বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভ্র

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -“হাই ভাইয়া , আপনি অভ্র ভাইয়া না ?” -“হ্যা” -“আমাকে চিনেছেন ?” -“না । আসলে......ইয়ে মানে......” -“আমি তন্নি । ওইযে পহেলা বৈশাখে দেখা হয়েছিল । আপনি আমার গানের সাথে তবলা বাজিয়েছিলেন ।” -“ও আচ্ছা আচ্ছা । হ্যা হ্যা আপনার তবলা বাদক আসতে পারে নি । তারপর আমিই বাজিয়েছিলাম । মনে পড়েছে ।” -“হ্যা । কিন্তু আপনার ‘আপনি আপনি’ স্বভাবটা এখনও যায় নি দেখছি ।” -“হাহাহাহা......আচ্ছা আচ্ছা সরি ‘তুমি’ । হয়েছে ?” -“হ্যা” -“তো , কোথায় যাচ্ছ ?” -“একটু নিউমার্কেট যাব । কিছু শপিং করতে হবে ।” -“ও আচ্ছা আচ্ছা । আমিও ওদিকেই যাচ্ছি ।” -“তাই নাকি ? তাহলে আমার সাথে আসেন না , সাথে গাড়ি আছে ।” -“না......ইয়েব মানে......” -“কি স্যার, ভয় পাচ্ছেন নাকি ? আমি ডাকাত টাকাত না তো । ছিনতাইকারীও না ।” -“আরে ধুর... আমি কি সেটা বলেছি নাকি.........আচ্ছা চল ।” -“চলেন” ... এভাবে হঠাৎই তন্নির সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল । তারপর থেকে প্রায়ই দেখা হত । ও ওর গাড়িতে আমাকে লিফট দিত । লজ্জা লাগত......তাই অনেকসময় ওকে এড়ানোর চেষ্টা করতাম । কিন্তু পারতাম না । কখনও কখনও তন্নিই খুঁজে নিত আমাকে......আর কখনও কখনও আমি যেন কোন এক অদৃশ্য টানে ওর সামনে চলে যেতাম । এভাবেই চলতে থাকল...... . . আমাদের মধ্যে খুব একটা ভাল সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেল । না , সেটা অন্য কোন সম্পর্ক নয়......শুধুই বন্ধুত্ব । হয়ত আমি ওর প্রতি একটু আলাদা দুর্বল ছিলাম । কিন্তু কখনও প্রকাশ করি নি । তন্নিও কখনও আমকে ওরকম কথা বলে নি । তাই আমার মনের কথা মনেই রয়ে গেল......বলতে পারিনি কখনও...... তবে আমরা আমাদের সব কথাই পরস্পরের সাথে শেয়ার করতাম । সকালে কি দিয়ে ব্রেকফাস্ট হয়েছে হতে শুরু করে রাতে কি স্বপ্ন দেখেছি.........সবই আমরা শেয়ার করতাম । মাঝে মাঝে দেখা করতাম । কিন্তু সেখানেও বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না । মাঝে মাঝে তন্নি অনেক সুন্দর করে সাজতো । তখন ওকে স্বর্গের দেবকন্যাদের মতই মনে হত । বিশেষ করে কপালের টিপ...... তারপরও আমি কখনও বলতাম না আমি বন্ধু ছাড়াও ওকে অন্যভাবে দেখতে চাই...... . . তন্নির সাথে ওর প্রতিটি প্রোগ্রামে আমি তবলাবাদক হিসেবে থাকতাম । ভাল লাগত যখন প্রোগ্রাম শুরু হবার আগে ও আমার পাশে বসে থাকত......... আর একগাদা টেনশন নিয়ে বলত , “অভ্র, আমার খুব টেনশন হচ্ছে......” তখন আমি অভয় দিয়ে বলতাম , “আমি আছি না । নো চিন্তা......” ... আর খারাপ লাগত তখন , যখন ও অন্য কারো সাথে হেসে কথা বলত...... নিজের মধ্যে কেমন যেন একটা হিংসা কাজ করত তখন...... আমি জানি তন্নি আমার সাথে যে পরিমাণ হেসে হেসে কথা বলে অন্য কারোর সাথেই এতো কথা বলে না । তারপরও ওকে অন্য কারোর সাথে দেখলে নিজের মধ্যে কেমন যেন একটা পশুত্ব জেগে ওঠে । তারপর যখন নিজের সম্বিৎ ফিরে পাই তখন নিজের কাছে নিজেই লজ্জা পাই...... . . গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করার পর হঠাৎ একদিন একটা স্কলারশিপের অফার এল......সুইজারল্যান্ড থেকে...... আমি তো মহাখুশি । এতোদিনের স্বপ্ন আজ পূরণ হতে চলেছে...... শুধু একটাই কষ্ট । তন্নিকে এই কয়েকটা বছর দেখতে পাব না । হয়ত ফোনে কথা হবে , কিন্তু তারপরও অনেক মিস করব...... তারপর ভাবলাম স্কলারশিপ শেষেই দেশে ফিরে তন্নিকে আমার মনের কথা বলব । বলব , আমার জীবনে একটা আলোর প্রদীপ চাই যার আলোতে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি......স্বপ্ন দেখতে পারি । যে স্বপ্নে থাকবে শুধু আনন্দ , পরিতৃপ্তি আর ভালবাসা...... . . অনেক উৎসাহ নিয়ে তন্নিকে ফোন দিলাম,,,,,,,, -“হ্যালো তন্নি ?” -“হ্যা , অভ্র বল ।” -“একটা গুড নিউজ আছে ।” -“তাই নাকি ?আমারও একটা গুড নিউজ আছে ।” -“ওয়াও কি সেই গুড নিউজ ?” -“না আগে তোমারটা বল,” -“না তোমারটা আগে শুনি,” -“না তোমারটা আগে,” -“নো , লেডিস ফার্স্ট ।” -“আচ্ছা কাল একাডেমিতে আস তারপর বলব , সাথে তোমারটাও শুনব,” -“আচ্ছা” ... অন্য সময় তন্নির গুড নিউজের কথা শুনলে আমার কেমন জানি একটা আনন্দ জাগত । কিন্তু আজ কেমন জানি একটা অশুভ সংকেত আসছিল...... যাই হোক , অতিরিক্ত খুশির কারণে হয়ত আমি উল্টোপাল্টা ভাবছি...... পরদিনের জন্য অপেক্ষায় রইলাম...... . . একাডেমির চত্বরে বসে আছি... অপেক্ষা একটা অ্যাস কালারের প্রাইভেট কারের জন্য......ওটাই তন্নির গাড়ির রং... ... অনেকক্ষণ পর একটা কালো রঙের গাড়ি এসে ঠিক আমার সামনেই ব্রেক করল । এই রকমের গাড়ি আমি আগে কখনও দেখি নি । সুতরাং চিনিও না । তাই তেমন একটা আগ্রহ দেখালাম না ...... কিন্তু আমি অবাক হয়ে গেলাম যখন আমার সম্পূর্ণ মনোভাবকে স্তম্ভিত করে গাড়ি থেকে নেমে এল তন্নি... আর অপর পাশ থেকে নেমে এল অত্যাধিক ... অন্তত আমার চেয়ে হাজার গুণ স্মার্ট একটা ছেলে...... ... ব্যাপারটা আমি একটু বোঝার চেষ্টা করলাম ... কিন্তু তার আগেই তন্নি সব রহস্যের ইতি ঘটিয়ে আমাকে বলল , “অভ্র , ও হল নিশাদ । আমার অনেকদিনের বন্ধু । গতকাল আমাকে প্রপোজ করেছে । আর তাই বলতে পার এখন ও আমার বয়ফ্রেন্ড...” ... ... আমি হঠাৎই যেন কল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে হারিয়ে গেলাম । বুঝতে পারছিলাম না আসলে আমি কোথায় ! হয়ত আমি স্বপ্ন দেখছি , অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে হয়ত উল্টোপাল্টা চিন্তা করছি , কল্পনা করছি ...... কিন্তু না , এতো কল্পনা নয় , বাস্তব,,, আমার সামনেই হাস্যোজ্জল মুখে তন্নি দাঁড়িয়ে আছে ,,, মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠল । কোনরকমে স্থির হয়ে দাঁড়ালাম । তারপর নিশাদের সাথে হ্যান্ডশেক করলাম , পরিচিত হলাম । তারপর তন্নিই বলল , “তোমার গুড নিউজটা কি ?” আমি বললাম , “আমারটা তোমারটার তুলনায় তেমন কিছু না ।” -“আরে তারপরও বল না , শুনি ।” -“না , ওই একটা ছোটখাটো স্কলারশিপ পেয়েছিলাম আর কি বিদেশে...” -“ওয়াও , এটা তো গ্রেট নিউজ ।” -“না.........” -“চল , আজকে আমার পক্ষ থেকে তোমার ট্রিট । ” -“না তন্নি । আমার শরীরটা একটু খারাপ লাগছে , একটু রেস্ট নিতে হবে মনে হয় । ” -“কি বল ? ডাক্তার দেখিয়েছ ?” -“না না , তেমন কিছু না । একটু ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে । ” -“শিউর ?” -“আরে হ্যা হ্যা । চিন্তা করো না ।” -“আচ্ছা তাহলে বাসায় গিয়ে ফোন দিও” -“আচ্ছা” ... তন্নিরা চলে গেল ... সাথে সাথে ছিনিয়ে নিয়ে গেল আমার এতোদিনের লালায়িত স্বপ্ন , আশা , কল্পনা......... . . তারপর কেটে গেল তিন বছর... আমি সুইজারল্যান্ড চলে গিয়েছিলাম... প্রথম প্রথম ফনে কথা হত তন্নির সাথে । তারপর একসময় ওর ফোন অফ পেতে শুরু করলাম ... একসময় সম্পূর্ণভাবেই আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল । গল্পটা হয়ত এখানেই শেষ হতে পারত... কিন্তু বিধি হয়ত গল্পটা একটু অন্যরকম করেই লিখেছিলেন...... ... ... তিনবছর পর আমি দেশে ফিরি । দেশে আশার পরেও তন্নির কোন খোঁজ নেই নি অনেকদিন । কিন্তু একসময় কেন যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না । কথায় বলে । মানুষ নাকি তার প্রথম প্রেম ভূলতে পারে না । আমার ক্ষেত্রেও হয়ত তাই ই হয়েছে । হয়ত খবর নিয়ে দেখা যাবে তন্নি স্বামী-সংসার নিয়ে সুখেই আছে । তখন হয়ত আরো বেশি কষ্ট লাগবে ...... তারপরেও একবার হলেও ওর খবর নেয়া উচিত মনে করেই ওদের বাসার দিকে গেলাম...... ... এক ঘন্টা পর... ... আমি তন্নিদের বাসার সোফায় বসে আছি । আমার সামনে তন্নির মা , বাবা বসে আছেন । আমরা সবাই নিশ্চুপ বসে আছি । কারোও মুখে কোন কথা নেই । কথা থাকবে কি করে ? এই কয়েকবছরে যা যা ঘটে গেছে তাতে আমার তো রাগে-দুঃখে-হতাশায় আর যন্ত্রণায় সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে । আমি বুঝতে পারছিলাম না কি বলব ...... তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম ... অনেক ভূল হয়েছে ... এবার ভূল গুলো শোধরানোর পালা ...... ... বাসায় এসে ব্যাগ গোছাতে লাগলাম । ব্যাগ গোছাতে দেখে মা জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাচ্ছি । আমি বললাম , “কুষ্টিয়া , যেখানে আমার তন্নি আছে ......” ... ... বাসে বসে বসে শুধু একটা প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছিলাম , ঈশ্বর কেন মানুষকে এতো কষ্ট দেন??? . . ...আমি বিদেশে যাবার পর তন্নি আর নিশাদের সম্পরকটা ভালই যাচ্ছিল । কিন্তু কোনএকসময় তন্নি জানতে পারে , নিশাদ হল বড়লোক বাপের একমাত্র সন্তান যে কিনা মেয়েদের সাথে শুধু ভালবাসার অভিনয় করে । তখন আবার নিশাদের বাবার সাথে তন্নির বাবার ব্যাবসা নিয়েও কিছুটা সমস্যা যাচ্ছিল । ধীরে ধীরে ওদের সম্পর্ক খারাপের দিকে এগুতে থাকল । নিশাদ তন্নিকে বোঝাতে চেষ্টা করল , সব মিথ্যা । কিন্তু তন্নি রাজি হল না । তারপর নিশাদ তন্নিকে লুকিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দিল , বলল , বিয়ের পর বাসায় উঠলে হয়ত বাবা-মা মেনে নেবে । তন্নি রাজি হল । কিন্তু দুশ্চরিত্র , লম্পট নিশাদ তন্নিকে ঠকাল । একদিন সে তন্নিকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেল । তারপর হিংস্র জানোয়ারের মত সে আর তার কয়েকজন বন্ধু মিলে তন্নির উপর ঝাপিয়ে পড়ল...নিশ্চিহ্ন করে দিল ওর সতীত্ব...... ... এজন্যই হয়ত তন্নি আমার সাথে ওর সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল । . . ঠিকানা অনুসারে একটা প্রাইমারি স্কুলে আসলাম আমি । স্কুলের প্রিন্সিপাল থেকে জানতে পারলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুল ছুটি হয়ে যাবে... আমি ওর ক্লাসের কিছুটা সামনে গিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম... ... কিছুক্ষণ পর ছুটি হল ... দূর থেকে তন্নিকে দেখলাম ... অনেকদিন পর দেখলাম । কিন্তু একটুও বদলায়নি ও । সবকিছুই ঠিক আছে , শুধু আগের সেই চাঞ্চল্য , আগের সেই হাসি ওর মুখে নেই ... তারপর ওর সামনে দাঁড়ালাম । আমাকে দেখে ও কেমন যেন নির্লিপ্ত...... কোন অনুভূতিই যেন নেই । ... কখনও ওর হাত ধরার সাহস করিনি আমি । আজ ধরলাম , তন্নি যেন আমার মনের কথাই বুঝে ফেলল... ও শুধু বলল যে , ও আর ভূল করতে চায় না , আর কষ্ট পেতে চায় না , কাওকে কষ্ট দিতে চায় না ...... আমি কিছুই বললাম না । শুধু এতটুকুই বললাম , “যদি পার আমার হাতটা ছেড়ে দাও । আমায় যদি ছাড়তে পার তাহলেই আমি আমার উত্তর পেয়ে যাব । ” ...কথাটা আমি খুব আত্নবিশ্বাসের সাথেই বললাম......কারণ আমি জানতাম তন্নি আমার হাত কখনই ছাড়তে পারবে না ......... . . লিখাঃ অচেনা অমিত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভ্র
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৬)
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৫)
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৪)
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৩)
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-২)
→ একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now