বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ঐ♥যে♥রাতে
#ইমরান খান
#পর্ব_5
.
-" কার কাছে ফোন দিচ্ছেন এত? ফোন টা সুইচ অফ দেখাচ্ছে তাও এত ট্রাই করে কি হবে?"
-" অনেক সময় কিছু হবে না জেনেও কিছু কিছু কাজ আমরা বার বার করি। হয়তো জানি এটা আদো সম্ভব না কিন্তু মন টা কেন জানি মানতে চায় না,ব্রেন বার বার সায় দেয় আর একবার করার জন্য। এই যে ফোন টা সুইচ অফ। কখনো অন হবে কিনা জানিনা। কিন্তু মন বলে ,"আর একটা বার ট্রাই কর,যদি অন হয় এবার?"
-" আপনার এই সাহিত্যিক কথা- বার্তা আমার মাথায় উপর দিয়ে যাচ্ছে। দয়া করে আমার ফোন টা দেন ঘুমাবো।"
-" আর একটা বার ট্রাই করি প্লীজ ।"
প্রিতম একটু হতাশ ভঙ্গিতে বলল,
-" আচ্ছা করেন ট্রাই । আমি তো বিপদে পরছি,আপনার সব কথাই শুনতে হবে।"
-" হয়েছে,এই নিন আপনার ফোন।"
-" আচ্ছা একটা কথা বলুন তো কার নম্বরে এতক্ষন ফোন দিলেন। আপনার কাহিনী টা কি বলবেন?"
নিঝুম একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,
-" কোন কাহিনী নেই। আপনার ফোন তো দিয়ে দিলাম এবার শুয়ে পরুন আর ডিস্টার্ব করব না।"
-" আপনি ঘুমাবেন না?"
-" না,চোখ দুটি হরতাল ডাকছে আজকে ঘুমাবে না।"
-" আপনি এমন আশ্চর্য রকমের কথা পান কোথায়?"
-" আশ্চর্য রকম কথা কি আবার?"
-" এই যে বললেন চোখে হরতাল ডাকছে।"
-" শুনেন, যে পাগল হয় সে বুঝতে পারে না যে সে পাগল হয়েছে। আর যে আশ্চর্য রকমের কথা বলে সেও বুঝতে পারে না যে তার কথার ভিতর আশ্চর্য কিছু আছে।"
-" বাব্বাহ!! কি সুন্দর উদাহরন টানলেন। আপনার তো দেখছি বুদ্ধি ভরা মাথা।"
-" বুদ্ধি ভরা মাথা না মাথা ভরা বুদ্ধি। ভাবছেন আমায় আপমান করবেন আমি বুঝতে পারব না।"
-" যাক তাহলে ব্যাপার টা বুঝে গেলান।আপনার মাথায় মিনিমাম কমন সেন্স থাকলে এত রাতে বাসা থেকে বের হতেন না।"
-" কেন বাসা থেকে বের হলে কি হয়?"
-" যা বলছি সহজ ভাবে বুঝার চেষ্টা করেন। কোথায় যাবেন ,কোথায় থাকবেন তা না ভেবে বাসা থেকে পালিয়ে আসলেন।"
-" সব ই ভাবছি কিন্তু পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে এই অবস্থা।"
-" মানে কিসের পরিস্থিতির স্বীকার বলেন তো? আপনার রহস্য কি?"
নিঝুম একটু ভাব নিয়ে বলল,
-" কোন রহস্য ই। আমি তো জানি আপনি আমায় রিসিভ করতে যাবেন তাই বাসা থেকে পালিয়েছি।"
প্রিতম মেজাজ খারাপ করে বলল,
-" এই মেয়ে এই আমি আপনায় কখন রিসিভ করতে গেলাম। অদ্ভুধ মেয়ে তো আপনি!"
-" মেয়ে মেয়ে করেন কেন? আমার নাম মেয়ে না আমার নাম নিঝুম । আর আপনি আমাকে রিসিভ করতে না গেলে আমি আপনার বাসায় আসলাম কিভাবে?"
-" প্লীজ আপনি চুপ করবেন? আপনায় বাসায় আনা টা আমার উচিত হয় নি তা অনেক আগেই বুঝছি। আপনি রাস্তায় ই ভালো ছিলেন।"
-" আচ্ছা আমি চুপ।তবে যদি পারমিশন দেন আর একটা কথা বলল?"
-" কি কথা?"
-" আসলে আমার রাস্তায় থাকতে একটুও ভালো লাগে না।"
-" ব্রেন এর ভালো ডাক্তার দেখান নয়তো কোন মেন্টাল হসপিটালে ভর্তি হন।"
-" আচ্ছা ভেবে দেখব।"
-" আমি ঘুমালাম। দয়া করে আমায় আর ডিস্টার্ব করবেন না। রাত প্রায় শেষ এখন একটু ঘুমাতে দেন।"
প্রিতম সোফায় শুয়ে পরল। মনে মনে ভাবল,আমি এত বোকা কেন? একটা মেয়ে কে নিজের রুমে জায়গা দিলাম,আবার তার জন্য খাট ছেড়ে সোফায় ঘুমাতে হবে। এত রাতে ডিম ভাজতে হয়েছে। আরও কত কি! এসব ভাবতে ভাবতে প্রিতমের নিজের উপর রাগ হচ্ছে । আর মেয়ে টা কি বিচ্ছু! কোন কৃতজ্ঞতা তো নেই ই,উল্টো আমায় উল্টা-পাল্টা কথা শুনায়।
নিঝুম বেলকুনিতে দাড়িয়ে গায়ে চাঁদের আলো মাখছে। আজকে এসব কিছু তে ই মন ভালো হচ্ছে না। যা ই হোক! লোক টা যথেষ্ট ভালো। এত বিরক্ত করা ঠিক হয় নি। লোকটার অনেক ধৈর্য্য।
.
বেলকুনিতে দাড়িয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না। ঘুমও আসছে না। অসহ্য লাগছে সব! রুমে গিয়ে শুয়ে থাকা ই ভালো।
লোক টা সোফায় শুয়ে আছে। মানুষ এত ভালো হয় কিভাবে ? নিঝুম ফোন টা হাতে নিয়ে শুয়ে শুয়ে স্মৃতিচারন করছে আর চোখের জল ফেলছে।চোখ গুলো খুব ফুলে গেছে আর কাঁদতে পারছে না। মন খারাপ এর সময় গুলো এত দীর্ঘ হয় কেন? একটু কষ্টের মাঝে সব ধরনের কষ্ট এসে উকি দেয়। সব স্মৃতি এসে ভীড় করে । এমন টা কেন হয়?
হাত থেকে ফোন টা রেখে দিল নিঝুম । কি দরকার স্বার্থপর মানুষ গুলোর জন্য চোখের জল ফেলার?
কিন্তু হাজার চেষ্টায়ও আটকে রাখতে পারছে না। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গাল বেয়ে জল পরছে। কানে ইয়ার ফোন গুজে গান শুনলে এখন মন্দ হয় না।সময় কেটে যাবে ।কিন্তু ইয়ার ফোন তো আনি নি।
উনার কাছে এখন ইয়ার ফোন চাইলে কষিয়ে চড় মারবে। ইয়ার ফোন ছাড়া গান শুনলে উনার ঘুম ভেঙে যাবে।দেখি রুমে কোথায়ও ইয়ার ফোন পাই কিনা!
খাটের বিছানার নিচে,টেবিলের উপর কোথায়ও দেখি না ইয়ার ফোন। যাক শেষ পর্যন্ত ড্রেসিং টেবিলের উপর পাওয়া গেল।
কানে ইয়ার ফোন গুজে ফুল সাউন্ডে ইমরানের গান শুনতে কেন জানি খুব বেশী ভালো লাগে।
চোখ ভরা পানি আর কানে ইয়ার ফোন গুজে গান শুনা খারাপ লাগছে না।
হঠাৎ করে নিয়েছ ঠাই,তোমাতে মনোযোগ তুমি ছাড়া ভালো লাগে না এ কেমন রোগ?
আনমনে তুমি আমি হয়েছি নিখোঁজ ভোরের শিশির মাখা প্রতিটি প্রহর বলে যেন এভাবে চলে রোজ।
থামছো কে যেতে হবে আরও অনেক পথ।
এমন তো ছিল নেওয়া তোমার আমার শপথ.......
গান শুনতে শুনতে নিঝুমের চোখ লেগে আসছে। হঠাৎ কারো হাটার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে যা দেখে তার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না।
.
চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now