বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটা খুব দুষ্টু ছিল ।কথায় কথায় ও দেখাতে পারত হাসির জাদু।।কেউ বকলেও হাসে।।তাই বন্ধুমহলে নাম হয়ে যায় হাসির
রানি।।আর ওর সামনে কেউ গোমরা মুখে থাকবে সেই সাধ্য নেই।
আমরা সবাই এক কোচিং এ পড়তাম।ছেলে মেয়ে আলাদা তাই দুপক্ষের কেউই কাউকে সহ্য করতে পারতাম না।
আমার সাথে ওর প্রথম পরিচয় তুমুল এক ঝগড়া দিয়ে।।আমার বন্ধু নাকি ওর কবিতা চুরি করেছে।।আমার বন্ধুর হয়ে আমিই
ঝগড়া করি।মেয়েদের সাথে অবশ্য ঝগড়াটা উপভোগ করি আর জিতেও যাই।।
ওহ বলাই তো হল না,মেয়েটা যেমন মেধাবি,দুষ্টু তেমনি স্কুলের সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় ওর কবিতা দিয়ে।নাম ঈশিতা।
আর আমি হলাম লাস্ট বেন্চ স্টুডেন্ট,নিহাদ।একটাই যোগ্যতা ফাজলামি আর ঝগড়া করা।।
ওহ যা বলছিলাম,দিনটা নিতান্তই আনলাকি তাই ঈশিতার কাছে যুক্তি তর্কে হেরে যাই।
তারপর আমাদের আর কথা হয়নি।
ক্লাস নাইনে ইং ক্লাস করছি।।ওই পাজিও করছে।।স্যার একটু কিছুক্ষন বাইরে যায় কাজে আর শুরু হয়ে যাই ওর পাগলামি।সবাই
মিলে কাগজ ছোড়াছুড়ি করছে।একা আমিই আজ ভদ্র।
কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? দুষ্টু মেয়েটার বাকা ঠোটের হাসির দিকে আমি ওভাবেই বা অবাক হয়ে কি দেখছি??ওর সবকিছুই যেন
খুব সিক্ত অনুভুতি জাগিয়ে তোলে।ধীরে ধীরে ওর প্রতি যে দুর্বলতা বারছে তা বুঝার আর বাকি রইল নাহ।যতবার ওর কাছে যাই
কেন যেন ও আরো দুরে চলে যায়।
অতপর একদিন বন্ধুতের হাত বাড়াই।যেহেতু ও জানত না যে ওকে ভালবাসি তাই ঈশিতাও বন্ধুত গ্রহন করে।আমাদের বন্ধুতটা
ভালোই চলতে থাকে ততদিন যতদিন পর্যন্ত ওর কাছে অজানা থাকে আমার ভালবাসার কথা। ছয়মাস পর আমি ওকে আমার
মনের কথা জানিয়েছিলাম।ও প্রথমে না বলেছিল।।তার দুমাস পর হাজার বুঝানোর পর ও সম্মতি জানায়।কিছু মেয়ের যে এতটা
নিষ্পাপ মন তা ওকে না দেখলে বোঝা যাবে না।
প্রত্যহ পড়া করি কিনা,ঠিকভাবে খেতাম কিনা,হাবিজাবি যেন না খাই এসব খেয়াল মেয়েটা রাখত।কিন্তু আমি খেয়াল করিনি যে
মেয়েটা আমার জন্য তার লেখাপড়া থেকে সরে যাচ্ছে,অসুস্থ হয়ে পড়ছে রাত জেগে আমার খোজ নিতে নিতে।আমাকে একটি
বারও বলত না যে ওর শরীর খারাপ পাছে যদি আমি টেনশন করি।।
ওর ফ্রেন্ড,সাবা যে আমাকে পছন্দ করে তা কেউ জানত না।আমি জেনেও না জানার ভান করতাম।
ঈশিতা মাঝে খুব অসুস্থ হয়ে প্রায ৫,৬ দিন পড়তে আসে না।ওকে না দেখতে পেয়ে কি করব বুঝে উঠতে পারি নি।আর এই
কদিনে সাবার সাথেও একটা বন্ধুত হয়ে যায়।অবশেষে ওকে আমাদের কথা সব বলে দেই।বুঝতে পারিনি ও আমাদের মাঝে
এভাবে ফাটল ধরাবে।ওর বুদ্ধিতে আমার পা পরে।আমি খারাপ ব্যবহার করতে থাকি তার প্রতি যে আমার প্রতি মুহুতে সাথে
থাকত।
প্রায় অনেকদিন পর ওকে পরতে আসতে দেখি।
আমি কেন জানি না কথা বলিনি ও বলা সত্তেও। অতপর একদিন দেখি ও চুপিচুপি কাদছে।যেই মেয়েটা হাজার কষ্টেও কাদেনি
আমিই আজ তাকে কাদালাম।
আমি আমার চরম ভুলটা বুঝতে পেরেছিলাম কিন্তু ততদিনে আমাদের স্কুল জীবন শেষ তাই আর ক্ষমা চাওয়া হয়নি।
কদিন আগে ওর বেস্ট ফেন্ড নীলার সাথে দেখা হল।জানতে চাইলাম ওর কথা।।যা বলল তা শুনার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলাম
না।।মেয়েটার এত রাগ!!!জানতে পারলাম কষ্টে নাকি মেয়েটা হাত কেটে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে।হসপিটালেও ছিল
কদিন।আমি চেয়েছিলাম ওর বাসায় যেতে কিন্তু বুঝতে পারলাম এখন বাসায় গেলে ওর পারিবারিক পরিস্থিতি খারাপ হবে তাই
আর যাওয়া হয়নি।
আজ বুঝতে পেরেছি আমার ভুলটুকু বুঝতে পেরেছি তার ভালবাসা কিন্তু আজ আর ও নেই।তাই নিজের স্বীকারোক্তিটুকু এই শেষ
পাতায় লিখে রাখলাম।হয়ত কোনো মাঝ রাতে তুমি আসবে এটা পড়বে আর হয়ত বলবে,তুমি এখনও কাদছ?তুমি কি ভুলে
গিয়েছ যে তোমার কান্নায় আমি কষ্ট পাই??হয়ত তুমি বলবে ।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now