বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত গল্প-০২ (শেষ)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অভিশপ্ত গল্প { দ্বিতীয় পর্ব } ৩. পরদিন রাত । কথা হচ্ছে জারা আর রাতুলের মাঝে – জারা : জানো কাল আমার বান্ধবী অর্ষা মারা গেছে । একদম তোমার বলা গল্পের মত । রাতুল : ঐ টা কাকতালীয় হতে পারে । তোমাকে আজকে আর একটা গল্প শুনাবো !! শুনবে ? জারা : হুমম । শুনবো । বলো !! রাতুল : গভীর রাত । সবাই ঘুমাচ্ছে । হঠাৎ মেয়েটার ঘুম ভেঙ্গে গেল অদ্ভুত এক শব্দ শুনে । ও উঠে বসলো । শব্দটা কোথা থেকে আসছে ও বুঝতে চেষ্টা করলো । কিছুক্ষণপর ও বুঝতে পারলো শব্দটা খাটের তলা থেকে আসছে । ও উপুর হয়ে উঁকি দিল খাটের তলায় । দেখলো সাদা কাপড় পড়া বীভৎস একটা মুখ ওর দিকে তাকিঁয়ে আছে । ও চিৎকার করার চেষ্টা করলো । কিন্তু তার আগেই ভয়ংকর একটা হাত চেপে ধরলো ওর মুখ । একটানে খাটের তলায় নিয়ে গেল ।ওর ওড়নাই শক্ত করে পেচাঁলো ওর গলায় । সকালে বেলায় ওর চোখ খোলা লাশটা পাওয়া গেল খাটের তলায় । জারা : অনেক ভয়ংকর গল্প !! তবে খুব ভালো লেগেছে । রাতুল : আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে । গুডনাইট । জারা : ওকে, গুডনাইট । জারা ঘুমিয়ে পড়লো । নিভে হয়ে গেল হোস্টেলের সমস্ত আলো । পরদিন সকাল । আফিয়া এসে ঘুম থেকে ডেকে তুলল জারাকে । বলল,"দিপাকে খুজেঁ পাচ্ছি না । ও রুমেই ছিল । আর ঘুম থেকে উঠে রুমের দরজাটাও আমি খুলেছি । কিন্তু ওকে তো খুঁজে পাচ্ছি না ।" জারা বলল,"চল তো দেখি ।" ওদের রুমে যেতেই রাতুলের গল্পের কথাটা মনে পড়ে গেল জারার । হাজারো শংকা আর উৎকন্ঠা নিয়ে ও দিপার খাটের তলায় উঁকি দিল । দেখে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারলো না জারা । ও দেখলো দিপার মৃতদেহটা এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিঁয়ে আছে । আৎকে উঠলো জারা । ৪. একদৌড়ে নিজের রুমে এসে ফেইসবুকে ঢুকে রাতুলকে মেসেজ দিল । "তোমার গল্পের মত আবার আমার এক বান্ধবীর মৃত্যু হয়েছে,"কাঁপা হাতে মেসেজটা লিখলো ও । রাতুল জারার মেসেজটা দেখে বিচলিত হয়ে পড়লো । দুশ্চিন্তায় ডুবে গেল ও । তখন ওর বন্ধু ফারহান ওকে জিজ্ঞাসা করলো,"কিরে দোস্ত কি হয়েছে তোর ? মন খারাপ কেন ?" তখন রাতুল ফারহানকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল । খুব অবাক হল ফারহান । একটু ভেবে বলল,"আমার পরিচিত একজন সাধুবাবা আছেন । তিনি তোকে এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন । চল উনার কাছে যাই ।" সেদিন সন্ধ্যায় ওরা দুজন সাধুবাবার কাছে গেল । রাতুল সব ঘটনা বলল উনাকে । শোনার পর উনি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখলেন । তারপর বললেন,"তুমি এমন একটি ভয়ংকর আত্মার কবলে পড়েছো যে জীবিত থাকতে বীভৎস সব ভূতের গল্প লিখতো । আর এখন ঐ অভিশপ্ত গল্পগুলো ও তোমাকে দিয়ে লিখাচ্ছে । আর সেদিনটাও বেশি দূরে নয় যেদিন ও তোমার মৃত্যুর গল্প তোমাকে দিয়েই লিখাবে" "তাহলে এখন বাচাঁর উপায় কি ?" ভয়ার্ত কন্ঠে বলল রাতুল । "তুমি এমন এক গল্প ঐ মেয়েটাকে শুনাবো যেই গল্পে মারা যাবে আত্মাটা । তারপর ঐ গল্পটা কাগজে লিখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিবে । আর যখন লিখবে তখন আশেপাশের পরিবেশ দেখে বা পিছনে কারও ডাক শুনলেও ফিরে তাকাবে না । তুমি তোমার মত লিখে যাবে,"বলল সাধুবাবা । উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোস্টেলে ফিরে আসলো রাতুল ও ফারহান । তারপর জারাকে সবকিছু জানালো রাতুল । ৫. রাত তখন ১ টা । ঘড়ির কাটা টিক টিক করে এগোচ্ছে । কথা হচ্ছে রাতুল আর জারার মাঝে - জারা : গল্প বলা শুরু করো । রাতুল : একটা ছেলে গল্প লিখছে । অভিশপ্ত গল্প !! মৃত্যুর গল্প !! হাজারো বছরের পুরানো বদ্ধ কোন এক রুমে । এখানে সেখানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ । যেখান বসে গল্প লিখতো কোন এক অভিশপ্ত গল্পের লেখক । সেখানেই ছেলেটা লিখছে । একটুপর বীভৎস চেহারার সেই লেখকের আত্মাটা ছেলেটার পিছনে এসে দাড়াঁলো । ভয়ংকর দুটো হাত বাড়ালো ছেলেটার দিকে । তখনই ছেলেটা অভিশপ্ত গল্প লেখার কাগজটাতে আগুন লাগিয়ে দিল । কাগজের সাথে সাথে পুড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল লেখকের আত্মাটাও । ছেলেটাও মুক্তি পেল অভিশপ্ত গল্প লেখার হাত থেকে । গল্প বলা শেষ করে রাতুল এই গল্পটাই কাগজে লিখতে শুরু করলো । হঠাৎই নিভে গেল সব আলো । শুধু রাতুলের টেবিলে জ্বলতে লাগলো একটা মোমবাতি । ঐ আলোতেই লিখতে লাগলো ও । শোঁ শোঁ শব্দ আসতে লাগলো চারদিক থেকে । অস্পষ্ট স্বরে রাতুলকে ডাকছে যেন কারা ? হয়তো অভিশপ্ত গল্পের কারণে মৃত্যুর শিকার রিপন, অর্ষা আর দিপার অতৃপ্ত আত্মাই ডাকছে ওকে । কিন্তু ও পিছনে ফিরে তাকালো না । লিখা শেষ করে মোমবাতির আগুনে জ্বালিয়ে দিল কাগজটাকে । পিছন থেকে ভেসে আসতে লাগলো কারো ভয়ংকর আর্তনাদ ! ছাই হয়ে গেল কাগজটা । লাইটের আলো জ্বলে উঠলো রুমে । রাতুল মুক্তি পেল অভিশপ্ত গল্পের হাত থেকে । তারপর থেকে রাতুল আর কোনদিন গল্প বলতো না । তবে রাতুল আর জারা দুজনেই তারপর থেকে কবিতা লিখতো । সমাপ্ত..............................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত গল্প-০২ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now