বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চ্যারিটি টিউশানি খুব একটা করা হয় নাই। সময়ের অভাব আর টাকা পয়সার লোভ সামলাইতে না পারাটাই মূল কারণ। মাস তিনেক আগে এক বন্ধু এসে বলে এক লোক টিচার খুজতেছে। সাড়ে ৩ হাজার দিবে। ক্লাস ৮। এই বেতনে সাধারণত পড়াই না। কী ভেবে যেন রাজি হয়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম এক রূমের বাসা। ছেলেকে পড়াইতে গেলে ছেলের মা- বোনকে পাশের বাসায় বেড়াইতে যেতে হয়। নাস্তাটা আমার জন্যে বরাদ্দ বাসার সবচেয়ে বড় চেয়ারের পাশে রেখে তাঁরা দুইজন বেরিয়ে যান। আমি চোখে টিনের চশমা লাগিয়ে পড়াই। সামান্য দুই চারটা নতুন জিনিস শিখাই হয়ত। ছেলে এত মুগ্ধ হয় যে দেখলে আমার নিজের হিংসা হয়- এত আগ্রহ নিয়ে তো কোনদিন কিছু শিখতে পারি নাই।এর মাঝে একদিন টিনের চলের ঘরে টিউবলাইট টা নষ্ট ছিল বলে পড়াতে পারি নাই। প্রফেশনালিজমের টিনের চশমা আস্তে আস্তে ঢিলা হয় মনে হয় আমার। মাসের শেষে বেতনের কথাটা মুখ ফুটে বলি না। ভাবি হয়ত আমাকে মহান ভাববে। মাসে শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় বেতন আলাদা করে কেনা খামে ভরে চলে আসে। নাসতার টেবিলটা কোনদিন ফাকা পাই নাই। না কোনদিন পাইছি একটা ফোন যেইখানে বলে- তোমার না সপ্তাহে তিনদিন পড়ানর কথা? না পাইছি একটু উষ্মা- অন্যগুলা দেখাও না কেন একটু? দুইদিন চেহারা দেখাতে গেলেই মহাখুশী। আর টিচার কে কীভাবে সম্মান দিতে হয় বলতে বলতে বাবা মা ছেলের সামনে ডেইলি দুইবার করে অজ্ঞান হন অবস্থা।আরেকমাস যাবার পরে একদিন ছেলের বাবা কাচুমাচু করে বলেন- বাপজান এই মাসে দোকানের বিক্রি খুব ভালো না। বেতন দুইদিন পরে দেই? আমি মাথাটা ঝাকাই। একটু হেসে আশ্বস্ত করি।
এরপরে নিজের প্রজেক্ট সাবমিশান এর শেষদিক চলে আসায় একদিন না বলেই যাওয়া বন্ধ করে দেই ।সিলেবাস শেষ। পরীক্ষা চলে আসছিল ছেলের ও। নিজের ও আকাশ সমান ব্যাস্ততা। ) আস্তে আস্তে আমার মোটা মাথা থেকে ব্যাপারটা বের হয়ে যায়।
।
আজকে সেই বাসায় ফোন করে ডেকে নিয়ে ছেলের বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না। ছেলে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। বাবার মতে সব কৃতিত্ব আমার। বেতন সময়ে না দিতে পারায় তার কান্না আরো লম্বা হয়। সাথে এক প্যাকেট মিষ্টি। সেটাও আমার কাছে বারে বারে শুনে আমি কোন মিষ্টি পছন্দ করি। আমি ভাবছিলাম নিজের মাহাত্ম্য দেখাইতে বেতনের খামটা ভুলে যাব। কিন্তু খামটা আমার হাতে এত শক্তভাবে কেউ কোনদিন ধরায় দেয় নাই।
পরে জানছি- বাসা ভাড়াটাও আমার বেতনের চাইতে কমই উনাদের।
ছেলের বাবা ফ্লাক্স নিয়ে ঘুরে ঘুরে কৃষি মার্কেট এ চা বিক্রি করেন।
।
বলতে ভাল লাগে যে আমি এর আগে অনেক অবস্থা সম্পন্ন লোকজনের ছেলে মেয়েকে পড়াইছি। মধ্যবিত্ত পরিবার এর ড্রয়িং রূম থেকে উচ্চবিত্তের কন্ডোনিয়াম এপার্টমেন্ট এ পা পড়ছে। টাকা নিয়া বিদ্যা ভান্ডারে যা আছে ঝেড়ে দিতে চেষ্টা করছি।যা শিখছি তা হইল I am not good with adjustments আর দেশে প্রকৃত ভদ্রলোকের সংখ্যা বাড়াবাড়ি রকমের কম।
বিধাতার কাছে যদি দুইদিন অভিযোগ করি- কিছুই তো দিলানা জীবনে। তাইলে আবার দুইদিন বলতে বাধ্য হই- যেগুলা দিছ তাও তো কম পড়ে নাই কিছু। আজকের পাওনা ছিল কৃষি মার্কেট এর চা ওয়ালা এক বাবার শিক্ষা- ভদ্রলোক হতে সব সময় অট্টালিকায় বাস করতে হয় না। উচু মনের মানুষ হইতে সব সময় স্কুলে পড়তে হয় না। আর বিনয় এমন এক গুন যা জীবন থেকেই শেখা লাগে।
মিষ্টির প্যাকেটটা আনার সময় আধাকেজির চেয়ে অনেক অনেক ভারী লাগছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now