বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অহিনের গল্প

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X অহিন অথবা একটি অসমাপ্ত গল্পের সমাপ্তি আহিন যেন একটু মোটা হয়েছে ! আমি আবার দেখলাম ভাল করে ! হুম ! অহিন না হয়ে যায় না ! কিন্তু এখানে কি করছে ? বেড়াতে এসেছে ? হতে পারে ! একবার মনে হল যাই ওর সাথে গিয়ে কথা বলি । মেয়েটার সাথে কত দিন পরে দেখা হল । পাঁচ বছর ? হুম ! পাঁচ বছরের বেশি তো হবেই ! সেই সময়ে অহিন কত টুকু একটা মেয়ে ছিল ! ইন্টারমিডিয়েটে পড়তো ! এখন নিশ্চই পড়ালেখা শেষ ! বিয়ে টিয়েও মনে হয় করে ফেলেছে ! যাবো নাকি ? নাহ ! হঠাৎ করেই যেন মনটা বিদ্রোহ করে উঠল ! পুরানো সব কথা যেন মনে পড়ে গেল চট করেই । এই মেয়েটার জন্যই আজ আমি এখানে ! এই মেয়েটার জন্য আমি আমার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সম্পদটা হারিয়েছি ! কেবল এই মেয়েটার জন্য ! আমি ঘুরে উল্টো পথে হাটা দিলাম ! আর এখানে থাকা যাবে না ! এখনই বাংলো তে ফিরে যেতে হবে ! এই মেয়েটার সামনে পরা যাবে না ! -স্যার আজকে পড়বো না ! -কেন ? পড়বে না ? তাহলে আমি আসলাম কেন ? অহিন আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলো একটু ! আমি মনে মনে একটু হতাশ হলাম । নাহ ! আল্লাহ এই মেয়েটাকে সব সৌন্দর্য যেন একসাথে দিয়ে দিয়েছে । অহিনকে যে কেউ দেখলে সবার আগে তার কেবল মনে হবে এই মেয়েটা এতো সুন্দর কেন ? আমি শান্ত কন্ঠে বললাম -আমি তাহলে যাই ! অহিন আমার কথা শুনে যেন আঁতকে উঠলো । বলল -যাই মানে ? কোথাও যাওয়া চলবে না ! আজকে আমার জন্য নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে ! আমি এখনও চড়ি নি । আপনার জন্য অপেক্ষা করছি ! দুজন এক সাথে চড়বো বলে ! আমি একটু বিভ্রান্ত বোধ করলাম ! অহিনের কথা বার্তা ইদানিং যেন কেমন মনে হচ্ছে ! কেমন একটু সন্দেহ জনক ! মেয়েরা নতুন প্রেমে পরলে যেমন টা হয় ঠিক তেমন ! লক্ষন এদিক ওদিক গেলেই এই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে ! মান সম্মানের প্রশ্ন ! অহিন আবার বলল -চলেন স্যার ! -আরে ! আমি কেন ? দেখ আমার গাড়িতে চড়তে একদম ভাল লাগে না ! -না না ! আমি কোন কথা শুনতে চাই না ! আপনাকে যেতেই হবে ! যতই না না করলাম । খুব বেশি লাভ হল না ! অহিন খানিকটা একরোখা টাইপের মেয়ে । বড়লোক বাপের মেয়েতো ! সারা জীবন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে ! না শুনে খুব বেশি অভ্যাস নাই ! আমাকে যখন রাজি করাতে পারলো না তখন ওর মাকে নিয়ে এল ! আর যাই হোক অহিনের মার কথা আট ফেলতে পারলাম না ! যেতেই হল । অসময়ে বাংলোতে ফিরে এলাম ! কেমন জানি একটু একা একা লাগছিল । অবশ্য আমি একাই ! কিন্তু আজকে কেন জানি আরো বেশি একা একা লাগছে ! নিশিকে কেন জানি আজকে বেশি করে মনে পড়ছে ! নিশি সেদিন আমাকে কেবল বলেছিল আমি যেন অহিনকে ক্ষমা করে দেই ! মেয়েটার উপর রাগ রেখে কি লাভ ! সত্যি কি তাই ? রাগ রেখে লাভ নাই ? আমি জানি না ! কিন্তু আমার মন ওকে ক্ষমা করে দেয় নাই ! আমি ভুলে যেতে পারি নাই ! নিশি আমাকে প্রায়ই বলত -দেখ তোমাকে ভালবাসি এটা নিয়ে তো তোমার কোন সন্দেহ নাই ! আছে ? আমি খানিকটা অবাক হয়ে বলতাম -আরে সন্দেহ থাকবে কেন ? -তাহলে তুমি মাঝে মাঝে এমন কথা কেন বল ? -কেমন কথা ? -এই যে আমাকে বিয়ের কথা ! আমাকে বিয়ে না করতে পারলে জীবনে আর বেঁচে থাকবে না ! আমি কোন কথা না বলে কেবল চুপ করে থাকতাম ! নিশি আমার দিকে তাকিয়ে বলত -দেখ ! তোমাকে আমি ভালবাসি ! আর সব সময়ই ভালবাসবো ! এটা কোন দিন বদলাবে না ! কিন্তু ভাগ্য বলে একটা কথা আছে ! এটা তোমার মেনে নিতে হবে ! নিতেই হবে ! এটার কোন বিকল্প নাই ! -তুমি কি বলতে চাও ? তোমার বিয়ে হয়ে যাবে আর আমি সেটা চুপচাপ মেনে নিবো ? -আরে বাবা ! ভাগ্যের সাথে কে যাবে বল ? এই একটা নিষয় নিয়েই নিশির সাথে আমার প্রায়ই বাঁধতো ! তবুও আমরা সুখেই ছিলাম ! কিন্তু বেশি দিন সুখে থাকতে পারি নি !! ফোন বাজছে ! তন্ময় হয়ে পুরানো কথা গুলো ভাবছিলাম !বাস্তবে ফিরে এলাম । আমি মোবাইল তুলে দেখি অপরিচিত নাম্বার ! একটু অবাক হতে হল ! আমার কাছে খুব বেশি অপিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে না বললেই চলে ! তাহলে ? অফিস থেকে নাকি ? আমি ফোন রিসিভ করলাম ! -হ্যালো ? -অপু ? কেমন আছো ? আমি খানিকটা চমকে উঠলাম ! এতো বছর পরে লোকটার গলার আওয়াজ আমি একটুও ভুলতে পারি নি ! আশ্চর্যের ব্যাপার ! আমি বললাম -ভাল আছি ! আপনার শরীর ভাল ? -এই আছি কোন রকম ! এখন বয়স হয়েছে তো ! আমি চুপ করে থাকি ! কেন জানি এই লোকটার সাথেও আমার কথা বলতে মন চাচ্ছে না ! -অহিন গেছে তোমার ওখানে ? একবার ভাবলাম বলি যে আমি তো জানি না ! কিন্তু পরে মনে হল থাক মিথ্যা বলে লাভ নাই ! আমি বললাম -হ্যা ! দেখলাম ওকে ! বেড়াতে এসেছে মনে হয় ! একবার মনে হল জিজ্ঞেস করি আপনি আমার খবর কিভাবে পেলেন অথবা আমার ফোন নাম্বার কোথায় পেলেন ! কিন্তু পরে মনে হল থাক ! এই কথা জিজ্ঞেস করে লাভ নাই ! উনি এমনিতেও বেশ ক্ষমতাবান মানুষ ! যাদের টাকা আছে তাদের কাছে কোন কিছুই জানা অসম্ভব না ! অহিনের বাবা আসলেই বেশ ক্ষমতাবান মানুষ ! ওদের বিশাল বাড়িয়ে যখন পড়াতে যেতাম তখন আসলেই নিজেকে বড় ক্ষুদ্র মনে হত ! মাঝে মাঝে অহিনের বাবা আসতো মেয়ের কাছে ! সব সময় একটা কর্তৃত্বের ভাব ছিল ওনার চেহারায় ! অহিনের বাবার একটা বড় বৈশিষ্ট ছিল যে নিজের সিদ্ধান্ত অপরের উপরে চাপিয়ে দেওয়া ! তার আসে পাশের মানুষ গুলোও এমন টা মেনে নিয়েছে দেখতাম ! ঐ যে বললাম না খুব বেশি টাকা থাকলে যা হয় ! একদিন অহিন কে পড়িয়ে আমি বাসায় যাবো এমন সময় অহিনের বাবা আমাকে ডাক দিলেন ! আমি ভাবলাম আবার কি না ! তিনি আমাকে নিয়ে তার স্টাডি রুমে বসলেন ! তারপর দরজা বন্ধ করে দিলেন । আমি একটু ভয়ই পেলাম ! নিশ্চয় কোন সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলবেন ! এমন কিছু যে আমাকে টিউশনীটা ছেড়ে দিতে বলবেন ! তাহলে একটু বিপদেই পরবোই ! আমার খরচের বেশ খানিকটা এই টিউশনীর টাকা থেকেই আসে ! এটা চলে গেলে আমি একটু বিপদেই পড়বো ! আমাকে বসিয়ে অহিনের বাবা বললেন -তোমার পড়া শুনা শেষ হতে আর কত বাকি ? -এই আর বছর খানেক ! -পাড়া লেখার পরে কি করবে কিছু ঠিক করেছ ? -নাহ ! এখনও করি নি ! -বিয়ে শাদীর কথা ? আমি এবার একটু অবাক হলাম ! এই লোক আর যাই হোক আমার বিয়ের কেন খোজ নিচ্ছেন ? আমি বললাম -এসব তো এখন চিন্তাই করি নি ! বিয়ে করার জন্য তো আগে ভাল একটা জব দরকার ! তাও সেটা তো আসবে আরো পরে ! -আমি যদি তোমাকে জব দেই ! আমি এইবারও ঠিক বুঝতে পারলাম না ওনার কথা ! আমি আসলেই কিছু বুঝতে পারছিলাম না ! আমি বললাম -আসলে আমি আমি ঠিক বুঝতে পারতেছি না আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন ! অহিনের বাবা একটু সময় কি যেন ভাবলেন ! তারপর বললেন -দেখ ! তুমি বুদ্ধিমান ছেলে ! তুমি নিশ্চই নিজের ভাল মন্দ বুঝবে ! যাই হোক তোমার সাথে সরাসরিই কথাটা বলি ! -জি বলুন ! -অহিন তোমাকে খুব পছন্দ করে ! আমার আর অহিনের মায়েরও আপত্তি নাই ! ছেলে হিসাবে তুমি ভাল ! আমি চাই তোমাদের বিয়েটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক ! আমি আবারও অবাক হয়ে ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে রইলাম ! এই লোক কি বলছে আমি কানে ঢুকছে না ! আমি কেবল বললাম -আমার পক্ষে অহিন কে বিয়ে করা সম্ভব না ! অহিন মেয়ে হিসাবে খুব ভাল কিন্তু আমার পক্ষে সম্ভব না ! ভদ্রলোক কিছুক্ষন আমার দিকে চুপ করে তাকিয়ে রইলো ! তারপর বলল -দেখো ! আমি আমার মেয়েকে খুব আদর আর যত্নের মানুষ করেছি ! ওর কোন ইচ্ছা আমি কোন দিন অপূর্ন রাখি নি ! এই কি ধরনের কথা হল আমি ঠিক বুঝলাম না ! উণি কি আমাকে ফোর্স করছেন ? আমি বললাম -আজকে আমি তাহলে যাই ! রাত হয়ে যাচ্ছে ! দেরি করলে আবার বাস পাবো না ! আমি দরজা দিয়ে বের হতে যাবো ঠিক তখনই অহিনের বাবা আমাকে বলল -তুমি যার জন্য আমার মেয়েকে ছেড়ে যাচ্ছ সে কিন্তু কোন অংশের নিহিনের সমকক্ষ নয় ! আমার এই কথাটা কেন জানি একটুও পছন্দ হল না ! ঘরে কিছু বলতে যাবো এমন সময় দরজায় কড়া নড়লো ! আমি নিজেই দরজা খুলে দিলাম ! অহিনের মা ! আমি আর কিছু বললাম না ! তারপর থেকে অহিনকে আর পরাতে যাই নি ! -শুনছো ? -জি আঙ্কেল বলেন ! -অহিন গেছে না তোমার ওখানে ? -জি ! এসেছে ! -একটা কথা বলবো বাবা ? -জি বলেন ! -তুমি আমার উপর রাগ রেখ না বাবা ! আমি কেবল আমার মেয়েকে খুশি রাখতে চেয়েছি ! আর কিছু না ! একজন বাবা হিসাবে আমি কেবল আমার মেয়ের কথা চিন্তা করেছি ! আমার ভুল হয়েছে যে আমি তোমার কথা চিন্তা করি নি ! আমি চুপ করে রইলাম ! আমি নিজেও ভেবেছি কথা গুলো ! হয়তো উনি কেবল নিজের মেয়ের কথাই ভেবেছেন ! আর কারো কথা চিন্তা করেন নাই ! কাজটা কি উনি ঠিক করেছেন ? নিশির সাথে প্রায় বিলেকে আমার দেখা হত !ও ক্লাস করে বের হত আমি হাজির হতাম ওর সামনে ! কিন্তু পরপর এক সপ্তাহ নিশির কোন খোজ নাই ! সপ্তাহ পরে নিশির দেখা পেলমাম ! অন্য দিনের থেকেও আজকে কেমন মুখটা ওর গম্ভীর ! আমার পাশে বাসার পরেও কেমন আমার দিকে তাকালো না ! অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো ! আমি ওর হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর হাতে চমৎকার মেহেদি দেওয়া ! আমি ওর হাত ধরতে ধতে বললাম -আরে ! চমৎকার মেহেদি দিয়েছো তো ? নিশি কোন কথা বলল না ! আমার ওর হাতের মেহেদি সব সময়ই খুব পছন্দ ! আমি বার বার বলে কয়েও ও ঠিক মেহেদি দিতে চায় না ! আজকে দেখি আমার না চাইতেই দিয়েছে ! আমি খুশি হয়ে গেলাম ! বললাম -এই চল আজকে তোমাকে নান্নায় বিরানী খাওয়াবো ! আমার জন্য হাতে মেহেদি দিয়েছ এই জন্য ! নিশি আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আমি তোমার জন্য মেহেদি দেই নি ! আমি হাসতে হাসতে বললাম -তাহলে ? এটা কি তোমার বিয়ের জন্য দেওয়া ? -হুম ! -হুম ? আমার মনে হল নিশি আমার সাথে ইয়ার্কি মারতেছে !কিন্তু যখন ওকে কাঁদতে দেখলাম তখন আমি একটা কথাও আর বলতে পারলাম ! একটা কথাও মুখ দিয়ে বের হল না ! কেবল মনে হচ্ছিল যে আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখছি খুব জলদিই শেষ হয়ে যাবে ! আমার ঘুম ভেঙ্গে যাবে ! কিন্তু আমার ঘুম আর ভাঙ্গলো না ! নিশি বলে গেল যে খুব জলদি নাকি ওকে দেখতে এসেছে ! দেখতে এসেই পছন্দ আর ঐ দিনই বিয়ে হয়ে গেছে ! ছেলে হাসান টেক্সাইলে জব করে করে ? আমি আবার চমকে উঠলাম ! হাসান টেক্সাইল ? অহিনের বাবার নাম জাহুদুল হাসান ! হাসান গ্রুপের মালিক ! হাসান টেক্সাইল ওনারই প্রতিষ্ঠান ? নিশি আরও কথা বলল কিন্তু আমার মাথার ভিতর আর কিছুই যেন ঢুকছিল না ! আমার কাছে সব একবারে পরিস্কার হয়ে গেছিল ! নিশি চলে যাওয়ার পরেও আরো অনেক্ষন বসে রইলাম ! এতো দিন পরে নিজেকে কেমন খুব নিঃসঙ্গ লাগলো ! খুব বেশি একা মনে হল ! মনে হল যেন আমার আর কিছুই নাই ! কেউ নাই ! আমি বড় একা ! আর আমাকে একা আর নিঃসঙ্গ বানানোর পেছনে কেবল ঐ অহিন দায়ী ! আর কেউ না ! -তুমি অহিনের সাথে কথা বল নি তাই না ? আমি আবারও কিছু সময় চুপ করে রইলাম । আসলেই ! আমি তো অহিনের সাথে কথা বলি নি ! আমি বললাম -জি না বলি নি ! -একটা কথা তোমাকে বলি আমি যা করেছি এতে অহিন জড়িত ছিল না ! ও জানতোও না ! আমি চুপ করে রইলাম ! অহিনের বাবা বলল -তুমি তো সেদিন সব কথা অহিনকে বলে চলে গেলে ! ঐ দিনের পরে মেয়েটা আমার কেমন যেন হয়ে গেল ! কারো সাথে ঠিক মত কথা বলে না ! হাসেও না ! আর বিশেষ করে আমার সাথে কথা বলে না ! আমি তবুও চুপ করেই রইলাম ! ঐ দিনের পরের দিনই আমি অহিন কে ফোন করে ডেকে আনি ! আমার ফোন পেয়ে তো অহিন খুব খুশি মনেই হাজির হল ! আসলে ও ভেবেছিল হয়তো আমি ওকে কিছু বলবো ! যেদিন থেকে অহিন কে পড়ানো বাদ দিয়েছি সেদিন থেকে অহিনের ফোন প্রায়ই আসতো ! আমার সাথে দেখা করতে চাইতো ! আমি সব সময় এড়িয়ে যেতাম ! কিন্তু আজকে আমার ফোন পেয়ে অহিন যেন একবারে উড়ে চলে এল ! আমি ঐ দিন অহিনের সাথে খুব কখারাপ ব্যবহার করেছিলাম । আসলে আমার মাথা খারাপ ছিল ! আমার তখন কেবল একটা কথাই মনে হচ্ছিল যে আমার সামনে দাড়ানো এই মেয়েটার জন্যই আমি আমার নিশিকে হারিয়েছে ! এই মেয়েটার জন্য ! অহিন কেবল আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল ! রাস্তা দিয়ে মানুষ জন যাচ্ছিল তারাও আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখছিল ! অহিনের চোখ দেখে মনে হচ্ছিল যে আমি এমন কথা যে ওকে বলতে পারি এটা ঠিক ওর বিশ্বাস হচ্ছে না ! একদম শেষে বললাম -তুমি যেই উদ্দেশ্যে এইটা করেছে সেইটা কোন দিন পুরন হবে না ! আমি জীবনেই তোমাকে বিয়ে করবো না ! জীবনেও না ! যদিও বিয়ে করার জন্য কোন মেয়ে না খুজে পাই তবুও তোমার মত মেয়েকে বিয়ে করবো না ! -আমার মেয়েটা ঐ দিনের পর থেকে আমার সাথে আর একটা কথাও বলে নি ! একটা কথাও না ! হঠাৎ আমার মনে হল অহিনের বাবা মনে হয় কাঁদছেন ! আমি তারপর একদম গায়েব হয়ে যাই ! কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখতাম না ! অনার্স শেষ হওয়ার পরে ইন্ডিয়া চলে যাই ! ওখান থেকে এমবিএ পড়ি ! দেশে আসার পরে এই খানে জয়েন করি ! এতো দিন ভালই ছিলাম ! -আমি এতোদিন তোমাকে অনেক খুজেছি ! কিন্তু কোথাও পাই নি ! এই তো গট সপ্তাহে পেলাম ! জানো অহিন এই খবরটা শোনার পর থেকে একটু স্থির থাকে নি ! তোমার সাথে দেখা করার জন্য ওর ভিতরে এখন ওর ভিতরে যে একটা আকুলতা ……. অহিনের বাবা আরো কিছু বলতে গেছিল কিন্তু বলতে পারলো না ! তিনি আসলেই মনে হল কাঁদছে ! আমি কি বলে শান্তনা দিবো ঠিক বুঝতে পারছি না ! -বাবা ! তুমি আমার মেয়েটাকে মাফ করে দিও ! ওর মুখে একটু হাসি ফুটাও ! আমি আর কিছু চাই না তোমার কাছে ! দেখো আমার কত টাকা ! কত ক্ষমতা কিন্তু তবুও আমি আমার আদরের মেয়ের মুখে একটুও হাসি ফুটাতে পারছি না ! কতটা অসহায় আমি ! এই অসহায় বাবার একটা কথা …. আসলেই আমি কি করবো ? নিশি আমাকে এই কথা বলছিল ! ভালবাসার জন্য মানুষের সব কিছু করতে পারে ! অনেক অন্যায় করে ফেলে ! তখন তার মনে ভাল খারাপ আর কোন কথা আসে না ! এটাকে দোষ ধরে রেখো না ! মেয়েটাকে আর কষ্ট দিও না ! পরদিন অফিসে গিয়ে দেখি অহিন চা বাগানের ভিতরে ঘোরাঘুড়ি করছে ! একা একাই । নিজের কেবিনে বসে রইলাম চুপ করে ! গত কালের কথা গুলো বারবার মনে পড়ছিল ! আমার মেয়েটা আর হাসে না ! আর কারো সাথে কথা বলে না ! এর জন্য কি আমি দায়ী ? একজন তো একজন কে পছন্দ করতেই পারে ! তাকে চাইতেই পারে ! আমি ঐ দিন কার কথা আবার ভাবতে লাগলাম ! অহিন সেদিন খুব আনন্দ নিুয়ে এসেছিল আমার সাথে দেখা করতে ! কিন্তু আমি যখন ওর সাথে খারাপ ব্যাব হার শুরুর করি ও কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল ! কাঁদতেও ভুলে গিয়াছিল মেয়েটি ! জানি না বাসায় গিয়ে কেঁদেছে কি না ? আমি বয়কে বললাম অহিন কে ডেকে আনার জন্য ! আর কিছু না বলি অন্তত কিছু কথা বলা যাক ! বয় আমাকে এসে বলল যে সেই মেম সাহেব চলে গেছে ! চলে গেল কেন ? রাগ করে ? বিকেল বেলা বাসায় গিয়ে দেখি অহিন আমার বাংলোর বারান্দায় বসে আছে ! আামকে দেখে উঠে দাড়ালো ! আমি ওকে দেখে খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে হয়ে গেলাম ! দেখলাম ও নিজেও তাই হল ! ওকে বললাম -কেমন আছো ? -আছি ! কোন রকম মাথা নিচু করেই জবাব দিল ! আগের মত আর সেই প্রাণ চঞ্চলতা নাই ! আমি বললাম -এখানে ? -আপনি তো আর আসবেন না ! তাই নির্লজ্জের মত আমাকেই আসতে হল ! আমি কথা হারিয়ে ফেললাম ! মেয়েটা আসলে কি বলতে চায় ! নাহ ! আম তো জানি মেয়েটা কি বলতে চায় ! আমি ওকে বসতে বলে ভিতরে চলে গেলাম ! ফ্রেস হয়ে যখন ফিরে এলাম তখন অহিন চা খাচ্ছে ! আমি বসতে বসতে বললাম -কবে এসেছ ? অহিন আমার দিকে একটু তাকিয়ে বলল -আপনি ভাল করেই জানেন আমি কবে এসেছি ! তাই তো আমি তো ভাল করেই জানি ও কবে আসেছে ! কি বাচ্চাদের মত প্রশ্ন করতেছি ! দুজনেই চুপ করে রইলাম কিছুক্ষন ! অহিন চুপচাপ চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই গেল ! আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম ! এই মেয়েটা আজকে আমাকে কি বলতে এসেছে ? নাকি কেবল চা খেতেই এসেছে ! আমি অহিনের চা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকি ! আচ্ছা আজকে কি অহিনের কাছে সরি বলা উচিৎ ? মেয়েটার তো দোষ নাই ! আমি তো ওর সাথে খারাপ ব্যব হার করেছিলাম ! এই জন্যই হয়তো মেয়েটা আজ এমন চুপচাপ হয়ে গেছে ! ওর বাবা তো তাই বলল ! আমি বললাম -বিয়ে কর নি কেন ? -আপনিও তো করেন নি ! -আমার কথা আলাদা ! যাকে চেয়েছিলাম তাকে পাই নি ! তাই অন্য কাউকে ভালবাসতে পারি নি এখনও ! অহিন আমার দিকে আবারও কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো ! তারপর বলল -আমার ক্ষেত্রেও তাই ! যাকে চেয়েছিলাম তাকে পাই নি ! তাই অন্য কাউকে ভালবাসতে পারি নি এখনও ! আমি আবারও কথা হারিয়ে ফেললাম ! অহিন বলল -জানেন, আমি ঐ দিনটার পরে আর একটা দিনও শান্তি পাই নি ! মানুষ মানুষকে এভাবে কষ্ট দিতে পারে আমি কোন দিন ভাবতেও পারি নি ! আমি কোন দিন আমার বাবাকে কিছু বলি নি ! নিজের পছন্দের কথা সব সময় নিজের ভিতরেই রেখেছিলাম ! আমার বাবা কি করেছে তার জন্য আপনি ….। অহিন আর কিছু বলতে পারলো না ! চুপ করে গেল ! আমি দেখলাম ওর চোখ বেয়ে পানি পরতেছে ! আমি বললাম -আসলে ঐ সময় আমার মাথা ঠিক ছিল না ! আই এম সরি ! অহিন উঠে দাড়ালো ! যাওয়ার সময় কেবল বলল -এই সরিটা আর কিছু আগে বলা কি আপনার উচিৎ ছিল না ? আমি চুপ করে বসেই রইলাম ! বসে বসে ওর চলে যাওয়া দেখলাম ! অহিন কি কেবল এই কথাটা টুকু বলার জন্যই এসেছিল আমার কাছে ! নাকি অন্য কিছু ! অহিন চোখের আড়াল চলে যাওয়ার পরেই আমার কেবল মনে হল ও হয়তো আর কিছু বলতে চেয়েছিল আমাকে ? সত্যি কি বলতে চেয়েছিল ? আমি কেন জানি বারান্দা থেকে নেমে অহিন যেদিকে গেছে সেদিকে হাটা ধরলাম ! এতোক্ষনে মনে হয় অনেক দুর চলে গেছে ! যাই হোক পাওয়া যাবে ওকে ! ঐ তো সামনে মোড় ঘুরলেই পাওয়া যাবে ! মোর ঘুরেই অহিনকে দেখতে পেলাম ! রাস্তার পাশে বসে মাথা নিচু করে আছে ! কাঁদছে ! আমি ওর পাশে বসে ওর মাথায় হাত দিলাম ! কি বলবো ভাবছি এমন সময় অহিন নিজেই জড়ানো কন্ঠে আমাকে বলল -মানুষকে ভালবাসার অপরাধ কি এতো বড় ? এতো নিষ্ঠুর প্রতিদান পেতে হয় ? ওর কন্ঠে কিছু একটা ছিল যে আমার বুকের ভিতরে কেমন করে একটা নাড়া দিল ! আমি ওর মাথায় হাত দিয়ে বললাম -আচ্ছা ! যা হওয়ার হয়ে গেছে ! এটা চাইলেও এখনতো বদলাতে পারবো না আমরা ! আমি আরো কিছু বলতে যাবো যাবো ঠিক তখনই অহিন আমাকে জড়িয়ে ধরলো ! একটু পরে আমি ওর ফোঁপানোর আওয়াজ পেলাম ! জানি না কি করা উচিৎ ! কেবল মনে হল মেয়েটা হয়তো খামোখা কষ্ট দিয়েছি ! যে অপরাধ ও করে নি সেই শাস্তি ওকে দিয়েছি ! কিন্তু মেয়েটা আমাকে ভালই বেসে গেছে ! কষ্ট পেয়েছে তবুও ! আমিও আস্তে করে ওকে জড়িয়ে ধরলাম !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অহিনের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now