বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবুঝ ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tarikul Islam (০ পয়েন্ট)

X প্রতিদিন কলেজ ক্যাম্পাসে বসে সবাই যখন আড্ডা দেয়, তখন একা একা বসে থাকতে দেখা যায় রিয়াদ নামের একটা ছেলেকে। ছেলেটা প্রথম থেকে একটু গম্ভীর এবং লাজুক প্রকৃতির। তবে আগে এমন একা একা বসে থাকতো না। বন্ধুদের সাথে থাকতো কিন্ত একটু কম কথা বলতো। আজ সপ্তাহ খানেক ধরে তাকে এমন একা একা বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছোট্ট একটা কষ্ট হয়ত তার বুকে মধ্যে জাল বুনছে। আর সেটা কাউকে বলতে পারছেনা। কিছু দিন আগে নীলা নামের একটা মেয়েকে পছন্দ করেছিল রিয়াদ। নীলা তাদের সাথে পড়তো। একটু দুষ্টু টাইপের ছিল সে, অনেক সুন্দরী এবং মডার্ন ছিল। কথা বলার ধরন গুলো ছিল অসাধারণ। মেসের বন্ধুরা সবাই যখন ফোনে কথা বলতো তাদের গার্লফ্রেন্ডদের সাথে, রিয়াদ তখন মন খারাপ করে বসে থাকতো। সেও মনে মনে ভাবতো, "ইস! তার যদি গার্লফ্রেন্ড থাকতো। তাহলে খুব ভাল হত।" এইদিকে রিয়াদ নীলাকে ভালবেসে ফেলেছে। তাই মনে মনে ঠিক করলো ভালবাসা কথা আর মনের মাঝে পুষে রাখবে না। কাল বলবে নীলাকে। কিন্তু সমস্যা হল নিজে তো এই কাজ পারবে না সে। আর বড় ভয় করে যদি নীলা না বলে দেয় তাহলে? তবুও রিয়াদ তার বন্ধু নীরবের কাছে সব খুলে বলল। নীরব বলল, "একটা পছন্দ হয়েছে তাহলে তোর!!" নীরব প্রেমের দিকটাতে খুব এক্সপার্ট, খুব মেয়ে পটাতে পারে সে। তাই নীরবকে বলেছে রিয়াদ। নীরব কালকে একটা ব্যাবস্থা করে দিবে বলেছে। রিয়াদের আজ খুশি লাগছে আবার খুব ভয়ও লাগছে কি হয়। নীলা কি রাজি হবে?? কি হবে না!! একটু একটু টেনশন ফিল করছে সে..... রিয়াদ আর নীরব ক্লাস রুমে বসে আছে। এর মধ্যে নীলা এসে হাজির হল। নীরব নীলাকে ডাক দিল। --এই নীলা শোন? --কি?? --একটা জরুরী কথা বলার ছিল। --কি কথা?? -- এক পাশে এসো!! নীলাকে নিয়ে নীরব এক পাশে গেল। রিয়াদের বুকের ভিতর ধপাস ধপাস করছে। কি যে হবে কে জানে। -- কি কথা বল?? -- রিয়াদ তোমাকে খুব ভালবাসে। কিন্তু তোমাকে বলতে পারেনা। -- কি??? -- হুম!!! -- আমি ওই রকম গাঁইয়া পোলার সাথে প্রেম করতে পারবো না!!! -- ও খুব ভাল ছেলে। -- তুমি আমার সাথে প্রেম করলে আমি রাজি। কিন্ত ওর সাথে!!! কেমন যেন ভাবতেই খারাপ ল। াগছে। নীরব আর কি করবে, চলে এল সে। যে ভয়টা রিয়াদের মাঝে বিরাজ করছিল সেটাই হল। -- দোস্ত, তোর তো হয়ে গেছে!! -- তাই? ? -- হ্যা। রিয়াদ পাশে দাড়িয়ে সব কথা শুনেছে। কিন্তু নীরবের মিথ্যা কথা শুনে একটু হাসলো। নীরব যে আসল কথাটা লুকিয়েছে রিয়াদ তো সেটা জানে। কিন্তু নীরব জানে না যে, রিয়াদ আসল ব্যাপারটা জানে। আসলে বন্ধু মানে এমনই। বন্ধু হয়ে বন্ধু কে কষ্ট দিতে পারেনি নীরব। তাই মিথ্যা বলেছে রিয়াদের সাথে। একটা জিনিস কিছুতে রিয়াদ বুঝছে না। নীলা কেন অবুঝ ভালবাসা বুঝলো না। কেন বুঝলো না রিয়াদকে একটি বারের জন্য? সে যে কত ভালবাসে নীলাকে সে শুধু নিজেই জানে। এই ঘটনার পর থেকে রিয়াদ এমন মনমরা হয়ে থাকে। কারো সাথে কথা বলে না। সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা করছে সে। একটু একটু ভুলে গেছে রিয়াদ। আগে যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমন আছে। শুধু মাঝখানে কিছু কষ্ট জমে আছে। আর সেটাকে নিজের মাঝে খাপ খাইয়ে নিয়েছে রিয়াদ। যাইহোক, এখন মনটা আগের থেকে ভাল আছে তার। একা একা বসে আছে আর কি যেন ভেবে ভেবে হাসছে সে। হঠাৎ একটা মেয়ে কন্ঠ ভেসে আসলো। -- আমি কি একটু আপনার পাশে বসতে পারি??? রিয়াদের মুখে কোনো কথা নেই। মেয়েটি এইবার রিয়াদের পাশে বসে পড়লো। -- কি ব্যাপার আপনি বসলেন কেন?? আমি কি আপনাকে বসতে অনুমতি দিয়েছি। হুম? -- আমি জানি আপনি অনুমতি দিবেন না!! -- মানে? -- মানে মানকচু। যা খেলে গাল চুলকায়.....। -- আজব একটা। আপনি তাইলে বসেন আমি যাই। -- আরে আপনি কই যান?? -- আপনাক সেটা বলতে হবে?? -- হুম .... -- কেন? আপনি কে যে আপনাকে বলতে হবে? -- আমি এখন থেেক আপনার বস!! -- আরে বাবা, বললেই হল?? -- হ্যা হলো। -- আমি চলে যাই। আপনি থাকেন!! -- তখন থেকে আপনি আপনি করছেন কেন?? আমি আপনার ২ ইয়ার নিচে পড়ি!! -- আমি কি আপনাকে চিনি, যে তুমি করে বলবো? -- আমি তো আপনাকে চিনি!! আর আমার নাম মিষ্টি। নীরব আমার ফুফুত ভাই। -- তো আমি কি করবো? -- আপনি আমার সাথে প্রেম করবেন বুঝলেন মিস্টার গাধারাম? -- দেখেন আপনি দয়া করে আমার সাথে মজা করবেন না। আমার মেজাজটা ভাল নাই। -- আবারও আপনি? দিবো না এক ঘুসি!! -- আজব তো! ! এ কি ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা!! -- আমি আপনার সাথে মজা করছি না!! সিরিয়াসলি বলছি........ -- আমি প্রেম-ট্রেম করতে পারবো না!! -- তা বললে হবে না!!! আমার সাথে প্রেম করারই লাগবে!! -- আপনি কি আর কোন ছেলে পেলেন না!! আমাকে জ্বালাতে আসছেন কেন? -- দিবো না!! নাকের উপর একটা ঘুসি!! আবারও আপনি!!!!!!! -- আল্লাহ আমাকে মাফ কর। এ কোন বিপদে পড়লাম? -- আপনার ফোন নাম্বারটা দেন?? -- কেন?? -- দেন বলছি!!!!!! রিয়াদের ফোন নাম্বারটা নিলো। -- বাই মিস্টার গাধারাম!! বলেই চলে গেল মেয়েটি। রিয়াদ এইবার হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এত কথা বলতে পারে মেয়েটি এখনো মাথাটা ঘুরছে তার।। রাতে বসে আছে রিয়াদ একটা জানালার পাশে। কেন যেন মেয়েটির কথা মনে পড়ছে। কি মেয়ে বাবা ব্যাবহারটা ডাকাতের মত, আর একদমে কথা বলে। মিষ্টি কে আগে চিনতো না রিয়াদ,আজ প্রথম দেখেছে। খুব মিষ্টি চেহারা, চোখে- মুখে দুষ্টুমির ছাপ দেখা যাচ্ছে। হয়ত নীরবের কাছ থেকে রিয়াদের কথা শুনেছে। তাই আজকে একটু দুষ্টুমি করে গেল হয়ত!! সবাই এমন দুষ্টুমি করে রিয়াদের সাথে। তাহলে মিষ্টি করলে দোষ কি!! এটাই ভাবছিল রিয়াদ।। হঠাৎ তার মোবাইলটা বেজে উঠলো। হয়ত মিষ্টি কল দিয়েছে। হ্যা সেটাই হল…… -- হ্যালো, গাধারাম!! -- কি? -- আপনি ভাবছেন আমি আপনার সাথে মজা করছি। কিন্তু আমি সত্যি আপনাকে ভালবাসি!!! -- আমাকে কি বোকা পেয়েছ?? আমি এইসব বুঝি!! -- আচ্ছা, কালকে আপনার নাক সত্যি সত্যি ফাটাবো!! এখন রাখছি। নীলার ঐ ঘটনার পর থেকে নিজেকে খুব ছোট ভাবে রিয়াদ। ভাবে তাকে হয়ত কেউই ভালবাসবে না। মিষ্টি যে তাকে ভালবাসে সে তা মনতে পারছে না। পরদিন সকালে মিষ্টির সাথে দেখা হল রিয়াদের। মিষ্টি তার হাত ধরে এক পাশে নিয়ে গেল। রিয়াদ একটু ভয় পেল। কারন মিষ্টি একটু রাগি টাইপের মেয়ে। কি যে করে বসে কে জানে…… -- হাত ধরে এখানে আনলে কেন?? -- আপনি সব কিছু রহস্য মনে করেন?? -- না!! -- তাহলে আমাকে পাত্তা দিচ্ছেন না কেন?? -- আমি তোমাকে পাত্তা দেব কেন?? -- কারন আমি আপনাকে ভালবাসি!! (কাঁদ কাঁদ কন্ঠে) -- আমি তোমাকে ভালবাসি না!! -- আপনাকে ভালবাসতে হবে না!! আমাকে ভালবাসতে দিলেই হবে। -- আচ্ছা। এখন বচ্চার মত কান্না বন্ধ কর!! মিষ্টির মুখে কেমন যেন হাসির রেখা দেখতে পেল রিয়াদ। কি যে ব্যাপার যাকে রিয়াদ ভালবাসতে চেয়েছিল সে কিছু বুঝলো না! আর মিষ্টি কেন এমন করছে?? মেয়েদের মন বোঝা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু মিষ্টি!! বলা যায় না মেয়েদের মনে ঘাবলা আছে। যাইহোক, মিষ্টিকে আনেক কিছু বলে বুঝিয়ে আজকের মত বিদায় দিল রিয়াদ। তার পর থেকে মিষ্টির সাথে খুব ভাল সম্পর্ক হল। নিয়মিত মিষ্টির সাথে দেখা হয়। ফোনে কথা হয় রিয়াদের। কিন্তু এখনো ভালবাসেনা মিষ্টিকে সে। সে ভাবে মেয়েরা ভালবাসা বুঝে না। কিন্ত মনের মাঝে মিষ্টি যে আস্তে আস্তে একটা জায়গা দখল করছে আর সেটা রিয়াদ বুঝতে পারছে হয়ত। আজ বিকালে পার্কে আসার কথা রিয়াদের। প্রায় ১ ঘন্টা ধরে বসে আছে মিষ্টি। কিন্তু রিয়াদের কোন দেখা নেই। বাইরে একটা হট্টগোল হচ্ছে মনে হয়। কে যেন রোড এক্সিডেন্ট করেছে। মিষ্টি বাইরে গিয়ে দেখে এম্বুলেন্স দাড়িয়ে আছে। আর লোকজন একটা ছেলেকে এম্বুলেন্সে তুলছে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখে ছেলেটি আর কেউ না, ছেলেটি রিয়াদ। বেখেয়ালে রাস্তা পার হচ্ছিল আর হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস এসে ধাক্কা দিয়েছে তাকে। মিষ্টি ছুটে গিয়ে এম্বুলেন্সে উঠলো এবং রিয়াদকে নিয়ে হসপিটাল চলে গেল। সারারাত তার পাশে বসে কাঁদতে লাগলো মিষ্টি। জ্ঞান ফেরার পর রিয়াদ নিজেকে হসপিটালের বেডে আবিস্কার করলো। আর চোখ খুলতেই পাশে দেখলো একটা মেয়ে কান্নাকাটি করছে। ভাল করে লক্ষ করে দেখলো মেয়েটি মিষ্টির মত দেখতে। রিয়াদ কিছু বুঝে উঠার আগেই মিষ্টি তাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদতে লাগলো........ এইবার রিয়াদের ভুলটা ভেঙ্গে গেল, সে বুঝতে পারলো মিষ্টি তাকে খুব ভালবাসে সেইটা। না!! তাকে যে একটা মেয়ে ভালবাসে সে এখন বুঝতে পারছে, আর সবার জীবনে ভালবাসা আসে,এটাও বুঝলো। মিষ্টির এই অবুঝ ভালবাসা এতদিন বুঝতে পারেনি সে, কত কষ্ট পেয়েছ মেয়েটি! নিজের কাছে খারাপ লাগছে রিয়াদের। রিয়াদের এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে গ্রাম থেকে তার মা-বাবা এসেছে। রিয়াদের পাশে মিষ্টিকে দেখে তার মা মিষ্টির কাছে জিজ্ঞাসা করলো "তুমি কে মা?" রিয়াদ উত্তর দিল, "এইটা তোমার বউমা আম্মু।" মিষ্টি লজ্জা পেল এবং মাথা নিচু করে নীরবে একটু হাসি দিল। আসলে সবার জীবনেই ভালোবাসা আসে। হয়ত সে আগেই বুঝে নয়ত পরে বুঝে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা:X♥♥
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা।
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা
→ অবুঝ ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now