বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটি সত্যিই অন্যমনস্ক ছিলো। নইলে দেখতে পেতো দশাসই চেহারার এক যুবক মুখে একটা ফচকে হাসি চেপে রেখে দু’হাতের দশ আঙ্গুল মেলে দাঁড়িয়ে আছে। উদ্দেশ্য – ম্যানিকিওর! শপিং করতে আসা শপারদের একটা বড় অংশ কোনো এক মন্ত্রবলে এদিকটায় ঘুরে যাচ্ছে। আলবৎ ঘুরবে। বিনে পয়সায় চকচকে নখের প্রতিশ্রুতি দিলে কেউ ছাড়ে? না, মেয়ে-মহিলাদের ঐ অপেক্ষমান দলে কেউই তাতে রাজী নয় – একেবারে হুটোপুটি লেগে গেছে। শুধু ব্যতিক্রম একটাই – রাদিন।
এক মাথা ঝাঁকড়া চুল, খদ্দেরের পাঞ্জাবি, আর মোটা ফ্রেমের চশমা নিয়ে সে শান্ত বিগলিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে পেছনে জমায়েত নারীকূলের ভর্তসনা, সমালোচনা থোড়াই তার কানে ঢুকছে! তার দৃষ্টি কেবল কাউন্টারের ঐ মেয়েটি। মিষ্টি হাসির চটপটে মেয়েটি। ঐ দিকে তাকিয়ে সে সম্ভবত একটি স্পন্দন মিস করলো।
সুচরিতা ওরফে সুচি আসলেই ব্যস্ত ছিলো – দম ফেলবার ফুরসৎ নেই! যা ভীড় সামলাতে হচ্ছে না! কিন্তু এতে ওর এতটুকু বিরক্তি নেই। বলতে গেলে জীবনের প্রথম বিপণনের এই চ্যালেঞ্জিং ইভেন্টটা পুল-অফ করাতে পারলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে – এর সাথে অনেক কিছু নির্ভর করছে যে! ভাবতে ভাবতেই দূরমনষ্ক সুচি রাদিন কে এড়িয়ে যায় – অভ্যাসমত হাত দু’টি টেনেই আশ্চর্য হয়ে গেলো! রাগও হয়ে গেলো খুব!
‘এ কী? আপনি? কিছু মনে করবেন না – আপনাকে এই সেবা দেয়া সম্ভব না!’
‘কেন?’ কৌতুক ঝরে পড়ে রাদিনের কণ্ঠে।
‘চোখের কি মাথা খেয়ে বসে আছেন? এই আয়োজন কেবলমাত্র মেয়েদের জন্য। আবার জিজ্ঞেস করছে –কেন?’
রাদিনের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলে যায়। একটু তাঁতিয়ে দেবার জন্য মুখটা সরু করে – ‘ এহ, বললেই হলো? কোথায় লেখা আছে শুধু মেয়েরাই এই সেবা পাবে? দেখান, দেখি?’
‘আজব, এটা তো কমন সেন্স! এই লাইনে আপনার মত আর একজনও নেই। মেয়েদের প্রোডাক্টস্ প্রমোট করছি – এটা আপনার নজর এড়ায় কী করে?’
‘নজরে কিছুই এড়ায় নি। সবিস্তারেই দেখেছি...দেখছি...তাই তো এই হ্যাপা সামলানো...’
‘দেখুন মিস্টার, হেঁয়ালি ছাড়ুন। আমাকে আমার কাজ করতে দিন, দয়া করে’
তারপর কী মনে করে মুখ ফস্কে বলে ফেলে – ‘ অবশ্য আপনি যদি নিজের লিঙ্গ নিয়ে কনফিউজড্ থাকেন, সেটা আলাদা কথা!’ মুখ টিপে হাসতে থাকে।
এ কথায় আশেপাশে তরুণীদের মাঝে হাল্কা হাসির রোল পড়ে যায়। আর বয়স্কাদের মুখে উষ্মা ফুটতে থাকে। অবস্থা সুবিধার নয় – রাদিন বেশ বুঝতে পারে।
‘আচ্ছা, আপনাকে কাজ করতে দিতে আমারও আপত্তি নেই, কিন্তু আপনি না ছাড়লে যাই কীভাবে, বলুন? হাত দু’টো ধরে রেখেছেন যে!’
এবার সুচির খাবি খাওয়ার পালা। লজ্জা পেয়ে যায়। তাড়াতাড়ি হাত দু’টো ছেড়ে দিয়ে, ‘ যান, যান। মেলা বকেছেন। ইস, কী বিরাট লাইন পড়ে গেছে!’
রাদিন চলে যেতে থাকে। তবে শেষ মুহুর্তে কী মনে করে পেছন ফিরে তাকায়। আর ঠিক তখুনি একটা অদ্ভুত কৌতুহলে সুচিও যুবকটির দিকে বড় বড় দু’চোখ মেলে তাকিয়ে ফেলে। কী সুন্দর অনবদ্য বাঙ্ময় চোখ! রাদিন সন্তর্পনে একটা শ্বাস ফেলে – এ চোখজোড়া যে স্রেফ হন্তারক! এ কী থেকে কী হয়ে গেলো ওর?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now