বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অফসাইড

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Tn Toha (০ পয়েন্ট)

X আমার ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া মেয়ে প্রেম করছে জানার পর বিরক্ত নয় বরং ভীষণ অবাক হয়েছিলাম।খাবার টেবিলে নতুন করে মেয়েকে দেখছিলাম। নীল-সাদা স্কুল ড্রেস আর দুই বেনীতে অরুকে বয়সের তুলনায় আরো বেশি বাচ্চা লাগছে।প্লে,নার্সারি,কেজি কিন্ডারগার্টেনের ঝকমারি শেষ করে সিক্সে উঠতে বাচ্চাদের বয়স বারোতে গিয়ে ঠেকে। অরুর তেরো চলছে৷ বাবার মত লম্বাটে নাক, পাতলা ঠোঁট, মায়াময় চোখ৷ লোকে বলে অরু আমার রঙ পেয়েছে৷ সে হিসেবে অরোরাকে মিষ্টি কিশোরী বলা যায়৷ মেয়ের বাবা মেয়েকে ভাত নলা পাকিয়ে খাওয়াচ্ছিলেন৷ মেয়ে হাতে কমিকস খুলে বাবাকে কিছু একটা দেখাচ্ছে আর দুজনে খুব হাসছে। কে বলবে এই মেয়ে একটু আগে মায়ের ফোন থেকে লুকিয়ে বয়ফ্রেন্ডকে কল করছিল, -কোচিং শেষ হবার পর চলে যেও না।অপেক্ষা করো। মেয়ের ফিসফিসানি কণ্ঠ আর চোখমুখে আড়ষ্ট চাহনি দেখে বুঝতে অসুবিধে হয় নি ফোনের ওপাশে মানুষটি কে। -আরেক চামচ ডাল দাও। অন্যমনস্ক হয়ে কি ভাবছ? রুমীর কথায় হুশ হল। মেয়ের প্লেটে ডাল তুলে দিলাম সাথে আরেক চামচ সবজি৷মেয়ে আদুরে ভঙ্গীতে বলল, -মা, এতটা কেউ খেতে পারে? -আরে, আমিও তো সাথে খাচ্ রুমী ছোট এক নলা মুখে নিয়ে মেয়েকে বুঝ দিল। জিজ্ঞেস করলাম, -অরু কোচিং শেষ হবে কয়টায়? -পাঁচটায়। -ঠিক আছে।আমি নিয়ে আসব। -কেন? রোজ তো আমি একাই বাড়ি ফিরি। -নিউমার্কেটে যাব কিছু কেনাকাটা করতে আসার সময় তোকে নিয়ে আসব। অরু আর কিছু বলল না। বাবা-মেয়ের খাওয়া হল। রুমী মেয়েকে স্কুলে ছেড়ে অফিসে যাবে। দুজনে একসাথে বের হল। অরু ধপাধপ সিড়ি ভেঙে নামছে। রুমী আমার দিকে তাকিয়ে বলল, -কিছু হয়েছে তোমার? -কই কিছু নাতো। -সকাল থেকে আনমনা লাগছে। ঠিক আছে। দরজা ভালো করে বন্ধ করে দাও৷ আসি। দুজনে চলে যাবার পর আমার অফুরন্ত অবসর। এক মগ কফি করে বেলকুনিতে এসে বসলাম। এসময় সবাইকে সবাইকে কল করি। মা, ছোটবোন অথবা ননদ-জা৷ আজ কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছে না। অরু যার ভালো নাম অরোরা আহসান আমাদের একমাত্র সন্তান। বিয়ের দু'বছর পর কনসিভ করি৷প্রথম সন্তান তাই দুজনের আনন্দ ছিল ভীষণ। মেয়ে হবে না ছেলে হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, কোথায় ডেলিভারি করলে সুবিধে হয় এইসব ভেবে আলোচনা।আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি গত হয়েছেন পনের বছর আগে।তাই আলাদা টেককেয়ার নেবার জন্যে প্রেগন্যান্সির সময়ে আত্মীয়-স্বজনদের আসা-যাওয়া থাকত রোজ। একদিন অফিস থেকে রুমী ফোন করল, -মিলি, আমাদের মেয়ের নাম ঠিক করেছি। -অফিসে বসে মহাশয়ের এসব ভাবা হয়! -জ্বী হয়। মেয়ে হলে নাম রাখব অরোরা। -অরোরা মানে কি? -সকাল বেলার আলো। অরোরা সত্যি আলো হয়ে এসেছিল। আমি ছোট্ট করে অরু ডাকি এতে সাহেবের ভীষণ আপত্তি। মেয়েকে মিষ্টি করে ডাকতে হবে। রাত আটটায় উনি বাড়ি ফিরেন অরু পড়ার টেবিল থেকে উঠে ডাইনিং রুমে ঘুরঘুর করে। কলিংবেল বাজার শব্দ হলেই লাফ দিয়ে দরজা খুলে বাবার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে৷ দূর থেকে এদৃশ্য দেখে মনে হয়, আমার চেয়ে সুখী এপৃথিবীতে আর কেউ নেই। অরুদের গার্লস স্কুল। গার্লস স্কুলে পড়ানোর ইচ্ছা আমার ছিল না। কোএডুকেশন সিস্টেমের উপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে৷ ছেলে-মেয়ে পাশাপাশি বসে ক্লাস করে তাদের মাঝে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের তৈরি হয়৷ একজন ছেলে আর একজন মেয়ে শরীরী ব্যাপারটা বোঝার আগেই যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে তা পৃথিবীর শুদ্ধতম সম্পর্ক । একসাথে অনেকটা সময় কাটানোর ফলে ওরা নিজেদের ব্যাপারে সহজ হয়। বয়ঃসন্ধিকালে প্রাকৃতিক ভাবেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ আসে। এসময় লবঙ্গলতা না সেজে থেকে এই মেয়েগুলি বরং সহজ হয়৷ এই মেয়েগুলি ভুল করে কম। কারো স্ত্রী বা প্রেমিকা হবার চেয়ে সে নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। রুমী আমার ধারনার সাথে একমত নয়৷ ওর মতে মেয়েদের কিছু আড়ালে থাকা ভালো৷ ওর কথা শুনে হেসেছিলাম। আমি জানি ঘোমটার আড়ালে থাকা মেয়েগুলিই পর্দার ফাঁক দিয়ে আড়চোখে পুরুষের দিকে তাকায়৷ যাদের কাছে পুরুষ মানে আলাদা জাত তাদের বাড়তি কৌতুহল থাকবেই। দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি এক হবে এরকম কোনো যুক্তি নেই। তারপরও আমি রুমীর সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম৷ পুরুষ মানুষ তাদের পুরুষজাত ইগোর কারণে যেকোন সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পছন্দ করে। স্ত্রীর কথা শোনা মানে তাদের পুরুষত্বে আঘাত হানা অতএব এই ব্যাপারে তারা সদা সচেতন। নিজের ফোন তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোনো মেসেজ বা অচেনা নাম্বার পেলাম না। মেয়ে আমার কথা বলে ঠিকই নাম্বার ডিলিট করে ফেলেছে। ওর টেবিলের পাঠ্যবই থেকে শুরু করে গল্পের বই কিছুই বাদ দিলাম না। শেষে সোনালী-দুঃখ নামে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা রোমান্টিক উপন্যাস পেলাম।উৎসর্গপত্রে লেখা, প্রিয় অরুকে -D এই D টা কে ভেবে পেলাম না। ওর কোনো বান্ধবী হলে সরাসরি নাম লিখত, অক্ষর লেখার ঝামেলা করত না। মেয়েকে সেদিন কোচিং থেকে বাড়ি আনার সময় সন্দেহজনক কিছু দেখলাম না৷দুটো বান্ধবীর সাথে রাস্তায় গল্প করছে৷ আমায় দেখে আম্মু বলে চিৎকার করে উঠল।মেয়েকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে রিকশা করে বাড়ি ফিরছি। জিজ্ঞেস করলাম, -অরু, তোর কোচিং এর ছেলেদের সাথে কথা হয় না? -হয় তো মা, সাদিফ,আরমান আমার খুব ভালো বন্ধু৷ সাদিফ অবশ্য খুব দুষ্ট আমাকে ঝাসির রানী বলে খেপায়। হাসলাম। -দীপু নামে কেউ পড়ে? -দীপু! কই দীপু নামে তো কাউকে চিনি না । কেন মা? উত্তর দিলাম না। গলির মোড়ে কিছু বখাটে ছেলে মা-মেয়ে দুজনকে রিকশায় দেখে ফিসফিস করে কি যেন বলল, আর হাসছে৷ অরু এইরকম কারো সাথে মিশছে নাতো আমার বুকের ভেতরটা কেমন ছ্যাত করে উঠল ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অফসাইড

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now