বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবশেষে তুমি এলে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★mAhIrA★ (০ পয়েন্ট)

X বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি । পুঁইপাতার মাচানে কালো-সবুজ বোঁটা । আর চারদিকে ভেজা বাতাসের শীতল ছোঁয়া । জানালার কাঁচ ঘেষে বসে আছে লাবনি । মনের মাঝে ব্যথার ঝর । সে কি আসবে? বাড়ির পেছনে কঁচুর বন । কচুপাতায় বৃষ্টির পানিগুলো বাতাসে কেমন দুলছে । বড় অস্থির লাগছে লাবনির মনটা । তার জীবনটাও কি এমন; কঁচুপাতার পানির মত? সে কেন আসে না? আসবে তো? লাবনির মনে পড়ে; বিয়ের পরের দশটা দিন যেন কেটে গিয়েছিল সপ্নের মত । প্রচন্ড ভালোবেসেছিলো লাবনি তাকে । তবুও কেন এমন হলো? কিন্তু এখন কী হবে লাবনির! সে তো অন্তঃসত্বা। সাতটি মাস পার হলো । কেটে গেল আরো তিনটি মাস । তবুও সে এলো না । লাবনির পেটে প্রচন্ড ব্যথা । বাবুর দুনিয়াতে আসার সময় হয়েছে। হাসপাতালে নেয়া হবে লাবনিকে । এম্বুলেন্সে তোলা হল । রাস্তায় ভীষণজ্যাম । একঘন্টা, দুঘন্টা করে অনেক সময় পর হাসপাতালে পৌঁছলো ওরা । কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাবু আর এলো না । চলে গেল লাবনি কে ছেড়ে। চলে গেল ওপারে । হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে লাবনি। প্রচন্ড কষ্টে কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে । সবাই তাকে ফেলে কেন এমন চলে যায়? শরৎ, হেমন্ত, শীত পার হলো; বসন্ত এলো । ফুল ফুটলো, কোকিল ডাকলো । তবুও সে এলো না । খেয়ে না খেয়ে লিভারে অসুখ হলো লাবনির। সেই থেকে ক্যান্সার । চেহারার সে হলদে আভা এখন আর নেই । তামাটে রঙের দেহটা সারাক্ষণ পরে থাকে বিছানায় । জানালার পাশে বসে থাকা হয় না এখন আর । চোখের নিচে ছাঁইপোড়া দাগ । দুদিন পর । লাবনির শিয়রঘিরে বসে আছে কতগুলো মানুষ । দোয়া, দুরূদ, কালিমা পড়ছে । হঠাৎ দরোজায় টোকা পরলো । পাশফিরে চাইলো লাবনি । খোলা দরোজায় দাঁড়িয়ে আছে সে । স্তম্ভিত লাবনি, হতবিহ্বল । লাবনির শিয়রে এসে দাঁড়ালো মুশফিক । তার স্বামী , তার প্রিয়তম । : কেমন আছো লাবনি? : ভালো । : দয়া করে আমায় ক্ষমা কর লাবনি! : ক্ষমা চাইছো কেনো? আমার তো কোন অভিযোগ নেই তোমার প্রতি! এতদিন কোথায় ছিলে প্রিয়? : সে অনেক কথা, থাক না ওসব । : অন্য নারীর আঁচলে বাঁধা? : হুঁ । অনুতাপে ঘেমে গেছে মুশফিক । : তবে কেন এলে? চোখে অভিমানি অশ্রু লাবনির। : তোমার জন্যে লাবনি! : আমার এ অন্তিম সময়ে? কিছুটা বিদ্রুপাত্নক সুরে বললো লাবনি। : কিন্তু আমি তোমায় যেতে দেব না প্রিয়া! আমি যে সব ছেড়ে এসেছি! অনুনয় মুশফিকের গলায়। : আমায়ও ছেড়ে দাও! রুদ্ধ হয়ে এলো লাবনির কন্ঠ । এরপর দুজনেই চুপচাপ । কিছুক্ষণ পর। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি । কালিমার শব্দগুলো ওঠানামা করছে লাবনির ঠোঁটে । অশ্রু ঝড়ছে দুচোখ বেয়ে । এরপর হঠাৎ নিস্তব্ধতা । লাবনির একটা হাত তুলে মুঠোয় পুরলো মুশফিক । ভীষণ ঠান্ডা! ধক্ করে উঠল কলিজাটা। লাবনি, লাবনি! কয়েবার ডাকলো লাবনিকে । কিন্তু সাড়া দিলো না লাবনি! সাড়া দিবেও না কখনো। চোখের কোণে তখনও অশ্রু। যেন বলছে – চলে যাবে জানি । তবুও আমার কবরের শেষ মাটিটুকু দিয়ে যেও প্রিয়তম! ….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবশেষে তুমি এলে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now