বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অজানায় ভরসা রেহানা বেগমের"

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mysterious Nurnobi (০ পয়েন্ট)



X গল্পঃ অজানায় ভরসা রেহানা বেগমের লেখকঃ Mysterious Nurnobi '' '' গল্পের নামটা হয়তো গল্পের সাথে মিলে নাই। গল্পটা পড়লে আপনার পক্ষ থেকে একটা নাম দিবেন প্লিজ। গল্পটা একটু কষ্টেরও বটে। স্মৃতি আর সাজিদ বাগানে বসে বসে খেলা করছে। স্মৃতি বয়সে সাজিদের চেয়ে একটু বড়। বেশি হলে দু বছরের বড় হবে। এর চেয়ে বেশি আর হবে না। সাজিদ তাই স্মৃতিকে আপু বলে ডাকে। দুজনেই ছোট। স্মৃতির বয়স হবে ছয় বা সাত আর সাজিদের বয়স হবে পাঁচ কিংবা ছয় এরকম। স্মৃতি আজ সাজিদকে একটা সুন্দর কাঠের ঘোড়া উপহার দিয়েছ। সাজিদ তো ভিষণ খুশি। স্মৃতি ছোট একটা মেয়ে সে কোত্থেকে এরকম গিফট উপহার দেয় সাজিদকে তা নিয়ে সাজিদের কোনো মাথাব্যথা নেই। খাকবেই বা কেন সে অতসব বোঝেও না। আর স্মৃতি প্রায়ই এরকম কিছু গিফট সাজিদকে এনে দেয়। সাজিদ আজ গিফট পেয়ে বেজায় খুশি। সে আপুকে বলে তার জন্য যেন একটা সুন্দর থেকে এবং বড় থেকে একটা গাড়ি আনতে। ওরা কথা বলছে এমন সময় ওদের মা রেহানা বেগম আসেন। ওনি সাজিদকে খুঁজতে খুঁজতে বাগানে এসে খুঁজে পান। সাজিদকে একটু বকাঝকা করেন, বলেন সবসময় বাগানে গিয়ে কেন বসে থাকে সে? সাজিদ বলল, আম্মু আমি আপির সাথে......................................! রেহানা বেগম বললেন, আবার শুরু করছো তুমি? একদম চুপ! আর একটা কথাও বলবে না। সবসময় খালি এক কথা আর এক অজুহাত বাঁচার জন্য। রেহানা বেগম একটু কান্নাময়ী কন্ঠে বললেন কথাগুলো। রেহানা বেগম একজন স্কুল শিক্ষিকা আর ওনার স্বামী থাকেন ঢাকায়। তিনি মাঝে মাঝেমধ্যে তিনি কুমিল্লায় তাদের বাংলোতে। ওদের বিশাল বড় বাংলো, চারদিকেই অসাধারণ এক পরিবেশ বিরাজ করে সবসময়। গাছগাছালিতে ঘেরা আর রয়েছে অসাধারণ একটি বাগান। রেহানা বেগম বাসায় একজন মহিলা রেখেছেন যেন তিনি স্কুলে গেলে তার ছেলেকে দেখে রাখে। শুধু এইজন্যই তিনি মহিলাটিকে রেখেছেন। বাসার কাজকর্ম সব তিনি নিজেই করেন। রেহানা বেগম সাজিদকে বাগানে যেতে দেন না। তবে তিনি না থাকলে সাজিদ বাগানে যেতে কোনো বাঁধা পায় না। তিনি না থাকা অবস্থায় যে মহিলাটি সাজিদের দেখাশোনা করেন তিনি বোঝেন সাজিদ বাগানে যেতে খুব ভালোবাসে। তাই তিনি বাগানে যেতে সাজিদকে বাঁধা দেন না। '' '' রাতে সাজিদকে খাবার খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন রেহানা বেগম। হঠাৎ সাজিদ দেখে তার আপু তাকে ডাকছে। সাজিদের আর তর সইল না। সে দৌড়ে তার কাছে যেতে গেলেই হোটচ খেয়ে পড়ে গেল। এমন সময় সাজিদ দেখে তার চারপাশে অন্ধকার। সাজিদ বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখেছে। সাজিদের মন আনচান করতে থাকে তার আপুকে দেখার জন্য। সে ওর আম্মুকে ফাঁকি দিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ে। উঠেই দৌড় দেয় বাগানের দিকে। সাজিদ অনেকদিন ধরেই ওর আপুকে শুধু বাগানেই দেখতে পায়। সাজিদ বুঝে পায় না কেন যে তার আপুটা ঘরে কখনো আসে না অনেকদিন ধরে। এই কারণে আপুর ওপর খুব রাগ হয় ওর। বাগানে লাইটের আলোতে কাউকেই দেখতে পাচ্ছে না সাজিদ। এদিকে রেহানা বেগম বিছানায় সাজিদকে না দেখে দৌড়ে পুরো ঘর খুজে শেষে বাইরে এসে বাগানে দেখতে পায়। সাজিদকে ঘরে টেনে নিয়ে দু চারটা থাপ্পর লাগিয়ে দেয়। সাজিদ কান্না করতে থাকে কিন্তু কিছুই বলে না। যখন তখন সাজিদকে বাগানের দিকে যেতে দেখে রেহানা বেগমের কেমন যেন একটু একটু ভয় করে। সে সিদ্ধান্ত নেয় সাজিদকে কোনো হুজুরকে দেখাবে, সাজিদের মধ্যে আবার কোনো খারাপ কিছুর ব্যাপার আছে কিনা! '' '' '' সাজিদের বাবাকে ফোন করে রেহানা বেগম। সাজিদের বাবা বাড়িতে আসেন এবং আসার সময় একজন হুজুরকে নিয়ে আসেন। হুজুরকে রেহানা বেগম বলেন, সাজিদ কেন জানি কারণে অকারণে শুধু বাগানের দিকেই যায়। সেদিনতো রাত প্রায় আড়াইটার দিকেই ঘুম থেকে উঠে সোজা বাগানে দৌড় দিয়েছিল। আর তা দেখেই আমার বেশ ভয় হয়েছিল। হুজুর বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। শেষে বললেন, না আমি সেইরকম কোনো খারাপ আভাসের কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তবে বাগানে যাওয়ার এমনিতে সাধারণ কোনো কারণও থাকতে পারে যা আপনাদেরই জানা থাকার কথা। সাজিদের মা রেহানা বেগম কেঁদে ফেলেন। সাজিদের বাবা বলে উঠলেন, আসলে ও থাকতে ওরা প্রতিদিনই বাগানে বসে খেলা করতো। হুজুর বললেন কে থাকতে? সাজিদের বাবা বললেন, আমাদের মেয়ে স্মৃতি। হুজুর বললেন, কেন স্মৃতি কোথায়? সাজিদের বাবা আধা কাঁদো গলায় বললেন আজ ছয় মাস হয়ে গেছে আমাদেরই অবহেলাতে আমাদের মেয়েটা সামনের দিকে ওই পুকুরটাতে পড়ে মারা গেছে। কথা বলতেই সাজিদের বাবা কেঁদে ফেললেন। হুজুর বললেন, ওহ খুব খারাপ লাগলো। ছেলেটা একা হয়ে পড়েছে আর তাই হয়তো আগের সেই দিনগুলো এখনো ভুলতে পারে নি। আর বাগানে চলে যায় পুরনো অভ্যাসের কারণে। '' '' হুজুরের আশ্বাসে রেহানা বেগম একটু শান্তি পান। তবুও মনের ভেতর একটা অন্যরকম অনুভূতি থেকে গেল।। '' '' '' এদিকে সাজিদ কিছুদিন ধরে আপুকে দেখতে না পেয়ে খুব মন খারাপ করে বসে থাকে। হঠাৎ এক সন্ধ্যায় সাজিদ বারান্দায় বসে আছে। সে এখন মায়ের বকুনিতে আর বাগানে যায় না। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় সে দেখে বাগানের এক কোনো তার আপু দাঁড়িয়ে আছে। ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু ওকে ডাকছে না। অন্য সময় হলে ডাক দিত। আপুকে দেখে সাজিদ তো ভীষণ খুশি। আপু!!!!!!!!!! বলে, এক দৌড়ে চলে যায় বাগানে। গিয়েই আপুর কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে। দেখে আপুর চোখে জল। তা দেখে সাজিদের খুব কষ্ট হয়। সে আপুর চোখ মুছে দিতে যায় অমনি দেখে সামনে কেউ নেই। '' '' এদিকে এতক্ষণ দাড়িয়ে রেহানা বেগম ঘটনাটা দেখে গেলেন। তিনি দেখলেন সাজিদ আপু বলে বাগানের দিকে দৌড়ে গেল। কার সাথে কথাও বলছে কিন্তু রেহানা বেগম কাউকে দেখলেন না। ঘটনাটা দেখে রেহানা বেগমের একটা কথা মাথায় আসছে। এতদিন সাজিদ বাইরে বাগান থেকে ফিরলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন কোথায় গিয়েছিল সে! সাজিদ প্রত্যেকবার বলতো আপু সাথে খেলা করছিলাম। রেহানা বেগম ছেলের কথার কোনো পাত্তা দিতেন না। কিন্তু আজ এরকম কিছু দেখে তিনি ঠাই দাড়িয়ে আছেন যেন কোনো পাথরের একটা মুর্তি দাড়িয়ে আছে। এদিকে সাজিদ কাঁদতেে কাঁদতে ফিরে এলো। রেহানা বেগম সাজিদকে জিজ্ঞেস করলেন কার সাথে কথা বলছিলে? সাজিদ উত্তর দিল, "আম্মু আপু কাদতে কাদতে চলে গেল। আম্মু আপু আমার কাছে আর আসবে না।" '' '' রেহানা বেগম ছেলের উত্তর শুনে হতবাক হয়ে গেলেন। কিন্তু কেন জানি ভয় পাচ্ছেন না। অজানা একটা ভরসাতে তিনি ভয় পাচ্ছেন না। কি তার ভরসা তিনি সেটা জানেন না। তবে হয়তো ছোট্ট সাজিদ জানে। কিন্তু তার কাছে সেটা রহস্য। '' '' '' (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...