বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত কবরস্থান ২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X পর্ব-২ এরপর আবির কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে তাঁর মা কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে বলতে লাগলো:- -আবির! বাবা! তুই তাঁড়াতাড়ি তোর ভাইয়াকে নিয়ে বাড়িতে চলে আয়! বাড়িতে বড় বিপদ ঘটে গেছে। আনিকা মারা গেছে! তোরা তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আয়! . আবির এই কথাটা শুনে পুরোই আৎকে উঠলো!! সে কল ধরার পর মায়ের কাছ থেকে এই রকম কোন কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না! সে কথাটা শুনে প্রায় পাগল হয়ে গেলো!! সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না আনিকা কি করে মারা যাবে?! অনিকাকেতো একটু আগেই মা এবং দাদির সাথে তার বাসায় রেখে এসেছিলো তারা!! এরপর আবির তার ভাই আসিফকে এসম্পর্কে কিছু না বলেই দুজনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। . এর কিছুক্ষণ পরেই তারা বাড়িতে পৌঁছে গেলো! বাড়িতে পৌছেই তাদের বাড়িতে এতোটা ভীর দেখে আসিফ এবং আবির পুরো আৎকে উঠে! এরপর আসিফ এবং আবির দুজনেই দ্রুত ছুটে বাড়ির ভেতরে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে ভীরটা ক্রমসো বাড়ির পেছন পর্যন্ত গিয়েছে। তাদের বাড়ির পেছনে একটা নতুন বাড়ির কাজ চলছিলো কয়েক দিন ধরেই! সেখানে গিয়ে আবির এবং আসিফ যা দেখলো তা দেখার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলো না! তারা দেখলো বাড়ির পেছনের নতুন বিল্ডিং এর পিলারের রডের উপর আনিকা উল্টে পড়ে রয়েছে। বিল্ডিংয়ের সুচালো রড আনিকার শরীর, হৃদপিন্ড ভেদ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে! রড পুরো তার বুকের ভেতর দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে আছে। আনিকার পুরো শরীর এবং বিল্ডিং এর পিলার পুরো আনিকার রক্তে ভিজে গেছে! আসিফ এবং আবির দৃশ্যটা দেখে আৎকে মাটিতে বসে পড়লো। তাদের মস্তিস্ক আর শরীর যেনো অবশ হয়ে যেতে লাগলো!! . অন্যদিকে কারো বুঝতে বাকি রইলো না যে আনিকা তাঁদের বাড়ির ছাদ থেকে এই নতুন বিল্ডিং এর রডের উপর পড়ে গিয়েছিলো এবং এভাবেই সে মারা যায়! খুব খারাপ ভাবে রডে আটকে পড়ায় কেউ তাঁকে এখান থেকে উঠাতে পারেনি এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে সে মারা যায়! কিন্তু আনিকা ছাদ থেকে পড়লো কিভাবে?! সবাই ভাবে ছাদে উঠে হয়তো পা পিছলে এখানে পড়ে গেছে সে। তাই সবাই এটাকে সাধারণ একটা দুর্ঘটনাই ভাবে। এরপর পুলিশ আসে এবং আনিকার লাশকে সেই পিলারের রড থেকে বের করেন! এতোক্ষনে সবাই ই বুঝতে পেরে গিয়েছিলো যে আনিকা মারা গেছে। আনিকার মা এইভাবে তার মেয়েকে রডের উপর পড়ে থাকতে দেখে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো। আনিকার বাবাও নির্বাক দর্শকের মতো তাঁকিয়ে তাঁকিয়ে শুধু তার মেয়ের লাশটা দেখছিলো। এইদিকে আবিরো যেনো তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না! সে কল্পনাও করতে পারেনি যে তার জীবনে এমন একটা দিন আসতে পারে! এইদিকে তাঁদের মাও এই দৃশ্যটা দেখে অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েন! . এই একদিনেই যেনো তাঁদের জীবনটা পুরো পাল্টে গেলো। কয়েকদিন আগে তাঁদের বাবার মৃত্যুর শোক ভুলতে না ভুলতেই এখন পরিবারের আরেকটা সদস্যের অকাল মৃত্যুর সাক্ষী হলো তারা। এরপর আনিকার দাফন শহরের একটা কবরস্হানে শেষ করেন তারা! আসিফ , আবির সহ তাদের পুরো পরিবার যেনো ভেঙে পড়লো! তাঁদের বেঁচে থাকার কারণটাই যেনো তাঁদের চোখের সামনে মারা গেলো! আর তারা কিছুই করতে পারলো না! তারা শুধু ভাবছিলো। ইশ! যদি আরেকটু সতর্ক থাকতাম আমরা। তাহলে হয়তো আজকের দিনটা আমাদের দেখতে হতো না! . তারা কিছুতেই আনিকার কথা ভুলতে পারছিলো না! আর শম্মীতো, আনিকার জন্য প্রায় পাগলই হয়ে গিয়েছিলো! এরপর দেখতে দেখতে প্রায় এক সপ্তাহের মতো কেটে গেলো। আসিফ আবারো অফিসে যাওয়া শুরু করলো, আবির আবার লেখাপড়ায় ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। আর শম্মী নানান সাংসারিক কাজে ব্যাস্ত থাকার চেষ্টা করে! যদিও কেউই এখনো পর্যন্ত আনিকাকে ভুলতে পারে নি। আর ভুলাও সম্ভব না! . আনিকাকে ভুলতে না ভুলতেই তাদের পরিবারে আরো একটা নতুন বিপদ এসে হাজির হলো! এরই মধ্যে শম্মীর চোখে হঠাৎ আরো একটা অদ্ভুত ঘটনা ধরা পড়লো। এবার শম্মী আনিকার করা আচরণ গুলোর প্রতিফলন লক্ষ করে তার শাশুড়ী অর্থাৎ আসিফের মায়ের ভেতরে। আসিফের মাও কেমন যেনো অদ্ভুত আচরণ করা শুরু করে। শম্মী যখন তার পাশে থাকে তখন সে চুপচাপ বসে থাকে। আর যেই শম্মী তার থেকে একটু দুরে অন্য ঘরে যায়! ঠিক তখনি সে একা একা নিজে নিজেই কথা বলতে থাকে! সেও এমন ভাবে কথা বলে যে মনে হয় তার পাশে কেউ বসে আছে এবং তার সাথে সে গল্প করছে! যদিও শম্মী কাউকেই দেখতে পায় না! শম্মী এই বিষয়টা নিয়েও বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। আনিকার সাথে তার শাশুড়ি মায়ের ব্যবহার কেমন যেনো মিল পায় সে! এরপর সে একদিন সাহস করেই আসিফের মায়ের কাছে জানতে চায় যে, সে একা একা কার সাথে কথা বলে?! . কিন্তু আসিফের মাও অনেকটা আনিকার মতো করেই উত্তর দেয়:- -আমার একা থাকতে ভালো লাগে। কিন্তু আমি কারো সাথে কথা বলিনা! . এই উত্তর শুনে শম্মী আরো বেশি অবাক হয়ে যায় আর চিন্তায় পড়ে যায়! কারণ ঠিক একই রকম উত্তর সে আনিকার কাছ থেকেও পেয়েছিলো। সে কিছুতেই বুঝতে পারছিলো না যে তাদের পরিবারের সাথে এসব কী হচ্ছে?! আর কেনো হচ্ছে?! ধীরে ধীরে সবাই এতোটা অদ্ভুত ব্যবহার করছে ইবা কেনো?! প্রথমে আনিকা এখন মা! সে এসব ভাবতে ভাবতে প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলো। এইদিকে একের পর এক শোকে আবির এবং আসিফের মনও তেমন ভালো ছিলো না! তাই শম্মী নতুন করে আর তাদের কোন চিন্তায় ফেলতে চায়নি। তাই এই বিষয়টা তাদের থেকে লুকিয়ে যায় সে! আসিফ বা আবির কাউকেই এ সম্পর্কে কিছুই বলে না শম্মী। এইভাবে আরো বেশ কিছুদিন কেটে যায়। শম্মী ধীরে ধীরে ঘটনাটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নেয়। এবারো সে ভাবে, তার শাশুড়ি মা হয়তো হঠাৎ আনিকার এই দুর্ঘটনা দেখে মানসিক ভাবে অসুস্হ্য হয়ে পড়েছেন। এরপরে আর এই বিষয়টা নিয়ে বেশিকিছু ভাবে না সে। . কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়টা আর বেশিদিন স্বাভাবিক থাকে না! একদিন এই বিষয়টাই তাকে অনেক বেশি অবাক করে দেয়। সেদিন আসিফের মাকে শম্মী রাতে খাবার টেবিলে ডাকতে তার ঘরের দিকে যায়। শম্মী যেই তার শাশুড়ী মায়ের ঘরের সামনে গেলো সে দেখলো দরজাটা ভালো করে চাপিয়ে দেওয়া রয়েছে। আর ভেতর থেকে তার শাশুড়ীর কথা বলার শব্দ ভেসে আসছে। কিন্তু এবার সে একা একা কথা বলছিলো না। এবার আসিফের মায়ের কন্ঠের সাথে আরো একটা কন্ঠ শম্মীর কানে ভেসে আসলো!! কন্ঠটা একটা বৃদ্ধ লোকের। কন্ঠটা শুনে শম্মীর বুঝতে বাকি রইলো না যে, আরে এটাতো আসিফের বাবার কন্ঠ! শম্মী পুরো আৎকে উঠে! আসিফের বাবাতো মারা গেছে! তাহলে আসিফের মা তার সাথে কথা বলছে কী করে?! এরপর শম্মী অবাক হয়ে দ্রুত দরজাটা ধাক্কা মেরে ভেতরে যায় এটা দেখতে যে ভেতরে আসলে কে আছে?! কার সাথে আসিফের মা কথা বলছেন?! কিন্তু এরপর শম্মী যা দেখলো তা দেখে শম্মী আরো বেশি অবাক হয়ে গেলো! কারণ ঘরের ভেতরে শুধু আসিফের মা একা চুপচাপ বসে রয়েছে! আর কেউ নেই! কিন্তু একটু আগেও তো বাহির থেকে সে ঘরের ভেতরে স্পষ্ট আসিফের বাবার কন্ঠ শুনেছে! শম্মী বেশ অবাক হয়ে ঘরের এদিক,ওদিক আসিফের বাবাকে খুঁজতে থাকে! কিন্তু আসিফের মা ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পায় না সে! এরপর শম্মী অবাক হয়ে আসিফের মাকে প্রশ্ন করে: -মা! আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন? . শম্মীর কথাটা শুনে আসিফের মা কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেয়: -আমি আবার কার সাথে কথা বলবো?! আমিতো চুপচাপ এখানেই বসে ছিলাম! . শম্মী এইরকম উত্তর শুনে আর কিছুই বলতে পারেনি আসিফের মাকে। শম্মী শুধু ভাবছিলো, তাহলে কী সে ভুল কিছু শুনেছে?! এরপর ভাবলো হয়তো ভুল কিছুই শুনেছে! নাহলে, মৃত মানুষ কী আবার কখনো ফিরে এসে কারো সাথে কথা বলতে পারে নাকি?! . এরপর শম্মী কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে তার শাশুড়ী মাকে নিয়ে খাবার টেবিলে যায় রাতের খাবার খেতে! আসিফ, আবির,শম্মী এবং তাঁদের মা ৪ জন মিলে একসাথে খাবার টেবিলে রাতের খাবার খাওয়া শুরু করে। খাবার খাওয়ার মাঝখানেই আসিফের মা হঠাৎ খুব রেগে খাবারের প্লেটটা ছুরে মেঝেতে ফেলে দেয়! এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর আসিফের মা পাগলের মতো হাসতে থাকে। সে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলে আবার কাঁদতে কাঁদতে হাঁসতে থাকে! তাকে হঠাৎ এইরকম অদ্ভুত ব্যবহার করতে দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়! তারা কিছুতেই বুঝতে পারে না যে মা আবার হঠাৎ এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছেন কেনো?! আসিফ এবং আবির তাকে ধরতে যায় কিন্তু তাদের মা তাদের প্রচুর শক্তিতে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় ! আসিফ, আবির কেউই বুঝতে পারে না যে তাদের সাথে এটা কী হচ্ছে?! তাদের মা হঠাৎ এতোটা অদ্ভুত ব্যবহার করছে কেনো তাদের সাথে?! এরপর তাঁদের মা হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, "কেউ বাঁচবে না! কারো বাঁচা উচিত হবে না! তোরাও বাঁচবি না। ও সবাইকে ডাকছে! সবাই তার কাছে যাবে!" এতোটুকু কথা বলেই পাগলের মতো দৌড়াতে দৌড়াতে তাদের মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে যায়। আবির আর আসিফ কেউই বুঝতে পারে না তাদের মা হঠাৎ করে পাগল হয়ে গেলো কিভাবে?! আর বাড়ির বাহিরে কোথায় যাচ্ছে সে ?! এরপর তার পিছু পিছু আবির, আসিফ,শম্মী ৩ জনেই ছুটতে থাকে। যতক্ষনে তারা বাড়ির বাহিরে পৌছালো! দেখলো বাড়ির সামনের রাস্তায় একটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে! আবির আর আসিফ দেখেই বুঝতে পারলো যে এটা তাঁদের মায়ের দেহ। তাদের মা দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ একটা ট্রাকের সামনে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো। ট্রাক ড্রাইভারটা হঠাৎ তাকে দেখে কিছু বুঝে গাড়িটা থামাতে থামাতেই তাদের মা গাড়ির চাকার নিচে পিশে গিয়েছিলো। আসিফ আর আবির তাদের মায়ের রক্তাক্ত দেহ এইভাবে দেখে পুরো আৎকে উঠে!! এরপর আশেপাশের লোক ও আবির, আসিফ মিলে তাঁদের মাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যায়। কিন্তু যতক্ষণে তারা হাসপাতালে পৌছায় তার আগেই তাঁদের মা পৃথিবী ত্যাগ করে ওপারের দুনিয়ায় পাড়ি জমায়! ডাক্তার তাঁদের মাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরে আবির, আসিফ, শম্মী ৩ জনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের পরিবারে ৩য় শোক নেমে আসে। আবার তাঁদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজনেরা এসে ভীর জমায়। তাদের মায়ের লাশেকেও শহরেরই একটি কবরস্হানেই দাফন দেওয়া হয়। সবাই তাঁদের মায়ের মৃত্যুটাকে একটা সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনাই ভাবে। কিন্তু আবির, আসিফ আর শম্মীতো জানে যে এটা কোন সাধারণ দুর্ঘটনা ছিলো না। তাদের মায়ের সাথে নিশ্চই অস্বাভাবিক ভাবে অদ্ভুত কিছু ঘটেছিলো তাই সে আত্মহত্যা করেছেন ! কিন্তু কী ঘটে থাকতে পারে?! এটাই কারো মাথায় আসছিলো না! . এছাড়া তাদের এলাকার মানুষ এবং তাঁদের শহরের আত্মীয় স্বজনেরাও এই বিষয়টা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলো। এক সাথে পরিবারের এতোগুলো সদস্যের ধীরে ধীরে মৃত্যু তাদের কাছেও বেশ অস্বাভাবিক লাগছিলো! কিন্তু যখন পরিবারের কোন সদস্যই এর কোন সমাধান করতে পারছে না বা উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না! তখন এরা আর কী করবে?! . এরপরে দেখতে দেখতে আরো বেশ কিছুদিন কেটে যায়। আবির,আসিফ আর শম্মী শারীরিক ভাবে বেঁচে থাকলেও তাঁদের আত্মীক মৃত্যু অনেক আগেই ঘটে গিয়েছিলো। হঠাৎ কাছের মানুষগুলোকে হারিয়ে তারা সবাই মানসিক ভাবে অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পর শম্মী আসিফ এবং আবিরকে আগের ঘটা সব ঘটনা খুলে বলেন। শম্মীর দেখা সেই অদ্ভুত ঘটনাগুলোও সে তাঁদের জানায়। শম্মী বলে যে, মাও আনিকার মতো বেশ কিছুদিন ধরে খুব একা একা থাকতো এবং একা একাই নিজের সাথে কথা বলে যেতো! এই কথা শুনে আসিফ এবং আবির কিছুটা আন্দাজ করতে পারে যে, এই দুই জনের মৃত্যূর মধ্যে নিশ্চই কোন সম্পর্ক রয়েছে! কিন্তু কী সম্পর্ক থাকতে পারে এটা তারা কেউই আন্দাজ করতে পারে না! . তাদের জীবন যেনো ধীরে ধীরে আরো বেশি অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছিলো! তাঁদের সাথে অদ্ভুত ঘটনা ঘটা যেনো আর বন্ধই হচ্ছিলো না! এবার তাঁদের সাথে সবচেয়ে বড় অঘটন টা ঘটে গেলো! . সেদিন আসিফ একটা জরুরী কাজে ব্যাংকে যায়। এইদিকে আবিরও বাড়িতে ছিলো না। সে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো। শম্মীকে বাড়িতে একা রেখেই তারা বাড়ির বাহিরে গিয়েছিলো। আসিফ ব্যাংকে জরুরী কাজ করছিলো ঠিক সেই সময়েই তার মোবাইলে তার মামার নাম্বার থেকে একটা কল আসলো। আসিফ কলটা ধরে স্বাভাবিক ভাবেই বললো: -হ্যালো! মামা? . এরপর তার মামা তাকে যা বললো তা শোনার জন্য আসিফ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না! তার মামা বললো: -তুই কোথায় রে বাবা?! তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আয়! একটা বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে! তোদের পুরো বাড়িতে আগুন লেগে গেছে! বাড়ির সবকিছু পুড়ে গেছে! তুই তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আয়! . মামার মুখে হঠাৎ এই কথাটা শুনে আসিফ ভয়ে আৎকে উঠে! সে জানে যে শম্মী একা বাড়িতে রয়েছে! তাহলে তার আবার কিছু হয়নিতো?! এরপর আসিফ , আবিরকে কল দিয়ে এই আগুন লাগার কথাটা জানায়। আবিরো এই রকম কোন কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না! সে ভয়ে আৎকে উঠে এবং শম্মীর কথা চিন্তা করতে থাকে। এরপর তারা দুজনেই খুব দ্রুত বাড়িতে পৌছায়! . বাড়িতে পৌছেই আবারো সেই হাজারো মানুষের ভীর দেখে তাদের হৃদস্পন্দন যেনো আরো বেড়ে যায়। এরপর তারা ধীরে ধীরে ভীর ঠেলে বাড়ির ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। বাড়িতে যেতেই দেখলো তাদের বাড়ি আর এখন তাদের বাড়ির পুরোনো অবস্হায় নেই! পুরো বাড়ি পুরে কয়লা হয়ে গিয়েছে। আবির এবং আসিফ পাগলের মতো শম্মীকে চারিদিকে খুজতে থাকে। এরপর দেখে বাড়ির সামনে পাটির ওপর সাদা কাপড় দিয়ে একটা লাশ ঢেকে রাখা রয়েছে!! সাদা কাপড়টা সড়াতেই তাঁদের আর চিন্তে বাকি রইলো না যে এটাই তাঁদের শম্মী! শম্মীর পুরো শরীর আগুনে পুড়ে পুরো জ্বলসে গেছে। লাশটা দেখে চেনার উপায় নেই যে এটা কার লাশ!! কিন্তু এর শরীরের গঠন দেখে বোঝা যায় যে এটা স্পষ্ট একটা মেয়ের লাশ। আর এই বাড়িতে শম্মী ছাড়া আর কোন মেয়েই ছিলো না!আসিফ পুরো কান্নায় ভেঙে পড়ে।আবিরও কান্না করছিলো। তাও সে তার ভাইকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে! এরপর পুলিশ ও গোয়েন্দা দল আসে। এর আগেই ফায়ার সার্ভিসও চলে এসেছিলো। তারা নানান তদন্ত করার পর অবশেষে জানায় যে হয়তো গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে এই পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে! আর এই মেয়েটা অর্থাৎ শম্মী সেই সময়ে রান্নাঘরে ছিলো। তাই সে সাথেই আগুনে পুড়ে মারা যায়! . একের পর এক দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের এইভাবে মৃত্যু ঘটেই চলছিলো! প্রথমে ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে আনিকা ছাদ থেকে পরে মারা গেলো! এরপর আবির এবং আসিফের মা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেলো। আর এইবার শম্মী গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা গেলো! এইসব কিছুই কী শুধু দুর্ঘটনা ছিলো নাকি অন্যকিছু?! এক সাথে একই পরিবারের এতোগুলো দুর্ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক ছিলো না। কেউই এইগুলোকে স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছিলো না। এইদিকে এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এটাও বুঝতে পারছিলো না কেউ! . এবার যেনো শুধু মৃত্যুকেই বরণ করে নেওয়ার জন্যই বেঁচে রইলো আবির এবং আসিফ। শম্মীর দাফন কাজ শেষ করার পর যখন তারা কবরস্হান থেকে বের হলো তখন আবির আসিফের কাছে গিয়ে বললো: . -ভাইয়া! আমি হয়তো জানি এইসব দুর্ঘটনাগুলো কে ঘটাচ্ছে!! আর কেনো ঘটাচ্ছে!! এইগুলো একটাও দুর্ঘটনা ছিলো না ভাইয়া! এইসবই ছিলো খুন! আনিকা,ভাবি এবং মা ৩জনকেই খুন করা হয়েছে! . আবিরের কথা শুনে আসিফ পুরো আৎকে উঠে! এরপর আসিফকে বললো:- . -কী বলছিস এসব? তুই কী করে জানলি যে এইগুলো দুর্ঘটনা না?!খুন!! তাহলে বল কে এই খুনগুলো করেছে?! . এরপর আবির কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। এরপর উত্তর দেয়: -আমার মনে হয় সেই গ্রামের লোকগুলোর বলা কথাগুলোই ঠিক হচ্ছে! লোকগুলো বলেছিলো ঐটা একটা অভিশপ্ত কবরস্হান! আর ঐখানে যাদেরই কবর দেওয়া হয় তাদের কারো আত্মাই আর শান্তি পায় না! তারা আবার তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন করে তার সাথে করে ওপারের দুনিয়ায় নিয়ে যায়! আমার মনে হচ্ছে তাঁদের বলা কথাগুলোই ঠিক! আমাদের বাবার আত্মা আবার আমাদের পরিবারে ফিরে এসেছে এবং সেই আনিকা, মা এবং শম্মীকে খুন করেছে। নাহলে তুমিই বলো একসাথে এতোগুলো দুর্ঘটনা হয় কী করে ?! . . আবিরের কথা শুনে আসিফ আবার খুব রেগে গেলো আর আবিরকে বললো: -তুই কী আসলেই পাগল?! এইসব অভিশপ্ত বলে কিছু হয় না! মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা আর ফিরে আসে না! এইসব কিছুই কেবল একটা দুর্ঘটনা ছিলো!! তুই এই বিষয় নিয়ে আর একটাও কথা বলবি না আমায়! . . আবির একটা ভিন্নরকম জিনিস নিয়ে চিন্তা করছিলো! কিন্তু আসিফ বরাবরই জেদি স্বভাবের ছেলে। সে কিছুতেই এই অভিশপ্ত কথাটা মেনে নিতে রাজি না! . তাদের বাড়ি থেকে তাদের মামার বাড়িটা খুব একটা দুরে না ! তাই রাতে আবির এবং আসিফ তার মামার বাড়িতে থাকতে যায়। কারণ তাদের নিজেদের বাড়ি আর এখন থাকার উপযুক্ত নেই। রাত তখন প্রায় ৯ টা বাজে। বাড়ির সবাই একসাথে বসে আছে! সবাই আসিফ এবং আবিরকে নানান কথা বলে সান্ত্বনা দিচ্ছিলো। তাদের আর এই পৃথিবীতে আপন বলে কেউ রইলো না! তারা সবাই একে অপরের সাথে কথা বলছিলো। তাদের সবার কথার মাঝখানে হঠাৎ আসিফ উঠে বললো তাকে একটু তার ব্যাংকের অফিসে যেতে হবে। ব্যাংক থেকে কেনো যেনো তাকে যেতে বলেছে। বাড়ির সবাই তাকে যেতে নিষেধ করলো ! বললো , আজ এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটলো। তাই আজ আর এতো রাতে অফিসে যেতে হবে না! কিন্তু আসিফ কারো কোন কথাই শুনলো না। সে বললো তাকে নিয়ে নাকি ব্যাংকে কি সমস্যা হয়েছে। আবির তার সাথে যেতে চাইলে সে আবিরকেও যেতে না করলো। এরপর সে তার মামার প্রাইভেট কারটা নিয়ে অফিসের পথে ছুটলো। আবির বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলো। আজকে দিনে তার স্ত্রী মারা গেলো আর রাতের বেলাতেই সে সেটা ভুলে অফিসে যেতে চাচ্ছে!! এরপর এটা নিয়ে আর বেশিকিছু ভাবলো না সে! . রাত তখন প্রায় ১২টা বাজে। নিজের ঘরেই একা একা বসেছিলো আবির। এরপর ভাবলো এতোরাত হয়ে গেছে এখনো তার ভাইয়া বাড়িতে আসছে না কেনো?! এটা ভাবতে ভাবতেই তার মোবাইলে আসিফের নাম্বার থেকে একটা কল আসলো! নাম্বারটা দেখেই আবির দ্রুত কলটা ধরলো। কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে আসিফের কাঁদো কাঁদো কন্ঠ ভেসে আসলো! আসিফ এমনভাবে কথা বলছিলো যে মনে হচ্ছিলো সে কোন কিছু দেখে প্রচুর ভয় পেয়ে গেছে!! আসিফ কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে বলতে লাগলো: -আমায় বাঁচা ভাই! সেই গ্রামের লোকগুলোর কথাই ঠিক হয়েছে! বাবার আত্মা আবার ফিরে এসেছে! আমায় বাঁচা! ............................................................................. . . . . . . . . . . . . চলবে . . . . . . . . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত কবরস্থান শেষ
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ৩
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ২
→ অভিশপ্ত কবরস্থান ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now