বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত কবরস্থান ৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X পর্ব-৩ রাত তখন প্রায় ১২টা বাজে। নিজের ঘরেই একা একা বসেছিলো আবির। এরপর ভাবলো এতোরাত হয়ে গেছে এখনো তার ভাইয়া বাড়িতে আসছে না কেনো?! এটা ভাবতে ভাবতেই তার মোবাইলে আসিফের নাম্বার থেকে একটা কল আসলো! নাম্বারটা দেখেই আবির দ্রুত কলটা ধরলো। কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে আসিফের কাঁদো কাঁদো কন্ঠ ভেসে আসলো! আসিফ এমনভাবে কথা বলছিলো যে মনে হচ্ছিলো সে কোন কিছু দেখে প্রচুর ভয় পেয়ে গেছে!! আসিফ কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে বলতে লাগলো: -আমায় বাঁচা ভাই! সেই গ্রামের লোকগুলোর কথাই ঠিক হয়েছে! বাবার আত্মা আবার ফিরে এসেছে! আমায় বাঁচা! . এতোটুকু কথা বলেই আসিফ কলটা কেটে দিলো। আর আবির কথাটা শুনে পুরোই আৎকে উঠলো। সে কিছুই বুঝতে পারছিলো না! আসিফ হঠাৎ করে এইসব কথা বলছে কেনো ?! এবার কী তাহলে আবার আসিফের কোন বিপদ হলো?! আবির কথাটা ভেবেই বেশ ভয় পেয়ে গেলো! সে তার পরিবারের সব সদস্যদের হারিয়েছে!! এখন যদি আসিফেরও কিছু হয় তাহলে সে বাঁচবে কি নিয়ে?! এরপর আবির আসিফের নাম্বারে কয়েকবার কল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আসিফের নাম্বারটা বন্ধ পায় সে ! এবার তার চিন্তা যেনো আরো বেড়ে যায়! সে দ্রুত তার মামার ঘরে যায়। এরপর আবির তার মামাকে সব কথা খুলে বলে। আবির বলে যে , আসিফ হয়তো কোন বিপদে পড়েছে! সে কাঁদতে কাঁদতে একটু আগে আবিরকে কল দিয়েছিলো!! এরপর হঠাৎই কলটা কেটে যায়! এরপর থেকে আসিফের নাম্বারটা বন্ধ রয়েছে!! আবিরের মামাও কথাটা শুনে বেশ চমকে উঠে!! সেও আবিরের মতো বেশ চিন্তায় পড়ে যায়! . এরপর আবির এবং তার মামা দুজনে মিলেই খুব দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসিফকে খুঁজতে যায়। প্রথমে তারা আসিফের ব্যাংকের অফিসে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা আরো বেশি অবাক হয়। কারণ সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারে যে আসিফ আজ রাতে অফিসেই আসেনি বা তাকে জরুরী ভাবে কেউ অফিসে আসতে বলেনি! . তারা কথাটা শুনে পুরোই অবাক হয়ে যায়! আর ভাবে আসিফ শুধু শুধু তাদের মিথ্যা কথা বলে এতোরাতে বাড়ি থেকে বের হলো কেনো ?! তাদের চিন্তার মাত্রা যেনো আরো বেড়ে গেলো! এরপর আবির এবং আবিরের মামা শহরের অনেকগুলো রাস্তা ঘুরে বেড়ায় আসিফকে খুঁজতে! কিন্তু কোথাও আসিফকে খুঁজে পায় না তারা! এর ভেতরেও আসিফকে অনেকবার কল দেয় আবির! কিন্তু সেই একই ভাবে বাড়ে বাড়ে আসিফের মোবাইলটা বন্ধ পায় সে! . এইভাবে দেখতে দেখতে রাত প্রায় ৩টা বেজে যায় । এরপর রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ আবির এবং তার মামা লক্ষ করে যে রাস্তার একটা নির্দিষ্ট জায়গায় অনেকগুলো মানুষ ভীর করে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকজন পুলিশকেও সেখানে ভীর করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে! আবির এবং তার মামা বেশ অবাক হয়! তারা ভাবে যে এতোরাতে রাস্তার পাশে এতোগুলো মানুষ ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে কেনো?! এরপর আবির এবং তার মামা ধীরে ধীরে সেই জায়গাটার দিকে এগিয়ে যায়! এরপর ভীর ঠেলে একটু সামনে যাওয়ার পর তারা যা দেখলো! তা দেখে তারা পুরোই আৎকে উঠলো! তারা দেখলো যে একটা গাড়ি রাস্তার পাশের একটা বড় গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ধুমড়ে মুচরে রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে। গাড়িটা দেখে তাদের চিন্তে বাকি রইলো না যে! আরে এটাইতো সেই গাড়িটা যেই গাড়িটা আসিফ একটু আগে রাতের বেলা বাড়ি থেকে নিয়ে বেরিয়ে ছিলো!! তারা গাড়িটা দেখেই আৎকে উঠে কাঁদতে থাকে। এরপর গাড়ির একটু কাছে যেতেই তারা দেখলো যে আসিফের রক্তাক্ত শরীর গাড়ির ভেতর পড়ে রয়েছে। আসিফের লাশটা দেখে আবির এবং তার মামা দুজনেই পুরো নির্বাক হয়ে গেলো!! তারা কিছুই বুঝতে পারছিলো না! তারা কল্পনাও করতে পারছিলো না যে আসিফ মারা গেছে?!! তারা ভাবতে লাগলো যে, আসিফ এইভাবে এক্সিডেন্ট করলো কিভাবে?! আসিফতো বেশ ভালো গাড়ি চালাতে পারতো!! এরপর সেখানকার পুলিশ তাদের জানালো যে, আসিফের গাড়ি হয়তো ব্রেক ফেল করেছিলো। তাই সে ব্রেক নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে এই গাছের সাথে গাড়িটা ধাক্কা লাগিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে সে মারা যায়। এরপর আশে পাশের সব মানুষেরা এই এক্সিডেন্টের শব্দ পেয়ে এখানে ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। যদিও কেউ নিজের চোখে দুর্ঘটনাটা হতে দেখেনি। কিন্তু নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় দুর্ঘটনা। আর এই দুর্ঘটনা রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটে । . কথাটা শুনে আবিরের মামা বেশ চমকে যান। কারণ সে জানতো যে তার গাড়িতে কোন রকম সমস্যা ছিলো না ! আর ব্রেকে সমস্যা থাকারতো কোন প্রশ্নই আসে না! তাহলে গাড়িটা ব্রেক ফেল করলো কিভাবে?! . আবির এবং তার মামা কিছুক্ষন চুপচাপ সেখানেই বসে রইলো। আবির জানে যে এটাকেও সবাই একটা স্বাভাবিক সড়ক দুর্ঘটনা ভেবে উড়িয়ে দিবে! কিন্তু আবির জানে যে এটা মোটেও কোন স্বাভাবিক সড়ক দুর্ঘটনা না! এটা একটা খুন। তার মাথায় শুধু আসিফের বলা সেই শেষ কথাগুলোই ঘুরতে থাকে, " আমায় বাঁচা ভাই! সেই গ্রামের লোকগুলোর বলা কথাই ঠিক হয়েছে! বাবার আত্মা আবার ফিরে এসেছে!" আবির বুঝতে পারে যে, তার ধারণাই ঠিক ছিলো। তার বাবার আত্মা আসলেই আবার ফিরে এসেছে এবং সেই এক এক করে তার পরিবারের সদস্যদের খুন করে ওপারের দুনিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে! প্রথমে আনিকা, তারপর তাদের মা, এরপর শম্মী , আর এখন তার বড় ভাই আসিফকেও খুন করেছে সে! এইভাবে সবাইকেই খুন করছে সে! আর এখন শুধু একজনই বেঁচে আছে! আবির জানে যে এরপর সেই একজনও ওপারের দুনিয়ায় পাড়ি জমাবে। সেই একজনকেও তার বাবা খুন করবে!! সেই একজন আর কেউ না! হ্যাঁ ! সেই বাকি একজন আবির নিজেই! আবির জানে যে, এরপর সে নিজেও মারা যাবে। তার মৃত্যু অতি সন্নিকটে। পরিবারের বাকি সদস্যদের মতো সেও হয়তো কোন এক দুর্ঘটনায়ই মারা যাবে! তার মৃত্যুও এবার কেউই ঠেকাতে পারবে না! . এরপর দেখতে দেখতে প্রায় সকাল হয়ে যায়! আসিফের লাশকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তার নানান আত্মীয়স্বজনেরা আবার বাড়িতে এসে ভীর জমাতে থাকে, কান্নাকাটি করতে থাকে। তবে এই ঘটনাগুলো আবিরের কাছে এখন যেনো একটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে ! কারণ সে এই ২ মাসে কয়েকবার এইরকম ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে! তার অনুভুতিগুলো এখন যেনো মারা গেছে !! সে একজন জীবন্ত লাশের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু সবার কর্মকান্ড দেখছিলো। এরপরে শহরের একটি কবরস্হানে আসিফেরও দাফন কাজ শেষ করা হয়। এরপর দেখতে দেখতে প্রায় রাত হয়ে যায়। তাদের সব আত্মীয় স্বজনেরা আবিরকে সান্ত্বনা দিয়ে ধীরে ধীরে যার যার বাড়িতে ফিরে যায়! আবিরের মামা আবিরকে তাদের বাড়িতে গিয়ে রাতে থাকতে বলেন। কিন্তু আবির অনেকটা পাগলের মতো ব্যবহার করতে শুরু করে। সে একা একাই অন্ধকারে সেই আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া তাদের বাড়ির ভেতরে বসে থাকে। তার মামাকেও সে এখান থেকে চলে যেতে বলে। আবির তার মামাকে বলে, সে একটু পড়েই তার বাড়িতে যাবে। এখন সে একটু একা থাকতে চায়! এরপর আবিরের মামাও আবিরকে ছেড়ে তার বাড়িতে চলে যায়। . পুরো বাড়িতে আবির শুধু একা একা চুপচাপ বসে থাকে। সে যেনো জানে যে তার মৃত্যু অনেক নিকটে চলে এসেছে! হয়তো একটু পরে এই বাড়িতেই তার মৃত্যু ঘটবে! হয়তো একটু পরেই সে তার পরিবারের বাকি সদস্যের কাছে ওপারের দুনিয়ায় চলে যাবে! . . আবির বসে বসে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলো! এরপর হঠাৎ সে ভাবলো! আসলেই কী এই অভিশাপ থেকে বেঁচে ফেরার আর কোন উপায় নেই?! আসলেই কি তার মৃত্যু নিশ্চিত?! আসলেই কী তার বাঁচার আর কোন সুযোগ নেই?! সে কী পারে না এই অভিশাপকে ধ্বংস করে আবার একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?! তার নিজের মৃত্যু ছাড়া কী তার বাবার আত্মাকে মুক্তি দেওয়ার আর কোন উপায় নেই?! . এইরকম হাজারো প্রশ্ন এসে আবিরের মাথায় ঘুরপাক খায়। আবির এবার যেনো বেঁচে থাকার জন্য কিছুটা আশা পায়। সে ভাবে এইসব প্রশ্নের উত্তর, রহস্যের সমাধান এবং অভিশাপ থেকে মুক্তির সব উপায়ই একমাত্র সেখানেই পাওয়া যাবে যেখানে তারা তার বাবার কবরটা দিয়েছিলো। সে বুঝতে পারলো এখন তার কাছে আর কোন রাস্তা নেই!! তাকে সেই অভিশপ্ত কবরস্হানটার পাশেই ফিরে যেতে হবে! কারণ একমাত্র সেখানকার লোকেরাই তার বাবার কবর দেওয়ার আগে থেকেই তাদের নানান ভাবে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলো!! নিশ্চই এখন তাদের কাছে গেলেই এই সমস্যার কোন একটা সমাধান পাওয়া যাবে ! তারা নিশ্চই এই অভিশপ্ত কবরস্হানের রহস্য জানে এবং জানে যে কী করে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়! . এরপর আবির আর কিছু না ভেবেই সিদ্ধান্ত্ব নেয়। যে করেই হোক তাকে আবার তাঁদের গ্রামে ফিরে যেতে হবে! সেখানেই হয়তো সে এই অভিশপ্ত জীবনের একটা সুন্দর সমাপ্তি পাবে !! কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই গ্রামে যাওয়াটা ঠিক হবে না! তাই সে ভোরের অপেক্ষায় তাদের বাড়িতেই সারারাত বসে রইলো! সকাল হলেই সে রওনা দিবে তাদের গ্রামে। . এরপর রাতের অন্ধঁকার পেরিয়ে যেই ভোরের সূর্যের আলো উঁকি দিয়েছে। ঠিক সেই সময়েই আবির তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে তার মামা বা অন্য কাউকে কিছু না বলেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রায় অনেকটা সময় বাসে থাকার পর অবশেষে সে তার গ্রামের বাড়িতে পৌছালো! . গ্রামের বাড়িতে পৌছে সে আবার পুরো দ্বন্দ্বে পড়ে গেলো। সে ভাবছিলো যে, সে গ্রামেতো ঠিকই পৌঁছে গেছে! কিন্তু এখন সে কী করবে?! সে সাহায্যের জন্য গ্রামের কার কাছে যাবে?! সে কাকে বিশ্বাস করে এইসব ঘটনা খুলে বলবে?! কে তাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে?!! . . এরপর আবিরের হঠাৎ মনে পড়লো, এই গ্রামের ঈমাম সাহেব তাঁদের সবার প্রথমে সতর্ক করেছিলো! তাহলে নিশ্চই এই অভিশপ্ত কবরস্হান সম্পর্কে সেই সবচেয়ে ভালো জানে। আর এই অভিশাপ থেকে কিভাবে মুক্ত হতে হবে এটাও হয়তো সে জানে! . এরপর আর বেশিকিছু না ভেবে আবির ঈমাম সাহেবের সাথে দেখা করতে মসজিদে যায়! ঈমাম সাহেব আবিরকে দেখে খুব একটা অবাক হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে সে আবিরকে বলে: -আমি জানতাম যে তোমাদের পরিবারের কেউ না কেউ বেঁচে আবার এই গ্রামে ফিরে আসবে। আবার আমার কাছে এই অভিশাপটার ব্যাখ্যা চাইবে। এইরকম ঘটনা এর পুর্বেও অনেকবার ঘটেছে আর এর পরেও আরো ঘটবে! . ঈমাম সাহেবের কথাটা শুনে আবির কিছুক্ষন চুপ হয়ে থাকে। এরপর কাঁদতে কাঁদতে ঈমাম সাহেবকে আবির সব ঘটনা খুলে বলে। সেই গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত তার পরিবারের সাথে যা যা ঘটেছে! পরিবারের সকল সদস্যদের ধীরে ধীরে নানান দুর্ঘটনায় পড়ে মারা যাওয়া! সব ঘটনা পরিষ্কার ভাবে আবির ঈমাম সাহেবকে খুলে বলেন। ঈমাম সাহেব কথাটা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে রইলেন। এরপর আবিরকে বললেন: -এইরকম টাতো হওয়ারই ছিলো! প্রায় প্রতি বছরেই এখানে একটা পরিবার আশে তাদের আপন জনকে কবর দিতে। আমাদের নানান নিষেধ থাকার পরেও তারা অনেকটা জেদ করেই ঐ কবরস্হানে তাদের পরিবারের সদস্যকে কবর দেয় এবং যাকে কবর দেওয়া হয় তার আত্মা আর কোনদিনও শান্তি পায় না! এরপর তার আত্মা আবার তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু মৃত্যুর পর আর তাদের পরিবারের মানুষদের সাথে থাকতে পারে না তারা! তাই তাদের পরিবারের বাকি সদস্যদেরও খুন করে তাদের সাথে করে নিয়ে ওপারের দুনিয়ায় পাড়ি জমায়। -কিন্তু সেই লাশগুলো বা তাদের পরিবারের কী দোষ থাকে?! তারা কেনো শুধু শুধু শাস্ত্রী পায়?! -আসলে দোষটা সেই লাশটা বা তার পরিবারের নয়! দোষটা এই অভিশপ্ত কবরস্হানের! এই কবরস্হানে যাদেরই কবর দেওয়া হয়, তাদের পরিবারের সাথেই কেবল এই ঘটনাটা ঘটে! এই কবরস্হানটাকে অভিশপ্ত বলার পেছনেও একটা বড় ঘটনা রয়েছে! আসলে তোমার বাবাকে যেই কবরস্হানে তোমরা কবর দিয়েছো এটা আগে একটা সাধারন বড় কবরস্হান থাকলেও বর্তমানে এটা একটা গণকবর ! ঘটনাটা প্রায় ১৫ বছর আগের। তখনো আমি এই গ্রামে ঈমাম হয়ে আসিনি। এই ঘটনাটা পুরোটাই একটা বড় হুজুরের কাছে শোনা! আজ থেকে ১৫ বছর আগে এই কবরস্হানটাই এই গ্রামের একমাত্র কবরস্হান ছিলো। এখানে স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার মানুষ মারা গেলে তাদের কবর দেওয়া হতো। স্বাভাবিক ভাবেই কাটছিলো গ্রামের মানুষগুলোর দিন। এরপরে একদিন গ্রামের মানুষগুলো একটা বড় পাপে জড়িয়ে পড়লো। সেই সময়ে এই গ্রাম থেকে প্রায় ২০ কি.মি দুরে একটা কেমিকেলের কারখানা ছিলো। সেখানে বিভিন্ন রকম কেমিকেল তৈরি করা হতো। এবং সেখানে অনেক দুর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসে কাজ করতো। যদিও এই গ্রাম সহ আশেপাশের ১০ গ্রামের মানুষেরা তখনো এই কারখানা সম্পর্কে কিছুই জানতো না। একদিন সেই কেমিকেল কারখানায় একটা ভেজাল কেমিকেল তৈরি করতে যায় কারখানার মালিকেরা। তারা সেই কেমিকেল তৈরি করাতো সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে। কিন্তু সেদিন তারা সফল ভাবে কেমিকেলটা তৈরি করতে পারলো না! কেমিকেল তৈরি করার মাঝপথে সেই কেমিকেল থেকে হঠাৎ করে একটা বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হতে থাকে। সেই গ্যাসের বিষক্রিয়া সাথে সাথেই কারখানার প্রায় অর্ধেকের বেশি শ্রমিক মারা যায়! ঠিক সেই সময়ে কারখানার মালিকেরা বেশ চিন্তায় পড়ে যায়! তারা ভাবে এই কেমিকেল বা এতোগুলো শ্রমিকের হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা যদি কারো কানে যায় তাহলে তাদের কপালে অনেক বড় দুঃখ রয়েছে। এইদিকে কারখানার বাকি যেই শ্রমিকগুলো বেঁচে ছিলো তারা বেশ রেগে যায় মালিকদের উপর! তারা এতোগুলো শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ জানতে চায় মালিকদের কাছে। মালিকরা বুঝতে পারে যে, এই বাকি শ্রমিকগুলোও যদি বেঁচে থাকে তাহলে এই কারখানার ভেতরের সব খবরগুলো বাহিরে চলে যাবে! সবাই জেনে যাবে যে এই কারখানায় এতোগুলো শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে !! তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে বাকি শ্রমিকদেরো তারা খুন করবে! তাহলেই আর কোন প্রমাণ থাকবে না! এরপরেই কারখানার মালিক পক্ষের লোকেরা বাকি শ্রমিকদের বোকা বানিয়ে একটা ঘরে নিয়ে খুন করে। সবাইকে প্রথমে একটা কেমিকেল দিয়ে অজ্ঞান করে। পরে ঐ অজ্ঞান অবস্হাতেই তাদের গলা ছুরি দিয়ে কেটে তাদের খুন করা হয়। এরপরেই তারা এইসব গুলো শ্রমিকের লাশগুলোকে গুম করার উদ্দেশ্যে একটা ট্রাকে করে রাতের অন্ধকারেই এই গ্রামে লাশগুলোকে নিয়ে আসে। তারা জানতো যে এই গ্রাম থেকে কারখানাটা বেশ দুরে। তাই এই পর্যন্ত কেউ এদের খুঁজতে আসবে না! এরপর এই গ্রামে এসে গ্রামের প্রভাবশালী মানুষদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে এই কবরস্হানটা এক রাতের জন্য নেয় তারা। এরপর একটা গণকবর খুড়ে শখানেক শ্রমিকদের লাশকে জানাজা ছাড়া ঐ অবস্হাতেই গর্তে ফেলে পুতে রাখে ঐ কারখানার মালিকের দল। ঐ সময় তাদের এই জঘন্য কাজটা গ্রামের প্রায় সব লোকই দেখেছিলো। কিন্তু সেই মালিকপক্ষ গ্রামের সবাইকে টাকা খাইয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে! এমনকি গ্রামের অনেকে সেই কবরস্হানে গর্ত খুড়ে সেই লাশগুলোকে গর্ত করে পুতে রাখতেও সহযোগিতা করে। গ্রামের সবাই টাকার নেশায় অন্ধঁ হয়ে গিয়েছিলো! . একটা পবিত্র কবরস্হানে এইরকম নির্মম, জঘন্য কাজ করার জন্য সেই কবরটা এরপর থেকে অভিশপ্ত কবরস্হানে পরিণত হয়। সেই শখানেক শ্রমিকের মধ্যে কারো আত্মাই আর মুক্তি পায় না। তাদের আত্মা গুলো সেই কবরস্হানেই আটকা পড়ে থাকে। এরপরে শোনা যায় যে, এই কেমিকেল কারখানার যে সকল মালিকেরা সেদিন শ্রমিকদের এতোটা নির্মম ভাবে এখানে গণকবর দিয়েছিলো তাদের কেউ আর বেশিদিন বেঁচে থাকে না! তারা সবাই ধীরে ধীরে কয়েকদিনের মধ্যেই নানান দুর্ঘটনায় পড়ে মারা যায়। কিন্তু তাদের এই দুর্ঘটনায় পড়ে হঠাৎ মৃত্যুগুলো কী শুধুই দুর্ঘটনা ছিলো নাকি সেই আত্মাগুলোর প্রতিশোধ নেওয়া ছিলো?! এটা কেউই জানে না! এরপর থেকে সেই অভিশাপ নেমে আসে এই গ্রামের মানুষদের উপর! এই গ্রামের কেউ মারা গেলে তাকে ঐ কবরস্হানেই কবর দেওয়া হতো। তখনো কেউ জানতো না যে ঐ কবরস্থানটা অভিশপ্ত হয়ে গেছে!! তাই তাদের আত্মা কখনোই শান্তি বা মুক্তি পেতো না। সেই কবরস্হানের আত্মাগুলো তাদের আত্মাকেও অভিশপ্ত করে ফেলতো। সেই আত্মা গুলোর ভেতরের ভালো জিনিসগুলো তারা কেরে নিতো এবং তার ভেতরে আরো অনেক খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে তাকে আবার তার পরিবারের কাছে পাঠাতো তারা! এরপর সেই আত্মাটা তার পরিবারের একজন একজন করে সদস্যের দেখা দেয় এবং তাদেরকে ইচ্ছা করেই নানান দুর্ঘটনার স্বীকার বানায় এবং তার সাথে করে ওপারের দুনিয়ায় নিয়ে যায়! এরপরেও এই গ্রামের অনেকগুলো মানুষকে এই কবরস্হানেই কবর দেওয়া হয় এবং তাদের পরিবারের সাথেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে! তাদের পরিবারের সদস্যেরাও ঠিক একই ভাবেই দুর্ঘটনায় মারা যায়! এইভাবে এই গ্রামের অনেকগুলো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পড়ে এই গ্রামের মানুষগুলো তাঁদের অপরাধ বুঝতে পারে এবং বুঝতে পারে যে নিশ্চই এই কবরস্হানকে সেই আত্মাগুলো অভিশপ্ত করে রেখেছে । তাই এইরোকম অঘটন ঘটছে !! তাই এই গ্রামবাসী এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১২ বছর ধরে ঐ কবরস্হানে কারো কবর দেওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়! এরপর তারা নতুন একটা কবরস্হান তৈরি করে এবং আজ পর্যন্ত সেখানেই আমরা নতুন লাশদের কবর দেই ! কিন্তু ১২ বছর ধরে এই কবরস্হানকে নিষিদ্ধ করা হলেও প্রায় প্রতি বছরেই এইখানে আমাদের নিষেধ অমান্য করে একটা না একটা পরিবার এসে তোমাদের মতো তাদের পরিবারের কোন সদস্যকে এখানে কবর দিয়ে যায়! এবং তাদের সাথেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে! তোমাদের পরিবারেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে! তোমরাও সেই অভিশাপের স্বীকার হয়েছো! তোমার বাবার আত্মাটা আবার ফিরে এসে তোমাদের পরিবারের সব সদস্যদের ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং তাদের নানান দুর্ঘটনার ফাঁদে ফেলে খুন করে। এখন হয়তো শুধু তুমিই বাকি রয়েছো!! -এতোসব ঘটনা বাবার কবর দেওয়ার আগে আপনি কেনো আমাদের বলেন নি?(আবির) -বলার অনেক চেষ্টা করেছিলাম তোমার বড় ভাইকে! কিন্তু সে আমার পুরো কথাটা শুনে না ! সে এর আগেই আমাকে গন্ড-মুর্খ বলে তাঁড়িয়ে দেয়। তোমাদেরকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছিলো যে এই কবরস্হানে তোমাদের বাবার কবর দিয়োনা। কিন্তু তোমরা আমাদের কারো কথাই শুনোনি! -হুম। যদি আমরা একটু সতর্ক থাকতাম তাহলে হয়তো আমাদের পরিবারটার আজ এই অবস্হা হতো না! কিন্তু এখন কী আমার মৃত্যু নিশ্চিত?! এই অভিশাপ থেকে বাঁচার কী আর কোন উপায়ই নেই?! -হয়তো আছে! তবে উপায়টা আমার জানা নেই। আমি একটা বড় হুজুরের ঠিকানা তোমাকে দিচ্ছি! হয়তো সে তোমাকে এ ব্যাপারে কোন সাহায্য করতে পারে। কিন্তু... ! -কিন্তু কী ঈমাম সাহেব?! -জানি হয়তো কথাটা শুনে তুমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাবে! কিন্তু এর আগেও অনেকে এই বিষয়ে আমার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলো! আমি তাদেরকেও সেই হুজুরের ঠিকানা দিয়ে তার কাছে পাঠাই! কিন্তু এরপর থেকে আর তাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না! আমি জানি না যে হুজুর তাদের কী পরামর্শ দেয়?! বা তারা কী আদো হুজুরের কাছে পৌছাতে পারে কিনা?! কিন্তু তুমি ভয় পেয়ো না! তুমি এগিয়ে যাও। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত কবরস্থান শেষ
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ৩
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ২
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now