বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঐ♥যে♥রাতে-৯

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকলকে.... ___________ #ঐ♥যে♥রাতে #ইমরান খান #পর্ব_9 . -"এই তোমার উঠতে হবে না। আমি ওয়াশরুম থেকে পানি নিয়ে আসছি।" নিঝুম চোখ বুজে শুয়ে রইল। মাথা টা ঝিনঝিন করছ । হাত-পা কাঁপছে। খুব অশান্তি লাগছে। প্রিতম ওয়াশরুম থেকে পানি নিয়ে আসল। নিঝুম প্রিতমের উপস্থিতি বুঝতে পারল। চোখ না মেলেই বলল, -" ব্রাশ কোথায়? আমি দাত ব্রাশ না করে খাবো কিভাবে? " জ্বরে বিছানা থেকে উঠতে পারে না আবার উনি দাত ব্রাশ করে। -" তোমার ব্যাগে ব্রাশ আছে?" -" আমার ব্যাগে ব্রাশ থাকতে হবে কেন? তোমার বাসায় কি ব্রাশ নেই? বাসায় ব্রাশ থাকুক বা না থাকুক তোমার ব্রাশ তো আছে । ওটা তে ই দুজনের হবে।" এ মেয়ে মাথা তো পুরাই গেছে । জ্বর কমার পর ও যদি এমন আবল-তাবল বলে তাহলে পাগলা গারদে রেখে আসব। -" ব্রাশ করা লাগবে না। মুখ ধুয়ে নাস্তা খাও।" -" বললাম না ব্রাশ না করে খাবো না। তোমার ব্রাশ দেও। তুমি এত নোংরা কেন? ব্রাশ না করে খাওয়া যায় বুঝি।" -" নিজে অন্যের ব্রাশ ইউস করে চাচ্ছে । আর আমায় নোংরা বলছে। আরও কত কি যে শুনতে হবে ।" আবার ঠোট বাঁকিয়ে কেঁদে দিল নিঝুম, -" তুমি আজ কাল এমন হয়ে গেছ কেন? তুমিই তো বলছে বিয়ের পর দুজন এক ব্রাশ ইউস করব।" প্রিতম অস্পষ্ট সুরে বলল, -"ওয়াক! থু! কি বলে এই মেয়ে টা! আরে বইন আমি তোর বয়ফ্রেন্ড না।একটু বুঝার চেষ্টা কর।" -" কিছু বললে?" -" না কিছু বলি নি। দেও ব্রাশ দেও । ব্রাশ না দিলে চিল্লাবো কিন্তু ।" প্রিতম ওর মুখ চেপে ধরল, -" প্লীজ, চিৎকার কর না। দিচ্ছি ব্রাশ।" মেয়ে টা ভালো ই ব্লাক-মেইল শুরু করছে। ধুর! রাস্তা থেকে নিয়ে আসাই উচিত হয় নি। -" এই ব্রাশ।" -" শুধু ব্রাশ? টুথপেস্ট কোথায়?" -ও সরি! ওয়েট আনছি! প্রিতম রুমে গিয়ে আবার টুথপেস্ট নিয়ে আসল। -" এবার হয়েছে। ব্রাশ করে খেয়ে নেও।" -" দেখছ তো আমি উঠতে পারছি না। হাত-পা কাঁপছে। ব্রাশ কিভাবে করব?" -" আরে আজব তো! আপনি ব্রাশ কিভাবে করেন আমি জানি নাকি।" -" তুমি আমায় আপনি করে বলছো কেন?" প্রিতম ঠোটের কোনে একটু হাসি টেনে বলল, -" একটু ভালোবেসে বলছি আর কি! এটাও বুঝো না পাগলী?" -" বুঝি,বুঝি সব বুঝি। আমায় যে এখন আর ভালোবাস না তাও বুঝি ।" -" অনেক ভালোবাসি তোমায় ,কে বলল ভালোবাসি না?" -" নিজের চোখেই তো দেখতে পাচ্ছি ভালোবাসো না। আমি কত অসুস্থ তাও আমায় একা একা ব্রাশ করতে বলছো। তুমিই বলো অসুস্থ মানুষ কি কোন কাজ করতে পারে? " -" সেটাই তো আমার মাথায় ছিল না। আসো ব্রাশ করিয়ে দেই।" এমন মেয়েলি জামেলা কার সহ্য হয়। প্রিতম নিঝুমের হাত ধরে ব্রাশ করিয়ে দিলো। -" এই নেও পানি কুলি কর।" -" তুমি কুলি কর।" -" ব্রাশ করছো তুমি আর কুলি করব আমি? " -" দুজন কে তো কখনও আলাদা করে দেখি নি।" -" ও তাই নাকি?" -" হ্যাঁ তাই।" -" নিঝুম আমার অফিসে যেতে হবে দ্রুত করো তো।" -" এই তুমি কথায় কথায় চোখ রাঙাও কেন? আমি ভয় পাই না বুঝি।" এবার আর প্রিতম হাসি আটকে রাখতে পারল না। ফিক করে হেসে দিল। -" নিঝুম তুমি কি খেতে পিছন্দ কর?" -" তুমি জানো না বুঝি আমি কি খেতে পছন্দ করি? " -" আরে পাগলি জানি তো। কিন্তু তোমার মুখ থেকে শুনতে ভালো লাগে।" -" আইসক্রীম,মিষ্টি,ফুসকা।" -" আজকে অফিস থেকে আসার সময় তোমার জন্য সব নিয়ে আসব। যদি তুমি এখন কুলি কর ।" নিঝুম তাড়াতাড়ি কুলি করে নিলো। প্রিতম মনে মনে ভাবল যাক বুদ্ধি টা তাহলে কাজে দিয়েছে। -" এবার খেয়ে নেও। " -" খাবো তো। তুমি খেয়েছ? -" না একসাথে খাব।" -" তুমি আমায় খাইয়ে দেও। এটা নিয়ে কোন জামেলা করবা না। দেখতেই তো পাচ্ছো আমার হাত-পা কাঁপছে।" -" আচ্ছা হা কর।" প্রিতম নিঝুম কে খুব যত্ন করে খাইয়ে দিচ্ছে। -" সবই তো আমায় খাওয়াচ্ছো। তুমি তো মোটেও খাচ্ছো না। দেও আমি তোমায় খাইয়ে দেই। নিঝুম কাঁপা কাঁপা হাতে প্রিতম মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। অর্ধেক মুখে আর অর্ধেক প্রিতমের শার্টে লাগছে। -"নতুন শার্ট টাই নষ্ট করে দিলে।" -" সামান্য একটা শার্ট ই তো। এটার জন্য এভাবে বলতে হয়?" -" কই আমি তো কিছু বলি নি। পানি খেয়ে নেও।" প্রিতম গ্লাসে করে ওর মুখে পানি তুলে দিচ্ছে। -" পানি এত বিশ্রী স্বাদ কেন?" -" তোমার গায়ে জ্বর তাই এমন লাগছে। এখন জ্বরের ওষুধ খেয়ে নেও সব ঠিক হয়ে যাবে।" -" এই তুমি জানো না আমি ট্যাবলেট খেতে পারি না। আমার গলায় আটকায়। আমি তো লিকুয়েড ওষুধ খাই।" -" লিকুয়েড ওষুধ নেই। তুমি ট্যাবলেটই খাও কষ্ট করে।" -" উফ!এমন করছো কেন? জানো না ট্যাবলেট খেতে পারি না।" -" বাসায় তো জ্বরের লিকুয়েড ওষুধ নেই। " -" না থাকলে আর কি! তুমি ট্যাবলেট একদম গুড়ো করে । পানি মিলিয়ে দেও তাহলে তো লিকুয়েড হয়ে যাবে।" -" এত বুদ্ধি তুমি কোথায় রাখো?" -" এত জেনে কাজ নেই।" -" ও আচ্ছা। এই ওষুধ খাও।" -" হুম আমি হা কি,তুমি মুখে দিয়ে দেও।" ওর কথা না শুনে উপায় নেই। প্রিতম ও তাই করল। -" নিঝুম এখন তুমি এখানে শুয়ে থাকো। কোন প্রকার চিৎকার করবা না। আমি রেডি হয়ে অফিসে যাব।" নিঝুম মাথা নিঁচু করে অভিমানের সুরে বলল, -"আচ্ছা । আমি অসুস্থ তাও তোমার অফিসে যেতে হবে ।আমার থেকে অফিসে যাওয়া জরুরী।" -" রাগ করো না । অফিসে জরুরী আজ আছে নয়তো যেতাম না।" নিঝুম গাল ফুলিয়ে বলল, -" যাও,যাও। "প্রিতম তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নিল। রুমের দরজায় লক করে রেখে গেল। আম্মু যদি কোন কারনে রুমে আসে। প্রিতমের মা প্রিতম কে উদ্দেশ্য করে বলল, -"এতক্ষন লাগে খেতে আর রেডি হতে?" -" আরে আম্মু অফিসের ফাইল রেডি করছি তো।" প্রিতমের বাবা ওর মাকে বলল, -" তুমিও বা কম কিসে? কোথায়ও যাওয়ার জন্য রেডি হতে বললে দুই ঘন্টা লাগে।" -" তোমরা বাপ-ছেলে সকাল থেকে আমার পিছে লেগে আছো কেন বল তো?" -" সত্যি কথা বললেই..." -" হয়েছে রাখো তোমার সত্যি কথা । যাও অফিস যাও।" প্রিতম অফিসের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলো। বাসার গেট পর্যন্ত গিয়ে প্রিতম থেমে গেল। প্রিতমের বাবা ওকে বলল, -" কিরে কি হয়েছে থামলি কেন?" -" বাবা তুমি গাড়ি তে গিয়ে বসো আমি আসতেছি।" প্রিতম আবার রুমে গেল। মেয়ে টা যদি জ্বরের ঘোরে চিল্লাপাল্লা করে ? সামান্য একটু ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে অফিস থেকে আসার আগে পর্যন্ত সুন্দর মত ঘুমাবে। আমিও টেনশম মুক্ত থাকব। তাছাড়া মেয়ে টা সারা রাত ঘুমায় নি। হয়তো ডিপ্রেসনের কারনে ঘুমাতে পারছে না। -" আপনি অফিসে যান নি?" -" এই তো যাব এখন। নিঝুম তুমি এই ওষুধ টা খেয়ে নেও তাহলে তোমার মাথা ব্যাথা কমে যাবে।" -" ওষুধ তো একটু আগে খেয়েছি।" -" আরে ওটা তো জ্বরের ওষুধ। এটা মাথা ব্যাথার ওষুধ এটা খেলে সুন্দর ঘুম হবে।" -" আচ্ছা । তাহলে ওষুধ টা গুড়ো করে দেন।" প্রিতম দ্রুত ওষুধ গুড়ো করে পানি মিলিয়ে নিলো। ওকে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্য বের হলো। -" কিরে আবার বাসায় আসলি কেন?" -"আম্মু অফিসের একটা ফাইল রুমে ভুলে রেখে গেছি,ওটা নিতে আসলাম।" -" পেয়েছিস?" -" হুম পেয়েছি?" -" কোথায় ফাইল? তোর হাতে তো কোন ফাইল নেই?" প্রিতম এবার থতমত খেয়ে গেল। -" আসলে আম্মু ফাইল আমি কালকে অফিসে রেখে আসছি যে সেটা মনে হয়। ভাবছি রুমে আছে এখনও।" -" কি উল্টা-পাল্টা কি বকছিস? একবার বলছিস রুমে আর একবার বলছিস অফিসে ।" -" আম্মু এত কথা প্যাঁচাও কেন বলো তো। আব্বু আমার জন্য গাড়িতে ওয়েট করছে আমি গেলাম ।" প্রিতম আর কিছু না বলে হাঁটা শুরু করল। প্রিতমের বাবা ওকে উদ্দেশ্য করে বলল, -" এতক্ষন লাগে আসতে? তাড়াতাড়ি আয়।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঐ♥যে♥রাতে-৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now