বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অধীকার ৪-(৮)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X “একে বারে বিরান জায়গায় বাড়ি করেছেন। থাকেন কিভাবে?” হঠাৎ প্রশ্ন করলাম সাত্তার সাহেবকে। চশমাটা খুলে নাকের দুপাশের গভীর দাগ গুলোয় আঙ্গুল বোলালেন, “অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি আগে থেকেই ঘর কুনো স্বভাবের মানুষ ছিলাম। একা থাকতে ভাল লাগত। অবশ্য আগে ঘরটা এত খালি ছিল না। মেয়ে গুলো থাকতে বাড়িটা ভরা থাকত। বিয়ের পর চলে যাওয়ায় এখন বাড়িটা খালি হয়ে গেছে। জমি গুলো যে দেখছো- রাতের বেলা দেখা যাচ্ছে না, ওখানে আধিয়ারদের বাড়ি আছে ছাড়া ছাড়া ভাবে। আমার জমিতে থেকে চাষ করে খায়। তুমি তো এই এলাকার ছেলে- আধিয়ার মানে বোঝো তো?” “জানি, বর্গা চাষী।” সন্তুষ্টির ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন, “হ্যা। ওদের বাড়ি গুলো জমির মধ্যে, তাই এখন বোঝা যাচ্ছে না। দিনের বেলা দেখা যায়। তাই একেবারে যে বিরান জায়গা- তা বলা যাবে না।” “কবে থেকে আছেন এখানে? মানে আপনার পৈতৃক ভিটা কি এখানেই ছিল?” “নাহ। শহরের দিকে ছিল। এখানে এসেছি তো কোল্ড স্টোরেজ দেয়ার পর। একটু নিরিবিলি জায়গা পছন্দ আমার। তোমার চাচীও এ রকম জায়গায় থাকতে চেয়েছিল- তাই চলে এলাম বাড়ি করে।” বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বারান্দায় বসে থাকায় গায়ে বৃষ্টির ছিটে এসে পরছে। ভালই লাগছে।গরমে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টি আসায় হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। সাত্তার সাহেব চেয়ার টেনে সরে বসলেন, “আমার আবার একটুতেই ঠান্ডা লাগে, ভিজি না তাই।” আমি হাসলাম কেবল। কিছু বললাম না। টিনের চালে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে । শব্দটা শুনতে খুব ভালো লাগছে। একটানা বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। তাকিয়ে দেখলাম সাত্তার সাহেব এক দৃষ্টিতে জমি গুলোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। চোখে ভূলও দেখে থাকতে পারি- মনে হল তার মুখে অদ্ভূত একটা যন্ত্রণার ছাপ ফুটে উঠেছে। অন্ধকার জমির দিকে স্থির চোখে চেয়ে আছেন। ভাবলাম জিজ্ঞেস করবো- কিন্তু তার আগেই আস্তে আস্তে বললেন, “তুমি তো লেখা লেখি করো জামাই? জীবনে ব্যাখ্যাতীত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখেছো?” প্রশ্নটা কোন দিক থেকে করলেন বুঝতে পারলাম না, “ভূতের গল্প? মানে ভূতুড়ে ঘটনা? নাহ। আমি এমনিতেই ভীতু স্বভাবের মানুষ। ভূতুড়ে কিছু দেখলে জানে পানি থাকবে না আমার।” “আমি দেখেছি।” একটা নিঃশ্বাস ফেলে আমার দিকে তাকালেন। “কি রকম?” সামান্য কৌতুহলি গলায় বললাম। “আমি প্রায় ত্রিশ বছর আগে এখানে আমার কোল্ড স্টোরেজটা দিয়েছিলাম। তখনকার ঘটনা। আমার জমিতে আধিয়ার তখন অল্প। দুই তিনটা পরিবার হবে। আর আমার বড় মেয়ের বয়স তখন তিন কি চার। ছোট দুটো তখনো হয়নি। ঐ দিকে- ” হাত তুলে অন্ধকার জমির দিকে দেখালেন- একটু আগে সে দিকেই তাকিয়েছিলেন। “ওখানে একটা আধিয়ারের বাড়ি ছিল। মাটির বাড়ি। এখন নেই। বাড়িটা যার ছিল, মানে আধিয়ারটার নাম হল তাজল শেখ। পঞ্চগড় থেকে এসেছিল। শক্ত সামর্থ জোয়ান মানুষ। ওর বৌটা ছিল ঠিক ওর অর্ধেক বয়সের। সুলতানা। তের কি চোদ্দ হবে বয়স। বিয়ে করে এখানেই প্রথম এনে তুলেছিল। শ্যামলা রঙের হালকা পাতলা মেয়েটা। একা থাকতে পারতো না, দৌড় দিয়ে তোমার চাচীর কাছে চলে আসতো যখন তখন। এটা সেটা করে দিত। ভীশণ ভাল একটা মেয়ে। দেখতেও খুব সুন্দর ছিল। বয়স কম বলে সারাক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতো। সেজে গুজে থাকতে খুব পছন্দ করত। তাজল প্রায়ই নানা রকম চুড়ি, লেস ফিতা, কাজল কিনে দিত মেয়েটাকে। আমার বড় মেয়েটা তখন কথা বলতে পারে বেশ ভাল মত, ওটাকে নিয়ে কোথায় কোথায় যে ঘুরে বেড়াতো সে-ই জানে। আমিও কিছু বলতাম না। ছোট মানুষ- ছটফটে স্বভাবের তো হবেই। আমার কোল্ড স্টোরেজে প্রায়ই গিয়ে হাজির হত- বলত ঠান্ডা কুয়াশার মত স্টোর রুমে যেতে নাকি খুব মজা লাগে। আমিও কিছু বলতাম না, ছেলে মানুষ, নতুন বিয়ে হয়েছে – বাচ্চা স্বভাবটা এত তাড়াতাড়ি যায় নাকি। তাই নিষেধ করতাম না। বরং চারপাশে এ রকম ছটফটে স্বভাবের কাউকে পেয়ে ভালই লাগত, একা নির্জন এই জায়গাটাকে সুলতানা মাতিয়ে রেখেছিল বলতে পারো। তাজল শেখ সারা দিন জমিতে চাষ বাষ নিয়ে পরে থাওক্ত, সুলতানা থাকত তোমার চাচীর সঙ্গে। তাজল মাটি কুপিয়ে সারাদিন খেটে যেত। বেশ ভাল একটা ছেলে – নামায কালামও পড়তো নিয়মিত। কত বার দেখেছি ভর রদ্দুরে জমিতে গামছা বিছিয়ে নামায পড়ছে। ওদের দুজনকে দেখলে এমনিতেই কেন জানি মনটা ভাল হয়ে যেত। ভাল মানুষ গুলোর ভেতরে বোধ হয় আল্লাহ নিজে কিছু দিয়ে দিয়েছেন। দেখলেই মন ভাল হয়ে যায় সে জন্য।” কিন্তু ভাল মানুষ বেশি দিন থাকে না আমাদের মাঝে। দুনিয়ার বড় অদ্ভূত নিয়ম! তাজল একদিন জমি কোপাতে গিয়ে মাটির নিচে বাঁকা ভাবে বসে থাকা একটা মূর্তি আবিষ্কার করে। মূর্তিটা কালো রঙের শিবের মূর্তি। গলায় সাপ প্যাঁচানো। কিন্তু কিছু পার্থক্য রয়েছে। শিবের মূর্তিতে কোনো বাড়তি হাত ছিল না, এটায় আছে। তিন জোড়া হাত। সব থেকে বড় পার্থক্যটা হল এই শিবের মূর্তি কোমড়ের নিচ থেকে মাছের মত আঁশ আর পায়ের জায়গায় ঘোড়ার খুড়ের মত। অনেকটা গ্রিক পুরাণের কাহিনীর মত। আদৌ সেটা শিবের মূর্তি কিনা বোঝা গেল না। দৈর্ঘে চার ফুটের মত। তাজলের কোঁদালের আঘাতে মূর্তিটার কাঁধের দিকে বিশাল একটা জায়গা কেটে গেছে। ঘটনাটা ঘটেছিল ভর দুপুরে। জমিতে কয়েকজন মিলে কাজ করার সময় হয়েছে। মাটি কোপানোর সময় শক্ত কিছুতে লাগতেই তাজল বাকিদের ডেকে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। খুঁড়তে গিয়ে মূর্তি বের হয়। যারা যারা ওখানে ছিল- সবাই দেখেছে কোঁদালের কোপে মূর্তিটার কাঁধের দিক থেকে জীবন্ত প্রাণির মত ফিনকি দিয়ে রক্ত পরছে, কালচে রক্ত! আমি অবশ্য যখন যাই তখন রক্ত টক্ত দেখিনি, তবে কাঁধের কাছটা কেটে মাংস বের হয়ে থাকার মত ফাঁক হয়েছিল তখনো। ব্যপারটা জানা জানি হতেই আশে পাশের মন্দির গুলো থেকে পুরোহিতরা চলে আসে দেখতে। একটা শিব মন্দির থেকে কয়েক জন ঠাকুর এসে মূর্তিটাকে গোসল করিয়ে নিয়ে চলে যায়। আমি বাধা দেইনি। কারো দেবতা আটকে রাখার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। যদিও আমি আমার জমিতে দেবতার মূর্তি থাকার পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। কিভাবে এলো পুরোহিতরাও জানে না। কেবল অনুমান করলেন হয়ত বহু বছর পূর্বে এখানে কোনো মন্দির জাতীয় কিছু ছিল, সেখান থেকেই এসেছে এটা। এর থেকে ভাল কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না যা হোক। কাহিনী এর পর থেকে ঘটতে সুরু করে। যদিও বেশ ছোট ঘটনা। তাজলের কাঁধে দু দিন পরেই আপনা আপনি বিশাল একটা কাটা ক্ষত সৃষ্টি হয়। মূর্তিটার কাঁধে যে রকম ঠিক সে রকম, কোনো কিছু দিয়ে কাটেনি। এমনি এমনি হয়ে গেল! দিন রাত চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পরে। আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার সেলাই করতে গিয়ে সুঁই ভেঙ্গে ফেলতে লাগলেন বারবার। অবাক হয়ে বললেন, “আশ্চর্য! এনার চামড়া মানুষের নাকি লোহার? ঢুকছেই না সূঁচ!” আমি নিজেও টিপে দেখলাম- লোহার মত হয়ে আছে কাটা জায়গাটার চারপাশের চামড়া! আর বরফের মত ঠান্ডা! ভীষণ অবাক হলাম! ক্ষত স্থান গরম হয় বলে জানতাম, এটা এমন কেন? সেলাই করা সম্ভব হল না। ডাক্তার সাহেব রক্ত পরা থামাতে আয়োডিন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলেন। বাড়ি নিয়ে এলাম। তবুও রক্ত থামে না। এদিকে সুলতানা তো কান্না কাটি করে ঘর ভাসিয়ে দিচ্ছে তাজলের রক্ত দেখে। তোমার চাচী আর আমি মিলেও ধরে রাখতে পারছি না মেয়েটাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অধীকার ৪-(৮)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now