বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অহংকারী
১ম পার্ট
আবির সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে অনেক বেলা হয়ে গেছে। তাই কোনরকমে রেডি হয়েই ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।রাস্তায় কোন গাড়ি না পেয়ে অগত্যা হেটেই যেতে হল।হায়রে কপাল!আজ এমনিতেই দেরি হল তার উপর হেটে যেতে হচ্ছে!কথা গুলো আবির মনেমনে ভাবছে।যদিও আবিরের বাসা থেকে ভার্সিটি বেশি দুরে নয় তবুও সে হেটে যেতে অনেক দেরি হল।ফলাফল যা হবার তাই হল,প্রথম ক্লাস টা মিস হয়ে গেল।
এখন আর কি করার গাছতলায় বসেই সময়টা কাটিয়ে দেয়া যাক!
কিছুক্ষণ পর স্যার ক্লাস থেকে বের হলেন আর তার পিছু পিছু একটা মেয়ে বের হল।আবির তো পুরাই ফিদা হইয়া গেছে!এই মাইয়া এখানে কি করে?একে তো এখানে এর আগে কখনো দেখিনি।ক্লাসের বন্ধুদের সাথে কথক বলে জানতে পারল যে সে নতুন ভর্তি হয়েছে।সিহাব বলে দোস্ত এই মাইয়ার সে কি দেমাক!কি অহংকার!কারো সাথে কথাই বলেনা।যেই একখান ভাব নেয় মনে হয় যে সেই বলিউড এর কোনো হিরুইন।আবির বলে উঠে দোস্ত আর যাই হোক এই মাইয়াকেই আমার চাই।সে যতই অহংকারি হোক না কেন আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে ওর মনের সেই অহংকার টা দুর করে দিব।
সিহাব বলে উঠে খবরদার দোস্ত এই মেয়ের পাল্লায় পরিস না।
আবির বলে সে যাই হোক তা পরে দেখা যাবে এখন দেখ ঐ ভাবনেওয়ালি রানি আসছে আমি গেলাম দোস্ত।বলেই দে ছুট। এক দৌড়ে ভাবনেওয়ালির সাম্নে এসে দাড়াল।
এই যে শুনছেন মিস ভাবনেওয়ালি!
আবারও ডাক দিল!
এইবার রিপ্লাই করল,কি হয়েছে?
কাকে এই নামে ডাকছেন?
আবির বলল এখানে তো আর কেউ নেই তুমি ছাড়া।
কি! আপনার সাহস হল কি করে আমাকে এই নামে ডাকার!
সিহাব বলল, তোমার তো নাম জানিনা কি আর করার বন্ধুদের থেকে বিস্তারিত শুনে ডিসাইড করলাম এই নামটাই তোমার জন্য পারফেক্ট।
কথাটা শুনেই গালি দিতে দিতে এই স্থান প্রস্থান করল মিথিলা।আর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কি যেন বল্ল তার কিছুই শুনেনি আবির।
হা হয়ে ওর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল আবির।কি মেয়ের বাবা এত্ত দেমাক!
তোমার যতই দেমাক হোকনা কেন তাতে আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে সেই দেমাক নিভিয়ে দিব।
উফফ নামটাই তো জানা হলনা।বিরক্তির ভাব ফুটল আবিরের মুখে।
পেছন থেকে সিহাবের ডাকে ফিরে তাকাল।
সিহাব বলতে শুরু করল কি দোস্ত বলেছিলাম না এই মেয়ের পাল্লায় পরিস না।এবার হল তো! যা বেপার না এবার চল একটা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে দেই রাতে খেয়ে দে ঘুম বলে একটা ঘুম দিবি।দেখবি আজকের এই কাহিনির কথা আর মনেই আসবেনা।
তুই থামবি সিহাব?বলেই রাগী ভাব নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করল আবির।
মনে মনে হাসতে লাগল সিহাব।
পরেরদিন ভার্সিটিতে একটু আগেই আসল আবির।উদ্দেশ্য ওর ক্রাশের(মিথিলার)সাথে একটু জমিয়ে কথা বলবে।কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দেখল ভাবনেওয়ালি আসছে।এই যে ও কাছেই আসছে। ওর হার্টবিট বাড়তে লাগল।পাশ কাটিয়ে চলে যাবার মুহূর্তে আবির ডাক দিল এই যে মিস ভাবনেওয়ালি!
এবার মিথিলা রেগে গিয়ে বলতে শুরু করে,কি পেয়েছেন কি আপ্নি...??সুন্দরী মেয়ে দেখলেই গায়ে পরে ঝগড়া করতে ইচ্ছে করে??আয়নায় নিজের মুখটা একবার দেখেছেন?
গেঁয়ো ভুত কোথাকার!!
আবির বলে উঠল,তুমি সুন্দরী???
এই ক্রেডিট টা তুমায় কে দিয়েছে???
যে দিয়েছে সে নিশ্চয়ই তোমার খপ্পরে পড়ে এই নাম দিতে বাধ্য হয়েছে।
এই ছেলে সাবধানে কথা বলবেন বলে দিচ্ছি!!বলেই রাগে হনহন করতে করতে চলে গেল মিথিলা।
আবিরের হঠাৎ মনে হল নামটাই তো জিজ্ঞাসা করা হলনা।উফফফ বাবা ওর সাথে দেখা হলেই ঝগড়া হয় একবারও নামটাই জানতে পারলাম না।
তাই পিছন থেকে আবির ডাক দিল,এই ভাবনেওয়ালি তোমার নামটা তো বলে যাও।
মিথিলা মুখটা ভেংচি দিয়ে নাম বলে চলে গেল।
মিথিলা!উফফ কত্ত কিউট একটা নাম।
মিথিলা কে যতই রাগাক না কেন ও আসলেই অনেক সুন্দরী। একদম রুপকথার পরির মত।
যার চোখের দিকে তাকালেই প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে।যেন দুচোখে ভালোবাসার সাগর।আর সেই সাগরে যেকেউ ডুবিতে চায়।কিন্তু মেয়ের যা দেমাক আর যা অহংকার।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে আবির ক্লাসে গেল।ক্লাসে বসে আবির শুধু মিথিলার দিকেই তাকিয়ে থাকে। যা কয়েকবার মিথিলার নজড়ে আসে।
তাই ক্লাস শেষে মিথিলা আবির কে ডাক দিল এই যে শুনেন!
কি ব্যাপার মেঘ না চাইতেই জল মনে মনে বল্ল আবির।
মিথিলা বলে উঠল কি বিড়বিড় করছেন মনে মনে?
আবির:কই নাতো কিছুনা।
মিথিলাঃ ক্লাসে আপনি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকেন কেন???
আবিরঃ কই নাতো!তোমার দিকে কে তাকাবে?তাছাড়া তোমার যা দেমাক এতে তোমার দিকে যেই তাকাবে সেই তো মুখ ফিরিয়ে নিবে।
মিথিলাঃ কি বললেন আপ্নি???আমি দেখতে খারাপ?
আর আমি দেমাকি?
আর যদি আপ্নি আমার দিকে তাকিয়েছেন তো আমি আপ্নার চোখ ফুটা করে দিব।
আবিরঃ এতদিন জানতাম তুমি দেমাকি আর অহংকারী। কিন্তু আজ তো দেখলাম তুমি লেডি গুন্ডীও।
মিথিলাঃ হ্যা আমি তাই।কেন আপনার কোন প্রব্লেম??
আপনি আর কোনদিন আমার সামনে আসবেন না বলে দিচ্ছি।গেয়ো কোথাকার।
আবিরঃ তোমার সামনে আসতে আমার বয়েই গেছে।ঠিক আছে আর আসবনা তোমার সামনে।
যে যার মত ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসে।
রাতে আবির শুধু মিথিলার কথাই ভাবে।মনে মনে অনেক স্বপ্ন বুনতে থাকে। আর রুপকথার বেড়াজালে মিথিলাকে নিয়ে জড়িয়ে পরে।
আর মনে মনে ভাবে ওর সাথে দেখা হলেই কেন ঝগড়া হয়??
নাহ আর ঝগড়া করবনা আমি।
আর আমি যে ওকে কত ভালোবাসি তা ওকে বলে দিতে হবে।নইলে বাড়তি ভালোবাসাটুকু পেটের মধ্যে থেকে পেট খারাপ হয়ে যাবে।আর বর্জ্য হিসেবে বেরোবে চোখের জল।
ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবির।
সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে রেডি হয়ে ভার্সিটির দিকে রওনা দেয়।
ভার্সিটির গেইট দিয়ে ঢুকার সময়ই আবার দেখা হয়ে যায় মিথিলার সাথে।আর আবিরের হার্টবিট টা আরেকটু কেঁপে উঠে......
........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now