বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুভ এক সরকারি
ব্যাংকের অফিসার ! ওর
বদলির খবরটা এলো !
আদ্রাতে পোস্টিং ছিল !
ওদের বাড়ি বাঁকুড়া
থেকে যাতায়াত করতে
পারতো ! বদলির খবরটা
পেয়ে মনটা খারাপ
হয়ে গেলো ! কলকাতার
বড়ো বাজারে পোস্টিং
...সাতদিনের মধ্যে
জয়েন করতে হবে !
কবিতার সঙ্গে ওর
বিয়ে হয়েছে , বছর
তিনেক ! মায়ের
বারবার অনুরোধ
সত্ত্বেও , ওরা
বাচ্চাকাচ্ছা এখনই
চায়নি ! বাঁকুড়ার শহর
থেকে একটু দূরে
গ্রামাঞ্চলের দিকে
ওদের মাঝ বয়সী বড়ো
দোতলা বাড়ি ! বাড়িটা
বাবা আর কাকার নামে !
বাবা বছর দশেক হলো
মারা যাওয়াতে মায়ের
নামে করে দেওয়া হয় !
শুভ আর তার মায়ের
সংসারে ....মা নিজেই
দেখেশুনে , বাঁকুড়ারই
মেয়ে কবিতাকে , শুভর
বৌ করে নিয়ে এলো !
সেইজন্যে মায়ের ওপর
কবিতার একটা আলাদা
টান !
শুভ মায়ের পছন্দেই মত
দিয়েছিলো ! কেননা
বাবা মারা যাবার পর ,
দুজনেই দুজনকে নিয়ে
স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ , সব
কিছু দেখতো ! বাড়ির
নিচের তলায় কাকা ,এক
ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে
তার পরিবার ! ওপর
তলায় ওরা ! সম্পর্কও
ভালো কাকা কাকিমার
সাথে !
কবিতাও এই সংসারে
এসে দুদিনেই মানিয়ে
নিয়েছে ! কবিতার রূপ
গুণ দেখে , শুভ মায়ের
প্রশংসা করে মনে মনে !
দোতলায় বড়ো বড়ো
তিনটে শোবার ঘর,
বাথরুম রান্নাঘর ,
বিরাট দালান ...ওদের
তিনজনের পক্ষে মেলা
জায়গা ! কাকারও একই
ভাগ ! বাড়ির পাশে বড়ো
পুকুরটারও দুটো অংশ !
দাদু নিজে দাঁড়িয়ে
থেকে সবকিছু করেছিল !
শুভ রাত্রে অফিস থেকে
ফিরে খেতে বসে ,
বদলির খবরটা দিলো !
মা ছন্দা দেবী
তরকারি দিতে দিতে
বললো
" তুই কি খবর দিচ্ছিস
শুভ ? " মায়ের চোখ
কপালে !
" চেষ্টা করেও আটকানো
গেলো না " রুটি ছিঁড়তে
ছিঁড়তে ও বললো ! "
কলকাতার বড়ো বাজার
ব্রাঞ্চে পোস্টিং
দিয়েছে ! " -- কবিতা
বললো ,
" ভালোই হলো , মায়ের
অনেকদিনের শখ
কালীঘাট ,
দক্ষিনেশ্বর , বেলুড়মঠ
দেখার ....এবার সব সাধ
মিটবে "
" মাথায় থাক আমার
ওসব সাধ " মাংসের
বাটিটা শুভর দিকে
এগিয়ে দেয় ! " শ্বশুরের
ভিটে ছেড়ে আমি
কোত্থাও যাচ্ছি না " !
" তার মানে ? তুমি
এখানে একলা থাকবে
নাকি ?" শুভ অবাক হয় ! "
বেশ ! তাহলে তোমার
বৌমাও এখানে থাক "
" থাম দিকিনি ! তোকে
ওখানে রান্না করে
খাওয়াবে কে ? নিজের
হাতে তোকে কোনদিন
কিছু করতে দিয়েছি
আমি ? " ছন্দা দেবীর
গলায় কান্না জড়ায় !
" ...আর তোকেই যখন ছেড়ে
থাকতে হবে ! " আর কথা
বেরোয় না !
শুভ জানে , মা দোটানায়
পড়ে গেছে ! বাবার
স্মৃতি একদিকে আর ও
একদিকে...কাউকে
ছাড়তে পারছে না !
বেশির ভাগ মায়েরই
এই দশা হয় !
ওরা যাবার আগে,
রান্নার লোক সনকাকে
ঠিক করলো ! কাকা -
কাকিমাও বললো ,
আমরাতো রয়েছি ! আর
কলকাতা , তিন চার
ঘন্টায় চলে আসা যায় !
যাবার দিন, সে এক
কান্ড ! মা আর ছেলেকে
দেখলে মনে হচ্ছে ,
চিরদিনের জন্যে
ছাড়াছাড়ি হতে
চলেছে ! দুজনে জড়িয়ে
ধরে কি কান্না !
কবিতার চোখেও জল !
ওরা বাড়ি থেকে
বেরোলো, কাকার ছেলে
রাজাও চললো স্টেশনে
তুলে দেবার জন্যে
l....তখন কি শুভ বা কবিতা
ভাবতে পেরেছিলো ? এই
বদলীটাই ওদের জীবনে
কালো দিন হিসেবে
লেখা হয়ে থাকবে ,ll
কলকাতায় এসে কবিতার
ভালোই লাগলো l শুভ
ব্যাংকের যে টু রুমের
কোয়ার্টারটা পেয়েছে
, খুব একটা খারাপ নয় l
দিন কয়েক ওদের মনটা
খারাপই ছিল l কবিতা
জানে, শুভর মনটা খুবই
খারাপ l তবু প্রতিদিন
রাত্রে ওরা ছন্দা
দেবীর সঙ্গে ফোনে
কথাবার্তা বলে !
ওদের এখানে আসার এক
মাসের মধ্যেই , রাত্রে
সেই অশুভ ফোনটা এলো l
শুতে যাবার আগে ফোন
ধরলো শুভ... l কাকার গলা
ভেসে এলো , মা দোতলার
সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে
একদম নিচে পড়েছে !
অবস্থা খুবই আশঙ্কা
জনক l
" কি বলছো কি ? এইতো
খানিক আগে কথা
বললুম..." ওর চোখে
অন্ধকার ! কবিতা বুঝতে
পারছে কিছু একটা
অঘটন ঘটেছে l কাকা
বলে চলেছে..সনকা
রান্নাঘরে ছিল , ফোন
নিয়ে কথা বলতে বলতে
নিচে নামার সময় -- এই
কান্ড ঘটে ! সনকাই
দৌড়ে এসে আমাদের
খবর দেয় l
" এখন কি অবস্থা ? "
শুভর কথা ভেঙে যাচ্ছে
,l
" নার্সিং হোম থেকে
ফোন করছি l " কাকা একটু
থামলো l মনে হলো
গুছিয়ে নিচ্ছে কতখানি
বলা ঠিক হবে ? মায়ের
মুখটা শুভর চোখের
সামনে ভেসে উঠলো l
ইস, তার সঙ্গেই কথা
বলতে বলতে এই
দুর্ঘটনা ঘটলো l
" শোন, তুই চেষ্টা কর
যাতে কালকে আসতে
পারিস l" শুভ ,ক্যাশ কি
হোল্ড করছে , তাছাড়া
কাল ব্রাঞ্চ ইন্সপেকশন
হবে....রিজিওনাল অফিস
থেকে l -- চুলোয় যাক, যা
হোক একটা ব্যবস্থা
করে ...কবিতাকে নিয়ে
বাঁকুড়া যেতে রাত হয়ে
যাবে !
" আমি যত শিঘ্রী পারি
আসছি, তুমি শুধু বলো,--
মা এখন কি অবস্থায়
আছে ? প্লিজ কিছু লুকিও
না l " মনে হচ্ছে ও
কেঁদে ফেলবে ! --
কবিতা কথা শুনে বুঝছে
মায়ের কিছু একটা
হয়েছে l
" ডাক্তারের কথা
অনুযায়ী....পাঁজরে হাড়
ভেঙেছে , মাথাটাতেও
বড়ো চোট পেয়েছে l "
পাশ থেকে কেউ কিছু
বলাতে কাকা চুপ করে
গেলো " তুই তো জানিস,
বৌদি কি রকম তোকে
চোখে হারায় ! যত
তাড়াতাড়ি পারিস আয়
"!
ফোনটার দিকে শূন্য
দৃষ্টিতে এক মিনিট
তাকিয়ে কবিতাকে সব
বললো ! কবিতার চোখেও
জল এসে গেলো ! কতবার
মাকে বলা হলো এখানে
চলে আসার জন্যে ,
তাহলে এই দুর্ঘটনা
ঘটতো না ! ....বিধির
বিধান কেউ কোনদিন
খন্ডাতে পারে ?
শুভ ঘড়িতে দেখলো...রাত
এগারোটা বাজে l
ম্যানেজার বক্সীকে সব
জানালো ও l সকালে
চাবি নিয়ে ব্রাঞ্চে
আসতে বললেন, তারপর
ছুটির বন্দোবস্ত করে
দেবেন !
পরের দিন রাত্রে ওরা
বাঁকুড়া পৌঁছলো , স্টেশন
থেকে সোজা নার্সিং
হোমে l মাকে দেখে
দুজনের চোখের জল
সামলানো গেলো না l
ভিজিটিং আওয়ার
পেরিয়ে যাওয়া
সত্ত্বেও বিশেষ অনুমতি
ছিল ,l ছন্দা দেবীর
সারা শরীর ব্যান্ডেজ
আর প্লাস্টারে বাঁধা l
মনে হচ্ছে একটা
মমিকে শুইয়ে রাখা
হয়েছে ! শুধু মুখটুকু খোলা
l ডাক্তার লাহিড়ী শুভর
জন্যে ওয়েট করছিলেন l
" দেখুন মিস্টার
ব্যানার্জী " শুভর দিকে
তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে
বললেন " পেশেন্টের যা
কন্ডিশন , কলকাতা
নিয়ে গিয়ে কোন লাভ
হবে না l ....দেহের
বেশির ভাগ হাড় ভেঙে
গেছে l সব থেকে চোট
পেয়েছে মাথায়, ব্লাড
ক্লড হয়ে গেছে l কণ্ঠ
নালিও ড্যামেজ হয়েছে
l আমার মনে হয় , বড়জোর
আজকের রাত টা.." l
শুভ আর কবিতা
ডাক্তারের শেষ বাণী
শুনলো l কতই বা বয়স
হবে ছন্দা দেবীর ?
কাকিমা শুভর পিঠে
হাত রাখলো l
" তোরা দিদির পাশে
গিয়ে একটু বোস l শেষ
দেখাটা দেখে নিক "
চোখে আঁচল চাপা দিলো l
-- শুভর মাথাটা একদম
ধোঁয়াশা হয়ে গেছে l
চোখের সামনে কি
ঘটছে যেন বোধগম্য
হচ্ছে না !
ও পায়ে পায়ে মায়ের
খাটের সামনে এগিয়ে
গেলো l ওকে দেখে ছন্দা
দেবীর চোখ দুটো
কাঁপলো l ঠোঁট দুটোও
থরথর করে কেঁপে উঠলো l
মুখ দিয়ে একটা
গোঙানির শব্দ বেরিয়ে
এলো... l মনে হচ্ছে ওকে
কিছু বলতে চাইছে l
...শুভ ওর মুখটা মায়ের
মুখের কাছে নিয়ে এসে
বললো .." তুমি কি কিছু
বলবে ? " কান্নার
ডেলাটা গিললো .. l দুটো
চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে
মায়ের l মনের ভেতর কি
হচ্ছে কে জানে ? শুভর
ডাক্তারের কথা মনে
পড়লো...কণ্ঠনালী ভেঙে
গেছে ! ...কথা বলার
ইচ্ছে থাকলেও বলতে
পারবে না l কত কষ্ট
পাচ্ছে মা l
হঠাৎ ওর কানে মায়ের
ফিসফিসানি কণ্ঠস্বর
ভেসে এলো " আমি এবার
যাই মানিক ...তোর বাবা
এসে দাঁড়িয়ে আছে !
এবার তুই আমায় বিদায়
দে সোনা ...নাহলে তোর
জন্যে এখানে আটকা
পড়ে থাকতে হবে..." কথা
গুলো ওর কান দিয়ে ঢুকে
মাথায় ধাক্কা দিলো l
মাথাটা তুলে অবাক
বিস্ময়ে মায়ের মুখের
দিকে তাকালো....চোখ
দুটো ততক্ষনে স্থির
হয়ে গেছে l নার্স
ডাক্তারকে খবর
দেওয়াতে , নাড়ি দেখে
বললেন......এক্সপায়ার l
এবার শুভর গলা চিরে
...দুঃখ , কান্না ,
হারানোর ব্যাথা
মিলেমিশে একটা
চিৎকার বেরিয়ে এলো
"না.....আমাকে ছেড়ে তুমি
কোথাও যেতে পারবে
না " মায়ের মৃতদেহটা
দুহাতে আঁকড়ে ধরে
বাচ্ছা ছেলের মতো
কান্নায় ভেঙে পড়লো l
মায়ের মৃতদেহ নিয়ে
যখন শ্মশানে এলো, তখন
সকাল হয়ে গেছে l
মায়ের খাটের কাছে
একা শুভ বসে , বাকিরা
অন্যান্য কাজে ব্যস্ত l
ছন্দা দেবীর প্রাণটা
মনে হয় , চোখ দিয়েই
বেরিয়েছিল ! তাই চোখ
দুটো আধ খোলা ! ওর মনে
হচ্ছে , মা যেন এখনো
তাকে দেখছে l
ও লক্ষ্য করলো
...ডানদিকে হেললে ,
মায়ের চোখ ওর
দিকে...বাঁ দিকে
হেললেও তাই. l এটা কি
ওর মনের ভুল ?
দাহ সেরে বাড়িতে
ঢুকে...এই প্রথম অনুভব
করলো, মা নেই....বাড়ির
সর্বত্র তার চিহ্ন
উপস্থিত , শুধু মানুষটাই
নেই ! মনটা হাহাকার
করে উঠলো l
সন্ধ্যের দিকে ওরা
দুজন একটু ফাঁকা হলো l
গতকাল রাত থেকে
তাদের ওপর দিয়ে
চলেছে...মানসিক
, ারীরিক বিপর্যয় l
আচমকা আসা এই
দুর্ঘটনা ওদের দুজনকে
একদম কমজোরি করে
দিয়েছে l কাছা গলায়
শুভ দালানের চেয়ারে
বসেছিল l মায়ের শেষ
ফিসফিসানি কণ্ঠস্বর
এখনও ওর দুকানে
বাজছে....আমায় যাবার
অনুমতি দে সোনা...তোর
বাবা দাঁড়িয়ে আছে !
....সত্যি কি মা কথাগুলো
বলেছিলো ? না , ওর
মনের বিভ্রম ? কবিতা
এসে ওর পাশে বসলো l
কোরা লাল পেড়ে শাড়ি
ওর শরীরে l ভেবে
পাচ্ছে না, কিভাবে
স্বামীকে সান্তনা
দেবে ? -- ওর ভাইও
এসেছিলো l কাল বাবা
মা আসবে l ও জানে --
একমাত্র সময়ই হলো
মোক্ষম ওষুধ ! মনটাকে
ঘোরাবার জন্যে বললো...
" তুমি একটু শুলে না
কেন ? " -- ও কোন উত্তর
না দিয়ে শুধু মাথা
ঝাঁকালো l এই সময়
রান্নার বউ , সনকা এসে
বললো...
" তোমাদের একটু করে
চা করে দোব ? " দুজনেই
খেতে রাজি হলো ! ও
রান্নাঘরের দিকে চলে
গেলো l চারিদিকে
সন্ধ্যের আঁধার নামছে l
পুরো বাড়ি নিশ্চুপ !
নিচে কাকাদেরও কোন
সাড়া শব্দ নেই...হঠাৎ
তীব্র ভয়ার্ত গলার
চিৎকারে ওরা চমকে
উঠলো !
হাঁফাতে হাঁফাতে ছুটে
এলো সনকা l ওরা দেখলো
ওর লালচে মুখে হাজার
ভয়ের ছাপ ! রীতিমতো
কাঁপছে l
" কি হয়েছে ? " ওদের
মুখে চিন্তার রেখা l
রান্না ঘরের দিকে
বড়ো বড়ো চোখ মেলে
বললো " ..বড়ো মা ,
রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে
আছে " কবিতার মেরুদন্ড
বেয়ে একটা হিম শীতল
স্রোত বয়ে গেলো ! মা
কে , সনকা বড়ো মা বলে
ডাকতো ! ওর চিৎকার
শুনে কাকারাও ওপরে
উঠে এসেছে l
" কি আজে বাজে বলছো
তুমি ? " শুভর গলায়
রাগের ছাপ l
" বিশ্বাস করো
দাদাবাবু , এতটুকু
বানিয়ে বলতেছি না !
পুকুর ধারের
জানালাটার গরাদ ধরে
, আমার দিকে তাকায়ে
ছিল " ও জোর দিয়ে
বললো l
ওরা সবাই রান্নাঘরে
এলো...কোথায় কি ?
বিলকুল সব ফাঁকা !
সনকার চোখে মুখে
তখনও ভয়
বর্তমান ! ...কাকিমা মুখ
খুললো.. ," ও তোর চোখের
ভুল ! একি অপঘাতে
মরা ? তাছাড়া ঠাকুর
মশাই পাঁজি দেখে বলে
গেল...দিদিভাই কোন
দোষ পাইনি " l
সনকার মুখ
ফ্যাকাশে...মনে হচ্ছে
এদের কোন কথাই ওর
কানে ঢুকছে না l ও
ভয়চকিত গলায় বললো "
আমাকে কেউ একটু বাড়ি
পৌঁছে দেবে ? " কাকার
ছেলে রাজা এগিয়ে
এলো l
" তুমি তো শুনেছি , ক্লাস
এইট পর্যন্ত পড়েছো ! এই
সন্ধ্যে বেলা থেকেই
ভূত দেখতে শুরু করেছো ?
" মায়ের সন্মন্ধে এইসব
কথা সহ্য করতে পারলো
না l
" প্লিস স্টপ , তোমরা
এসব কথা থামাও l ভালো
লাগছে না শুনতে " ---
সবাই রান্নাঘর থেকে
বেরিয়ে এলো l -- রাজা
বললো " আমি যাচ্ছি " l
যাবার আগে কাকিমা
নিচু গলায় সনকাকে
বললো " তুই সকালের
দিকটা করে আয় , ওরাতো
হবিষ্যি
করছে...টুকিটাকি কাজ
একটু করে দিস এই কটা
দিন l আর এসব কথা
পাঁচকান করিস না " ও
ঘাড় নেড়ে চলে গেলো l
" তোদের চা আমি নিচ
থেকে করে পাঠিয়ে
দিচ্ছি " ওরা দুজন ঘরে
এসে বসলো l কবিতা
জানলা দিয়ে বাইরের
অন্ধকারের দিকে
তাকালো l ....ওর মন
বলছে, সনকা মিথ্যে
বলছে না ! তার প্রমাণ
ওর চোখ মুখের ভাষা !
তাছাড়া খামোকা
মিথ্যে বলেই বা ওর
লাভ কি ??
....সন্ধ্যে বেলা ওই
ঘটনা ঘটে যাবার পর,
সবাই চুপচাপ হয়ে
গেছে l যে যার মনে
বিভিন্ন চিন্তা করে
চলেছে l
রাত্রে দুজনে শুয়ে
পড়েছে l কাল থেকে
আবার নেমন্তন্ন করার
কাজ শুরু করতে
হবে ! ...শুভ মন থেকে
বাজে চিন্তা গুলো
তাড়াবার চেষ্টা করে
চলেছে l ও কবিতার
দিকে তাকিয়ে বুঝলো,
ঘুমিয়ে পড়েছে l
কিন্তু কেন ওর চোখে ঘুম
নেই ? সনকার কথাটা,
কবিতা মনে হয় কিছুটা
বিশ্বাস করেছে ! ওর
চোখ মুখ দেখে মনে হলো
l কই শুভ তো কিছু
দেখলো না ? মা তো
প্রাণের থেকেও তাকে
ভালোবাসে ? তবে কি...ও
অনুমতি দেয়নি বলে , মা
যেতে পারছে না ??
প্রশ্নটা ওর মাথায়
হঠাৎ ঘুরপাক খেতে শুরু
করলো ....l বুঝলো ঘুম হবে
না !
বিছানা ছেড়ে উঠলো l
রাত বারোটা বাজতে
চললো ! পায়ে পায়ে
বারান্দায় বেরিয়ে
এসে দাঁড়ালো l
গাছপালার মাঝখান
দিয়ে...পুকুরটার কালো
জল চোখে পড়ছে l
এইসময় সুন্দর একটা
ধূপের গন্ধ নাকে এসে
লাগলো l পিছন ফিরে
মায়ের ঘরটার দিকে
দেখলো l দরজাটা
খোলা...একটা নীলচে
ছোট আলো জ্বলছে l
মায়ের ছবিটা
টেবিলের ওপর বসানো
...সামনে প্রদীপটা
দপদপ করে জ্বলছে ! ছোট
একটা পেতলের থালায়
দুটো মিষ্টি আর জল
রাখা l
সন্ধ্যের সময় কবিতা
এসব করে গেছে l এবার
মনে নতুন চিন্তার উদয়
হলো...তাই যদি হয় ? ছ
ঘন্টা বাদে ধূপের গন্ধ
ও পাবে ? মায়ের ঘরটা
হঠাৎ ওকে আকর্ষণ
করতে লাগলো !
আধো অন্ধকারে এসে
ঢুকলো মায়ের ঘরে l
...পুরোনো কত কথা ভিড়
করে এলো, চোখ ছলছল
করে উঠলো l ছবিই দিকে
তাকিয়ে রইলো.... l খুট
করে একটা শব্দে
বর্তমানে ফিরে এলো l
এদিক ওদিক
তাকালো...নতুন করে
ধূপের গন্ধটা পেলো !
....কানের পাশে মায়ের
সেই না ভোলা মিষ্টি
স্বর..." সোনা , অনেক
রাত হয়েছে...শুয়ে পড় " l
চমকে উঠলো ...
" মা...তুমি !! " ওর গায়ের
রোমকূপগুলো খাড়া হয়ে
গেছে l --- কোন উত্তর
পেলো না l ...কানে এলো ,
বাগান থেকে অন্ধকারে
ভেসে আসা তক্ষকের
ডাক !
ঘরে ফিরে আসতেই
কবিতার ঘুম জড়ানো
গলার আওয়াজ পেলো "
এতো রাত্তিরে কোথায়
গেছিলে ? "
" মায়েররে "
" তার মানে ? " ওর
বুকটা এক অজানা
আশংকায় দুলে উঠলো !
" ...সারাদিন পরিশ্রম ,
চিন্তা , তারওপর এই
রাত দুপুরে না ঘুমিয়ে..."
কথা শেষ করলো না l
" সনকার কথা মনে হয়
ঠিক ! ....মা আমাদের
ছেড়ে এখনও যেতে
পারেনি... "l কবিতা উঠে
বসলো l
" ও রকম লাগে....সারাক্ষ
ন চিন্তা করছো " শুভ
প্রথম দিন থেকে...একটু
আগের ঘটনা পর্যন্ত
বললো l একটা অচেনা
এগিয়ে আসা বিপদ ,
কবিতার মনের মধ্যে
বাসা বাঁধলো l
শুভ শুয়ে বললো " তোমার
সনকার ঘটনাটা কি
মনে হয় ? "
" কি বলি বলতো " ও শুভর
মাথায় হাত রাখে l "
তবে ও কিছু একটা
দেখেছে...কেননা ওর
চোখ মুখ সে কথা জানান
দিচ্ছিলো ! "
" তবে কি মা...আমার
অনুমতির অপেক্ষায়
দাঁড়িয়ে আছে ? " --
অস্ফুস্ট কণ্ঠ ! " শ্রাদ্ধ
শান্তির পরেও কি
আত্মা ভালোবাসার
মানুষকে ছেড়ে যেতে
পারে না ? " যেন
নিজেকেই প্রশ্ন করছে l
কবিতা মৃদু স্বরে বললো
" কি জানি ? তবে
আজকাল এই ধ্যান
ধারণা অনেকটা বদলে
গেছে l শ্রাদ্ধ বাড়িতে
সেই শ্রদ্ধা , দুঃখ ,
সমবেদনা কোথায় ?
সেখানেও শুরু হয়েছে
দেখাবার
প্রতিযোগিতা l
মানুষটা বেঁচে থাকতে
যে সন্মান
পায়না...মরার পর কত
আদিখ্যেতা দেখায় l
আস্তে আস্তে ওদের
চোখে ঘুম নেমে আসে l ....
কিন্তু , সকালে যখন
সনকা এসে তার
রাত্রের ঘটনা
বললো...তখন ওরা আর
সেইভাবে প্রতিবাদ
করতে পারলো না.....ll
.....আজ কাকার সঙ্গে
পাড়ার কয়েকটা
বাড়িতে নেমন্তন্ন
করতে যেতে হবে l
সকালেই সনকা এসেছে,
ওদের দুজনকে চা করে
দিলো l ওরা দেখলো
এখনো ও ভয়ে সিঁটিয়ে
আছে ! চা দিতে এসে ও
দাঁড়ালো l
" দাদাবাবু, একটা কথা
ছিল " শুভ ওর মুখের
দিকে তাকালো l সনকার
অবস্থা বিশেষ ভালো
নয় l বর জোগাড়ের কাজ
করে, আর একটা
ছেলে..সে সারাদিন
জুয়া, নেশা ভাঙ করে
বেড়ায় l
" -- আপনারা তো এসব
মিটলেই কলকাতা চলে
যাবেন ..l তাছাড়া
রান্নার কাজ এখন
হচ্ছে না , হবিষ্যি
চলছে l তাই বলছিলাম
কি, আমারে ছুটি দে
দ্যান l একটা নোতুন কাজ
পেয়েছি...কাল থেকে
সেখানে করবো l "
কবিতা বললো " বুঝেছি ,
তোমার মন থেকে এখনও
কালকের ঘটনা দূর
হয়নি..l " ও চুপ করে
রইলো ! শুভ বললো..
" তুমি যেতে চাইলে ,
আমরা আটকাবো না l তবে
মায়ের কাজটা মিটে
গেলে...যেতে পারতে l "
-- কি একটা বলতে
গিয়েও ও ঢোঁক গিললো l
কবিতার চোখ এড়ালো
না.... l
" তুমি আর কিছু বলতে
চাও ? -- বলতে পারো l "
ওর চোখে ভয়ের আভাস
দেখা দিলো l
" তোমরা বিশ্বাস করবে
কি না
জানিনা...বড়োমার হাত
থেকে বাড়িতে গিয়েও
নিস্তার নেই ! জানিনা
কেন উনি আমার পিছনে
ছায়ার মতো লেগে
আছেন ? আমি কি ক্ষেতি
করেছি ? " সনকার মুখে
আতঙ্কের কালি l শুভর
চোখে প্রশ্ন l
" কি বলতে চাইছো...খুলে
বলো l " ও এদিক ওদিক
তাকিয়ে বললো...
" রাতে গিয়ে শুতে
যাবার সময়...আমাদের
ঘরের পোষা
বেড়ালটাকে , দাওয়ায়
দুটি ভাত খেতে
দিয়েছি l হঠাৎ দেখি,
বিড়ালটা দর্মা ঘেরা
রান্নাঘরটার দিকে
তাকিয়ে..মুখ থেকে
একটা গড়গড় শব্দ বার
করছে ওই অন্ধকারে l ওর
গায়ের সব লোম খাড়া
হয়ে গেছে ! লেজটা ফুলে
উঠেছে....l " ও আঁচল দিয়ে
মুখ মুছলো l শুভ চায়ে
ঘনঘন চুমুক দিচ্ছে l
কবিতার চোখে মুখে
আগ্রহ l
" একে সাঁঝের বেলায়
ওই ঘটনা ঘটেছে
..শুনেছিলাম , কুকুর
বেড়াল ...নাকি ওদের
উপস্থিতি বুঝতে পারে,
দেখতে পায় l ভয়ে ভয়ে
রান্না ঘরের দিকে
তাকাতেই...আমার গা
হাত পা ঠান্ডা হয়ে
যাবার যোগাড় l " কথা
বলতে গিয়ে ও
হাঁফাচ্ছে...l
" ...কি দেখলে ?? " --
দুজনেই বলে উঠলো l
" ...দরমার বেড়া তে পিঠ
ঠেস দিয়ে বড়ো মা
দাঁড়িয়ে আছে l সারা
শরীরে ব্যান্ডেজ
বাঁধা ! চোখদুটো থেকে
রাগের হলকা বেরোচ্ছে
l আমি দু পা ফেলে
কোনোরকমে ঘরে ঢুকে,
দড়াম করে দরজা দিয়ে
দি l ...বাইরে থেকে
কানে আসে , বেড়ালটার
মিউ মিউ করে কান্নার
আওয়াজ !" শুভ গম্ভীর
স্বরে বললো...
" তুমি কাল একবার এসে
এ কদিনের কাজের
পয়সা নিয়ে যেও " ---
সনকা আর কোন কথা না
বলে চলে গেলো.... l মনে
হলো পালিয়ে বাঁচলো l
কাকা নিচ থেকে শুভকে
ডাকলো , নিমন্ত্রণ
করতে বেরোবে l
ওপর তলাটা একদম
খালি...শুধু কবিতা l
বিকালে ওর বাবা মা
আসবে... l ও ধীর পায়ে
ছন্দা দেবীর ঘরে
ঢুকলো l শাশুড়ির ছবির
দিকে তাকালো...ওদের
এখানকার কাজ মিটিয়ে
যেতে এখনও দিন দশেক
বাকি l শুভ অফিসে
জানিয়ে দিয়ে ছুটিটা
বাড়িয়েছে l শুভ, সনকা
-- মায়ের উপস্থিতি
উপলব্ধি করতে পারছে !
কিন্তু কই ? সে তো
একদিনও পারলো না ?
ওকেও মা খুব
ভালোবাসতো l
মায়ের ছবির সামনে
দেওয়া মিষ্টির
থালাটা পরিষ্কার
করতে গিয়ে , এক
সেকেন্ডের জন্যে
হৃৎপিণ্ডটা বন্ধ হয়ে
গিয়ে , দ্রুত চলতে শুরু
করলো l থালায় দুটো
সন্দেশের মধ্যে , মাত্র
আধখানা পড়ে আছে !
নিজেকে বোঝানোর
চেষ্টা করলো , নিশ্চয়ই
জানলা দিয়ে কোন কাক
বা পাখি এসে খেয়ে
গেছে ! পরক্ষনেই
মাথায় প্রশ্ন
জাগলো...তাই যদি হয় ,
আশে পাশে একটু টুকরো
বা গুঁড়ো ও পড়ে থাকবে ?
কিন্তু জলের গ্লাস টার
ওপর নজর যেতেই , ওর
বুদ্ধি শুদ্ধি তালগোল
পাকিয়ে গেলো ! --
গ্লাস টা সম্পূর্ণ
খালি !!
...এইসময় জানলা দিয়ে
এক ঝলক শীতল হাওয়া
এসে ওর সারা শরীরে
কাঁপন ধরিয়ে দিলো l
...কবিতার মনের
সন্দেহটা বাস্তবে
পরিণত করলো, মায়ের
ছবিটা l ও সভয়ে দেখলো
, সন্দেশের গুঁড়ো মায়ের
ঠোঁটে লেগে রয়েছে ,!
ওর পা দুটো অবশ হয়ে
আসছে...এটা মস্তিস্ক
জানান দিলো l এখান
থেকে চলে যেতে হবে,
এই মনস্থ করে ঘোরবার
মুহূর্তে --- পিঠে একটা
ঠান্ডা হাতের স্পর্শ
পেলো...... ll
......চট করে কবিতা
মাথাটা ঘোরালো
...সামনে ওর মা, বাবা
দাঁড়িয়ে আছে l
" কি রে ভূত দেখার মতো
চমকে উঠলি কেন ? " ও
নিজেকে সামলে নেয় l
"তো--
তোমরা ? ..বিকালে
আসার কথা ছিল তো ? "
" চলে এলাম l জামাই
কোথায় ? " কবিতা
ওদেরকে নিজের ঘরে
নিয়ে আসে l এসব কথা
আর ভাঙে না l
কথাবার্তা বলে, শুভর
সঙ্গে দেখা করে ওরা
বেলায় চলে যায় l
...তারপর দিন থেকে ,
সত্যি সত্যি সনকা আর
এলো না ...l শ্রাদ্ধের
দিনও এগিয়ে এলো l এই
কদিনে শুভও একটু
স্বাভাবিক হয়েছে l
কবিতা নিজের মনে
ভাবে, ...মা কি তবে চলে
গেলো ? কেননা শুভও এই
ব্যাপারে আর কোন
আলোচনা করে নি l
সেদিন ঘাট কাজ...সকাল
থেকে পাড়ার যে পুকুরে
সকলে ঘাটের কাজ করে,
সেখানেই ওরা যায় l
কয়েকজন আত্মীয় স্বজনও
এসে উপস্থিত হয়েছে l
..কাজ সেরে বাড়িতে
আসতে বেশ বেলা হয়ে
যায় l
...সন্ধ্যেবেলা ওরা
ওপরে বসে , ছন্দা
দেবীর কথাই আলোচনা
করছিলো l কবিতার
বাবা , মা , ভাই, কাকা
সবাই রয়েছে l এইসময়
কাকার ছেলে রাজা ,
সনকার বর কে নিয়ে
ওপরে এলো ! শুভ কবিতার
মুখে জিজ্ঞাসার চিহ্ন.. l
মুখ কাঁচুমাচু করে ও
বললো " দাদাবাবু ,
আপনার সাথে গোপনে
একটু কথা আছে " দুজনেই
বুঝলো সনকা ওর াজের
পয়সা নিতে পাঠিয়েছে
l ওরা ওকে নিয়ে
বারান্দার কাছে এলো l
ন্যাড়া মাথা শুভ
বললো..
" আমি হিসেব করেই
রেখেছি...ওর কাজের
টাকা "
ও জিভ কাটলো..." টাকা
নিতে আসিনি l " কবিতা
জিজ্ঞেস করলো...
" ও কোথায় এখন কাজ
করছে ? "
" কাজ ? ....এখান থেকে
যাবার পরেই, বৌটা
একদম বদলে গেছে গো
বৌদি " ওদের মনে
পুরোনো স্মৃতি জাগতে
শুরু করলো l " খাওয়া
দাওয়া একরকম ছেড়ে
দিয়েছে l এলো চুলে
রান্নার ঘরের সামনে
বসে, কখনো খিলখিল
করে হাসে আবার কখনো
চুল ছিঁড়ে কাঁদে ..." ওরা
ভাবছে ও কি পাগল হয়ে
গেলো নাকি ?
" ক্ষনে ক্ষনে শুধোয়,
বড়মার ছেরাদ্ধ
কবে ? ..একটুকুন আগে এই
কাগজটা আমার হাতে
দে বললো ...শুধু
দাদাবাবুর হাতে
আড়ালে দেবে ! আমি মুখু
সুখু মানুষ..." ছেঁড়া পকেট
থেকে একটা ভাঁজ করা
কাগজ বার করে দিলো l
ওরা দুজনেই কাগজটার
ওপর ঝুঁকে পড়লো l
আঁকাবাঁকা অক্ষরে
পেন্সিলে লেখা
কয়েকটা লাইন l শুভ
বিড়বিড় করে পড়তে
লাগলো l
....." দাদাবাবু গো...এ
লেকা যকন পড়বে , তকন
আমি চলে গেচি অদিশ্য
জগতে l পাপ বাপকেও
ছাড়ে না l ছেলেটার
ধার মেটাতে গিয়ে
বড়ো মার গয়নার
বাকসো থিকে -- গয়না
চুরি করেছিলুম l ঠিক
ধরে ফেললো l কাকাকে
জানাবার জন্যি সিড়ি
দিয়ে নিচে নামার
সময়, পেছন থেকে ঠেলা
দিয়ে ফেলে দিলুম l
যাতে ধরা না পড়ি l
যেন বড়ো মা বেঁচে না
থাকে , কাল হলো সেটাই
l তারপর থেকে বিশ্বেস
করো এক মিনিটও ঘুমোই
নি l দিনরাত উনি
আমার চোখের সামনে
দাঁড়ায়ে...ওইরকম
বিভৎস চাউনি আর
সহ্যি করতে পারছি
না...এ লেখা যকন লিখছি
তখনো আমার চোখের
সামনে উনি দাঁড়িয়ে
আছে l পারো তো এই
অভাগিটাকে মাপ করে,
একটা সদগতি কোরোগো
দাদাবাবু l
চিঠি পড়া শেষ
করেই...শুভ ওদের নিয়ে
ছুটলো সনকার বাড়ি l
বাড়ির সামনে লোকের
জটলা ...কয়েকজন পুকুর
থেকে বালতি করে জল
নিয়ে ওর দরমা ঘেরা
বাড়িটায় ছুঁড়ছে l ...শুভ
আর কবিতা অবাক চোখে
দেখলো...সন্ধ্যের
অন্ধকারে লাল আগুনের
লেলিহান শিখায়
জ্বলছে....ছেলে অন্ত
প্রাণ ...আর এক মায়ের
জীবন্ত শরীর......ll
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now