বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার শ্বশুড় বাড়ি হল ময়দানদীঘি নামের একটা জায়গায়, পঞ্চগড় জেলার পূর্ব দিকে। এখানে প্রায় সব পরিবারই কৃষি নির্ভর পরিবার। তার মধ্যে আমার শ্বশুড় শমসের মিয়া হলেন বিশাল ধনী কৃষক। মাইলের পর মেইল জমি তার। তার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করেছি এক মাস হল। শ্বশুড় বাড়ি আসতে না আসতেই আলুর বস্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁও যেতে হবে- ভাবিনি।
এখান থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দূরত্ব দুই ঘন্টার রাস্তা। তবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা খারাপ বলে সময়টা আরো বেশি নেয়। আলুর বস্তা ট্রাকে নিয়ে আরো আগে বের হওয়া যেত। কিন্তু বের হতে হতে বিকেল তিনটা বেজে গেল আমার। বেশ অসন্তুষ্ট মনে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছি। ড্রাইভার মতিন পাশে। গান ধরেছে হেড়ে গলায়-
“আমার লাইন হইয়া যায়
আঁকা বাঁকা
ভাল না হাতের লেখা..........”
লাইন আঁকা বাঁকার সঙ্গে রাস্তার সম্পর্ক কোথায় বুঝলাম না। সে একবার ডানে যায়, একবার বামে। ট্রাক জমির মধ্যে নামিয়ে দেবে যেন! আমি প্রমাদ গুণছি মনে মনে। ঠাকুরগাঁও আদৌ পৌছাবো তো? নাকি ট্রাক উল্টে জমির মধ্যে পরবো?
“দুলাবাই? মুখের কন্ডিশন এরুম ক্যা?” মতিন দাঁত বের করে হাসল।
“তুমি ভাল করে ট্রাক চালাও। সন্ধ্যার আগে আগে ঠাকুরগাঁও যেতে হবে।” থম থমে গলায় বললাম।
“রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ দুলাবাই। যাতি যাতি রাত্তির নামিবি।” গ্রামের কাঁচা রাস্তা দেখিয়ে বলল ও।
“এটা তো আরো ভালো কথা!” বিড়বিড় করলাম। হাতে একটা চিরকুটে কোল্ড স্টোরেজের ঠিকানা দেয়া-
“হিমাদ্র কোল্ড স্টোরেজ,
বাঘাই পট্টি, ঠাকুরগাঁও।”
কতক্ষণে যে পৌছাবো......
হাত ঘড়িতে সাড়ে ন’টা বাজে। হিমাদ্র কোল্ড স্টোরেজে এসে আলুর বস্তাগুলো নামিয়ে তাতে নাম্বার দিয়ে স্টোরে জমা দিতে দিতে দেরি হয়ে গেল। ক
োল্ড স্টোরেজের মালিক সাত্তার আলী অনেক সাহায্য করলেন এ সময়।
নিজের লোক দিয়ে বস্তা গুলো আনলোডিং এর কাজ করে দিলেন। ভদ্রলোকের বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। মাথা ভর্তি পাঁকা চুল। মুখে পাতলা গোঁফ।
চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা পরে থাকেন সারাক্ষান। হঠাৎ করে দেখলে ভার্সিটির প্রোফেসর বলে মনে হয়। খুব ফর্সা আর শক্ত সামর্থ একটা চেহারা। দেখেই বোঝা যৌবন কালে অসম্ভব সুদর্শন ছিলেন।
নতুন জামাই বলে খুব খাতির যত্ন করলেন। মতিনকে আবার ট্রাক নিয়ে উত্তরে যেতে হবে এখান থেকে। আব্বা কোনো কাজ দিয়ে দিয়েছেন ওকে।
কোল্ড স্টোরেজের লোকদের সাথে আগেই খেয়ে নিল। সাত্তার সাহেব চাচ্ছিলেন মতিন ওনার বাসায় খেয়ে যাক এক বেলা,
কিন্তু ওর নাকি তাড়া আছে। জরুরী কাজ দিয়েছেন শ্বশুড় আব্বা। মালপত্র নামিয়ে দিয়ে চলে গেল।
সাত্তার আলী আমাকে নিয়ে কোল্ড স্টোরেজের পেছনের দিকে ওনার বিশাল টিনের বাড়িতে এলেন। হিমাদ্র কোল্ড স্টোরেজ আর টিনের বাড়িটা একেবারে সামনা সামনি।
কোল্ড স্টোরেজের বিল্ডিংটা পাঁচ তলা বিল্ডিং এর সমান উঁচু, অনেক বড়। পেছনে জেনারেটর হাউস আর কুলার মেশিনের ঘর।
রাতের ঝিঁ ঝিঁ পোঁকার শব্দ ছাপিয়ে মেশিনের শব্দ রাতের বাতাস ভারী করে রেখেছে।
আমি টিনের বাড়িটার একটা ঘরে বসে আছি। বাংলা ঘরের মত অনেকটা। বাড়িটা দেখলেই বোঝা যায় খুব শখ করে বানিয়েছেন সাত্তার আলী। নাস্তা দিয়েছে। একটু পর রাতের খাবার দেবে।
আমি বসে বসে গল্প করছি সাত্তার আলীর সাথে।
“চাচা, এত টাকার কারবার, কিন্তু বাড়িটা পাঁকা না করে টিন শেডের করলেন কেন?”
“তোমার চাচী আম্মার ইচ্ছা। উনার ভয় একদিন ভূমিকম্প হবে আর ছাদ ভেঙ্গে পরবে মাথার উপর, টিন শেডের হলে তো আর তেমন কিছু হবে না যদি ভেঙ্গে পরে- তাই।” হাসতে লাগলেন।
চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিলাম। ওপরে গাঢ় স্বর ভাসছে। গরুর দুধ দিয়ে বানানো। চুমুক দিতেই শরীরটা ঝরঝরে লাগা শুরু করল।
“চাচী আম্মা কি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ? নাকি বাড়ি দূরে?”
“সোঁনাগাজী। দূর আছে। বছরে একবার যায় ঘুরে আসতে। নয়তো সারা বছরে বাড়ির কাজ নিয়ে পরে থাকে।” দরজা দিয়ে বাহিরে রান্না ঘরের দিকে তাকালেন, চাচী সেখানে বসে রান্না করছেন লাকড়ির চুলায়। গলা উঁচিয়ে বললেন, “কই? তাড়াতাড়ি করো। জামাই মানুষ- কতক্ষণ না খাওয়ায় রাখবা?”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now