বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আমার কলেজের ১ম দিন। আমি গানের তালে তাল মিলিয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি।রাস্তাটা প্রায় ফাকা। রাস্তা ফাকা থাকারি কথা কারন সকাল বেলা এই রাস্তায় তেমন ভির পড়ে না।এমন সময় একটা মেয়ের সাথে আমি ধাক্কা খেলাম।মেয়েটা আমার দিকে রেগে তাকিয়ে বলল:-
.
--আপনি কি চোখে দেখতে পারেন না।(মেয়ে)
.
-- জ্বি, পারি তো।(আমি)
.
--তাহলে এই রকমভাবে আমাকে ধাক্কা দিলেন কেন???
.
--সরি,আসলে আমি বুঝতে পারিনি।
.
--বুঝতে পারেন নি মানে????
.
--আচ্ছা আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
.
--কিসের ক্ষমা? আপনাদের মতো ছেলেদের আমার ভালই
চেনা আছে।মেয়ে দেখলেই ধক্কা খাওয়ার ইচ্ছা হয় তাই না।
.
--দেখুন আপনি কিন্তুু আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি মোটেই
ওই রকম ছেলে না।
.
--হু ওই রকম ছেলে না তো আপনি কি রকম ছেলে শুনি?
.
--আমি ভদ্র শান্ত একটি ছেলে।
.
--হু কি রকম ভদ্র ছেলে তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
.
--দেখুন আপনি কিন্তুু আমাকে রিতিমত আপমান করছেন।
.
--চুপ করেন।এরপর যেন আর এই রকম ব্যবহার আপনার
না দেখি পথ ছাড়েন।
.
আমি একটু সরে দাড়ালাম মেয়েটা আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। আমি আবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে।পরে জানতে পারি মেয়েটার নাম সুমাইয়া।আমাদের কলেজে এবং আমাদের ক্লাসেই পড়ে।
আমার কলেজে যেতে এমনিতেই একটু দেরি হয়েছে তাই বসার জন্য সামনে সিট না পেয়ে পিছনে বসলাম।মেয়েটাও সামনের সিট থেকে ওঠে এসে আমার পাশে বসলো :-
.
--কি ব্যাপার আপনি এখানে বসলেন কেন????(আমি)
.
--সিটটা কি আপনি কিনে নিয়েছেন????(সুমাইয়া)
.
-- না তো।
.
--তাহলে এখানে বসলে আপনার সমস্যা কি????
.
--কই আমার তো কোন সমস্যা নাই।
.
--ওকে তাহলে চুপ করে বসে থাকেন।
.
আমি মেয়েটার কাছ থেকে একটু সরে বসলাম।যত সরে বসি মেয়েটা তত আমার কাছে এসে বসে।এভাবে সাড়াটা ক্লাস মেয়েটা আমারে জ্বালিয়ে মারলো।পরে আমি কলেজ শেষে একটা রিকসা ডাক দিলাম বাড়ি ফেরার জন্য।আমি রিক্সাতে উঠতে যাবো এমন সময় মেয়েটা রিক্সাটাতে চলে বসলো।আমি মেয়েটাকে জিঙ্গাস করলাম:-
.
--এই যে মিস।(আমি)
.
--সুমাইয়া।
.
--আপনি আমার ঠিক করা রিক্সায় উঠলেন কেন???
.
--রিক্সাটা কি আপনার।
.
--না।
.
--তাহলে যে আগে এসে উঠবে সেই যেতে পারবে???
.
--দেখুন ভাল হচ্ছে না কিন্তুু।
.
--কিসে ভাল হচ্ছে না।আপনি রিক্সায় উঠবেন নাকি রিক্সাটা নিয়ে চলে যাবো।
.
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম একটা রিক্সাও নেই রাস্তায় তাই আমি সেই রিক্সাটাতে চড়ে বসলাম।এর আগে কোন দিন কোন মেয়ের সাথে এভাবে চলিনি।রিক্সাটা কিছুদুর যেতেই মেয়েটা বললো:-
.
--এই যে মিঃ বোবা হয়ে গেলেন নাকি????(সুমাইয়া)
.
-- কই নাতো।(আমি)
.
--তাহলে কথা না বলে চুপ করে আছেন কেন????
.
--আপনি বলছেন না তাই।
.
এভাবে আমরা কথালাপ করছি।আসতে আসতে কখন যে মেয়েটার বাড়ির সামনে চলে এসে ছিল বুঝতেই পারিনি।পরে মেয়েটাকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে আমি বাড়ি চলে আসলাম।পরের দিন কলেজে গিয়েই সেই একই আবস্তায় আমি যে সিটে বসি মেয়েটিও সেই সিটেই বললো।এভাবে কেটে গেল বেশ কয়েকটা দিন। ধীরে ধীরে আমাদের মাঝে খুবই ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।সব কিছুই ছিল আমাদের বন্ধুত্বে ক্লাসের ফাকে ফাকে দুষ্টামী করা, একে অপরকে নিয়ে মজা করা, ফুসকা খাওয়া ইত্যাদি।
এভাবে চলতে চলতে কখন যে আমি সুমাইয়াকে ভালবেসে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি।যত দিন যাচ্ছে ওর প্রতি আমার ভালবাসা ততই বেড়ে চলেছে।ভাবতেছি মেয়েটারে প্রপস করবো কিভাবে কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না । আমি সোজা কলেজে চলে গেলাম।কলেজে গিয়ে আজ আর সুমাইয়ার কাছে বসলাম না।বসলাম মিমের কাছে। আমি আর মিম ক্লাসে হাত ধরে হাসাহাসি করতেছি। একটু সুমাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি সুমাইয়ার আমাদের দেখে রেগে গা জ্বলে যাচ্ছে।আমি আরো বেশী মিমের সাথে মিশি।এক পর্যাযে দেখি সুমাইয়া ক্লাস থেকে উঠে চলে যাচ্ছে।মিমের কাছ থেকে উঠে সুমাইয়াকে জিঙ্গাস করলাম:-
.
--তুই কই যাস????(আমি)
.
--জাহান্নামে তাতে তর কি???(সুমাইয়া)
.
--ওই রাগ করছিস কেন???
.
--না তুই অন্যোর সাথে প্রেম করে বেড়াবি আর আমি রাগ করবো না।
.
--আমি অন্যোর সাথে প্রেম করে বেড়ালে তোর কি???
.
--আমার কি মানে, কারন আমি তোকে!
.
--থাক তোকে বলে লাভ নাই যা তুই মিমের সাথে প্রেম কর।
.
--বল না একটু শুনি???
.
--কারন আমি তোকে ভালবাসি???
.
ক্লাসের সবাই সুমাইয়ার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।এমন সময় মিম এসে বললো:-
.
--সুমাইয়া শোন আসলে আমাদের মাঝে এই সব প্রেম ভালবাসা কিছুই নেই।আসলে তোর মুখ থেকে এই কথাগুলো বের করার জন্য আমরা এই অভিনয়টা করেছি।
.
সুমাইয়া আমার দিকে রেগে তাকিয়ে আছে।
.
আমি মাথা নেড়ে হু বললাম। ওমনি পাগলিটা আমাকে মারা শুরু করলো।
আমি বললাম:-
.
--আহা মেয়ে মানুষের হাতে মার খাওয়ার মজাটাই অন্য রকম।
.
--কি বললি। দাড়া তর মজা দেখাইতেছি।
.
সুমাইয়া এই কথাটা বলেই কেন জানি আমাকে ধরে কাদতে শুরু করলো।
আর বললো:-
.
--আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যাবি নাতো।
.
--না রে পাগলি আমি তর আছি তোরই থাকবো।
.
কথাটা বলেই আমি সুমাইয়াকে জরিয়ে ধরলাম।ক্লাসে সবাই আমাদের হাতে তালি দিয়ে উৎসাহিত করলো।
.
------------সমাপ্ত-----------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now