরিকার সবচেয়ে বড় হেলিকপ্টার নির্মাণ কোম্পানির একজন সুদক্ষ প্রকৌশলী। রনির জন্মদিন উপলক্ষে তিনি তাদের বানানো 'এম সি ড্রিম 'নামের হেলিকপ্টারটি নিয়ে আসেন ওকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু রনি আর তার বন্ধু সেলিম শরবতের সাথে ঘুমের ঔষধ মিসিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে ওটিতে চড়ে বসে।তাদের কর্মকান্ড লিমার খারাপ লাগলেও শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে ঘুরতে যাওয়ার মায়া সে ত্যাগ করতে পারে নি। রনির মতে তারা এখন মুক্ত পাখি যারা কিনা কলেজ, বাড়ি নামক খাঁচাগুলিতে বন্দি ছিল। লিমার কথায় কান না দিয়ে রনি তার দুরবীনটা নিয়ে দেখতে থাকলো।বেশ গতিতে হেলিকপ্টারটি চলছে। দুটি পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় ও ঝর্ণা দেখে অভিভূত হলো। রনি যখন খুব ছোটো তখন ওর বাবা ওদেরকে আমেরিকা নিয়ে আসেন।বাবা মার একমাত্র সন্তান হওয়ায় মোটরসাইকেল থেকে গাড়ি সবই সে পেয়েছে। শহরের বড়বড় দালান আর যান্ত্রিক কোলাহলে এতগুলো বছর কাটিয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখে ঐগুলো খুবই তুচ্ছ মনে হচ্ছে ওর। গাছে গাছে অজস্র রকমের পাখি থেকে শুরু করে বানর, খরগোশ ও ওর চোখ এড়াতে পারলো না। একটা সংকেত শব্দ শুনে কম্পিউটারে মুখ ডোবালো সেলিম। ।ওর দিকে একটু এগিয়ে এসে রনি বললো "কী হয়েছে সেলিম,তোকে অমন দেখাচ্ছে কেনো?" শুকনো গলায় সেলিম বললো,"বুঝতে পারছি না, জি পি এস কাজ করছে না হঠাৎ করে, এইদিকে মনে হয় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নেই, কোনো ম্যাপ এও কাজ করছে না। ",তাহলে এবার কী করবি? ,সন্ধ্যা হয়ে আসছে আমরা কী হারিয়ে গেলাম তাহলে!" বলেই বাচ্চাদের মতো কান্না শুরু করলো লিমা। প্রচুর ভীত মেয়ে সে।খুব সামান্য বিষয়েই অতিরিক্ত ঘাবড়ে যায়। এইতো কদিন আগে রাস্তা দিয়ে সন্ধ্যার দিকে সে যখন রনির বাড়িতে আসছিলো হঠাৎ একটা কুকুর দেখে লাফিয়ে উঠে চেঁচাতে শুরু করে ও।ওর চেচামেচিতে কুকুরটিই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। বিচলিত না হয়ে থেকেই রনি বলে, "আচ্ছা ঐ তো একটা দ্বীপ দেখা যাচ্ছে। ঐখানেই নামি। আর হেলিকপ্টার চালাতে পারে এমন কাউকে পেলে আর সমস্যা হবে না। দ্বীপের বাম দিকের ফাকা বালুচরে ওরা হেলিকপ্টারটি নামালো। "তোর কী মনে হয় এই দ্বীপে আদৌ কোনো মানুষ আছে",চারপাশে ঘুরে দেখতে দেখতে সেলিম বলে ওঠে। "আরে আছে না থাকলে আমাদেরকে এখানেই উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকতে হবে। বহুবছর পর আমাদের উদ্ধার করা হলে দ্বীপের আবিষ্কারক হিসেবে তোর আমার আর লিমার নাম থাকবে ইতিহাসের পাতায়,"বলেই হো হো করে হেসে উঠলো রনি। "তোর এই ফালতু মশকরা রাখ তো,আর লিমা কোথায় গেল," ওরা দেখলো লিমা তখনও হেলিকপ্টারেই বসে আছে। রনি জিজ্ঞেস করলো," কিরে লিমা, তুই নামবি না?" "নেমে কী করবো,এখানেই ভালো আছি। তাছাড়া আশেপাশে ভয়ংকর জন্তুও থাকতে পারে" "আরে , চারপাশটা একটু ঘুরে দেখবি চল। তাছাড়া কোনো খাবারও তো সাথে করে আনা হয় নি,রাতে কী না খেয়ে থাকবো, চল তো সেলিম ও না যায় থাকুক।" লিমাকে রেখেই ওরা হাটতে শুরু করে। আকাশে থালার মতো চাঁদ উঠেছে, তার আলোতে আশেপাশের সবকিছু পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। একটু সামনে এগিয়ে ওরা বেশকিছু নারকেল গাছ দেখতে পেলো।ওদের চোখ চকচক করে উঠলো। "নারকেল গাছ তো পেলাম কিন্তু পাড়বো কীভাবে?"চিন্তিত হয়ে সেলিম বললো। "আরে ওই গাছটা দেখ, একদম হেলে পড়েছে, ওটাতে সহজেই ওঠা যাবে।" বলতে বলতেই রনি গাছটিতে উঠে পড়লো। বেশ কিছু ডাব পেড়ে ফেললো রনি, সাথে নিয়ে আসা ছোট্ট পকেট ছুরি দিয়ে অনেক কষ্টে ফুটো করে কয়েকটা খেলো ওরা আর বোতলে লিমার জন্য নিয়ে দীপের ভেতরের দিকে হাটতে শুরু করলো। "নাহ একা একা আর বসে থাকতে ভালো লাগছে না",বিরক্তি নিয়ে লিমা আনমনে বললো।এতোক্ষণ সে মোবাইলে গেম খেলছিল কিন্তু চার্জ একদম শেষ করা ঠিক হবে না ভেবে রেখে দিয়েছে।চুপচাপ বসে থাকতেও তার ভালো লাগছে না।বড় বড় মশা এসে বিভিন্নরকম গান শোনাচ্ছে তাকে।বিরক্তির শেষ সীমানায় পৌছে লিমা হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসলো।"ওয়াও কী সুন্দর জোৎনা,সমুদ্রের ঢেউগুলোও কেমন জলজল করছে" বলেই একটু এগিয়ে গেল সে। "আআ!"চিৎকার করে লিমা দৌড়ে এসে,হাঁপাতে হাঁপাতে হেলিকপ্টারের ভেতরে ঢুকে একবোতল পানি বের করে খাওয়া শুরু করলো। একটা কাকড়া বালির ভেতর থেকে উঠতে দেখে তার এই অবস্থা। "তোর কী মনে হয় আমরা কীছু শিকার করতে পারবো?। কখোনো তো ছীপ দিয়ে একটা মাছও ধরি নি" হতাশ গলাশ সেলিম বললো।বেশ কিছুক্ষণ ধরে ওরা হেটেই যাচ্ছে কিন্তু পোকামাকড় ছাড়া তেমন কিছুই ওদের চোখে পড়ছে না। " তুই সবকিছুতে এত অধৈর্য কেন?,খুঁজতে হবে। সামনে মনে হচ্ছে একটা ঝর্ণা আছে, পানি পড়ার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।" একটু এগিয়ে ওরা ছোটোখাটো একটা ঝর্ণা পেলো।মোবাইলের আলো পানিতে ফেলতেই ওরা বেশ বড় বড় কয়েকটা মাছ দেখতে পেলো। "শোন দুটো লাঠির মাথা চিকন করে কেটে বল্লম এর মতো বানাতে হবে। আার ওটায় দু একটি মাছ গেঁথে ফেলতে পারলেই রাতের খাবার হয়ে যাবে"। বলতে বলতেই পাশের বাঁশঝাড়ের দিকে এগিয়ে গেলো রনি। দুটো লাঠি ঠিকমতো কেটে পানিতে নেমে পড়লো ওরা। বেশ আনন্দ নিয়ে ওরা মাছ ধরার চেষ্টা করতে থাকলো। "পেয়েছি" বলেই চিৎকার দিয়ে উঠলো রনি। বেশ বড়ো একটা মাছ সে পেয়েছে। সেলিম খুব চেষ্টা করছে বটে কিন্তুু এখনোও ধরতে পারেনি। এদিকে আরেকটি মাছ পেয়ে গেলো রনি।এবারেরটা আগেরটার চেয়েও বড়।, "একটা হলেও ধরবো" বলে একটু সামনে এগিয়ে গেলো সেলিম। রনি উঠে এসে বললো," এই দুটোতেই বেশ হয়ে যাবে তুই চলে আয়"।বলতে না বলতেই সেলিম চিৎকার করে উঠলো। একটা বিরাট অজগর ওর পা পেচিয়ে ধরেছে। ও যতই ছাড়াতে চেষ্টা করছে ততই চেপে ধরছে, রনি ছুটে ওখানে যেতে না যেতেই দেখলো সাপটি ওর গা পেচিয়ে ধরেছে। রনি টেনে কোনোভাবেই সাপটিকে ছাড়াতে পারলো না।সেলিমের সারা শরীর পেচিয়ে ফেলেছে সাপটি। রনির পকেট ছুরিটা মাছ ধরার সময় পানির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। সেটা থাকলে সাপটাকে কুপিয়ে মেরে ফেলা যেতো।রনির মাথায় কাজ করছে না,তাড়াহুড়ায় লাঠিটাও ফেলে এসেছে।হঠাৎ ওর মনে পড়ল ওর জন্মদিন উপলক্ষে লিমা একটা নেইলকাটার দিয়েছিল যেটায় কেইচি, ছুরি, অনেক কিছুই আছে,সামনের পকেটেই ও ওটা রেখেছিলো।সাপটা চাপ দিচ্ছে যার ফলে সেলিমের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। রনি একমুহূর্ত দেরী না করে নেইলকাটারের ছুরি বের করে সাপটির ঘাড়ে ঢুকিয়ে চওড়াভাবে টান দিতেই সাপটির মাথা কেটে গেলো।সেলিমকে ঘাড়ে ভর করে নিয়ে এসে একটি গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিল।বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে ও, বেশকিছুক্ষণ বিশ্রাম করে মাছদুটি আর ডাবের পানিভর্তি বোতল নিয়ে ওদের হেলিকপ্টারের দিকে যাত্রা শুরু করলো ওরা। "সাপটাকে নিয়ে আসলেই ভালো হতো,কাবাব বানিয়ে খাওয়া যেত!" মাথা চুলকাতে চুলকাতে রনি বললো। সেলিম রেগে গিয়ে "তুই আবার মজা শুরু করলি" "মজার কি আছে, 'সারভাইবাল সো 'গুলাতে দেখিস নি! শুনেছি মুরগীর মাংশের মতো লাগে খেতে।" "রাখ তো, এখন চল তাড়াতাড়ি, ঐ দিকে লিমা অপেক্ষা করছে!" "দ্যাখ ও টিকটিকি দেখে হয়তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।" হাসতে হাসতে ওরা এগিয়ে যেতে থাকে।কাছাকাছি চলে এসে কিছু শুকনা কাঠ সংগ্রহ করে, বড় বড় মাছ দুটি দিয়ে বেশ জমিয়ে ভোজন পর্ব সারবে ওরা এমন সব কথা বলতে বলতে হেলিকপ্টার এর কাছে ওরা দুজন পৌছালো। "লিমা!বেরিয়ে দেখ কী নিয়ে এসেছি আমরা",চেঁচিয়ে ডাকলো সেলিম। ঘুমিয়ে পড়লো নেকি বলতে বলতে ভেতরে গিয়ে হতভম্ব হয়ে রনি বললো "লিমা ভেতরে নেই"। শুনেই ধপাস করে মাটিতে বসে পড়লো সেলিম। "আরে চিন্তা করে লাভ কী, হতে পারে আসে পাশে একটু হাটাহাটি করতে গিয়েছে" বলেই চিৎকার করে 'লিমা,লিমা! বলে ডাকা শুরু করলো রনি। সেলিমও ওর সাথে যোগ দিল।কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে খুঁজতে শুরু করলো ওরা,এই প্রথম রনিকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে, চারপাশে হালকা শীত পড়লেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝমেছে রনির। সেলিম চিৎকার করেই যাচ্ছে। খুঁজতে খুঁজতে জঙ্গলের দিকে যেতেই লিমার কানের একটি দুল পেলো ওরা ,,,,,,,,,,,,,,, #চলবে...... #পর্ব = ১


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অজানা দ্বীপ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now