বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ
অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -২৪
মোহনের প্রতিটি কথার স্পষ্ট ইঙ্গিত, তারুণ্যের অস্থিরতা, বুকে জমানো আকুতি, নির্বাক কণ্ঠ, আবিয়ার কাছে বেশ পরিষ্কার। আবিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারে মোহনের বুকে আবেগের যে জোয়ার এসেছে তা কখন যেন বাধ ভেঙ্গে উছলে পড়ে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় দু’কূল। তাই নিরুদ্দেশ হয়ে ভেসে যাওয়ার আগেই আবিয়া নিজেই ধরা দেয় মোহনের কাছে। জীবন নদীর বিশালতায় ভাসমান অস্তিত্ব তার কূলের নাগাল পাওয়ার জন্য এক টুকরো কাষ্টখণ্ড হলেও বেঁচে থাকার অবলম্বন দরকার। তাছাড়া তিনকুড়ির উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো কোন প্রতিশেধক নেই। তাই সে মোহনের আবেগে মিশে একাকার হয়ে যায়।
হঠাত সে মোহনের দিকে ঘুরে তার খুব কাছে একেবারে গা ঘেঁষে বসে। তার হাতে-হাত র্স্পশ করে আবিয়া ছলছল চোখ মোহনের দিকে তাকিয়ে আবেগী কণ্ঠে বলে-তো? কি করবে তুমি? স্বয়ং নিয়তি যেখানে বারবার আঁচড়ে পড়ছে আমার চলার পথে, ভাগ্যের ছেড়া পালে যতোবার জোড়া তালি দিয়ে জীবনের হাল ধরতে চেষ্টা করি, ততোবারই সাইক্লোনের মতো ঘুর্ণী ঝড় এস লণ্ড-ভণ্ড করে দেয়, আমাকে বেসামাল করে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অথৈ সাগরে। আমি শত চেষ্টা করেও কূলে ভিড়তে পারি না। অথৈ জলে হাবুডুবু খেতে খেতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমি আর পারি না। এ অবস্থায় আমি কি করতে পারি বলো? কিইবা করার আছে আমার? দৃশ্যমান ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, আমারই নিজ হাতে গড়া পৃথিবীটা ক্রমশ ধুসর হয়ে যায়। আর দুর থেকে আমাকে ধিক্কার জানায়।
আবিয়ার হাতটা নিজের হাতের কাছে টেনে নিয়ে মোহন বলে- আজ থেকে অন্য কিছু ভাবনার উদয় হবে আমাদের, মরে যাওয়া নদীর বুকে যদিও বিস্তির্ন চর জেগে, কেবলি আগাছা জন্মেছে, এখন বর্ষার নতুন বৃষ্টিতে, কেবলি বন্যা হবে, ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অশুভ সব দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, জীবনের সকল হতাশাগুলো। স্বপ্নের সরোবরে ভেসে বেড়াবে রাজ হংস, রঙ্গিন প্রজাপতি ডানা মেলে উড়ে এসে পড়বে তোমার গন্ধমাখা চুলের উপর। তোমার ভাসমান তরীতে যদি আমার জন্য সামান্যতম একটু জায়গা করে দাও দেখবে দুজনে মিলে ভাসতে ভাসতে একদিন ঠিকই কিনারায় পৌছে যাব আবিয়া।
মোহন, আমি আর পারছিনা। অথৈ নদী, বৈঠাহীন তরীতে জীবনকে ভাসিয়ে দিয়ে কিভাবে কিনারায় তরী ভিড়াবার স্বপ্ন দেখি বল? তুমি নব যৌবনের উচ্ছলতায় নারী দেহে কেবলি রঙ্গের খেলা দেখতে পাও। তোমার কল্পলোকের অববাহিকায় রঙিন ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় হাজারো প্রজাপতি, তাই দৃষ্টির সম্মুখে যখন যা আসে তুমি তাতেই মগ্ন হয়ে হারিয়ে যাও। তখন তোমার মাঝে আর তুমি থাকে না। আমার ভীষণ ভয় হয়, এতো প্রাণ কোথা পাই যে তোমাকে ভাসাই।
আবিয়া, জানা-অজানার মধ্যখানে যে বিশ্বাসের জন্ম হয়, তা কখনো পথ হারায় না, গন্তব্যে পৌছানোর পথ খুঁজে নেয় হৃদয়ের আলোকবর্তিকায়। আমার কল্পনার কেন্দ্র বিন্দুতে চিরন্তন সত্যের অস্তিত্বকে আমি তোমার মাঝে খুঁজে পেয়েছি। এর চেয়ে বড় কোন সত্য নেই। আমি বুঝে গেছি তুমিই আমার ইপ্সিত গন্তব্য।
মোহন, জীবন নামের যে ছোট তরীটি কেবলই অজানার উদ্দেশ্যে ভেসে চলে, সহায়-সম্বলহীন, ক‚ল-কিনারাহীন, উত্থাল তরঙ্গে টাল-মাটাল অবস্থা, গন্তব্যের শেষ সীমানা কোথায় আমি জানি না।
আবিয়া, তুমি না জানলেও আমি জানি, আমি শুধুই জানি, আমার অজান্তে আমার একান্ত অনুভবে আমার হৃদয়ে গগনে দিবানিশি মিটিমিটি করে যে তারা জ¦লে, তা কেবল আমারই ধ্রুবতারা। মাঝে মধ্যে হৃদয় বিকশিত করে উদয় হয়, আবার মাঝে মাঝে হারিয়েও যায়। মনুষ্য হৃদয় একটা স্বচ্ছ আয়নার মতো বড় জটিল, এখানে যা কিছুর ছায়া পড়ে কেবল সেটাই প্রতিবিম্ব হয়ে ফিরে আসে তার স্মৃতির পর্দায়, তখন মানুষ সেই বিষয়টিকে স্থান দেয় তার কল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারপর সে তার নিজস্ব ভাবনার জগতে একটা বৃত্ত তৈরি করে, সেই বৃত্তের ভিতরে কেবল ঘুরতে থাকে আর সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না। সে অনেকটা বাধ্য হয়েই এটাকে জীবন-যাপনের অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরে থাকে।
মোহন, এতো কঠিন কথা আমি বুঝি না, আর বুঝতেও চাই না। আমি জানি, আমার সুবিশাল কল্পনার জগতে একটি মাত্র চিরন্তন সত্যের অস্তিত্বকে খুঁজে পাই, এর চেয়ে বড় কোনো সত্য আমার জানা নেই।
আবিয়া, জানা-অজানার মধ্যখানে যে বিশ্বাসের জন্ম হয়, তা কখনো কখনো পথ হারায় না, গন্তব্যে পৌঁছানোর দিশা খুঁজে উত্তপ্ত বালুর বুকে পথহারা পথিকের মতো অনন্ত তৃষ্ণা নিয়ে ছটফট করে।
মোহন, আমি জানি তোমার কল্পলোকের বিশাল সরোবরে আমি কেবলই একখণ্ড ভাসমান তৃণ। শুধুই ভেসে বেড়াই এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে স্থায়ী কোনো জায়গা আমার নেই। যার উপর দাঁড়িয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি। অস্তিত্ব কাঁপে ভয়ে, শিহরণ জাগে বুকে; কেবলই তোমার ভাবনায় ডুবে থাকি আমার তৃষ্ণিত সূর্যের প্রতিটি ক্ষণ কেবল তোমার সান্নিধ্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়। উজাড় করা ভালোবাসা নীল হয়ে জমে থাকে বুকে। ওষ্ঠ কম্পনের নীরব শব্দে ঠোঁট কামড়ে ধরা, রোদনে বুক ফেটে যায় তবুও তোমায় পাওয়া হয় না সামান্যতম স্পর্শের মাঝে।
আবিয়া, এইযে তুমি বসে আছে সম্মুখে তোমার বহমান জলরাশি, মাথার উপর নীল আকাশ, দৃষ্টির সামনে সবুজ প্রান্তর। মস্তিষ্কে এক ভয়ানক গোলক ধাঁধার খেলা। এ দৃশ্য যেন আবহমান কালের কোনো এক সুখ- দুঃখের চিহ্নধ্বনি। ধূসর গোধূলির মাঝে যেমন আলো-আঁধারের খেলা চলে, ঠিক তেমনিভাবে নিরন্তর ছুটে চলেছি আমরা প্রবল মায়া-মমতার এক মরীচিকার বন্ধনে বাঁধা আমাদের চোখ-মুখ, বুকের পাঁজর। সেই মায়া-মমতার ইন্দ্রজালে আবদ্ধ হয়ে কেবলই গোলক ধাঁধায় আমরা ঘুরছি। গোলক ধাঁধা আচ্ছন্ন চোখে কেবলই মায়াভরা মুখ দেখতে পায়। কল্পিত কোনো রমণীর লাল ঠোঁটে তৃষ্ণা মেটাতে চায়। তার কোমল বুকে মাথা রেখে দুঃস্বপ্নের রাতকে পারি দিতে চায়।
মোহন, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি কেবলই তোমার অস্তিত্বকে খুঁজে পাই। আমার শরীরের প্রতিটি রক্তকণা কেবল তোমার নামেই সঞ্চালন করে। আমার হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনে কেবলই তোমার নাম ধ্বনিত হয়। তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকাটা নিঃশ্বাসবিহীন লাশের মতো মনে হয়। তুমি আমার ঈপ্সিত গন্তব্য। আমার চারদিকে আজ পাহাড় সমান বাধা। তোমার অবর্তমানে তোমার স্মৃতিগুলো ভয়ঙ্কর শকুনের মতো আমার সম্ভাবনাময় তাজা মুহূর্তগুলোকে খুবলে খুবলে খায়। আমার দু’চোখের সামনে এক বীভৎস ইন্দ্রজাল মেলে রাখে। আমি ছুটতেও পারি না, ফেরাতেও পারি না নিজেকে।
আবিয়া, আলোর পাশে যেমন আঁধার থাকে প্রদীপের নিচেও থাকে অন্ধকার। সীমার মাঝেও যেমন অসীম বিরাজমান থাকে। যা কেবলই পরিপূর্ণতা পায় বিশাল শূন্যতার। তোমার ভাবনার মাঝে আমার অস্তিত্ব যে বিরাজ করে এ আমার আত্ম উপলব্ধি মাত্র। কতো আশা, কতো আনন্দ দিয়েছিল মনে, কতো আলিঙ্গন ভরা তৃপ্তি।
মোহন আনমনে সেদিকে চেয়ে আছে দিগন্তের উপরে কাসার আলোর মতো ঝকঝকে উদীয়মান চাঁদটি যেন গোটা পৃথিবীটাকে আলোকিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মিষ্টি আলোয় ভরিয়ে দেবে প্রকৃতির বুক। অপরূপ জোৎস্নায় স্নান করতে হাজারও প্রেমিক খোলা আকাশের বুকে বেরিয়ে পড়বে ঘর থেকে বাইরে। পুকুরের এক কোণে সদ্য ফোটা একটি গোলাপ গাছের কাছে বসে দূরের আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বকুল গাছ থেকে কাঁচা বকুলের গন্ধ গোধূলির বাতাসকে উষ্ণ প্রেরণা যোগাচ্ছে।
আবিয়া মোহনের বুকে মাথা রেখে বলে-মোহন আর কোনো বসন্তের গন্ধমাখা বাতাস ভাসিয়ে নিতে পারবে না, জীবনের নরম সন্ধ্যাগুলো যদি গোধূলির অন্ধকারে কখনো ঝাপসা হয়ে যায়, তোমার কষ্টবিলাসী মনকে আর কখনো কষ্টের ভেলায় ভাসিও না। হৃদয়ের গোপন কষ্টগুলোকে বুকের পাঁজরে আটকে না রেখে আমার ভালোবাসার অবশিষ্ট নিঃশ্বাসটুকু দিয়ে ভ্যালা বানিয়ে ভাসিয়ে দিও। হৃদয় নামক বিশাল জগতে দীর্ঘ নিঃশ্বাসের উষ্ণ বাতাসে ভাসতে ভাসতে একদিন ঠিকই পৌঁছে যাবে আমার কাছে। দোহাই তোমার এই বিশ্বাসটুকু রেখ। মোহন তোমার আবিয়া যে সুখের বাসরে চোখের জ¦লে বালিশ ভিজাচ্ছে তা শুধু তোমার দেয়া ভালোবাসার প্রতিদান।
আবিয়ার কথা শুনে মোহন আবেগপ্রবণ হয়ে বলে- আবিয়া, তোমার সৃষ্টি হওয়া কেবলই আমার জন্য। তুমি আর অন্যকারও হতে পার না। তুমি আর আমি, তোমার জীবন আর আমার অস্তিত্ব আজ একই মোহনায় মিশে যেতে চলেছে। বিশ্বাস কর আবিয়া আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি।
মোহন আবিয়ার হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়। পুকুর পারে হাসনাহেনার গন্ধে ভরা বাতাস, বাঁশবাগানের মাথার উপর পূর্ণিমার চাঁদ, চারিদিকে জোছনার আলোয় ঝলমলে প্রকৃতি। আবিয়ার আয়নার মতো স্বচ্ছ মুখ জোছনার আলোয় প্রতিবিম্ব হয়ে ফিরে আসে তার চোখের তারায়।
দরিদ্রের রোশানলে পড়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জীবনে উন্নত বক্ষ কম্পিত করে সহসা ঝরে পড়ল একটা উতল দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু সেই বেদনা-বিধুর ভাব তার দীর্ঘস্থায়ী হলোনা। ষোল বছরের পূর্ণ জাগ্রত যৌবনা তরুণী আবিয়াকে মুহুর্তে সজাগ করে তোলে। শিথিল মুষ্টিতে নিজের অস্তিত্বকে স্বজোরে চেপে ধরে গোল গাল বাহুদ্বয়ে লাবণ্যের হিল্লোল তুলে তরুণচিত্তে অতর্কিতে এসেপড়া গ্লানিটুকু নিঃশেষে ঝেড়ে ফেলার জন্য ভাঙ্গা আয়নার সামনে একটা মিষ্টি করে হাসি দেয়। সেই হাসিতে যেন চারিদিকের স্তব্ধ সমীরন চঞ্চল হয়ে ওঠে। তারুণ্যের লীলায়িত দেহখানি তটে-তটে পরিপূর্ণ যৌবন সায়রের ছল-ছল ঢেউ কেবলি উচ্ছল হয়ে ওঠে। সেই যৌবনের মাদকতা, তারুণ্যের মায়া, দরিদ্রের দীর্ণ কুটীরের সকল দৈন্য, সকল হীনতা মুছে দিয়ে নিমেষে হৃদয় প্রাচুর্যে পরিপূর্ণতা আনে।
মোহন আবিয়ার শিশুর মতো কোমল অঙ্গুলির অগ্রভাগ স্পর্শ করে, মোহনীয় সৌরভময় সুখস্বপ্নের অন্তস্তল থেকে নিঃসঙ্গতার উদাসী চোখে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিতকণ্ঠে বলে-আবিয়ার, তোমার চিন্তাচ্ছন্ন ও বিষন্ন মুখমণ্ডল, বাঁকা চাঁদের স্বদৃশ ওষ্ঠযুগল, মেঘলা রাতের অপরূপ আঁধারের মতো এলো কেশী চুল, অনন্ত যৌবনা নদীর মতো বাহারি শাড়ি, শরীরের ভাঁজে লুকানো সাতটি ইরানী গোলাপের মিশ্রিত সৌরভে আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি। আমার কুড়ি বছর জীবনকালে সঞ্চিত শক্তি, অফুরন্ত ঐশ্বর্য কোনটি তোমার এক তিলকসম নয়। তোমার অস্তিত্বের উপস্থিতি আমার নিঃস্ঙ্গ জীবনের পরিপূর্ণতা এনে দেয়। মোহনের অত্যন্ত আবেগ জড়িত বাক্যাবলী, ধুসর চোখের উদাসী চাওয়া, করুণ মুখের বিবর্ণ পত্রিচ্ছবি, আলিঙ্গনাবদ্ধ উচ্ছাসিত যৌবনের আবেগ-অনুভুতি আবিয়াকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় উদাসীনতার অতল গহব্বরে। সে তার আপন ভুবনের নিজেস্বতাকে হারিয়ে ফেলে। অতপর গজলা হরিণের মতো লাবণ্যতায় তার সমস্ত শরীর মোহনের চোখের সামনে তুলে ধরে। সেখানে প্রকৃতির কোন সহিংসতা নেই, বাতাসের কোন শব্দ নেই, মশাদের উৎপাত নেই, অগত্যা আত্মসমর্পণ করতে হলো তার কাছে। কিছুক্ষণ পর আবিয়া দেখে কিশের যেন ভালো লাগায় বুদ হয়ে পড়ে আছে মোহন, তার চোখের পাতাও নড়ছে না, আবিয়ার ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে উঠে, তার ঠোঁটদু’টো কাঁপতে থাকে, ব্যাপারটা তার কাছে কল্পনার চেয়েও বেশী সাংঘাতিক মনে হয়। এভাবে কষ্টে কষ্টে এতটা নিচে নেমে যাবে সে ভাবতেও পাচ্ছে না। অল্পবয়স্ক তরুণীর মতো হঠাৎ এ আবেক তার কোথা থেকে এলো? কেন মোহনকে দেখে, তার হৃদয়ের ভালোবাসা তাজা গোলাপের পাঁপড়ির মতো বসন্ত বাতাসে দোলে উঠলো? আমার বিশ্বাস মানুষ তার যৌবনে, বিশেষ করে তার নৈতিক চরিত্র যখন একটা রূপ নিতে শুরু করে, যখন সে নিজেকে গুছিয়ে নিতে শুরু করে, কোনটা বাঞ্চিত আর কোনটা অবাঞ্চিত সেটা জানার প্রবল তৃষ্ণায় সে ছটফট করে, সবকিছু উল্টে পাল্টে দেখার চেষ্টা করে, প্রতিটি অগ্নি পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যেটা উত্তির্ণ হয়, যেটা সবচেয়ে ভালো কেবল সেইটা ছাড়া সুপ্ত ব্যক্তিত্বের বাকি সবকটা ভ্রুণকে সে নিজের অস্তিত্ব থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। আর যেটা খাটি, আসল সেটাকে সে হৃদয়ের ভিতর লালন পালন করে আস্তে আস্তে বড় করে তোলে এবং সারা জীবনের জন্য আলত করে রেখে দেয়। কিন্তু কোন কারণে যদি ভালোটা থেকে সে বঞ্চিত হয়? যদি আর সেই ভালোটা তার জীবনে না আসে? তখন সে হয়ে পড়ে বিবেচনাহীন।
আবিয়ার কোমরের উপরিভাগের উম্মুক্ত নরম অংশের স্পর্শে মোহনের সমস্ত শিরা-উপশিরায় বিদুৎ চমকে উঠে। দক্ষিণা বাতাসে আবিয়ার এলোমেলো চুলের গন্ধ যেন ইরানী গোলাপের সুবাস ছড়ায়। মোহন আবিয়ার খুব কাছে এসে দাঁড়ায়, এতটা কাছাকাছি যে আবিয়ার কোমল বুক তাকে স্পর্শ করে। আবিয়া মোহনকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রাখে। আবিয়ার উত্তপ্ত শরীরের স্পর্শে মোহনের সমস্ত শরীরে এক অস্থির উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, সে র্চুণ-বিচৃর্র্ণ হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে আবিয়ার মাঝে তারুণ্যের নতুনত্ত খুঁজতে থাকে। তার অস্থির দু’হাতের দশ আঙ্গুল, আকড়ে ধরে আছে আবিয়ার উন্মুক্ত কোমর। মোহনের বুকে আবিয়ার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস যেন তাকে আরো উত্তপ্ত করে তোলে, অন্তিম এক অজানা অতৃপ্তিকর অুনুভুতি শিহরণ জাগায়। আবিয়া উজার করে দেয় এতোদিনের তিলতিল করে জমিয়ে রাখা যৌবনের সবটুকু। চারিদিকে নীরবতা, শুধুই নীরবতা, একটা নিবিড় স্বর্গীয় আসন্ন সুখময় অনুভুতির ঘোরে যেন ডুবে যায়। দু’চোখের দৃষ্টি ক্রমশঃ ঝাপসা হয়ে আসে। তারা হারিয়ে যায় এক তৃপ্তিময় সুধার স্বর্গীয় সুখে।
এ যেন এক অদ্ভুত রকমের পাগলামি, অদ্ভুত রকমের শিহরণ জাগা আনন্দের অনুভুতি। তাদের উভয়ের চোখে মুখে কেবলি তৃপ্তির উত্তাপ, ঘন নিঃশ্বাস আর ক্লান্তির অবসন্নতায় লজ্জা মিশ্রিত হাসি যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত চঞ্চলতা, হৃদয়ের উচ্ছসিত আবেগ, কর্মের ক্লান্তি, আস্তে আস্তে স্তবির হয়ে যায়। আলস্য গুঞ্জনে মহাকালের প্রকৃতি ক্রমশঃ ঝিমিয়ে পড়ে। আশা-নিরাশার ঘোর ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হয়ে হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে রাখে। ফিরে পায় দৃষ্টির প্রখরতা, ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে ঐন্দ্রজালিক বিস্ময়। তারা একে-অপরকে খুঁজে নেয় হৃদয়ের উষ্ণতায়, অনুভব করে বাতাসের মৌ-মৌ গন্ধ।
মোহন আমি মেয়ে হয়ে জন্মেছিলাম ঠিকই কিন্তু কখনো নিজেকে নিয়ে ভাবিনি। সেই জীবনটা এতই সহজ সরল ছিলো যে নিজেকে নিয়ে ভাবার কোন অবকাশ পাইনি। হঠাৎ একদিন আমার জামার নিচের অংশে রক্তের দাগ দেখি, ভয়ে গা কাঁটা দিয়ে ওঠে বাহির থেকে একদৌড়ে ঘরে এসে ভালো করে দেখি জোঁকে কোথাও কেটেছে কিনা কিন্তু না কোথাও কোন কাটাও যায়নি, তাহলে রক্তের দাগ এলো কোথা থেকে? পরে দেখলাম আমার পড়নের সালোয়ার রক্তে ভিঁজে গেছে। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলাম তাহলে কি আমার ভয়ঙ্কর কোন রোগ হল? সঙ্গে সঙ্গে কুয়োর পারে গিয়ে গোসল করে এলাম কিন্তু তাতেও কোন কিছু হলো না। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাকে গিয়ে বললাম, মা শুনে হেসে বললেন, তোর কিচ্ছু হয়নি মা এই বয়সে মেয়েদের প্রতি চান্দে চান্দে এমন হয়।
সেই বারো বছর বয়সে আমি নারী জন্মের রহস্য বুঝে গেলাম। এখন থেকে আমার শরীরটা একটা পূনাঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গের আদলে তৈরী হচ্ছে। একটা ঝাপসা অনুভুতির মধ্যদিয়ে আমার শরীরের ভিতরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে, বুকের একটা অংশ আস্তে আস্তে বেড়ে উঠতে থাকে, আমি বুঝতে পারলাম আমার মায়ের যে স্তনের দুধ সেবনে আমরা বড় হয়েছি ঠিক তেমনি আমার শরীরও আমার অনাগত কারো জন্য বড় হচ্ছে। এখন রাস্তায় বের হয়ে গায়ের ওড়নাটা একটু এদিক ওদিক হলেই কিশোর থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধদের দৃষ্টি শায়ক আমার বুকের ভিতরের সেই উঁচু জায়গাটায় সরাসরি বিদ্ধ করে। তখন মনে হয় আমার এ শরীর কেবলি তৈরি হচ্ছে কোন না কোন পুরুষের ভোগ বিলাসের অংশ হিসেবে তাকে আনন্দ দেয়ার জন্য। কি নিদারুণ প্রচেষ্টা আমার ফুটে ওঠা বুকের রেখা ঢাকতে, কি ভীষণ লজ্জা তা নিয়ে ঘুমোবার আগে নিজেকে ওড়না দিয়ে মুড়ে রাখি যেন কেউ আমার গোপন সম্পত্তিকে দেখতে না পায়। হঠাৎ একদিন আমার চোখ পড়ল কুয়োর পারে কাঁশের বেড়ায় ছোট্ট একটা ফুটো, আমার কেবলি মনে হতে লাগল গোসলের সময় কেউ হয়তো সেই ফুটো দিয়ে আমাকে দেখে। তাই সেই ফুটো টা আগে ভালোভাবে বন্ধ করে তারপর গোসল করতে যাই। গোসল সেরে এসে আয়নায় দেখি আমার সূির্য-চাঁদের উদীয়মান সৌন্দর্য, আমার নব যৌবনের উচ্ছাসিত শরীর নব বর্ষায় সদ্য ফোটা পাপড়ি ভেজা কদমফুল।
জীবনের কি নির্মম বিধান, সময়ের কি নির্মম পরিহাস। এখন আমার শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গগুলোকে আর গোপনীয় বিষয় বলে মনে হয় না। আশ্চর্যের বিষয় হলো ইচ্ছা অনিচ্ছায় যখন তখন নির্দিধায় আমি মোহনের সামনে নিজেকে অনাবৃত করে ফেলছি। আমার সামান্যতম কোন দিধাবোধ হচ্ছে না, কোন আপত্তি কাজ করছে না। এতে আমার কোন অতৃপ্তি নেই। সারাক্ষণ একটা নেশাতুর ঘোরের মধ্যে আমি ডুবে থাকি, আমার স্নায়ুতন্ত্রে এক নতুন শিহরণ জেগে ওঠে। আমার শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গগুলো সচেতনভাবে আমাকে বলে দেয় আমি সুখি, আমি পরিপূর্ণরূপে এখন সুখি। মোহনের সঙ্গে আমার চেনা জানা হওয়ার পরে আমি টের পেলাম সর্বক্ষণ আমি ওর সান্নিধ্য কামনা করছি। আমার কাছে অন্তহীনরূপে কাম্য হয়ে উঠেছে ওর শরীর। একাকি এসব ভেবে ভেবে মাঝে মাঝে আমি আঁতকে উঠি, এই আমি কি সেই আমি? নাকি অন্যকেউ, কাম-বিদ্যায় পারদর্শী কোন প্রেতাত্মা আমার উপর ভর করে আছে। আমি এমনতো ছিলাম না কোন কালে, দূর্বা ঘাসের উপর ঘাস ফড়িঙ্গের সংগম দেখে একদিন লজ্জায় পালিয়ে এসে ঘরের কপাটে খিল দিয়েছিলাম। আজ সেই আমি কেবলি শরীরের প্রয়োজনে অর্বাচীন এক যুবকের সামনে নিজেকে উজার করে বিলিয়ে দিতে আমার কোন লজ্জা কিংবা দিধা হচ্ছে না। তাহলে কি আমি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠছি। কিন্তু কার উপর প্রতিশোধ? সেকি আমার নিজের উপর, না তিনকুড়ি মহাজনের উপর, নাকি পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া এ সমাজ ব্যবস্থার উপর?
ধর্মমতে যার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে, তার কথা আমার একটি বারের জন্যও মনে পড়ে না, তাহলে কি এটা ব্যভিচার? যদি তাই হয় তবে একপা কবরে যাওয়ার পড়েও যে একটা নাবালক কিংবা পূর্ণযৌবনা মেয়েকে তার যৌবনের অধিকার দিতে পাক আর না পাক বিয়ে করে ঘরে এনে, পুতুল বোউ করে সাজিয়ে রাখে, সেটা কি ব্যভিচার নয়? তাহলে সেটা আবার কেমন ধর্ম? এরূপ হাজার প্রশ্নের হিল্লোল আজ আমার শরীরের প্রতিটি শিরায় উপশিরায় ধমনির ভাঁজে ভাঁজে তোলপার করে ওঠে। আমার শরীরের রাগ এতো কম কেন জানি না। হয়তো রাগটা শরীরের কোন একটা গোপন জায়গায় গিয়ে জমা হয়ে থাকে, শরীর দিয়ে সেটা অনুভব করতে পারি না। মনে মনে বলি- তোমাকে আমি ভালোবাসি না বরং মনে প্রাণে ঘৃণা করি। আমার রাগের প্রকাশটা এরকম। আমি নিশ্চিন্তে আমার মতো করে থাকতে পারি তাতে তোমার কোন ক্ষতি নেই। কেবলি আমার মনে হতে লাগল আমি তাকে হয়ত ক্ষমা করে দিয়েছি কারণ আমি যা করেছি তাতেই তার যথেষ্ট শাস্তি দেয়া হয়েছে।
বিয়ে কি জঠিল, কি কঠিন, কি সাংঘাতিক একটা ব্যাপার। সে সত্য হোক আর মিথ্যে হোক তাতে কিছু আসে যায় না। দুজন নর-নারী একত্রে থাকবে, একই ঘরে, একই বিছানায়। বছরে বছরে তাদের সন্তান আসবে, সে কোথা থেকে আসে আসুক তাতেও কিছু আসে যায় না। স্বামী-স্ত্রী তারা এক সঙ্গে থাকবে, চিরকাল থাকবে, যতদিন বেঁচে থাকবে এটাই অমোঘ বিধান। একটা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কয়েক জন লোক ভালো মন্দ খেয়ে দেয়ে দুটো নর-নারীকে একত্রে করে দিতে পারলেই তারা বেঁচে যায়। আর কেউ কোন দিন খবরও নেয় না। যাদের বিয়ে দেয়া হয়েছিল তারা বেঁচে আছে না মরে গেছে। এমনকি আপন জনেরাও খবর নেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।
বিয়ের আসল উদ্দেশ্য হলো শরীর, এখানে শরীরটাই আসল ও সর্বস্ব। স্বামী-স্ত্রীর বিয়েটা এর উপরই টিকে থাকে। এর জোরই দু’জন মানুষ বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, এমনকি তারও অধিক সময় একত্রে বসবাস করে। শরীরের বিষয়ে অক্ষম, অপারগ কিংবা কোন অপূর্ণতা থাকলে সে বিয়েটা বেশীদিন টিকে থাকে না। হয় স্বামী, নয়তো স্ত্রী কেউনা কেউ এ অমোঘ বন্ধন ছিন্ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। অথচ শারীরিক সম্পর্কের কোন বালাই ছিলনা আমাদের মাঝে। আড়ত থেকে অনেক রাত করে করে বাড়িতে ফিরে, ক্লান্ত বুড়ো বিছানায় শুয়ে আড়াইমনের পেটটা উঁচু করেই নাক ডাকা শুরু করে। আর সকাল হলে আবার চলে যায় আড়তে। বিবাহিত জীবনের প্রতিটি রাত অস্থির সময়ের কাছে আত্মনিবেদন করে যৌবনের উচ্ছসিত আবেগে তখন অন্য কাউকে কামনা কামনা করতে বাদ্ধ হই আমি। কি অক্ষমতা, কি প্রহসন, তবুও আমি চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি যদি কোন দৈবক্ষণে বন্ধ দরজা খুলে যায়। যদি কোন শুভ বুদ্ধির উদয়ে নিজেকে শুধরাতে পারে কিন্তু না, তা আর কোন দিনই হয়ে উঠে নি।
তিনকুড়ি নামে বুড়োটা আমার স্বামী, রাত কাটাতে হয়েছে তার পাশে কিন্তু তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। কয়েক মিনিট সময়ের মধ্যে, বিনা চিন্তায়, বিনা ইচ্ছায় কি নারী গর্ভে সন্তান আসে না? আমি এখন বুঝতে পারছি আমার গোপন রহস্য, মোহনের সাথে দেখা না হলে হয়তো কোন দিনই বুঝতাম না। হয়তো বোবা শরীরটা নিয়ে, অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে অন্ধকার কালো পাহাড় সমান রাত গুলোকে কাটিয়ে দিতে হতো আজীবন। আমার বুড়ো স্বামী পারেনি, নতুন বিয়ের পরেও কোন দিন পারেনি আমাকে নিজের মধ্য থেকে টেনে বের করে আনতে, ভাসিয়ে নিয়ে ডুবিয়ে দিতে-যেন অঝোর মেঘ ঝরে ঝরে পড়ল নিঃশ্বেষে।
এখন রাত ঠিক কতোটা গভীর হয়েছে তা বোঝা না গেলেও রাত জাগা পাখি গুলোর ক্লান্ত ডানার ঝাপটায় অনুভব করতে পারছি যে ভোরের আলো ফুটতে আর বেশী দেরি নেই। আকাশটাও ভীষণ কারাপ টিপটিপ করে দু’এক ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। তিনকুড়ি মহাজন মরার মত অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে তার পাশে বসে আছি আমি আর রহিমা বুবু।
আবিয়া চারদিকে তাকিয়ে দেখে রাতভোর হতে চলেছে। আকাশে রুগ্ন ও মৃতপ্রায় একফালি চাঁদ তার চির প্রতিদ্ব›দ্বী আঁধারকে তাড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। হয়ত কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদে আজান পড়বে। দূরের কোনো এক মন্দিরে ঝনঝন করে বেজে উঠবে পুজোর ঘণ্টা। হয়ত সে পূজারিরও ঘুম আসছে না, জানি না সে পূজারি, হয়ত আমার মতো কষ্টভার বুকে জমাট বেঁধে আছে। সারারাত ঘুম আসল না আবিয়ার। জীবনে এই প্রথম একটা রাত নিদ্রাহীন কাটল, কি যে ভয়ঙ্কর কষ্ট নির্ঘুম রাত কাটান। তবুও রাত শেষ হয় না। আলোর ভোর নামে না। মনে হয় ভোরের আলো ফুটলে অন্ধকারের সাথে তার মনের কষ্টগুলো সরে যাবে। জীবনটা আবার নতুন করে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now