বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
অদ্ভুত মৃত্যু-৪
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
সুশীলবাবু ডিটেকটিভদের টিকটিকি বলিতেন। আমি পুনর্বার জিজ্ঞাসা করিলাম, 'আপনি সেদিন ঘর তল্লাসের সময় কাহারও কাছে ক্লোরোফর্ম আছে কিনা অনুসন্ধান করিয়াছিলেন কি?' সুশীল বলিলেন, 'আমরা তখন ত জানিতাম না যে হত ব্যক্তির ওপর প্রথমে ক্লোরোফর্ম প্রযুক্ত হইয়াছিল।' আমি তখন হাসিয়া বলিলাম, ' অনুসন্ধানের সকল সুযোগ আমি কলিকাতা আসিবার পূর্বেই শেষ হইয়া গিয়াছিল, সুতরাং এখন এ হত্যা সম্বন্ধে তদন্ত করিয়া কৃতকার্যতার আশা বিড়ম্ব্না মাত্র।' ইহার উত্তরে সুশীলবাবু বলিলেন, ' ভাল মনে পড়িল - সেদিন মহেশচন্দ্রের হাতবাক্স অনুসন্ধানের সময় ইহার ভিতরের কতগুলি চিঠিপত্র আমি সঙ্গে লইয়া আসিয়াছিলাম, অবকাশভাবে সেগুলি এ পর্যন্ত পড়ি নাই। আপনার ইচ্ছে হইলে আপনি তাহা পড়িয়া দেখিতে পারেন, যদি কোন সূত্র বাহির হয়।' এই বলিয়া তিনি কতগুলি বিশৃঙ্খল চিঠিপত্র আনিয়া আমার সন্মুখস্থ টেবিলে ফেলিয়া চলিয়া গেলেন। আমিও তখন আর কিছু করিবার নাই ভাবিয়া সেগুলি হইতে এক একখানি পত্র লইয়া আগ্রহ সহকারে আপন-মনে পড়িতে লাগিলাম। পাঁচ সাত খানি চিঠির পর একখানি চিঠি পাঠ করিয়া আমি একেবারে চমকিয়া উঠিলাম।
---নং হড়কাটাগলি ২৬শে আশ্বিন।
প্রাণের মহেশ,
তুমি আর এখন আসিতেছ না কেন? বিধুবাবুর সহিত ঝগড়া করিয়া আমায় পরিত্যাগ করা কি তোমার উচিত? আজ যা হয়, একটা হইয়া যাইবে। বিধুবাবু বাড়াবাড়ি করিলে, তাহলে আমার কাছে আসিতে বারণ করিব। আমার কুন্তলীন একেবারে ফুরাইয়া গিয়াছে। দেলখোস নামে নাকি এক প্রকার নূতন এসেন্স বাহির হইয়াছে, দেখিতে পাই কি? ঝিকে পাঠাইলাম, তুমি আজ অবশ্য আসিবে, অন্যথা না হয়। ইতি
তোমারই ভালোবাসার নলি---|
পত্রখানা দুইবার পড়িয়া আমি আর স্থির থাকিতে পারিলাম না। পত্রের তারিখ দেখিয়া অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাইল। এ পত্রে ঝির সন্ধান পাইলাম। বিধুবাবু নামে এক ব্যক্তির সহিত মহেশের মনোমালিন্য ছিল, পত্র পড়িয়া বুঝিতে পরিলাম। এক্ষণে যেন অনুসন্ধানের কিছু সূত্র বাহির হইল, মনে করিলাম। আমি আর বিলম্ব না করিয়া ধড়াচূড়া ছাড়িয়া একটি ফিট্ বাঙালীবাবু সাজিলাম। তাহার পর চিঠিখানা পকেটে পুরিয়া, আমার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত গাড়োয়ানকে সেখানে অপেক্ষা করিতে বলিয়া পদব্রজে রাস্তায় বাহির হইলাম। হাড়কাটা গলির সেই বাড়িটা খুঁজিয়া বাহির করিতে বিশেষ বিলম্ব হইল না। আমি একেবারে সপাসপ উপরে যাইয়া উপস্থিত হইলাম। তখন অপরাহ্ন পাঁচটা - সন্ধ্যার প্রাক্কাল। গৃহকর্ত্রী বেশভূষা পরিপাটী করিতেছে। আমি চিরপরিচিতের ন্যায় একখানা কেদারা টানিয়া বসিয়া পড়িলাম। যুবতী তখন আমার অভ্যনার্থে তাড়াতাড়ি আপন কার্য সমাধা করিয়া ঝিকে তামাক আনিবার নিমিত্ত আদেশ করিল। আমি ইত্যব্সরে আপন মনে অনুচ্চস্বরে বলিতে লাগিলাম, 'বিধুবাবুর এখানে আসিবার কথা ছিল। কই তিনি যে আসিলেন না।' যুবতী উত্তরচ্ছলে বলিল, 'কই সে ত আজ কয়দিন আসিতেছে না। সেই যে সে দিন মহেশের সঙ্গে মারা মা---' এ পর্যন্ত বলিয়া যুবতী আমার মুখের দিতে চাহিল। আমি যেন নিতান্ত অন্যমনস্ক ভাবে উত্তর করিলাম, 'তা কাজটা কি ভালো হয়েছিল? আমি সমস্তই শুনিতে পাইয়াছি। বিধু আমার পরম বন্ধু।' যুবতী: কৈ আপনাকে ত একদিনও এখানে দেখি নাই। আমি: এতদিন আসিবার প্রয়োজন পড়ে নাই, তাই আসি নাই। কিন্তু সেদিনকার ঘটনার পর বিধু প্রতিজ্ঞা করিয়াছে, সে কখনও এখানে একাকী আসিবে না। যুবতী: তা মহাশয়, আমার দোষ কি বলুন? বাস্তবিক, সেদিন মহেশের কাজটা ভারি অন্যায় রকমের হয়েছিল। ভ্দ্রলোকের গায়ে হাত তোলা, জুতো মারা, এগুলি নেহাত ছোট লোকের কর্ম। এই বলিয়া যুবতী স্বহস্তে প্রস্তুত পানের খিলি দুটি আমায় প্রদান করিল। আমি সমস্ত ব্যাপার ইতিমধ্যে বেশ বুঝিতে পারিয়াছি। এক্ষণে আমার মনে হইতে লাগিল, এ জুতোমারা কাণ্ডের প্রতিশোধ লইতে বিধুবাবু নামক ব্যক্তির পক্ষে মানসিক উত্তেজনা- প্রাবল্যে মহেশের জীবনলীলা সাঙ্গ করা একেবারে অসম্ভব নহে। ইহা ২৬শে আশ্বিনেরই ঘটনা। যাহা হউক, অধুনা আমার পক্ষে এই বিধুবাবুর অনুসন্ধান লওয়া বিশেষ প্রয়োজনীয় হইয়া পড়িল; কিন্তু এখানে আমি বিধুবাবুর বন্ধু বলিয়া পরিচয় প্রদান করিয়াছি, সুতরাং সোজাসোজি ইহাকে সে কথা জিজ্ঞাসা না করাই যুক্তিযুক্ত মনে করিলাম। ইতি,মধ্যে, ঝি-মূর্তি, একটি রূপার হুকা হাতে করিয়া সেই কক্ষে প্রবিষ্ট হইল। এবং আমাকে দেখিয়া বলিল, - 'এটি যে নূতন বাবু!' যুবতী তদুত্তরে বলিল, 'ইনি বিধুবাবুর বন্ধু।' ঝি: কোন বিধুভূষণ? যুবতী: অঁযা - নেকি? মুখুয্যে - সেই ২১ নম্বর কলুটোলার। এতক্ষণে সহজেই আমার কার্য সিদ্ধি হইয়াছে;
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now