বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -২৯

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -২৯ ঋতু বৈচিত্রের পালাবদলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নরূপ আসে, বর্ষাকালে-ঝিরিঝিরি ছন্দময় অপরূপ লীলা আর শীতল বাতাস ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। মেঘের ফাঁকে উঁকিদেয় সূর্য। চারিদিকে সবুজ-শ্যামল, স্নিগ্ধ কোমল, প্রকৃতি-উজার করা-রূপমাধুরী, গাছের ডালে ডালে পাখির ডাকে, পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুল ফোটে, ভাঁমরের গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিপাশ। নীলাকাশের বুকে অসীম মুগ্ধতায় ডানামেলে মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায় চিল। শনশন দক্ষিণা বাতাসের উদাসী সুর, যেন তোলপার করে তোলে প্রকৃতি পাগল মানুষের হৃদয়, হারিয়ে যেতে চায়-দুরে। শীতের ঝরা পাতা বসন্তের আগমনে নতুন যৌবন ফিরে পায় প্রকৃতি, সাজে নতুনরূপে। ফুলে ফুলে ভরে ডাল, হাজারো ভোমরের আনাগোনা তাদের গুন গুন গানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বাঁশবাগানে কোকিল ডাকে কুহু কুহু সবার ভরে যায় মন। শেষবিকেলের নরম রোদে নীলাকাশের বুকে ওড়ে সারি-সারি চিল। নদীর ঢেউয়ের মতো একবার ওপরে ওঠে আবার নিচে নামে, ওড়ার তালে তালে ডানা কাপে, লেজ নাচে মনের আনন্দে শিস দিয়ে ডেকে ওঠে। শরতের সাদা মেঘের আড়ালে পূর্ণিমার চাঁদ যেমন ঝলমল করে ওঠে, নিজের অস্তিত্বকে বিলিন করে ্উজার করা আলো দিয়ে পৃথিবীকে ভরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে কিন্তু এক সময় দিনের আলোর কাছে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হয়। বাঁশবাগানে হাজার পাখির মন মাতানো গান নদীর ঢেউ বিশাল খোলা বাতাস। অনন্ত এ জীবনের পথে নিরন্তর ছুটে চলা। অবশেষে বসন্ত পাখির মতো পথের ধারে কোনো বাঁশ ঝাড়ের শীতল ছায়ার স্পর্শ। অশান্ত অক‚ল নীলাকাশের বুকে কেবলই উড়ে যেতে চায় মন, বহু দূরে কোনো অজানা দেশে। মানব জনমে এত স্বল্প সময়, এই ক্ষণস্থায়ী জীবন এই বুঝি ফুরিয়ে যায়। এই নীলাকাশ, এই বসন্তের আবেশ, চৈত্রের খাঁ খাঁ দুপুর, বাঁশের ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি, ফুলের বনে ভোর যেন গুঞ্জন নদীর বুকে, কলকলে ঢেউ, ফলন্ত গাছে গাছে পাখির গান, বড়ই মধুর প্রাণজুড়ে যায়, এসব মায়া-মমতার বন্ধন যেন হাজার বছর থেকে য়ায় ক্ষুদ্র এ জীবনে আজ এমন সাধ জাগে বারেবার। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত ক্রমে বাড়তে লাগলো তবুও মোহনের বাড়ি ফেরার নাম নেই । আকাশটা হঠাত প্রচণ্ড খারাপ হয়ে পড়ে, হয়তো এখনি কালবৈশাখী ঝড় এসে পড়বে। মোহন আবার ঝড়কে বাঘের চেয়েও বেশী ভয় পায়, এটা নাকি তার ছোট বেলা থেকেই হয়ে আসছে। ঝড় আসলে তার মাথায় ঘর ভেঙ্গে পড়বে বলে সে খাটের নিচে গিয়ে লুকাতে শুরু করে। এমন সময় দরজায় খট-খট শব্দ হয়, আবিয়া খুব দ্রæত যেয়ে দরজা খুলে দেয় অমনি হুড় হুড় করে রাজ্যের সব ধুলো মিশ্রিত বাতাস এসে ঘরের সব সাজানো গোছানো জিনিস পত্র এলো মেলো করে দেয়। মোহন প্রচণ্ড ভয়ে পায়ের জুতো না খুলে বিছানায় বসে পড়ল। বাহিরে প্রচণ্ড ঝড় বইছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে ছোটখাট দু’চারটা পাথরও পড়ছে। জানালার কপাটগুলো থরথর করে কেঁপে উঠছে। বাহিরে বিকঠ শব্দে একটা বাজ পড়ল, মোহন অমনি আবিয়াকে জড়িয়ে ধরে তার বুকের ভিতর মুখ লুকাল, আপাতত বদ্ধঘরের মধ্যে এটাই তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আবিয়া তার পায়ের জুতোগুলো খুলে দিয়ে এক এক করে শরীরে ভেজা কাপড় খুলে শুকনো গরম কাপড় পড়িয়ে দেয়। ঝড় আর কোন ভাবেই থামে না, তাই সে একটা কম্বল মোহনের গায়ে জড়িয়ে দেয়। মোহন ঝড়ের ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, আবিয়া তার বুকে মাথা রেখে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। ক্লান্ত চোখে কখন ঘুম এসে স্পর্শ করে কেউ জানে না। সত্যি আমি মোহনের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। যতই দিন যাচ্ছে আমি ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে পড়ছি, এমনটা কখনই আগে অনুভব করি নি। আমার শরীর ক্রমে উষ্ণ হয়ে ওঠে, রক্ত গুলো টকবক করে, আমি খেতে পারি না, ঘুমোতে পারি না। আমি যেন এক বৃত্তের ভেতর মায়াজালের গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে আছি। যেখান থেকে বেড় হওয়ার কোন পথ আমার জানা নাই। আমার এ অব¯থা দেখে এক ভয়ানক রুপে কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মোহন বলল- আবিয়া কি হয়েছে তোমার? কি সব আজে বাজে চিন্তা নিয়ে পড়ে থাক সারাদিন? আমি কোন দিন তাকে বোঝাতে পারব না, ফ্যাল ফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম, চোখে শ্রাবনের ধারা বয়ে যেতে লাগল। কিঙ্ককর্তব্য বিমূঢ় হয়ে আমি বিছানায় বসে পড়লাম, আমার নির্বুদ্ধিতার কাছে পরাজিত হয়ে জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তটি নিতে হচ্ছে। যখন চৈতন্য আসে তখন কেবলি মনে হয়, ভাগ্যহত জীবনে এসব নীতি-নৈতিকতার কি কোন দাম আছে? হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসার পর তিনকুড়ি আশ্রয় নেয় রহিমার ঘরে। আবিয়া একটি বারের জন্যও তাকে দেখতে যায় নি। রাগে, ক্ষোপে, প্রচণ্ড অভিমানে সে জ্বলে পুড়ে মরছে। কি প্রয়োজন ছিল আমার জীবনটাকে নষ্ট করার। শরীরের শক্তি, বাহুর বল, অর্থের দম্ভে সে অন্ধ হয়ে সে যা নয় তাই করে গেছে। মানুষকে সে, মানুষ মনে করে নাই। গরিব মানুষকে সে সব সময় নিজের চাকর-বাকর মনে করত। তারাও যে এ সমাজের জীব, তাদেরও যে রক্ত-মাংস, ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে, আঘাত করলে তারাও যে কষ্ট পায়, এটা সে কোন দিন তার উপলব্ধিতে আসে নাই। তাই সে রাতের অন্ধকারে গুণ্ডা বাহিনী সঙ্গে নিয়ে আবিয়াকে তুলে নিয়ে আসে। সময়ের ব্যবধানে আজ তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেলেও তার প্রতিবাদ করার শক্তি টুকুও কার নেই। তিনকুড়ির বিরুদ্ধে কেউ মাথা চাড়া দিলে তার স্থান হত মাটির নিচে, নয়তো তিস্তা নদীতে। রাতের অন্ধকারে তাকে তুলে নিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হত। আর আজ কেউ তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললেও তার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। এইতো জীবন, সময়ের পালাবদদলে একদিন সবে নিঃশ্বেষ হয়ে যায়, শরীরের কাছে শরীর থাকে না, মনের কাছে মন থাকেনা। ইচ্ছেগুলো সব মরে যায়, জীবনের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা গুলো ক্ষয়ে যায়। যতই সে বিত্তশালী আর ক্ষমতাধর হোক না কেন একদিন সবকিছু ছেড়ে শুন্য হাতে এ পথিবী থেকে তাকে বিদায় নিতে হয়। তিনকুড়ি খাঁ তার জীবন ও যৌবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন অন্যায় করে, মানুষের ক্ষতি করে। তার গোটা জীবনকালে একটিও ভালো কাজ সে করেছে এমন কোন নজীর নেই। ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের বাদ বিচা করার মতো বিবেক তার ছিল না। জন্ম নিলে যে মরতে হবে সেটা ছিল তার ভানার বাইরে। সে যা কামনা করত, তা পূরণ করার জন্য কাউকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হলেও নূন্যতম দ্বিধা করত না। অর্থের জোর আর ক্ষমতার দম্ভ তাকে এতটাই নিচে নেমে দিয়েছিল যে, কোন খারাপ কাজই তার কাছে অন্যায় মনে হতো না। গ্রামের সবাই তাকে ভয়ে সমীহ করত আর সেটাকে তিনি সম্মান মনে করতেন। একটা ছোট বাচ্ছা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই তার কুকীর্তির কথা জানত, কেউ কখনো তাকে সহ্য করতে পেতনা। গ্রামের মা-বোনেরা তার কাছ থেকে নিরাপদে থাকতে পারত না। করিমন বেওয়ার মতো স্বামীহারা বিধবা তার তার কাছ থেকে রেহাই পায় নি। ছলেবলে নানা কৌশলে সে করিমনকে তার কাচারিতে নিয়ে গিয়ে রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। জয়নালের বউয়ের উপর তার কুনজর পড়ে। তাই সে নিজের জমিতে তাকে বাড়ি বানিয়ে দেয়। রাতে তাকে এখানে সেখানে বিভিন্ন কাজে পাঠিয়ে দিয়ে তিনকুড়ি তার বউয়ের সাথে রাত কাটায়। জয়নাল আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দেখে ফেললে মুহুর্তের মধ্যেই শরীর থেকে তার মাথাটা আলাদা হয়ে যায়। ধলা বয়াতির বউ আমেনাকে তিনকুড়ি মহাজন জোর করে বিয়ে করে। বউয়ের শোকে ধলা বয়াতি সন্নাস জীবন নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে ভিক্ষে করে। বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীদের সাথে আশ্রমে দিন কাটায়। এভাবে তিনকুড়ি মহাজন যে কত মানুষের জীবন নষ্ট করেছে, কতজনার সংসার ধ্বংস করেছে তার কোন হিসেব নেই। হাজারো অসহায় মানুষের কান্না আর চোখের জলের অভিশাপে তিনকুড়ি মহাজন অভিশপ্ত। মহাজনি কারবারে মানুষ বিপদে-আপদে সোনা-রুপোর গহনা, কাঁসা-পেতলের ঘটিবাটি এমনকি সাইকেল, ঘড়িও বন্ধক রেখে চড়া সুদে টাকা ধার নিত। আর খুব কম সংখ্যক লোকই বন্ধকি জিনিস ফেরত পেয়েছে। সময় গড়িয়ে গেলে অনেক তালবাহানা করে, নয়-ছয় করে তাদের বুঝ দেয়া হত। এভাবে অনেকে তার দুঃখের ধন কষ্টের সম্বল না পেয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরে যেত। আর মনে মনে তাকে গালি-গালাজ করে অভিশাপ দিত এ দুনিয়ায় তো নয়ই, নরকেও তার ঠাঁই হবে না। মাসখানেক সময় গড়িয়ে গেলো তিনকুড়ি মহাজন বিছানা ছেড়ে মাটিতে পা রাখতে পাচ্ছে না। তার বাম পাশের হাত-পা দু’টোই অবশ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলে তার হারগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতাদিন মোহনের কাঁধের ভর করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু এখন তার সে অবস্থাও নেই। চোখের দৃষ্টি নেই শুধু জুলজুল করে তাকিয়ে থাকে। কয়েকদিন ধরে তার চোখও খোলার শক্তি নেই, শুধু বুকের ভেতর বেঁচে থাকার চিহ্নরূপে হৃদপিণ্ডের শব্দটুকু অবশিষ্ট আছে। সংসার জীবনকে তিনকুড়ি মহাজন ভীষণ পৃথিবীর সবকিছর বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। দুদিনের দুনিয়ার মানুষ কিভাবে এতটা স্বার্থপর হয়, নিজের সুখের জন্য অন্যকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। ছোট একটি ক্ষণস্থায়ী জীবন নড়বড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কালের সাক্ষী হয়ে। জীবনের পুরাতন হিসেব নিকাশগুলো ঢাকা পড়ে যায় স্বার্থের দেয়ালে। পৃথিবীর সব ক্লান্তি যেন আমার উপর ভর করে বসে আছে, বমি পাচ্ছে আমার যেন হৃৎপিণ্ডটা উঠে আসছে গলায়। ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, চারিদিকে ঝাপসা দেখছি, কোমরের তলাটা প্রচণ্ড চাপে ফেটে যেন ফেটে যাচ্ছে। আমার এ অবস্থা দেখে রহিমা বুবু বলল- আবিয়া তুই নিজের ঘরে য্যায়া একনা ঘুমি নে। আর মনে হয় রাত পোহাতে বেশি দেরি নাই। হঠাৎ কোথা হতে একটা কালো মেঘ উড়ে এসে বৃষ্টি ঝরাতে লাগল, কি তুমুল বৃষ্টি যেন সবকিছুকেই ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার সাথে আমাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কালো অন্ধকারে, আরও গভীর অন্ধকারে। একটা আবছা কালো সুড়ঙ্গের মত হয়ে উঠল দিনটা। তারপর হঠাৎ গর্জনে ফেটে পড়ল নিংড়ে মুচড়ে নিল আমার শরীরটাকে। মোহন তুমি করেছ আমাকে এমন, আমার ছোট শরীরটার তলায় অমন প্রকাণ্ড একটা কালো মেঘ, কোথায় লুকিয়ে ছিল এতদিন? তবে কি আমার বিয়ের মন্ত্র পড়া স্বামীকে আমি কখনো ভালোবাসিনি? না ভালোবাসার বিষয়টি সেখানে ছিল অমুলক, নিছক সংসার কিংবা সামাজিকতা রক্ষার প্রয়াসে দুটো নর-নারীর দেহকে নিয়ে পুতুল পুতুল খেলা। আমি কখনো তাকে দিতে পারিনি নিজেকে। এতদিনে সেটা বুঝতে পারলাম নিজের কোন একটা তৃপ্তির অংশ সরিয়ে রেখেছিলাম নিজের অজান্তে সেই গোপন গভীর তৃপ্তির অংশটি তোমার জন্যই আমি জমিয়ে রেখেছিলাম মোহন। সকালে উঠেই আবিয়া তার ঘরের দরজায় খক-খক করে মুখ ভর্তি বমি করে ফেললো। রহিমা তিনকুড়ি খাঁর পাশে বসেছিল সেখান থেকে ধড়ফড় করে উঠে গিয়ে আবিয়ার কপাল চেপে ধরল। একটুপরে সে স্বাভাবিক হলে রহিমা তাকে জিজ্ঞাসা করে-কিরে আবিয়া, হঠাত কি এমন হলো তোর? কাইল রাইতোত উল্টা-পাল্টা কিছু খাইছিস না কি? না বুবু, আজ দু’তিন দিন ধরি ক্যানেভালা এমন লাগির নাগচে সবসময় বমি বমি ভাব। প্যাটের ভিতরোত অস্বাভাবিক একটা কিছু মনে হবার নাগছে। রহিমা এবার ফিক করে একটা হাসি দিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে আবিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে-চিন্তা করিসনা আবিয়া, এইটা একটা আনন্দের খবর। হামার ঘর উজ্জল করার জন্য কাঁও একজন আসিবার নাগছে। মোর কি যে আনন্দ হবার নাগচে আবিয়া। রহিমা নিজেকে সামলাতে না পেরে খুব দ্রুত তিনকুড়ি খাঁর কাছে যেয়ে তাকে বলে- শুনছেন? আরে ও মহাজন শুনবার নাগছেন? আজ তোমাক এমন একটা খুশির খবর দিম, যেটা শুনলে তোমা এ্যালায় ঝাপি উঠি আনন্দে নাচতে শুরু করবেন। মোর কি আর আনন্দে নাচার দিন আছেরে বউ? মুইতো এ্যালা পঙ্গু লোক। আছে গো আছে, সেই দিনতো তোমার কেবলি আসিবার নাগচে, যার জন্য তোমা সারা জীবন পেরেশান হয়া অপেক্ষা করিবার নাগচেন। যার জন্য তোমার এতকিছু করা। আর আজ সেটা না শুনে কি তোমা মরিবার পান? তোমা যে ছওয়ার বাপ হবার নাগচেন মহাজন, ছওয়ার বাপ! আবিয়ার প্যাটোত তোমার সেই ছওয়া আস্তে আস্তে বড় হবার নাগচে। দুনিয়ার আলো বাতাসের গন্ধ পাবার নাগচে। কি কইস বড় বউ, সত্যি! কথা? মুই এই বয়সে আসি বাপ হইম, তবুও আবার মরিবার আগোত। আজ মোর জীবনটা ধন্য হইল, আবিয়া কোন্টেকোনা? এ্যাকনা ডাকাতো, প্রাণ ভরি তার মুখখান দ্যাখো। রহিমা একরকম জোর করেই আবিয়াকে তিনকুড়ির কাছে নিয়ে আসল। তীব্র অনিচ্ছার সত্যেও প্রবল অনিহা আর প্রচণ্ড ঘৃণা মিশ্রিত অভিব্যক্তি নিয়ে তিনকুড়ি খাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয় আবিয়া। সে জানে তার এ সন্তানের বাবা কে? তিনকুড়ি খাঁর জন্য আজ তার ভীষণ আফসোস হয়, একটা জীবনের জন্য সে কতগুলো জীবনকে নষ্ট করেছে, কতগুলো সুখের সংসারে আগুন জ্বালিয়েছে, কত নিস্পাপ অবলা নারীকে নষ্ট করে পথের ভিখারিনী করেছে, তার কোন হিসাব সে মেলাতে পারবে না। আমেনার সুখের সংসার নষ্ট করে তার স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছে। তিনকুড়ি খাঁর আবিয়ার হাতটা তার নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলে। তারপর বলে- ছোট বউ মুই তোর কাছোত সারা জীবনের জন্য ঋণী হয়া থাকিনু। তুই মোর বংশে বাতি জ্বালাইছিস, রক্ষা করেছিস মোর ভবিষ্যত বংশকে। তা না হলে মোর তো সব এখানে শেষ হয়া যাইত। মোর এ বিশাল সয়-সম্পত্তি কায় ভোগ করিল হয়? তিনকুড়ি খাঁ নির্লিপ্ত মনে অসাড় দেহের সমস্ত শক্তি দিয়ে বালিশ থেকে মাথাটা তুলে আবিয়াকে লক্ষ্য করে বলে- ছোট বউ তোর মতো সুন্দরী, রুপসী একটা মেয়ে, এক অকর্মাণ্য বুড়ার হাতোত পড়ি জীবনের সবকিছু হারাইচে এটা সত্য, কিন্তু আজ তার বিনিময়ে যে কারো বংশক’ল রক্ষা পাইছে এটাই বা কম কিশে। মোর জীবন আজ ধন্য, শুধু তোর জন্য। আবিয়া কোন কথা না বলে আস্তে আস্তে তিনকুড়ি খাঁর হাত থেকে তার নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল। আবিয়া কোন দিনই তিনকুড়িকে স্বামী হিসেবে মানতে পারে নাই, আর মানতে সে চায়ও নাই। তার যে বিয়ে হয়েছে সেটাও তার অজানা, সম্পূর্ণ জোর-জবরদস্তি করে, ইচ্ছের বাইরে। ধর্ম মতে পাত্রের যাবতীয় বিবরণ শোনার পর পাত্রি কবুল বলে সেই বিয়েতে সম্মতি দেয়, কিন্তু তার বিয়েতে কবুল বলল কে? আর সম্মতি বা দিলো কে? তারতো কোন জ্ঞানই ছিলো না। নাকি নূরল মুন্সি এখানেও কোন ফতোয়া জারি করেছে যে পাত্রির মতামতের দরকার হয় না, (আল্লাহ্ ভালো জানেন)। তিনকুড়ির গোটা জীবনটাই মিথ্যা, চোখে মিথ্যা, মুখে মিথ্যা, ভাবনা গুলো মিথ্যা, প্রতিটি পদে পদে মিথ্যা। তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গ মিথ্যা দিয়েই তৈরি, তার জীবনটাই মিথ্যায় ভরা। আমি কোন দিন ক্ষমা করবো না, ক্ষমা করতে পারবো না তাকে। তাহলে আমার সব মিথ্যা হয়ে যাবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি তাকে কষ্ট দেব, যন্ত্রণা দেব, দেহে নয় মনে। অসহ্য যন্ত্রণায় সে ছটফট করে মরবে, কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারবে না, এটাই তার শাস্তি। কারণ সে জানে এ সন্তানের বাবা সে নয়, কিন্তু সে তা বলতে পারবে না- এটাও তার শাস্তি। দিনের পর দিন সে আমাকে জ্বালিয়েছে, নরকের মতো দগদগে আগুনে আমার অঙ্গ-প্রতঙ্গ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিয়ের প্রথম দিনে যে উঠোনে হয় কনের বউ ভাত আর সে আমাকে সেই উঠোনে মেরে অজ্ঞান করে ফেলে রাখে হাজার মানুষের সামনে। নতুন বউকে সবাই দেখে-সেজে গুজে ঘোমটা পড়ে থাকা আর আমাকে দেখেছিল রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা। বিয়ের পর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কেটে গেছে সে কোন দিনই আমাকে বাবার বাড়ি যেতে দেয়নি। তার ধারণা-আমার বাবা সুদের বিশ হাজার টাকায় আমাকে চিরদিনের জন্য তার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। পরিবার সমাজ সবখান থেকে যেন ভাগ্যের নির্মমতা তাকে গ্রা করে চলেছে। সচরাচর একটা কথাই সবাই বলে, মেনে নাও সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।' সময় যায়, মেনে নিতে নিতে জীবনও যায় কচ্চপ গতিতে। সমাধান আসে না। সহ্য করতে করতে দিন শেষে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একটা সময় জীবন ছেড়ে দেয় নিয়তির হাতে। ততদিনে সে বুঝে যায়, শখ আহ্লাদ আদর ভালোবাসা তার জন্য নয়, প্রাণটা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছে, এটাই ঢের। এভাবেই এক সময় চলে আসে বেঁচে থাকার প্রতি প্রচণ্ড অনীহা। অনেকটা বেঁচে থাকতে থাকতে মরে যাওয়া অথবা মরার মতো করে বেঁচে থাকা। কারণ ততদিনে প্রতিবাদ করার শেষ শক্তিটুকুও নিঃশেষ হয়ে যায়। তবুও মাঝে মাঝে প্রতিবাদী মন ভেতরে ভেতরে জ্বলে ওঠে। শারীরিক মানসিক নির্যাতন হয় নিত্যসঙ্গী। সাথে জীবনও যায়। এই সমাজে যে যতো কম প্রতিবাদ করে, সে ততো ভালো মেয়ের সুনাম পেয়ে যায়। জন্মের পর থেকেই একটি মেয়েকে বাবা-মা, আপনজনেরা কত আদর স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে বড় করতে থাকে। কিন্তু বিয়ের পর পরিস্থিতি পুরোই পাল্টে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সমস্যা নেই, যখন ঝামেলা তৈরি হয়, কিছুই ঠিকঠাক থাকে না। নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর বাড়িকেই শেষ ঠিকানা ভেবে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে। চারিদিকে ঝলমলে আলো গোটা বাড়ির হাজারো লোককে পুলকিত করছে। যেখানে পচা নিয়ম-কানুন, মান্ধাতা আমলের চিন্তা-ধারাগুলো আজ নিভু নিভু হয়ে তাকে ধিক্কার দিচ্ছে। বুকের ভিতর তুষের আগুন জ¦লছে, আর সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আবিয়া। দাঁতে দাঁত চেপে দম বন্ধ করে চোখ দু’টো বুঁজে তিনকুড়ির সেই মারের কথা মনে করে নিজের বিবেকের সামনে শক্ত করে তুলে ধরল দাঁড়িপাল্লায় নিজের ভাগ্য। কিন্তু সবকিছুই আজ নিরুত্তর, কারও কোনো সাড়া-শব্দ নেই। তার জীবনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি জীবনটাকে বদলে দেবে নিয়ে যাবে অন্ধ গলি পর্যন্ত? হয়তো দুঃখে, কিংবা প্রচণ্ড অভিমানে তার মসৃণ মুখখানা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। চোখের নিচে কালো দাগ, দাঁতের আঁচড়ে ঠোঁট কেটে রক্ত ঝরবে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে আবিয়ার দু’চোখ দিয়ে অশ্রুর বন্যা বয়ে যায়। নিজের কল্পনায় গড়া ভবিষ্যত জীবনের ভয়ঙ্কর প্রতিচ্ছবি তার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। শঙ্কিত দৃষ্টি মেলে চারদিকে ঈষৎ অন্ধকারে সামনের একটা গাছে হেলান দিয়ে অবিন্যাস্ত চুল, মুখমণ্ডলের কালো ছায়া, পুরো পৃথিবী জুড়ে থমথমে অন্ধকার হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস যেন ভেঙে ভেঙে পড়ছে। মাঝে মাঝে সে কান পেতে শুনছে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছে না। পৃথিবীতে তার আনন্দ, উৎসব সম্ভোগের বিষয়টি নিছক বিলাসিতা মাত্র, সে এসেছে কেবলি সহ্য করতে, জীবনের তামাসা বুঝে নিতে। আবিয়া অনেক্ষণ মাথা নিচু করে চুপ চাপ বসে রইল। তারপর আস্তে আস্তে মাথাটা তুলে জানালার কাছে যেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, নিজের বিবাহিত জীবনের সঙ্গে গভীর সংলগ্ন একটা দুঃখ চাপবার জন্য আজ তাকে এ ছলনার আশ্রয় নিতে হয়েছে। দুবৃত্ত জীবন, যা তার রূপ, রস, আগ্রহ আন্তরিকতার যত্ন প্রয়াসকে ঝড়ের বাতাসে উড়ে যাওয়া খরকুটোর চেয়েও নগণ্য মনে হয়। সেই জীবনে আজ একটি পরম কৃপার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকাটা তার কাছে কেবলি তামাশা মনে হয়, কেবলি হাস্যকর মনে হয়। আবিয়া আজ তার ভাগ্যকে নিশ্চিন্তে, নির্দিধায় মেনে নিয়েছে। জীবনের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো সহ্য শক্তি, সহিষ্ণুতা কিংবা তামাশাবোধ আজ কোনটাও নেই তার। কিন্তু একটা তীক্ষ্ণ, কর্কশ, ফেনায়িত সমুদ্রের মতো হতাশার অমাবস্যা তাকে রয়েছে ঘিরে যারকোন ভাগ হয়না, কাউকে দেয়া যায়না। সে তো কোন দিনই অর্থ সম্পদ চায়নি, মাঝারি মাপের একটা জীবন হলেই বেশ চলে যেতো। নিতান্তই অভাবে পড়ে না খেয়ে মরা কিংবা টানা হ্যাঁচড়ার না করে জীবনের জন্য যে স্বাধীনতাটুকু প্রয়োজন তা হলেই চলে যেত। তিনকুড়ি মহাজনের অবস্থা যে দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এটা রহিমা আচ করতে পেরেছে। গতকাল ডাক্তার প্রফুল্ল এসে বলে গেছেন যে, এ অবস্থা থেকে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আজ সন্ধ্যা থেকেই তার জীবন প্রদীপ নিভু নিভু করে জ্বলছে। রহিমা তিনকুড়ি মহাজনের পাশে বসে বারবার সুরা ফাতিহা ও আয়াতুল কুরসি পাঠকরে তার মাথায় ফু দিচ্ছে। মহাজনের অবস্থা বেগতিক দেখে রহিমা মোহনের দ্বারা নূরুল মুন্সিকে ডেকে এনে বলে, ভাইসাব মহাজনের অবস্থা ভালো না তোমা কয়জন মুন্সিক ডাকে কোরান পড়ার ব্যাবস্থা কর। নূরুল মুন্সি সাথে সাথে কোরআন পড়তে পারে পাড়ার এমন কয়েকজন কয়েজন মুরুব্বিকে ডেকে এনে কোরআন পড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণ কোরআন পড়ে নূরুল মুন্সি তিনকুড়ির পাশে এসে বসে। রহিমা বলে ভাইসাব এ্যাকনা দোয়া-দরুদ পড়ে মহাজনের মাথায় ফুকি দেনতো। তোমা তো আল্লাহ ওয়ালা মানসি, যদি সেই ওসিলায় আল্লাহ তাক মাফ করি দেয়। নূরুল মুন্সি এবার চেয়ারটা টেনে নিয়ে তিনকুড়ি মহাজনের মাথার কাছে বসে দোয়া দরুদ পড়ে আর সমস্ত শরীওে ফু-দেয়। মোহন পাশে বসে মহাজনের মাথাটা তার কোলে তুলে নিলো। তিনকুড়ি হঠাত করেই প্রাণপণ চেষ্টায় একবার চোখ খুলে চিরদিনের মতো সে চোখ বন্ধ করল। রহিমা উচ্চস্বরে কেঁদে ওঠে তার কান্নার শব্দ শুনে আবিয়া পাশের ঘর থেকে দৌড়ে আসে। রহিমা আবিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। আবিয়া মনে মনে বলে- হায়রে তিনকুড়ি মহাজন, তুমি এখন শুধুই কলঙ্কময় ইহিহাস। পৃথিবীর সব মায়া-মমতা, সমস্ত চঞ্চলতা, অর্থ ও ক্ষমতার দম্ভ-অহঙ্কার এক নিমিষে যেন স্থবির হয়ে গেলো, কালের অতল গহব্বরে হারিয়ে গেলো জীবনের অর্ন্তনিহিত ইতিহাস। তিনকুড়ি মহাজনও তার জীবদ্দশায় কোনই অন্যের চিন্তা করার অবকাশ পায় নি। তিনকুড়ির মৃত্যুর সংবাদ চারিদিকে চড়িয়ে পড়লে-গ্রামবাসীরা অনেকে প্রকাশ্যে বলাবলি শুরু করলো যে, যাক আজ থাকি যদি গ্রামে একটু শান্তি ফিরে আসে। আবিয়া মনে মনে ভাবে হায়রে “আশরাফুল মাখলুকাত!” এমনি মহীয়ান মৃত্যুর তোমার একমাত্র রহিমা বুবু ছাড়া কেউ এক ফোটা চোখের জলও ফেললো না। জীবনে অনেক হারিয়েছি, সামান্য কিছু প্রাপ্তির আশায়। এখনও মাঝে মধ্যে কিছু ফিরে আসে কল্পনায়, কিছু হয়তো চিরকালের জন্য পথের ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। এরই মাঝে জীবনের নিত্য নতুন গল্প সাজে নতুন স¤ভাবনায়। এটুকুই আমার নিজেস্ব পুঁজি, যাকে খুজে বেড়ানোর ব্যস্তায় কাটে দিন মাস, বছর। হাহাকারের মিছিল ছেড়ে আলোর ভুবনে নতুন গান শুনি ফিরে পাই নতুন ছন্দ। হার-জিতের খেলা খেলি নিজেই নিজের সাথে, ভালোবাসি যে যতোটা বাসা যায় তার সীমানা ছাড়িয়ে। অতর্কিত ভাবে এসে পড়া দুঃখবোধটুকু ঝেড়ে ফেলে জিহ্বা দিয়ে নিজের ঠোট দুটি একবার ভিজে নেয়। তারপর সে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে। অতীতের কষ্টেভরা দিনগুলো স্মৃতির সাদাকালো পর্দায় নদীর ঢেউয়ের মতো উচ্ছল হয়ে ওঠে তবুও সেই মলিনতাকে হৃদয়ের উষ্ণতায় চাঁপা দিয়ে ঠোটের কোণে ফুটিয়ে তোলে হাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -২৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now