বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প: অফিস কলিগ এখন বউ।
পর্ব:১
*
জীবন..... জীবন চলার পথে অনেক বাধা অনেক বিপত্তি পেরিয়ে শেষে পৌছাতে হয় লক্ষে। আমি কেনো এর ব্যতিক্রম হতে যাবো আমার ক্ষেত্রেও একই হয়েছে। বাংলাদেশ, এখানে চাকরি পাওয়া মানে সোনার হরিণ কাছে পাওয়া। লেখাপড়া শেষ করে ছুটতে হয় চাকরির পেছনে কিন্তু আমি করেছি তার ব্যতিক্রম কিছু। আমি নীল বাবা মায়ের দ্বিতীয়তম সন্তান। লেখাপড়া শেষ করে কয়েক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেছি কিন্তু চাকরি হয়নি। তাই আর চাকরির অপেক্ষায় না থেকে অল্প কিছু সঞ্চয় নিয়ে শুরু করেছিলাম ছোট একটা ব্যবসা, অনেক পরিশ্রম আর সাধনায় আজ আমি আমার সেই ছোট ব্যবসাকে কোম্পানিতে রুপান্তরিত করেছি। তবে আমার এই ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি আমার সাথ দিয়েছে শ্রাবনী, শ্রাবনী আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার প্রতি ওর বিশ্বাস ছিলো তাই হয়তো শুরু থেকেই ও আমার সাথেই ছিলো। এখানে কাজ করায় ওর বাবা মা যে বাধা দেয়নি এমনটা না, ওর পরিবারের বাধার পরেও ও আমার সাথ দিয়েছে, আমার ওপর এই বিশ্বাস রাখায় আমি ওর প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। কখনো ভাবিনি এতোদুর আসতে পারবো, আমি অফিসে বসে এসব ভাবতেছি এমন সময় শ্রাবনী এসে ডাক দিলো,
'
=> কিরে কি ভাবতেছিস এতো গভীরভাবে?
=> ও তুই? নারে তেমন কিছুই না।
=> কিছুতো একটা ভাবতেছিস, না কি আমায় বলা যাবে না?
=> আরে তোকে বলা যাবে না কেনো, তুই হলি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আমার সব কথাইতো তোর সাথে শেয়ার করি।
=> তাহলে এখন বলতে আবার এতো দ্বিধা করছিস কেনো?
=> আরে বিষয়টা তেমন কিছু না, আমি আমার অতীত নিয়েই ভাবতেছিলাম, ছোট একটা ব্যবসা শুরু করেছি আর আজ আমি এই পর্যায়ে।
=> দেখ, অতীত নিয়ে ভেবে আর কি হবে, তোর চেষ্টা আর পরিশ্রম আজ তোকে এখানে নিয়ে এসেছে।
=> তবে আমি তোর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ থাকবো, তুই সবসময় আমার সাথ দিয়েছিস আর আমায় ভরসা দিয়ে গেছিস।
=> আরে কি বলিস, তোর সাথে আমার সেই কলেজ লাইফ থেকে ফ্রেন্ডশীপ, তুই আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড আমি তোকে ছাড়ি কিভাবে বল, আর তোকে আমি মিছ করছিলাম তাই তোর সাথ দিয়েছি, সময়টাও ভালো কেটেছে আর কোম্পানিটাও একটা সুরক্ষিত স্থানে দারিয়েছে।
=> তবে তুই যাই বলিস তোর পরিবারের মানা সত্বেও তুই আমার সাথে ছিলি।
=> দেখ আমার পরিবার কি চেয়েছে আমি যেনো একটা ভালো চাকরি করি আর আমিতো এখন অনেক ভালো চাকরি করতেছি তাইনা, এই তুই বাদ দেতো এসব আজে বাজে কথা আর আজকে ক্লাইন্ট আসবে মিটিং এর প্রস্তুতি নিয়ে নে।
=> আমার প্রস্তুতি নিতে হবেনা প্রস্তুতি আপনা আপনি হয়ে যাবে।
=> কিভাবে?
=> আরে তুই আছিস না, তুই থাকতে আমার কোনো চিন্তাই নেই।
=> আহা, কি সুন্দর কইরা বলে দিলি যে তুই আছিস না, আমি আর পারবোনা বস, আমি অনেক করেছি এখন থেকে নিজেও কিছু কর।
=> আরে আমরা আমরাইতো তোর মানেতো আমারি তাই না?
=> রাখ তোর এসব কথা, অনেক বলেছিস কিন্তু আর এখন থেকে শুনছি না আমি এসব কথা।
=> শ্রাবনী তুই এমনভাবে বলতে পারলি? আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড?
=> দেখ আমায় ইমোশনালি ব্লাকমেইল করবি না, আমি অনেক ফেসেছি কিন্তু আর না।
=> আচ্ছা ঠিক আছে তোকে করতে হবে না আমি করতেছি। আজ বুঝতে পেরেছি অসময়ে কেউ পাশে থাকে না।
=> আচ্ছা ঠিক আছে এটাই শুধু আমি চুক্তি করবো এর পর থেকে কিন্তু তুই সব করবি।
=> ধন্যবাদ রে, আমি জানিতো তুই আমার কষ্টটা বুঝতে পারবি।
=> একদম এখন তেল দেবিনা, আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি তুই ফায়দা তুলছিস, আমি এখন গেলাম, ফাইল রেডি করতে হবে।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা রেডি কর।
=> তবে মনে রাখিস কিন্তু এটাই লাস্ট?
=> হ্যা মনে রাখবো।
'
শ্রাবনী চলে গেলো, এটাই লাস্ট বলতে বলতে কতোগুলো কাজ যে ও নিজেই করেছে এটা হয়তো নিজেও বলতে পারবে না। তবে এটাই একটা সুবিধা, ওর সামনে একটু মন খারাপের অভিনয় করলেই ব্যাস কাজ হয়েছে। একটুতেই ইমোশনাল হয়ে যায় ও, কি আর করার শ্রাবনীতো গেলো কাজ করতে, আমি আর কি করবো আমি বসে বসে অন্য কিছু কাজ সমাধান করে নিলাম। কিছুক্ষন পর মিটিংয়ে গেলাম। মিটিং শেষ করতে প্রায় রাত আটটা বেজে গেলো। মিটিং শেষ করে বাইরে আসতেই মায়ের ফোন,
'
=> হ্যা মা বলো?
=> কিরে বাবা এতো রাত হয়ে গেলো এখনো বাসায় আসলি না যে?
=> আমি একটা মিটিং ছিলো কেবল শেষ করলাম, কিছুক্ষন পর বাসায় আসছি।
=> আচ্ছা ঠিক আছে তারাতারি আসিস আর সাবধানে আসবি।
=> আচ্ছা ঠিক আছে মা।
'
আমি ফোন কেটে বাসায় যাওয়ার জন্য রেডি হলাম, বাইরে গিয়ে দেখি শ্রাবনী বসে আছে। আমার ওখানে যাওয়া বুঝতে পেরেই আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারছি ছেমরির ওপর আজকে চাপটা একটু বেশি পরে গেছে। আমি আর কম কিসে আমিও ওর রাগ শেষ করার কৌশল জানি। এতোবছরের ফ্রেন্ডশীপ কি এমনি এমনি না কি,
'
=> কি রে শ্রাবনী তুই আমার দিকে এভাবে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছিস কেনো?
=> এই তুই চুপ কর, যেদিনি মিটিং হবে তুই সব কাজ আমার ওপর চেপে দিয়ে রিলাক্সে থাকিস, আর আমি........
=> আরে তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড না, আর আমার জন্য এতোটুকু কাজতো করতেই পারিস, আচ্ছা ঠিক আছে চল আজকে তোকে নিয়ে আমার একটা ফেভারিট রেস্টুরেন্টে যাবো।
=> না আমি যাবোনা, তুই প্রত্যেকবার আমায় এরকম সামান্য ঘুষ দিয়ে আমার সততাকে কিনে নিস, আর আমার দ্বারা তোর সব কাজ করিয়ে নিস। কেনো নিজের অফিস নিজে বেশি কাজ করতে পারিস না?
=> একটু আগে তুই কি বলেছিলি? এটাই লাস্ট মিটিং তোর, আরে চিন্তা করিস কেনো সামনে থেকেতো আমি আছি। আর তোকে কাজ দেওয়ার সবচেয়ে বড় লজিকো আছে।
=> কি এমন লজিক বল শুনি?
=> আচ্ছা বল কলেজ ভার্সিটিতে কে বেশি ভালো স্টুডেন্ট ছিলো?
=> অবশ্যই আমি, তুইতো আমার টুকে পাশ করেছিলি।
=> হ্যা, এই কারনেইতো তোকে কাজটা দেই কারন তুই আমার চেয়ে বেশি বুঝিস।
=> হয়েছে আর বলতে হবেনা, আমি কিন্তু সামনেরবার থেকে আর পারবোনা।
=> আচ্ছা ঠিক আছে তোকে পারতে হবেনা এখন চল অনেক রাত হয়েছে, তোর বাবা মা আবার চিন্তা করবে।
=> আমার বাবা মা চিন্তা করবে না কারন ওরা জানে আমি একমাত্র তুই হারামজাদার সাথেই আছি।
=> থাক আর বলতে হবেনা এখন চল।
=> আচ্ছা ঠিক আছে চল।
'
আমি শ্রাবনীকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম, ওখান থেকে খেয়ে আমি ওকে নামিয়ে দিয়ে সোজা বাসায় চলে গেলাম। বাসায় কলিং চাপ দিতেই মা এসে দরজা খুলে দিলো,
'
=> কিরে বাবা আজ আবার কিসের এতো মিটিং ছিলোরে যে এতো দেরি হলো?
=> নতুন ক্লাইন্ট ছিলো মা তাই দেরি হয়েছে।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা এখন ফ্রেস হয়ে খেতে আয়।
=> মা এখন খেতে ইচ্ছে করছেনা, সারাদিন অনেক কাজের চাপ ছিলো তাই মাথাটা খুব ব্যথা করতেছে।
=> কে কাজ করেছে তুই? তুই বললি আর আমি বিশ্বাস করলাম, তুই আজকেও শ্রাবনীকে দিয়েই কাজ করিয়েছিস এটা আমি ভালোই বুঝতে পারছি।
=> কি যে বলোনা মা, আমি কেনো ওকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেবো?
=> থাক আর বলতে হবেনা, আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি কে কাজ করে আর কে করেনা। আচ্ছা ঠিক আছে তুই রুমে যা আমি তোর মাথায় তেল লাগিয়ে দিচ্ছি দেখবি মাথা ব্যথা ভালো হবে।
=> মা আমি মাথায় তেল লাগাবো না, খুব অসয্য লাগে আমার।
=> একদম চুপ কর, যা বলেছি তাই কর।
'
কি আর করার এই হলো মা, আমি যখন পড়ালেখা করতাম তখন গ্রামে ছিলো এখন বিজনেস করি তাই পরিবারকে এখানে নিয়ে এসেছি। যাইহোক আমি বিছানায় শুয়ে আছি একটু পর মা এসে আমার মাথা টিপে দিচ্ছে আর বলতে শুরু করলো,
'
=> নীল তোকে একটা কথা বলার ছিলো?
=> হ্যা মা বলো কি বলবা?
=> অনেকদিনতো হয়ে গেলো আর বিয়ের বয়সতো পার হয়ে যাচ্ছে এবার একটা বিয়ে করে ফেল।
=> মা এখন এসব বিয়েরকথা আমায় বলোনাতো, আমার এসব একদম ভালো লাগেনা।
=> এটা কেমন কথা, বিয়ে করতে হবেনা তোর একটা নিজের পরিবার হবেনা?
=> আমি কখন বলেছি যে আমি বিয়ে করবোনা, এখন এসব ভালো লাগে না, আর কিছুদিন যাক তারপর ভাববো।
=> দেখ তুই যেটা ভালো বুঝিস, ভেবেছিলাম জীবনের শেষ কিছুদিন নাতি নাতনির সাথে একটু সময় কাটাবো বউমাকে একটু দেখবো সেটাও মনে হয় হবেনা।
=> মা, এসব কি বলছো তুমি? কয়েকদিন যাক তারপর বলবো। এখন হয়েছে যাও তুমি ঘুমাও,
=> আচ্ছা ঠিক আছে আমি গেলাম, আর হ্যা উঠে খেতে আয় না খেয়ে ঘুমাবি না।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যাও আমি আসতেছি।
'
মা চলে গেলো, বলছে আমার বিয়ের কথা, আমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে, কি এমন বয়স হয়েছে আমার, বাচ্চা একটা ছেলে আমি আর এই সময় বিয়ের কথা বলছে। যাইহোক আমি উঠে খেয়ে এসে শুয়ে শ্রাবনীর কথা ভাবছি। মেয়েটার ওপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে আজকে মনে হয় খুব টায়ার্ড, ঘুমিয়ে গেছে মনে হয় তাই আমি ওকে ডিস্টার্ব না করে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম থেকে উঠল। ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে আমি অফিসে চলে গেলাম। আমার রুমে যাওয়ার পথে একবার শ্রাবনীর দিকে তাকালাম, দেখলাম মন খারাপ করে আছে লেডিস, আমি রুমে গিয়ে শ্রাবনীকে আমার রুমে ডাকলাম, একটু পর শ্রাবনী চলে আসলো,
'
=> হ্যালো মিছ. শ্রাবনী কেমন আছেন আপনি?
=> এই কুত্তা পার্ট নিচ্ছিস তুই আমার কাছে? তোর কারনে আমার কাল যে অবস্থা হয়েছে জানিস?
=> ওহ ভেরি ব্যাড, তো কি হয়েছে আপনার?
=> দেখ এরকম ভাব দেখানো বন্ধ কর না হলে কিন্তু অফিস স্টাফের সামনে কলিগের মাইর খাবি।
=> থাকরে বোন আমার মান সম্মানটা প্লাসটিক করার দরকার নেই তারচেয়ে বরং এমনিতেই কথা বলি, আচ্ছা বল কি হয়েছে।
=> কালকে বাসায় গিয়ে বাবা মায়ের বকা খাইছি প্রথম আর দ্বিতিয়ত মাথা ব্যথায় মরে যাচ্ছিলাম।
=> ওহ, সরি রে, আমার জন্যই এরকম হয়েছে।
=> থাক এখন আর এতো ভাব নিতে হবেনা। কোনো কাজ থাকলে বল না হলে আমি চলে যাই।
=> সত্যি কাজ করবি? আচ্ছা তাহলে কালকের মিটিংটা.............
=> এই না, একদম মিটিং এর নাম মুখে নিবি না, তোর মিটিং তুই সামলাবি আমি পারবোনা।
=> আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে তুই যা আমি তোরে পরে জানাবো।
=> আচ্ছা ঠিক আছে বাই।
'
শ্রাবনী চলে গেলো, না এভাবে হবেনা ওকে অন্যভাবে দুর্বল করতে হবে। এই মাইয়া যদি এবার আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে তাহলে আমি পুরাই শেষ। ভাবলেছি কি করা যায়.... এই ভাবনার মাঝে মায়ের ফোন আসলো,
'
=> হ্যা মা বলো?
=> এই নীল তোর অফিসে ভালো কোনো পোস্ট খালি আছেনা?
=> আছে, কিন্তু কেনো?
=> আমার এক বান্ধবীর মেয়ে, লেখাপড়া শেষ করেছে এখন চাকরি করবে তাই আমি বললাম তোর অফিসেই চাকরি করতে।
=> ও আচ্ছা, বলেছো যখন তখন কালকে আসতে বলো,
=> আচ্ছা ঠিক আছে।
=> আম্মু কি নাম ওনার মেয়ের?
=> ও, ওর মেয়ের নাম হিমু.................
'
চলবে............
'
নতুন গল্প শুরু করলাম। কেমন হচ্ছে জানাবেন। ভালো লাগলে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now