বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প পড়তে কার না ভালো লাগে ? কিন্তু সেই গল্পই যদি জীবনের কাল হয়ে দাড়াঁয় তখন কি করবেন ?
তবে ভয় নেই !! গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক
অভিশপ্ত গল্প
{ প্রথম পর্ব }
১.
জারার সাথে রাতুলের পরিচয়টা ফেইসবুকে । খুব ভালো বন্ধু ওরা । যদিও কেউ কারো সাথে দেখা করে নি কখনও ।
রাতুল ও জারা দুজন ই কলেজে পড়ে । ওদের মধ্যে একটা মিল হল ওরা দুজনই হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে ।
সেদিন ওরা ফেইসবুকে চ্যাটিং করছে ।
রাত তখন ২ টা ।
কথা হচ্ছে ওদের মধ্যে :
জারা : তুমি গল্প বলতে পারো ? ভূতের ?
রাতুল : হ্যা পারি । তবে ছোট ।
জারা : ওকে তাহলে ছোটই বলো । আমি শুনবো ।
রাতুল : শোন তাহলে । একটা ছেলে তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে গভীর রাতে ছাদের এক কোণায় দাড়িঁয়ে কথা বলছে । হঠাৎ ও দেখলো সাদা কাপড় পড়া বীভৎস চেহারার একটা লোক ওর দিকে এগিয়ে আসছে । ও চিৎকার দিল । কিন্তু কেউ শুনতে পেল না । লোকটা ওকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিল । ছেলেটা মারা গেল !
জারা : অনেক সুন্দর গল্প । আবার কাল শুনবো । এখন বাই । গুড নাইট ।
রাতুল : ওকে ; গুডনাইট ।
রাতুল লাইট অফ করে শুয়ে পড়লো ।
হঠাৎ কারো চিৎকারে ওর ঘুম ভেঙ্গে গেল । রুমের দরজা খুলে দেখলো হোস্টেলের সবাই দৌড়ে ছাদে উঠছে । রাতুল সানিকে জিজ্ঞাসা করলো,"কিরে, কি হয়েছে ? সানি বলল,"রিপন ছাদে ওর গার্লফেন্ডের সাথে কথা বলছিল । হঠাৎ ওর চিৎকার শুনতে পেলাম । তাই ছাদে যাচ্ছি । দেখি ওর কি হয়েছে ?"
সবাই ছাদে গেল । কিন্তু ছাদে কেউ রিপনকে দেখতে পেল না । রাতুল ছাদের কোণে গিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো রিপন এর মৃতদেহটা পড়ে আছে নিচে আর চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাজা রক্ত । বন্ধুর এই অদ্ভুত আর আকস্মিক মৃত্যুতে মন খারাপ হয়ে গেল রাতুলের । দু’চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো । তবে ওর গল্পের সাথে এই মৃত্যুটার মিল দেখে ও খুব অবাক হল ! তাহলে কি সত্যিই কোন সাদা কাপড় পড়া বীভৎস চেহারার কোন লোক ওকে মেরেছে ?
২.
পরদিন রাত ।
কথা হচ্ছে রাতুল আর জারার মধ্যে ।
রাতুল : জানো , কাল রাতে আমার এক বন্ধু ছাদ থেকে পড়ে মরে গেছে ।
জারা : উহ্ ! খুবই দুঃখের কথা । এই, আজকে আর একটা ভূতের গল্প বলো না ?
রাতুল : ওকে,শোন । কোন হোস্টেলের একটা মেয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওয়াশ রুমে গিয়ে বেসিনে ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধৌত করছিল । হঠাৎ বেসিনের আয়নায় মেয়েটা তার চেহারার বদলে সাদা কাপড় পড়া বীভৎস একটা চেহারা দেখলো । ওই চেহারাটা ওর দিকে তাকিঁয়ে বিশ্রী একটা হাসি দিল । মেয়েটা চিৎকার দিল । তখনই বীভৎস চেহারার লোকটা আয়না থেকে একটা হাত বের করে মেয়েটার গলা চেপে ধরলো । কোনমতে চেচাঁতে লাগলো মেয়েটা । ওর বান্ধবীরা বাহির থেকে জোরে জোরে দরজায় আঘাত করে বলল,"ঐ কি হইছে তোর ? দরজা খোল ।" কিন্তু মেয়েটা দরজা খুলতে পারলো না । দমবন্ধ হয়ে মারা গেল । ওর বান্ধবীরা দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখলো মেয়েটার মৃত দেহ পড়ে আছে । গলায় আঙ্গুলের লাল লাল ছাপ ।
জারা : ওয়াও !! অনেক সুন্দর গল্প । কিন্তু খুব ভয় পাইছি । আচ্ছা এখন যাই । গুড নাইট ।
রাতুল : ওকে, গুড নাইট ।
ফেইসবুক লগ আউট করে জারা ওর রুমমেট অর্ষাকে বলল,"কিরে , ঘুমাবি না ?"
"হ্যা , মুখটা ধুতে হবে,"ল্যাপটপ অফ করলো অর্ষা ।
অর্ষা ওয়াশ রুমে গেল । জারা ঘুমানোর জন্য ওর বিছানা ঠিক করতে লাগলো ।
পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ ওয়াশ রুম থেকে অর্ষার চিৎকার শুনা গেল,"জারা ! আমাকে বাচাঁ !"
জারা দৌড়ে ওয়াশরুমের কাছে গিয়ে দরজায় আঘাত করে বলল,"অর্ষা ! কি হইছে তোর ? দরজা খোল ।"
কিন্তু অর্ষা দরজা খুললো না । আস্তে আস্তে থেমে গেলে ওর চিৎকার । হোস্টেলের সব মেয়েরা এসে ওয়াশ রুমের দরজা ভাঙ্গলো । ভিতরে গিয়ে দেখলো অর্ষার মৃতদেহটা ফ্লোরে পড়ে আছে । জারা ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো অর্ষার গলায় লাল লাল আঙ্গুলের ছাপ । ভয়ে আত্মা শুকিয়ে গেল জারার ।
রাতুলের গল্প যে সত্যি হয়ে গেল !!
তাহলে কি ঐ বীভৎস চেহারাটাই মেরেছে অর্ষাকে ??
চলবে.....................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now