বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>কিরে তুই কি সত্যিই বিয়ে করবি না
শুভ্র ?
এক রাশ সিগেরেটের ধোয়া ছেড়ে
রবিনকে
বললাম
=নাহ..বিয়ে আমার জন্য নয় ।
>দু বছর আগের সেই দুর্বিষহ
স্মৃতিকে
মনে রেখে কেন কষ্ট পাচ্ছিস ? তোর
জন্য
তোর পরিবার কষ্ট পাচ্ছে । তাদের
কথাটাতো ভাব ।
সিগেরেটটা ফেলে দিয়ে একটা হাসি
দিলাম ।
তারপর চুপ করে আকাশের দিকে
চেয়ে
রইলাম । দু বছর পিছনে চলে গেল
আমার
মন
মাস্টার্সের ছাত্র আমি । বন্ধু
বান্ধব পড়া
লেখা আর নীলকে নিয়ে বেশ ভাল
ছিলাম ।
নীল , হ্যাঁ সেই মেয়েটি যে ছিল বলা
যায় আমার
প্রথম ও শেষ ভাল লাগা । কিন্তু
ওকে
কখনো মনের কথা জানাই নি । দূর
থেকেই
ভালবাসতাম । ছাত্র ভাল ছিলাম আর
একটু
গম্ভীর প্রকৃতির ।
আমি ওকে ভালবাসি এটা ও বুঝত
তবে কেউ একজন
আমার নামে মিথ্যে প্রচারনা চালায় ।
তাই
একদিন ক্যাম্পাসে সবার সামনে
অপমান
করেছিল । বলেছিল আমি না কি
খারাপ
উদ্দেশ্যে ওকে পছন্দ করি এবং
আমি
দেখতে থার্ড ক্লাস আমার ওকে
ভালবাসার
যোগ্যতা নেই ওর সামনে যেন না
যাই ইত্যাদি
ইত্যাদি । অবশ্য কেন জানি না ওর
চোখেও
জল ছিল ঐদিন । ভেবেছিলাম হয়তো
ঘৃণার
জল এগুলো ।
ওকে বুঝানোর চেষ্টা
করেছিলাম । পারি নি । পাঁচ বছরে যার
সম্পর্কে কোন গুজব ছড়ায় নি
সেদিন সেই আমার এই অবস্থা ।
এরপর কয়েক মাসের মধ্যে ওর
সামনে যাই
নি । কিন্তু প্রথম ভাল লাগাকে তো
ভুলা
যায় না তাই এখনো ভালবাসি ।
হুশ ফিরল রবিনের ধাক্কায় । বলল
>কিরে কি ভাবছিস ? শালা তোকে
বিয়ে
করানোর চেষ্টায় নিজেই বিয়ে করছি
আজ
আর তুই বলছিস বিয়ে করবি না ।
=নিজে শহিদ হচ্ছিস আবার আমাকে
টান ছিস
কেন ?
বলে মুচকি হাসলাম । যদিও বিষাদ
মাখা ।
বন্ধু বলেই বুঝল । বলল চল নিচে চল
।
চলুন নিচে যেতে যেতে পরিচয়টা দেই
। আমি শুভ্র , পড়া লেখা শেষে এখন
একটা কলেজের লেকচারার । আর ও
রবিন আমার বন্ধু । আজকে ওর বিয়ে
।
নিচে এসে আমি থমকে দাড়ালাম । বড়
রকমের একটা ধাক্কা খেলাম । নীল
,হ্যাঁ নীল
। রবিন আমাদের ঐ ব্যাচের এক
মেয়েকেই
বিয়ে করছে । তাই ওর এখানে থাকাটা
স্বাভাবিক । আগেই ভাবা দরকার ছিল
।
নীলও দেখেছে আমাদের । এগিয়ে
আসছে
এদিকে । চোখে মুখে কিছু একটা
পাওয়ার
আনন্দ ।
আমি শুধু রবিনকে বললাম
=রবিন আমি আসি ।
বলে আর দাড়াই নি । পিছন থেকে
ওরা
দুজনেই ডেকেছে আমি বাইক নিয়ে
বেরিয়ে
পড়েছি ততক্ষনে ।
পুরোনো ক্ষতটা আজ আবার জেগে
উঠছে
।
একটু পর রবিনের ফোন পেলাম
>বন্ধুরে আমি তোর চলে যাওয়ার
কারন
জানি কিন্তু আমার জন্যে আর
ইশিতার
(রবিনের বউ) জন্যে হলেও তুই আয়
।
প্লীজ দোস্ত আজকে আমার বিয়ে
তুই
এভাবে চলে গেলে খুব খারাপ লাগবে ।
তাছাড়া নীলও পরে জানতে পারে কথা
গুলো মিথ্যে । মেয়েটা তোকে
ভালবাসে আগে থেকেই ।
=শোন ওর কোন কিছুতে আমার কিছু
যায় আসে না ।
>আচ্ছা অন্তত আমার জন্যে আয় ।
ফেলতে পারলাম না বন্ধুর কথা ।
একটা দিন
নাহয় পেলাম কষ্ট । ফিরে এলাম ।
এসে দেখি সবাই নীলকে ঘিরে
দাড়িয়ে আছে ।
ও কাঁদছে । পাত্তা না দিয়ে আমি
বাড়ির
পিছনে চলে গেলাম ।
একটু পর নীলও এল । আমি চলে
যেতে চাইলে
ও বলল
:প্লীজ শুভ্র আর কষ্ট দিও না
আমাকে দু
বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি এই কষ্ট ।
তাও চলে যাচ্ছি দেখে হাত টেনে ধরল
। আমি
এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে বললাম
=কিসের কষ্ট তোমার কিসের ?
কষ্টে তো
আমি আছি । শুধু ভালবেসেছিলাম দূর
থেকে
কোনদিন ভালবাসার দাবি নিয়ে
সামনেও
আসি নি তবুও আমাকে অপমানিত
হতে হয়ে
ছিল । মিথ্যে অপবাদে লাঞ্ছিত
করেছিলে ।
:আমি জানি আমি ভুল করেছি । ঐদিন
তো
আমার চোখেও পানি ছিল । প্রিয়
মানুষটার
সম্পর্কে এই ধরনের কথা সহ্য
হয়নি ।
বেশিই ভালবাসতাম তোমকে । তাই...
=হ্যাঁ আর তাই সত্য মিথ্যা যাচাই না
করেই
অপমান করেছিলে ........
:এটাইতো আমার ভুল দুটি বছর ধরে
আমিও
তো এর মাশুল দিচ্ছি ।ভালবাসি যে
তোমাকে
।
চোখ মুখ কঠিন করে বললাম
=আমি বাসি না ।
কথাটা বলতে গিয়ে বুক ফেটে যাচ্ছিল
। তাই
দ্রুত চলে আসলাম । ছাদে
চিলেকোঠর
উপরে বসে আছি । সিগারেট হাতে ।
চোখ
থেকে পানি ঝড়ছে । এমন সময় নীল
ছাদে এল
। এসেই কান্নায় ভেঙে পড়ল ।
আমি উপর
থেকে বসে দেখছি । ও এখনো জানে
না আমি
ছাদে আছি । প্রায় এক ঘন্টা ধরে
সমানে
কেঁদে চলেছে । বাঁধ ভাঙা কান্না । নাহ
আর
কষ্ট দেওয়া যায় না । মেয়েটার
ভালবাসা
নিখুঁত ।
উপর থেকে লাফ দিয়ে নিচে নামলাম ।
নীল
চমকে পিছনে ফিরল । অবাক চোখে
তাকিয়ে
রইল চোখ থেকে অঝোর ধারায়
বর্ষন
হচ্ছে । রাতের হালকা চাদের আলো
আর
চোখের পানিতে ওকে অসম্ভব
মায়াবী
লাগছিল ।
সিগারেটটা ফেলে ওর সামনে গিয়ে
কিছুক্ষন
দাড়ালাম ।
হাতটা ধরে বললাম
=বিয়েটা কবে করছি আমরা ?
এতে ওর কান্না যেন বেড়ে গেল ।
আমার বুকে
মাথা ঠেকিয়ে কাঁদতে লাগল ।
কাঁদুক আজ কেঁদে নিক আর কখনো
যে
ওকে কাঁদতে দেব না ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now