বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্ভুত মৃত্যু-২

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)

X মেসের বাড়িটা দ্বিতল; উপরের চারটি ঘর, নীচে দুটি। মেসে অধিক ছাত্র না থাকায়, পড়াশুনোর সুবিধার নিমিত্ত চারিটি ঘরে চারিজন ছাত্র শুইবার বন্দোবস্ত করিয়া লইয়াছিলেন। নীচের একটি ঘরে রান্না ও অপরটিতে খাওয়া- দাওয়ার কার্য সম্পন্ন হইত। মেসে এখন একটি মাত্র ব্রাহ্মণ দ্বারাই সর্ব কার্য চালিত হয়। ব্রাহ্মণটি রাত্রে মেসে থাকে না। ২৬শে আশ্বিন রাত্রিতে, মহেশচন্দ্রকে অন্যান্য রাত্রির ন্যায় সবাই সুস্থ শরীরে আপন ঘরে পড়িতে দেখিয়াছেন। পর দিবসে প্রত্যুষে অতুলবাবু নামে ঐ মেসেরই অন্যতম ছাত্র যখন মহেশচন্দ্রে ঘরের মধ্য দিয়ে নিম্নতলে যাইতেছিলেন, তখন তাহাকে ছিন্ন-কণ্ঠ, রক্তাক্ত কলেবর দেখিতে পাইয়া উচ্চ চিত্কারে সবাইকে একত্র করেন। পরে, তথায় উপস্থিত সকলের সঙ্গে পরামর্শ-মত অগৌণে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ অনুসন্ধান করিয়া সে ঘরে রক্তরঞ্জিত বড় কাটারি ও একপাটি নাগরা জুতো প্রাপ্ত হইয়াছেন। এগুলি ইতিপূর্বে মেসের কেহ কখনো দেখে নাই। হত্যাকারীর এ পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায় নাই। আশ্চর্যের বিষয়, হত্যাগৃহের একটি সামান্য জিনিস কিম্বা একটি কর্পদ্দকও স্থানান্তর হয় নাই। মহেশের চাবি তাহার পকেটে পাওয়া গিয়াছে; উক্ত চাবি দ্বারা পুলিশ মহেশের পোর্টমেণ্ট ও হাতবাক্স খুলিয়া টাকা পয়সা মহেশের লিখিত হিসেবের মিল মতই পাইয়াছেন। মহেশের সহিত যে সে মেসে কাহারও মনোমালিন্য বা বিবাদ ছিল, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। তিনটি ছাত্র ও ব্রাহ্মণের জবানবন্দী-তে হত্যার অনুসন্ধানে কার্যকরী হইতে পারে, এরূপ কোন কথাই প্রকাশ পায় না। ইঁহাদের কেহ কাহাকে মহেশের হত্যাকারী বলে সন্দেহ করেন না। পরন্তু মহেশের সহিত সকলেরই সদ্ভাব ছিল বলিয়া প্রমাণ পাওয়া যায়।" পুলিশের এই রিপোর্ট দেখিয়া এবং ব্রাহ্মণ ও ছাত্রত্রয়ের জবানব্ন্দী আনুপূর্বিক মনোযোগ সহকারে পাঠ করিয়া অনুসন্ধানের কোন সূত্রই বাহির করিত পারিলাম না। তবে জুতো ও কাটারিখানা দেখিতে হইল। সুশীলবাবু তত্ক্ষণাত্ সেগুলি আমার সমক্ষে উপস্থিত করিলেন। আমি তখন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পাইলাম, রক্তাক্ত কাটারিখানা অপূর্ব-ব্যবহৃত।জুতাখানিও একেবারে অব্যবহৃত বলিয়াই বোধ হইল। উহা পায়ে দেওয়ার কোন চিহ্নই পরিলক্ষিত হইল না। সুতরাং আমি সেখানে আর বেশী সময় অপেক্ষা না করিয়া সেই মেসটি দেখিতে মনস্থ করিলাম এবং সুশীলবাবুর সহিত সেই মেসে গিয়া উপস্থিত হইলাম। তখন পুজো উপলক্ষে স্কুল কলেজাদি বন্ধ ছিল, সুতরাং সকলকে বাসায় প্রাপ্ত হওয়া গেল। আমি প্রথমে হত্যাগৃহ এবং তত্পরে মেসের অন্যান্য স্থান যথারীতি পরীক্ষা করিলাম; কিন্তু হত্যা সম্বন্ধে কোন নূতন তথ্যই সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইলাম না। পরিশেষে আমি হত্যাগৃহে প্রথম উপস্থিত সেই অতুলবাবুকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করিলাম, এবং উত্তর আমার নোট- বহিতে লিখিয়া লইলাম। আমি: আপনি সেদিন প্রাতেই প্রথম সে কক্ষে পদর্পণ করিয়াছিলেন, না, রাত্রে সে কক্ষের ভিতর দিয়া আর কোন বার নীচে নামিয়া ছিলেন? অতুলবাবু (অ.ববু): না, সেই প্রথম আমি সে কক্ষে প্রবেশ করি। আমি: যে রাত্রে মহেশ খুন হয়, সে রাত্রে সর্বশেষ তাহাকে কে জীবিত দেখিয়াছিলেন? অ.বাবু: সর্বশেষ কে জীবিত দেখিয়াছিলেন মনে নাই। আমরা সকলেই একসঙ্গে নীচের ঘর হইতে উপরে আসিয়া আপন আপন কক্ষে পড়িতে বসিয়াছিলাম। আমি: আপনারা সেদিন শয়ন করিবার পূর্বে আর নীচে যান নাই? অ.বাবু: আমি সেদিন আর নীচে যাই নাই। আমি তখন আর দুজনকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞসা করিলাম, তাঁহারা তদুত্তরে বলিলেন, সে রাত্রে তাঁহাদের কাহারও নীচে যাইবার প্রয়োজন হয় নাই। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলম - 'আপনাদের মেসের ছাত্রগণ ব্যতীত আর কাহারও সাথে মহেশবাবুর বিশেষ জানাশুনো ছিল বলিয়া আপনারা জানেন? অ.বাবু: মহেশবাবুর বিশেষ বন্ধু ত কেহ দেখিতে পাই না। আমি: মহেশবাবুর কাহারও সহিত শত্রুতা বা মনোবিবাদ ছিল, বলিতে পারেন? অ.বাবু: না মহাশয়, তাহার সহিত কাহারও শত্রুতার কথা আমরা পরিজ্ঞাত নহি। আমি: হত্যার দিনে মহেশবাবু সমস্ত দিবস কি মেসে ছিলেন, না কোথাও বাহির হইয়াছিলেন? অ.বাবু: (খানিক চিন্তার পর) হঁযা, মহেশবাবু সেদিন মধ্যাহ্ন ভোজনের পরে বাহিরে গিয়াছিলেন। আমি: কোথায় গিয়াছিলেন, বলিতে পারেন? অ.বাবু: না, তাহা বলিতে পারি না। আমি: মহেশবাবুর কি বেড়াইবার অভ্যাস ছিলো? অ.বাবু: মধ্য মধ্যে বেড়াইতে যাইতেন বৈকি। আমি: হত্যার তারিখে কোন সময়ে বাসায় প্রত্যাবর্তন করেন? অ.বাবু: বোধহয় রাত্রি সাড়ে ৭টা, কি ৮টার সময়। আমি: মহেশবাবুর স্বভাব চরিত্র কেমন ছিল, আপনার বিশ্বাস? অ.বাবু: (একটু বিরক্তির সঙ্গে) ওগুলো কি বলিব? আমি তখন অপেক্ষাকৃত গম্ভীর স্বরে বলিতে লাগিলাম, 'দেখুন, আপনারা সকলেই বিদ্বান ও বুদ্ধিমান। অবশ্য বুঝিতে পারিতেছেন, এ হত্যার কিনারা করা বড় সহজসাধ্য নহে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অদ্ভুত মৃত্যু-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now