বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অধীকার ১-(৮)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X বিয়ের মাত্র এক মাস হয়েছে। শ্বশুড় সাহেব অসুস্থ শুনে বৌকে নিয়ে দেখতে গিয়েই বিপদ হল। নতুন জামাইকে আলুর বস্তা ধরিয়ে দিয়ে কেউ কোল্ড স্টোরেজে পাঠাবে এটা আশা করিনি। তারওপর কলেজ পাস জামাই আমি। এলাকায় একটা সুনাম আছে আমার- সেই আমাকেই কিনা আমার নতুন শ্বশুড় আব্বা তার এই বছরের আলু গুলো বস্তায় বেধে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “বাজান, শরীলটা ভাল ঠেকতেছে না। আলুর বস্তা গুলা একটু ঠাকুরগাঁও গিয়া কোল্ড স্টোরেজে রাইখা আসো। ঘরে তো ছেলে পেলে নাই। তুমিই যখন আসছো – একটু কষ্ট কইরা আলু গুলা দিয়াসো। আমার নাম বললেই হবে। রিসিটে নাম্বার দিয়া দিবে। রিসিট নিয়া আসবা সাবধানে। বস্তা প্রতি দুইশো পনেরো টাকা লাগবে। টেরাক দিয়া দিছি। নিয়া পৌছায়া দিবে।” বোগল ঘ্যাস ঘ্যাস করে চুলকাতে চুলকাতে বললেন কথাগুলো। হাত পাখার ডাট দিয়ে পিঠে চুলকালেন, ঘামাচি হয়েছে তার। আমি কোনো মতে মুখে হাসি টেনে বললাম, “অবশ্যই আব্বা। কোনো চিন্তা করবেন না। যাবো আর আসবো।” “রাস্তা খারাপ। যাবো আর আইবো বললে হবে না। যাইতে যাইতে সন্ধ্যা হইয়া যায়। স্টোরের মালিক আমার বদনু মানুষ। সাত্তার আলী। সে তোমার আর ড্রাইভারের থাকার ব্যবস্থা কইরা দিবে সেখানে। পরের দিন টেরাক নিয়া চলে আসবা।” “জী আচ্ছা আব্বা।” ঘাড় কাত করে বললাম। আমার স্ত্রী পারুল পাংশু মুখে খাটের স্ট্যান্ড ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আব্বাকে বাধা দেয়ার সাহস নেই তার। তবে আমার শ্বাশুড়ি আম্মা একটু চেষ্টা করলেন কথা বলার, “ ইয়ে, নতুন জামাই মানুষ। শিক্ষিত পোলা। তারে দিয়া এইসব কাজে না পাঠাইলে হয় না?” ধমকে উঠলেন আব্বা, “তুমি চুপ করো। মহিলা মানুষ- বুদ্ধি শুদ্ধি তোমার হাটুর নিচে। শিক্ষিত পোলা দেখেই তো হিসাব পাতির কাজ দিয়া পাঠাইতেছি। অন্য কাউরে দিলে তো সব উল্টায় পাল্টায় দিবো!” আমি জোর করে হাসি আনলাম মুখে, “জী আব্বা ঠিক বলেছেন। হিসাব কিতাবের ব্যপার। যে কেউ কি আর বুঝবে? আমার যাওয়াটাই ভাল হবে।” “উত্তম বলছো জামাই। এই জন্যই তোমারে আমার এত পছন্দ। ভাল কথা, আমার বন্ধু সাত্তার আলীরে আমি মোবাইল ফোনে সব বইলা রাখছি। তুমি খালি নিয়া যাবা বস্তাগুলা। বাকি কাজ তার। সে কিন্তু আমার মত গেরস্থ না। খুব শিক্ষিত মানুষ। আমাদের আমলের বি.এ. পাস। বিরাট বড়লোক। আদব লেহাজের সাথে চলবা। সে যেন মন্দ কথা না বলে তোমারে নিয়া।” আব্বা বোগল যে হারে চুলকাচ্ছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে পাঞ্জাবীর বোগল আজকে ছিঁড়েই উঠবেন। নতুন খদ্দরের পাঞ্জাবী কিনে এনেছিলাম তার জন্য। কিন্তু ওনার হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে পাঞ্জাবীটা কাপড়ের না, বিচ্ছুটি পাতার পাঞ্জাবী। “জী আব্বা।” আমি মাথা কাত করে উঠে পরছিলাম। উনি বললেন, “জামাই, তোমার পছন্দ বড় ভাল।” “জী আব্বা?” বুঝতে না পেরে ফিরে তাকালাম। “এই যে পাঞ্জাবীটা আনছো- খুব ভাল পাঞ্জাবী। কিন্তু মাড়ের গন্ধটা একদম সহ্য করবার পারিনা। তাই আতর মাখছি। আতর মাখলেই ঈদ ঈদ লাগে।” দেখলাম একটা শিশি থেকে আতর নিয়ে পাঞ্জাবীতে লাগাচ্ছেন। এই নিয়ে তেরো চৌদ্দবার আতর মাখলেন, “মাখবা নাকি একটু?” একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললাম, “ না আব্বা। আপনি মাখেন।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অধীকার ১-(৮)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now