বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবশেষে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X >কিরে তুই কি সত্যিই বিয়ে করবি না শুভ্র ? এক রাশ সিগেরেটের ধোয়া ছেড়ে রবিনকে বললাম =নাহ..বিয়ে আমার জন্য নয় । >দু বছর আগের সেই দুর্বিষহ স্মৃতিকে মনে রেখে কেন কষ্ট পাচ্ছিস ? তোর জন্য তোর পরিবার কষ্ট পাচ্ছে । তাদের কথাটাতো ভাব । সিগেরেটটা ফেলে দিয়ে একটা হাসি দিলাম । তারপর চুপ করে আকাশের দিকে চেয়ে রইলাম । দু বছর পিছনে চলে গেল আমার মন মাস্টার্সের ছাত্র আমি । বন্ধু বান্ধব পড়া লেখা আর নীলকে নিয়ে বেশ ভাল ছিলাম । নীল , হ্যাঁ সেই মেয়েটি যে ছিল বলা যায় আমার প্রথম ও শেষ ভাল লাগা । কিন্তু ওকে কখনো মনের কথা জানাই নি । দূর থেকেই ভালবাসতাম । ছাত্র ভাল ছিলাম আর একটু গম্ভীর প্রকৃতির । আমি ওকে ভালবাসি এটা ও বুঝত তবে কেউ একজন আমার নামে মিথ্যে প্রচারনা চালায় । তাই একদিন ক্যাম্পাসে সবার সামনে অপমান করেছিল । বলেছিল আমি না কি খারাপ উদ্দেশ্যে ওকে পছন্দ করি এবং আমি দেখতে থার্ড ক্লাস আমার ওকে ভালবাসার যোগ্যতা নেই ওর সামনে যেন না যাই ইত্যাদি ইত্যাদি । অবশ্য কেন জানি না ওর চোখেও জল ছিল ঐদিন । ভেবেছিলাম হয়তো ঘৃণার জল এগুলো । ওকে বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম । পারি নি । পাঁচ বছরে যার সম্পর্কে কোন গুজব ছড়ায় নি সেদিন সেই আমার এই অবস্থা । এরপর কয়েক মাসের মধ্যে ওর সামনে যাই নি । কিন্তু প্রথম ভাল লাগাকে তো ভুলা যায় না তাই এখনো ভালবাসি । হুশ ফিরল রবিনের ধাক্কায় । বলল >কিরে কি ভাবছিস ? শালা তোকে বিয়ে করানোর চেষ্টায় নিজেই বিয়ে করছি আজ আর তুই বলছিস বিয়ে করবি না । =নিজে শহিদ হচ্ছিস আবার আমাকে টান ছিস কেন ? বলে মুচকি হাসলাম । যদিও বিষাদ মাখা । বন্ধু বলেই বুঝল । বলল চল নিচে চল । চলুন নিচে যেতে যেতে পরিচয়টা দেই । আমি শুভ্র , পড়া লেখা শেষে এখন একটা কলেজের লেকচারার । আর ও রবিন আমার বন্ধু । আজকে ওর বিয়ে । নিচে এসে আমি থমকে দাড়ালাম । বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলাম । নীল ,হ্যাঁ নীল । রবিন আমাদের ঐ ব্যাচের এক মেয়েকেই বিয়ে করছে । তাই ওর এখানে থাকাটা স্বাভাবিক । আগেই ভাবা দরকার ছিল । নীলও দেখেছে আমাদের । এগিয়ে আসছে এদিকে । চোখে মুখে কিছু একটা পাওয়ার আনন্দ । আমি শুধু রবিনকে বললাম =রবিন আমি আসি । বলে আর দাড়াই নি । পিছন থেকে ওরা দুজনেই ডেকেছে আমি বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি ততক্ষনে । পুরোনো ক্ষতটা আজ আবার জেগে উঠছে । একটু পর রবিনের ফোন পেলাম >বন্ধুরে আমি তোর চলে যাওয়ার কারন জানি কিন্তু আমার জন্যে আর ইশিতার (রবিনের বউ) জন্যে হলেও তুই আয় । প্লীজ দোস্ত আজকে আমার বিয়ে তুই এভাবে চলে গেলে খুব খারাপ লাগবে । তাছাড়া নীলও পরে জানতে পারে কথা গুলো মিথ্যে । মেয়েটা তোকে ভালবাসে আগে থেকেই । =শোন ওর কোন কিছুতে আমার কিছু যায় আসে না । >আচ্ছা অন্তত আমার জন্যে আয় । ফেলতে পারলাম না বন্ধুর কথা । একটা দিন নাহয় পেলাম কষ্ট । ফিরে এলাম । এসে দেখি সবাই নীলকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে । ও কাঁদছে । পাত্তা না দিয়ে আমি বাড়ির পিছনে চলে গেলাম । একটু পর নীলও এল । আমি চলে যেতে চাইলে ও বলল :প্লীজ শুভ্র আর কষ্ট দিও না আমাকে দু বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি এই কষ্ট । তাও চলে যাচ্ছি দেখে হাত টেনে ধরল । আমি এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে বললাম =কিসের কষ্ট তোমার কিসের ? কষ্টে তো আমি আছি । শুধু ভালবেসেছিলাম দূর থেকে কোনদিন ভালবাসার দাবি নিয়ে সামনেও আসি নি তবুও আমাকে অপমানিত হতে হয়ে ছিল । মিথ্যে অপবাদে লাঞ্ছিত করেছিলে । :আমি জানি আমি ভুল করেছি । ঐদিন তো আমার চোখেও পানি ছিল । প্রিয় মানুষটার সম্পর্কে এই ধরনের কথা সহ্য হয়নি । বেশিই ভালবাসতাম তোমকে । তাই... =হ্যাঁ আর তাই সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই অপমান করেছিলে ........ :এটাইতো আমার ভুল দুটি বছর ধরে আমিও তো এর মাশুল দিচ্ছি ।ভালবাসি যে তোমাকে । চোখ মুখ কঠিন করে বললাম =আমি বাসি না । কথাটা বলতে গিয়ে বুক ফেটে যাচ্ছিল । তাই দ্রুত চলে আসলাম । ছাদে চিলেকোঠর উপরে বসে আছি । সিগারেট হাতে । চোখ থেকে পানি ঝড়ছে । এমন সময় নীল ছাদে এল । এসেই কান্নায় ভেঙে পড়ল । আমি উপর থেকে বসে দেখছি । ও এখনো জানে না আমি ছাদে আছি । প্রায় এক ঘন্টা ধরে সমানে কেঁদে চলেছে । বাঁধ ভাঙা কান্না । নাহ আর কষ্ট দেওয়া যায় না । মেয়েটার ভালবাসা নিখুঁত । উপর থেকে লাফ দিয়ে নিচে নামলাম । নীল চমকে পিছনে ফিরল । অবাক চোখে তাকিয়ে রইল চোখ থেকে অঝোর ধারায় বর্ষন হচ্ছে । রাতের হালকা চাদের আলো আর চোখের পানিতে ওকে অসম্ভব মায়াবী লাগছিল । সিগারেটটা ফেলে ওর সামনে গিয়ে কিছুক্ষন দাড়ালাম । হাতটা ধরে বললাম =বিয়েটা কবে করছি আমরা ? এতে ওর কান্না যেন বেড়ে গেল । আমার বুকে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদতে লাগল । কাঁদুক আজ কেঁদে নিক আর কখনো যে ওকে কাঁদতে দেব না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবশেষে তুমি এলে
→ অবশেষে তাকে পেলাম
→ অবশেষে তাকে পেলাম
→ অবশেষে জিজে
→ অবশেষে♥ভালোবাসি-(শেষ)
→ অবশেষে♥ভালোবাসি-৮
→ অবশেষে♥ভালোবাসি-(৬+৭)
→ অবশেষে♥ভালোবাসি-(৪+৫)
→ অবশেষে♦ভালোবাসি-(২+৩)
→ অবশেষে ভালোবাসি-১
→ অবশেষে স্যারের প্রেমে
→ অবশেষে
→ অবশেষে নিশান্তিকা আপু (সিনিয়র vsজুনিয়ার)
→ অবশেষে প্রেম
→ অবশেষে প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now