বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
ঠাস.. ঠাস.. ঠাস..
পরপর তিনটা চড় খেয়ে আমার বাম
গাল জ্বলতে শুরু
করলো।
আর কানে ঝি ঝি শুরু হলো। আমার
মষ্তিষ্কের বাম
প্রান্ত দিয়ে একটা ব্যথার শিহরণ বয়ে
যাচ্ছে।
ছোটবেলায় চকলেট আর আইসক্রিম
বেশি খাওয়ার
জন্য বাম মাড়িতে পোকা লেগেছিলো।
চড়টা খাওয়ার পর মাড়িতেও ব্যথা শুরু
হলো।
- ভুলেও আর আমার সামনে কোনো দিন
আসবি না।
- হুমম।
- তারপর সার্জিও রামোসের জার্সি
নম্বর অনুসারে
চতুর্থ চড়টা দিয়ে প্রস্থান করলো
নিশান্তিকা আপু।
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে উনার চলে যাওয়া
দেখতে লাগলাম।
আমার বাম চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু
করলো।
.
একটু পেছন ফিরে বলি ...
গত বছরেও আমরা সিঙ্গেল ছিলাম।
মানে আমার বস আর আমি। ওর
অভিজ্ঞতা থাকলেও
আমার ছিলো না।
কিন্তু এ বছর আমার কথা বিবেচনা না
করেই জিএফ
বানিয়ে ফেলেছে।
অবশ্য জর্জিনা আর রন কে দারুণ
মানিয়েছে।
তাই খুব জেদ করেই সিদ্ধান্ত নিলাম
ভ্যালেনটাইন্স
ডে'র আগেই কাউকে প্রপোজ করবো।
মাথা খাটালাম। ভাবনা, কল্পনা সব
জায়গাতেই নিশান্তিকা
আপু।
আমার মামাতো বোন। ক্লাস ফাইভেই
প্রথম ক্রাশ
খেয়েছি
তবে সেটা যে ক্রাশ আর ভালোলাগা
ছিলো সেটা
বুঝেছি ভার্সিটি লেভেলে এসে।
সুতরাং সেই অনুযায়ী প্রপোজ ডে তে
নিশান্তিকা
আপুকে প্রপোজ করে বসলাম।
আর এরপরে কি হলো জানেনই তো....
.
তো চড় খাওয়ার পর কি আর করবো !!
বাসায় এসে সোফায় বসে পড়লাম।
মামী ভেতর থেকে এসে বললেন,
- কি রে নিশা যে তোর সাথে গেলো ?
- আপুর ক্লাস আছে।
- আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে নে। আমি
খাবার দিচ্ছি।
- আর খাওয়া !!
- কেনো ? কি হলো ? তোর কথাবার্তা
ইদানিং বড়
মানুষের মতো হয়ে যাচ্ছে।
- মামী কি বলো এসব !! আমি কি ছোট
আছি নাকি !!!
- হুম হয়েছে। যা ফ্রেশ হয়ে আয়।
নাহ খাওয়ার ইচ্ছা একেবারেই হচ্ছে না।
বাসার বাইরে চলে আসলাম।
.
দশ টাকার মুড়ি মাখা হাতে নিয়ে খাচ্ছি
আর হাঁটছি। আমি
কল্পনায় যেমন একটা মেয়ের ছবি
একেছি নিশান্তিকা
আপু ঠিক সেরকমই। লম্বা চুল,
টোল পড়া গাল আর তার উপর ঠোঁটের
নিচে তিল !
উফফফফ আপু যখন কথা বলে তখন
তাকিয়ে থাকার
ইচ্ছা হয় শুধু।
আর যখন রাগ করে .... সৌন্দর্যের
পরিমাণটা
দ্বিগুণভাবে বেড়ে যায়।
.
এখন মধ্যবিকেল। অনেকদিন পর
ভার্সিটির
সবচেয়ে রোমান্টিক জায়গাতে পা
রাখলাম।
ওকি কেউ যেনো শাড়ি পড়ে কারো
জন্যে
অপেক্ষা করছে।
কাছে গিয়েই দেখলাম নিশান্তিকা আপুর
বান্ধবী তিথি
আপু।
- কি ব্যপার আপু ? এভাবে পরীর
মতো সেজে
আছো কেনো ?
- বেয়াদব। আমার গাধাটার জন্য
অপেক্ষা করছি।
এতো লেট করে মনে হয় যেনো হাত পা
বেঁধে ফেলে রাখি।
- সে যাই হোক। আজকে ভাইয়া সিউর
তোমাকে
দেখে ক্রাশ খাবে। আই মিন তোমার
দিকে অবাক
হয়ে তাকিয়ে থাকবে দেখো।
- তুই দেখি অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতো
কথা বলছিস।
কয়টা অভিজ্ঞতা আছে রে তোর ?
- আর অভিজ্ঞতা .... প্রপোজ করতে
গিয়ে চড়
খেয়েছি।
- সে কি !! ! তোকে চড় মারলো ??
কোন
মেয়েটা খালি দেখিয়ে দে।
- নাম বললে তুমি নিজেও আমাকে
মারবা।
- কি নাম বল তো !
- নিশান্তিকা আপু।
- হোয়াট ?? তুই তোর একবছরের
সিনিয়র আপুকে
প্রপোজ করেছিস ??
আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা। তোকে
চড় মেরে
ঠিকই করেছে।
- হুমম।। তোমরা আর আমার দুঃখের
কি বুঝবা !
তবে আপু আজ তুমি সিঙ্গেল থাকলে
একটা চান্স
নিতাম। বলেই দৌড়....
- ওই তুই দাঁড়া। তোর খবর আছে।
আমাকে আর কে আটকায়...
.
পরের দুইটা দিন নিশান্তিকা আপুর
সামনে অনেকবার
গেলাম।
কিন্তু ছেই ছেই করে তাড়িয়ে দিলো।
ম্যাসেজ দিলাম। পাশাপাশি রুম তবুও
চিঠি দিলাম। ভয়েস
ম্যাসেজ দিলাম। কোনোটারই রিপ্লাই
আসেনি।
উল্টো ব্লক দিয়েছে।
.
তৃতীয় দিন আবারো সামনে গেলাম।
এবার কোনো কথা না বলতেই ঠাস।
- আমার কথা তো শুনবা !
- কি বলবি হ্যা !! লজ্জা করেনা
তিথিকে আবার এই কথা
বলেছিস।
- না করেনা। কারণ আমি তোমাকে
ভালোবাসি।
ভালোবাসায় লজ্জা পেলে চলে না।
- ঠাস... আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
আসিফ কে
চিনলে আর কোনো কথা বলবি না।
- এইবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললাম।
শুধু শুধু চড় মারছো কেনো ?
- শুধু শুধু ?? ন্যাকামি করবি না। যা
ভাগ।
জীবনেও যদি আমার সামনে এসব
বলতে আসিস
তো তোর সাথে দেখা করাই বন্ধ করে
দিবো।
- প্রচন্ড খারাপ লাগছে। আপু প্রেম
করে জানতাম
না। বাম গাল চিনচিন করছে।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আমি কাঁদছি।
হুম কাঁদছি।
ছোটোবেলা থেকেই কেউ আমাকে চড়
দিলেই মারামারি করি
নয়তো চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
এভাবে কয়েকদিনের ব্যবধানে ছয়টা
চড় খেয়ে
আমার মাথা ঝিনঝিন করতে লাগলো।
.
আজ নাকি আবার হাগ ডে !! লে বাবা।
সিঙ্গেলদের
জন্যও কিছু একটা বের করবে নয়তো
.......
মাটিতে পড়ে থাকা ফাটা টেনিস বলটাকে
ফুটবল
বানিয়ে লাথি মারছি আর হাঁটছি।
হঠাৎ করে একজনের গায়ে লাগলো।
তাকিয়ে দেখি স্বর্ণা। আমার ক্লাসের
সবথেকে
সুন্দরী মেয়ে।
- কি ব্যপার সুন্দরী কই যাও ?
- কোথাও না। তোর মতো বেয়াদব
দেখিনাই যে
সিনিয়র আবার মামাতো বোনকে
প্রপোজ করে।
- কি করবো বল ?? মনের টান।
নিশান্তিকা আপুকে দেখলাম
বান্ধবীদের সাথে
গল্প করতে করতে আসছে।
আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ালো।
তারপর স্বর্ণা আর আমার দিকে
একবার তাকিয়ে চলে
গেলো।
.
বিকেলে নজরদারি আর অনুসন্ধানের
ফলে
আসিফের দুইটা কুকীর্তি পেলাম।
এখন শুধু প্রদর্শন করতে হবে সঠিক
জায়গায়।
.
রাতে ডিনারের পর আপুর রুমের
দরজায় দাঁড়িয়ে
আছি।
- অনেকক্ষণ পর আপু বললো, কিছু
বলবি?
- হুমম।
- ওই টপিক নিয়ে যদি আসিস তো
আবার চড় খাবি।
- মোবাইলটা এগিয়ে দিলাম। দেখো
তোমার
আসিফকে...
সিগারেট আর মেয়েদের পেছনে লাইন
মারে।
( এই দুইটা কারণই যথেষ্ট প্রেমে একটু
জল
ঢালার )
- তুই কোথায় পেলি ? আর এসব
করতেই বা কে
বলেছে ?
- শোনো ওকে ঠিকমতো চেনো না
আবার তার
উপর এসব করে।
জঙ্গি হলে তো খবর খারাপ। তাই
বলছি এতদিন ধরে
তোমার বাসায় আছি।
আমার চব্বিশ ঘন্টার রুটিন তোমার
জানা। সবদিক দিয়ে
পারফেক্ট আছি।
- তো ??
- তো ঘরে এমন ওয়ার্ল্ডক্লাস
প্রোডাক্ট
থাকতে অন্য ছেলের দিকে নজর না
দেওয়াই
ভালো।
সময় থাকতে দাম দাও। নইলে পড়ে
পাবে না।
তুমি খুব লাকি তাই আমার মত এমন
ছেলে
পেয়েছো।
- এই কথা শুনেই আপু বেডের নিচে মাথা
দিয়ে কি
যেনো খুঁজতে লাগলো।
- চোখে পড়লো বেতের লাঠি।
আমি পড়িমরি করে দৌড়।
- ওই তুই দাঁড়া। ওখানেই দাঁড়া বলছি।
তোর
প্রোডাক্টগিরি বাহির করবো আজকে।
আর আমি ততক্ষণে আমার রুমের
দরজা লাগিয়ে
দিয়েছি। চিৎকার করে বললাম ভালো
করে ভাবো।
ভ্যালেনটাইন্স ডে'র আগে উত্তর দিও
নইলে
পস্তাবা।
.
আম্মু সব শোনার পরে কঠিক রকম
ঝাড়ি।
অনেকক্ষণ বোঝালো এসব সমাজ
মানবে না।
তারপর এই সেই আরো অনেক কিছু.....
কিন্তু
আমার জেদ আর কান্নার কাছে হার
মেনে
অবশেষে বললো দেখি তোর মামা মামী
কি
বলে !!
.
আমি তো খুশিতে সাল্লুর তোয়ালে
ড্যান্স দিচ্ছি।
আম্মু রাজি মানে অর্ধেক কাজ শেষ।
.
আজকে ভ্যালেনটাইন্স ডে।
আমি খুঁজতেছি সিঙ্গেল কোনো সুন্দরী
মেয়ে
যার সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটানো
যায়।
দেখি স্বর্ণা বসে আছে।
- কি রে কি করিস একা একা ?
- কিছু না রে... আবিদ এখনো
আসেনাই।
- চলে আসবে টেনশন করিস না।
আমার কলার ধরে কেউ টেনে তুললো।
পেছন ফিরে দেখলাম নিশান্তিকা আপু।
উঠে দাঁড়াতেই মারাত্মক ক্রাশ
খেলাম।
সবুজ রংয়ের শাড়ি। কাঁচের চুড়ি, চোখে
কাজল, হালকা
মেকআপ এ নিশান্তিকা আপুকে
ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগছে।
- বলো কি বলবা ?
- কি হচ্ছে এসব ?
- গল্প করছি।
- শুধু গল্প নাকি অন্য কিছু ?? তুইও
তো আসিফের
মতো।
- উহু ভুল। আসিফ মেয়েদের সাথে
প্রেম করে
বেড়ায়। আর আমি ক্রাশগার্ল দের
সাথে গল্প করি।
- ঠাস....
- যাআআআআ ... রোনালদো। মানে
সপ্তম চড়
পড়ে গেলো।
- ক্রাশ !! হুমম ... আজকের পর থেকে
তোর
ক্রাশ খাওয়া বন্ধ।
- কেনো ? এমন কেনো হবে ?
- আমি বলেছি তাই।
- তুমি কে ?
- আমি তোর সব। আমি এখন থেকে
তোর ক্রাশ,
তোর গার্লফ্রেন্ড, তোর ভবিষ্যৎ।
আমিই সব।
- আমি একটু মুচকি হেসে বললাম,
তাহলে ছোট
ভাইয়ের প্রেমে পড়েই গেলে।
- ছোট ভাই ?? বলেই আমার কান ধরে
বললো,
বল আমি কে ?
- আরে আপু লাগছে তো ছাড়ো।
- তাহলে বল আমি কে ?
- আমার ফিউচার বউ।
- হুম। ভুলেও অন্য মেয়ের চিন্তা যদি
করিস তাহলে
. ...
- আচ্ছা তারমানে তুমিও আমাকে ...?
- আপু মাথা নিচু করে বললো হুম।
- তাহলে একটা ইয়ে দিবা ??
- তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে আমার কলার
চেপে ধরে বললো কি বললি তুই ?
বিয়ের আগে ভুলেও যদি ওসব চাইবি
তো দেখিস
তোর বড় আপু হয়ে যাবো তাহলে।
- একটু ঢোক গিলে বললাম.... হাত
ধরতে
পারবো ?
- নিশান্তিকা আপু আমার হাত ধরে
হাঁটতে লাগলো।
আপুর চুলগুলো উড়ে আসছে চোখ মুখের
উপর। আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় আপু
সেগুলোকে কানের পেছনে গুঁজে দিচ্ছে।
আমার ইচ্ছা হচ্ছিলো রোনালদোর মতো
সেলিব্রেশন করতে।
অবশেষে আমি নিশান্তিকা
আপুকে...আরে ধুর...ধুর
এখনো কি আপু আপু করছি।সরি পাঠক
ওই অনেক
দিনের অব্যশ তো তাই আপুইই মুখ
থেকে বের
হয়
অবশেষে নিশান্তিকা কে পেঁয়েছি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now