বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটি লিখুন ভার্সিটির প্রথম দিনেই একজন সুশ্রীকে চোখে পড়েছিল। দামী একটা বাইকের পেছনে বসে, খোলা চুলে, বাইকওয়ালার কাঁধে হাত চাপটে ধরে বসেছিল। পরে দেখলাম ঐ সুন্দরী আমারই ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছে। . পরে জানতে পেরেছিলাম ঐ বাইকওয়ালা আমাদের ভার্সিটিরই ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের একজন গ্রুপ লিডার। প্রায়ই চোখে পড়ত ঐ মেয়েটা, যার নাম রুনা, গ্রুপ লিডারের বাইকের পেছনে করে ক্যাম্পাসে আসতে। . প্রায় বছরখানিক পরে হঠাৎ খেয়াল করলাম মেয়েটাকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে না। এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, মেয়েটাকে নাকি জোর করেই বিয়ে করেছে, ঐ বাইকওয়ালা তথা গ্রুপ লিডার। মেয়েটি এবং তার ফ্যামিলির শত বাঁধা সত্ত্বেও বিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি তারা। . আজ সকালে এক ডাক্তার ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম এয়ানতের জন্য। তিনি হলেন আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। ওনার চেম্বারে বসে কথা বলছি, এমন সময় দেখলাম ঐ মেয়েটা মাস দেড়েকের একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করেছে। আমাকে দেখে চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,"তুমি এই শিশু কনসালটেন্ট এর কাছে কি করছ? তুমিও কি বেবি নিয়ে আসলে নাকি?" আমি খানিকটা মৃদু হেসে উত্তর দিলাম," না, তেমন কিছু না। ওনি আমার কাছের বড়ভাই। তাই মাঝে মাঝে এসে ওনার সাথে দেখা করে যাই। তার পরর তার কোলের বেবিটাকে ইশারা করে বললাম" এটা তোমার ওয়ারিশ নাকি? মেয়েটা শুধু একগাল হেসে মাথা নাড়ল। . পরে কৌতূহল থেকেই বলে ফেললাম" তোমার বিয়ের ব্যাপারে বেশি কিছু জানি না। যতটুকু শুনেছিলাম, তাতেই আশ্চর্য বনে গিয়েছিলাম। . এরপর মেয়েটা হঠাৎ কাঁদো গলায় বলে উঠল, তুমি যতটুকু শুনেছ, তা সত্যিই। তার পেছনে আরও ঘটনা রয়েছে। শুন," আমি তোমাদের কয়েকজনকে খুব কেয়ার করতাম না। আমি ভাবতাম, আমি আধুনিক মেয়ে, আর যুগটা আধুনিক যুগ। এখানে কেন সীমাবদ্ধতা থাকবে? তোমাদেরকে আমার কাছে ক্ষেত টাইপের মনে হত। রবিন, যার বাইকে চড়তাম, তাকেই আমার কাছে স্মার্ট মনে হত। তার বাইকে চড়া। তার ডিএসএলআরে ছবি তোলা, একসাথে পুচকা খেতে যাওয়ার সময়টাকে স্বর্গ সুখ মনে হত। তার বাসা আর আমার বাসা একই পাড়ায়। তাই প্রায়দিনেই তার বাইকে চড়ে ক্যাম্পাসে আসতাম। আমার এই সুখ বেশিদিন টিকে নি। আচমকা আমাকে একদিন জোড় করে বসল। আমি আপত্তি ও বাঁধা দেওয়া সত্ত্বেও কিছু করতে পারনি। কিছু দিন পরে আমাকে জোড় করে নিয়ে বিয়ে করে ফেলল। . প্রথমে ভাবছিলাম, যাক, বাঁচা গেল, পরে দেখি অবস্থা আরও বেগতিক। কয়েকদিন পরেই, আমার বাবাকে চাপ দেয় টাকার জন্য। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে, প্রথমে তিনলাখ পরে দুই লাখ টাকা দেয়। পরে অবশ্য এই টাকার হদিস পাওয়া যায় নি। সে যে নেশায় আর জুয়ায় আসক্ত ছিল, সেটা আমি তখন জানতে পারি। এদিকে বিয়ের দুমাসেই আমি কনসিভ হই এবং ক্যাম্পাসে যাওয়া বন্ধ করে দেই। সাত মাস সময়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসি। এর পরর বেবি হলো প্রায় দেড়মাস, এই সময়ে সে আমার সাথে দুইবার মাত্র দেখা করেছে। এই হলো আমার অবস্থা। . এরপর ডাক্তার বাচ্চাটাকে দেখে বলল," শীত পড়াতে সামান্য ঠান্ডা লেগেছে। ও কিছু না, সেড়ে যাবে। . আমি বাচ্চাটার নাম জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তার নাম বলল, তায়েফ মোবাশ্বের। নামটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছিল। . যাওয়ার আগে আমাকে কিছু কথা বলে যায়। কথাগুলো এইরকম," তোদের কয়েকজনকে আমি আদিম মানুষ ভাবতাম, আসলে তোরাই ঠিক ছিলি। রঙ্গিন স্বপ্ন, বিলাসী জীবন, আর রুপের অংকার এখন আর কিছুই আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়ে আমাকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। . এখন আমার ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলেই হলোলো। আমি চাই আমার ছেলেটা তোমাদের মতই হোক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now