বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুচোখ বেয়ে অনর্গল পানি পড়ছে। সুহানের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসছে। সে বুঝতে পারলো আর বেশিক্ষণ পৃথিবীতে নেই। এবার বৃত্তকে ছেড়ে দিয়ে কোনো রকমে বৃত্তকে বলল,অর্পিকে কখনও কোনো কষ্ট না দেওয়ার জন্য।পাষন্ড বৃত্ত কোনো কথা বলছেনা।
আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে সুহান। সারা গুদামে রক্তের বন্যা বইছে। সুহানের খুবই ইচ্ছা হইতেছে মা, বাবা, অর্পি আর ছোট বাবুনি বোনটিকে একনজর দেখার জন্য! কিন্তু সেটা ভাগ্যে নাই কি আর করার? সুহানের চোখ গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। একটা হা করলো, সাথে সাথেই পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে নিল।
এইদিকে অর্পি চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠলো। অর্পির মা এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু কিছু বলছেনা। শুধু হাউমাউ করে কাঁদছে। মা তাকে বারবার জিজ্ঞাসা পর বলল,স্বপ্নে দেখছে সুহান যারা ধরে নিয়ে গেছে তারা সুহানকে মেরে ফেলছে!
অর্পির মা তাকে বারবার বুঝাচ্ছেন যে স্বপ্ন আর বাস্তব এক নয়, সুতরাং সুহানের কিচ্ছু হবে না। অর্পি শান্ত হচ্ছে না। অশান্ত ভাবে ফোন দিল বৃত্তকে!
বৃত্ত এখনও সুহানের পাশে বসা!
ফোন ধরল বৃত্ত।
অর্পি সুহানের কথা বললে, বৃত্ত জবাব দিল এখনও কোনো খোজ পায় নি।
অর্পি অস্থির হয়ে পাগলের মত হয়ে গেছে।
বৃত্ত অর্পির সাথে কথা বলা শেষ করে দিয়ে অমিকে ফোন দিল।
বৃত্ত : হ্যালো অমি, কই তুই?
অমি : আমি বাসায় আছি। কেন কোনো দরকার?
বৃত্ত : আমি না সুহানকে খুন করে ফেলেছি! এখন লাশটা কি করবো?
অমি : এ কি করলিরে তুই? সত্যিই সত্যিই বন্ধুকে খুন করে ফেললি।
তারপর অমি বৃত্তকে পরবর্তী নির্দেশনা বলে দিল।
বৃত্ত এখন থানায়! সুহান গুম হয়েছে তার জিডি করতে এসেছে! পুলিশ অনেক খোজাখুজির পর রাত দশটার পর সুহানের লাশটির সন্ধান পেয়ে যায়!
বৃত্তকে পুলিশ ফোন দসুহানের লাশ পোস্টমর্টেমের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অর্পি এখনও অস্থির! বৃত্তকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন দিয়েই যাচ্ছে!
বৃত্ত ফোন ধরেনা।
রাত বারোটা।
আবার ফোন দিল অর্পি।
এবার বৃত্ত ফোন ধরলো।
অনেকটা আশা নিয়ে সুহানের কথা জিজ্ঞাস করলো বৃত্তকে। যা শুনলো সে খবরের জন্য অর্পি প্রস্তুত ছিল। হাত থেকে মোবাইল ছেড়ে দিল।
ঠাস করে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে রইল।
পোস্টমর্টেম শেষ ।
সুহানের লাশ এম্বুলেন্স তোলা হলো। পাশে বৃত্ত বসা ।
সুহানের বাড়ীতে এখনও জানানো হয়নি।
বৃত্ত সুহানের বাড়ীতে আগে একদিন সুহানের সাথে গিয়েছিলো। ঐঠিকানাই পুলিশকে বলল।
পরেরদিন সকাল ১১.০০ টা।
এম্বুলেন্স সুহানের গ্রামে প্রবেশ করছে। রাস্তার পাশে সবমানুষেরা তাকিয়ে আছে। এম্বুলেন্স এদিকে আসছে কারণ কি? কোনো রোগী নাকি লাশ!
গ্রামের একদম শেষ প্রান্তের দিকে এম্বুলেন্স যাচ্ছে।
গ্রামের মানুষেরা সবাই একত্রে বলে উঠল,
হায়হায় এইদিকে তো সুহানের বাড়ী!
তাহলে কি? সুহান....!
না না তা কিভাবে হয়? টগবগে যুবক একটা ছেলে। তার কিছু হলে তো আমরা জানতে পারতাম। তাহলে এম্বুলেন্স কি ভুলে ঐদিকে যাচ্ছে!
গ্রামের মানুষেরা সবাই কৌতুহলী হয়ে এম্বুলেন্সের পিছু নিলো।
সুহানের বাবা ঘরের বারান্দায় বসে আছেন। মেয়ের সাথে গল্প করতেছেন। আর সুহানের মা উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। হঠাৎ এম্বুলেন্সের হরণ শুনে সুহানের মা তাকালেন, আঁতকে উঠলেন।
তার বাড়ীর দিকে আসছে!
এ বাড়ীতে তো আর কোনো ঘর নেই। চিৎকার দিয়ে উঠলেন।
সুহানের বাবা আর তার বোন তাঁকালেন।
এইদিকে এম্বুলেন্স আসে কেন?
সবাই একসাথে উঠানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো। এম্বুলেন্স সামনে এসে দাঁড়ালো। বৃত্ত পুলিশ অফিসার কে সাথে নিয়ে গাড়ী থেকে নেমে আসলো। সুহানের মা বৃত্তকে বললেন, বাবা এম্বুলেন্স আমাদের বাড়ীতে কেনো? বৃত্ত কোনো কথা বলছেনা।
পুলিশ অফিসার তাদের শান্ত থাকতে বললেন , তারপর বললেন, আপনার ছেলে সুহানকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধরে নিয়ে খুন করে ফেলেছে। সুহানের মা ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলেন। অসুস্থ বাবা অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। সবাই তাকে ধরে নিয়ে উঠানের একপাশে শুইয়ে রাখলেন। অনেক মানুষ মাথায় পানি ঢাললেন সুহানের বাবার জ্ঞান ফিরে না !
গ্রামের কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশরা সুহানের লাশ মাটিতে রাখলো। সুহানের গ্রামের মাতব্বর সাহেব সুহানের লাশ বুঝে নিলেন তারপর পুলিশদের কে বিদায় করলেন। সুহানের লাশ মাকে দেখানো হলো। তিনি হাসছেন!
তার যে মস্তিষ্ক আর ঠিক নেই।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল হয়ে গেছেন! ছোট বোনটি সুহানের লাশ দেখে হেসে বলছে ভাইয়া আসছে, এবার আমাকে চকলেট না দিলে যাইতে দিমু না ।
গ্রামের মানুষ সবাই হায়হায় করছে। বৃত্ত একপাশে নিরব হয়ে বসে আছে। ঐদিকে অর্পিরও জ্ঞান ফিরে এসেছে। সুহানকে এক নজর দেখার জন্য সে ছটফট করতে লাগলো। সুহানের কাছে যাওয়ার জন্য মাকে বারবার অনুরোধ করছে ।
অর্পির মা বারবার তাকে বুঝাচ্ছেন। কিন্তু তার মাথায় কিছুই ডুকছেনা। কোন ভালোবাসার বন্ধনে সে আবদ্ধ হয়েছে নিজেও জানে না।
আবার অজ্ঞান হয়ে পড়লো। অর্পির মা পারিবারিক ডাক্তারকে ফোন দিয়ে বাড়ীতে আসতে বললেন।
এদিকে সুহানকে গোসল করানো শেষ । হাসপাতাল থেকে নতুন খবর এলো। সুহানের বাবা অজ্ঞান অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন! তাকে বাড়ীতে আনা হচ্ছে। চারদিকটা যেন আরো অন্ধকার হয়ে উঠলো। সুহানের মা এখনও সেই পাগলামিই করতেছেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now