বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্বিতীয়( পর্ব-১২)

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অন্তরা (০ পয়েন্ট)

X ‘বেশ বেশ‌, ওতে অনেক মাল পাবেন; চোরাই মাল‌, দুপুরে ডাকাতির গয়নাপত্র।’–ব্যোমকেশ শান্তার দিকে ফিরিল‌, ‘আচ্ছা‌, বলুন দেখি‌, আপনার স্বামী কি দাড়ি কামাতেন না? বাড়িতে দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম নেই।’ শান্তার মুখ ফ্যাকাসে হইয়া গিয়াছিল‌, সে অস্পষ্ট স্বরে বলিল‌, ‘তিনি সেলুনে দাড়ি কামাতেন।’ ব্যোমকেশ বলিল‌, ‘ও। আপনার স্বামী দেখছি অসামান্য লোক ছিলেন। তিনি সেলুনে দাড়ি কামাতেন‌, কিন্তু বাড়িতে চটি জুতো পরতেন না। কোনো কারণ ছিল কি?’ শান্তা চক্ষু নত করিয়া বলিল‌, ‘ওঁর চটি ছিঁড়ে গিয়েছিল‌, নতুন চটি কেনা হয়নি। যখন বাড়িতে থাকতেন। আমার চটি পরতেন।’ ব্যোমকেশ বলিল‌, ‘তাই নাকি। আপনাদের দু’জনের পায়ের মাপ তাহলে সমান?’ শান্তা বলিল‌, ‘প্ৰায় সমান।’ ব্যোমকেশ বলিল‌, ‘বাঃ! কত সুবিধে! আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর দেখছি প্ৰায় সবই সমান‌, কেবল চুলের রঙ আলাদা। চিন্তামণিবাবু জানিয়েছিলেন তপনের চুলের রঙ তামাটে। ঠিক তো?’ শান্তা ঢোক গিলিয়া বলিল‌, ‘হ্যাঁ।’ বিজয়বাবু এতক্ষণ চোখ বাহির করিয়া প্রশ্নোত্তর শুনিতেছিলেন‌, হঠাৎ উঠিয়া দাঁড়াইয়া তীব্র উত্তেজনার কণ্ঠে বলিলেন‌, ‘ব্যোমকেশবাবু–!’ ব্যোমকেশ হাত তুলিয়া বলিল‌, ‘দাঁড়ান। তৈরি থাকুন‌, এবার আমার শেষ প্রশ্ন।–শান্তা দেবি‌, চিন্তামণিবাবু দেখেছিলেন। আপনার গালে মসুরের মত লাল তিল আছে‌, সে তিলটা গেল কোথায়?’ শান্তা চকিতে নিজের বা গালে হাত দিল‌, তারপর সামলাইয়া লইয়া বলিল‌, ‘তিল! আমার গালে তো তিল নেই‌, চিন্তামণিবাবু ভুল দেখেছেন। হয়তো লাল কালির ছিটে লেগেছিল–’ ব্যোমকেশের মুখে হিংস্ব হাসি ফুটিয়া উঠিল‌, সে বলিল‌, ‘সব প্রশ্নেরই জবাব তৈরি করে রেখেছেন দেখছি। কিন্তু এ প্রশ্নের কি জবাব দেবেন।’ ক্ষিপ্রহস্তে সে শান্তার চুল ধরিয়া টান দিল, সঙ্গে সঙ্গে পরচুলা খসিয়া আসিল‌, ভিতর হইতে থাকেইটা তামাটে রঙের চুল বাহির হইয়া আসিল। শান্তাও বিদ্যুৎবেগে জবাব দিল। একটু অবনত হইয়া সে নিজের ডান পা হইতে শাড়ির প্রান্ত তুলিল। পায়ের সঙ্গে রবারের গীটার দিয়া আটকানো ছিল একটা লিকলিকে ছুরি। ক্ষিপ্রহস্তে ছুরি মুষ্টিতে লইয়া শান্তা ব্যোমকেশের কণ্ঠ লক্ষ্য করিয়া ছুরি চালাইল। আমি ভয়ার্তা সম্মোহিতভাবে শুধু চাহিয়া রহিলাম; একটি স্ত্রীলোকের সুশ্ৰী কোমল মুখ যে চক্ষের নিমেষে। এমন কুশ্রী ও কঠিন হইয়া উঠিতে পারে তাহা কল্পনা করা যায় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অদ্বিতীয়( পর্ব-১২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now