বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব :৪)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সুহান অর্পির বাসার ঠিকানা বৃত্তকে বলল, সুহানের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃত্ত বাইক চালাচ্ছে। সুহানের মোবাইলে ফোন আসলো, সুহান পকেট থেকে কোনো রকম মোবাইল বের করে দেখলো অর্পির নাম্বার থেকে ফোন আসছে! ফোন ধরে অর্পিকে বললো সে রাস্তায় আছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌছে যাবে! অর্পি ইয়াহু বলে একটা নাচ দিল... অর্পির মা দেখে ফেললেন, অর্পির লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো। মা থাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছে এতো খুশি কেন আমার মামনিটা... কি ব্যাপার বাসা আজকে প্রাসাদের মত লাগছে কারণ কি? কি যে বলনা মা? বাসা প্রতিদিন যেইরকমই থাকে ঐরকমই আছে! তুমি একটু বেশিই দেখছো! আমি বুড়ো হলেও আমার চোখ বুড়ো হয়নি, বুঝলে! "ওলে আমার মা গো" বলে মাকে আদর করে দৌড়ে তার রুমে চলে গেল! একটুকরা কাগজ হাতে নিয়ে পেন্সিল দিয়ে কি যেন লিখতে লাগলো। লিখা শেষ করতেই শুনতে পেল কলিং বেলটা টং করে বেজে উঠলো! অর্পি ভেতরটা আরো বেশি টং করে উঠলো। দৌড় দিল, দরজার দিকে! দরজা খুলতেই দেখলো সুহান দাঁড়িয়ে আছে। নীল শার্ট, কালো প্যান্ট, চোখে চশমা অসাধারণ লাগছে সুহানকে! তাকিয়ে আছে, সুহানের দিকে! চোখ ফেরানোর কোনো উপায়ই নেই। এ কোন আকর্ষণে বলি হলো অর্পি । তা কি কেউ জানে! পাশে বৃত্ত রয়েছে, কিন্তু বৃত্তের দিকে একবারও তাকাচ্ছে না। অথচ সুহানের চাইতে ৩ গুন বেশি সুন্দর বৃত্ত!আরো বেশি স্মার্ট, যেকোনো মেয়ে তার প্রতি আকর্ষিত হবে। সুহান কিছুক্ষণ অর্পির দিকে তাকিয়েই অর্পির চোখের ভাষা বুঝে ফেললো! অর্পি আসলে কি চায়? অর্পির প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লো সুহান! এতো সুন্দর চোখের দৃষ্টি আগে তো খেয়াল করেনি! সুহান চোখ নামিয়ে অর্পিকে বলল , ভেতরে আসবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো? ঘোর কাটলো অর্পির! লজ্জা স্বরে " আসুন " বলে একটু স্বরে দাঁড়ালো। ১৩.ডুয়িং রুমে দুজনকে বসিয়ে মাকে ডাকতে গেল অর্পি। মাকে পাঠিয়ে কাজের মেয়েকে নিয়ে সে আবার রান্নাঘরে ঢুকে পড়লো। অন্তত ১০ টি রান্নার আইটেম করেছে, কিন্তু তারপরও তার কাছে অনেক কম মনে হলো ! নিজের ওপর কিছুটা বিরক্ত হলো সে! লজ্জা পাবে নাতো! খাবার গুলো কি সুহানের ভালো লাগবে! এক এক করে সবকিছু নিয়ে খাওয়ার টেবিলে রাখল। এইদিকে অর্পির মা এসে সুহানদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। এখন সুহানের চোখও অর্পির দিকে , সাথে বৃত্ত তো আছেই! অর্পির মায়ের অনুরোধে তারা খাওয়া শুরু করলো । খাবার মুখ দিয়েই সুহান অর্পির মাকে বললো, আন্টি খাবারগুলো খুবই সুস্বাদু হয়েছে, কে রান্না করেছেন? অর্পি পাশে ছিল, ভেতরে ভেতরে খুশিতে চাঙ্গা হয়ে উঠছে । অর্পির মা বললেন, না আমি রান্না করিনি, অর্পি রান্না করেছে। খুবই ভালো হইছে! tnx আপনাকে! অর্পি খুশিতে চলে গেল! এরই মধ্যে সুহান ও বৃত্তের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে! বৃত্ত চুপচাপ বসে আছে। সুহান অর্পির মায়ের সাথে বিভিন্ন গল্প করে হাসাহাসিতে মেতে উঠছে! বৃত্তের মোবাইলে ফোন আসলো! তার মা ফোন করে তাকে যেতে বলেছেন। বৃত্ত সুহানকে যাওয়ার কথা বললো, সুহানের মন কিছুটা খারাপ হলো কিন্তু সে প্রকাশ করলো না। হাসি মুখে এড়িয়ে অর্পির মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিল। বৃত্তের মন যে ভালো তা কিন্তু নয়, সেও এতো তাড়াতাড়ী যেতে চাইছেনা, কিন্তু মায়ের আদেশ যেতে তো হবেই। এইদুজনকেই বাদ দিয়ে অর্পির মন আরো বেশি খারাপ, সুহানকে বিদায় দিতে তার মন মোটেও সায় দিচ্ছে না। তার কান্না চলে আসতেছে,, সুহান অর্পির দিকে চেয়েই বুঝতে পারলো। অর্পি সুহানও বৃত্তকে দুটি ছোট ছোট খাবারের পার্সেল দিল। তারপর সুহান ও বৃত্তকে বিদায় জানালো। অর্পি ঘরে গিয়ে মনমরা হয়ে বসে আছে। মা আসলেন, বুঝে গেলেন মেয়ের কাহিনীটা! ১৪.কি হলো মামনি, জামাইবাবুকে বিদায় করে দিয়ে মনমরা হয়ে বসে আছো যে! অর্পি মায়ের মুখের কথা শোনে শুধু অবাকই হলো না, জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়ে গেল। তার মা আবার হেসে বললেন, সমস্যা নেই, ছেলেটি আমার খুব পছন্দ হইছে বলে হেসে হেসে চলে আসলেন তিনি। অর্পির খুশি দেখে কে? নাচ শুরু করে দিল। প্রতিটি মেয়ে প্রেমে পড়ার পর তার ভেতরে যতটুকু অনুভব হয় সবটুকুই তার মধ্যেই হচ্ছে। বৃত্ত ও সুহান ইতিমধ্যেই যার যার নিজ ঠিকানায় চলে আসছে। বৃত্ত এসে মায়ের সাথে দেখা করে রুমে চলে গেল। পার্সেল খুলে দেখলো কিছু খাবার দেয়া আছে । অনেক খুশি হয়ে খাবার গুলো ফ্রিজের মধ্যে রেখে দিল। তার ভাবনা পরে এসে খাবে । সুহান বাসায় গিয়ে পার্সেলটি রেখে ফ্রেশ হওয়ার জন্য চলে গেল। ফ্রেশ হয়ে এসে প্রতিদিনের মতো লিখতে বসলো। আজ আর লিখতে পারছেনা। অর্পির সেই স্বপ্ন জড়ানো চোখ দুটি, হাসি মাখা ঠোট জোড়া ভেসে আসছে তার সামনে! একটি আকর্ষণের মধ্যেই কি প্রেমে পড়ে গেল! শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো। হঠাৎ করে মনে আসলো, অর্পি তাকে একটি পার্সেল দিয়েছে! ওইটা কিসের একটু দেখে নিতে দৌড়ে বিছানা থেকে নেমে বাটিটা খুলতে লাগলো। খুলেই বিরিয়ানির অসাধারণ ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে গেল। খাওয়া শুরু করতে আর দেরি হলোনা! খেতে খেতে হঠাৎ খাবারের মধ্যে একটি পলিথিনের টুকরা দেখতে পেল। আগ্রহ নিয়ে পলিথিন হাতে নিল। পলিথিনের ভেতরে একটা কাগজ! আরও বেশি কৌতুহল নিয়ে কাগজটি খুলতে লাগলো। কাগজটিতে লেখা, " প্রিয় কাশফুল, বাতাসের গতিবেগে উড়ে উড়ে তুমি নিশ্চয় খুবই আনন্দে আছো! তোমার কোলাহলে মুগ্ধ হয়ে আমি তোমার জীবনে অর্ধাঙ্গীনি হতে চাই। বিশ্বাস কর, প্রমিস করতে পারি, তোমাকে অনেক ভালোবাসবো? পারবে কি আমায় আপন করে নিতে.. অপেক্ষায় থাকলাম। স্বপ্ন দেখা বালিকা সুহানের বুঝতে আর কোনো দ্বিধাবোধ নেই, এই চিঠিটা অর্পিই তাকে দিয়েছে! অর্পি অনেক চিন্তাগ্রস্থ হয়ে বসে আছে, ভাবছে.... সুহান কি তাকে মেনে নেবে?? সে চিঠিটা পড়ে কি ভাববে? ধুর কেন যে দিলাম, এখন যদি কথা বলা বন্ধ করে দেয়। চোখের পাশে দুফোটা পানি চলে আসলো! ফোনের রিং বেজে উঠছে, অর্পির শরীর কেঁপে উঠলো! মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে সুহানের নাম্বার! এখন হাতও কাঁপছে! ফোন ধরার পর সুহান যদি বকা দেয়! আর যদি না করে দেয়, তাহলে! ফোন রিসিভ করে ফেললো, ফোন কানে নিতেই ভয় পাচ্ছে! কানের কাছে ফোন নিতেই শুনতে পেল সুহান হ্যালো বললো। তাও অন্যরকম ভাবে! ভয় পেয়ে কান্না করে দিল! সুহান : এই আপনি কাঁদছেন কেনো? অর্পি : বিশ্বাস করেন আমি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসি তাই এই চিঠিটা দিয়েছি। প্লিজ আমাকে বকা দিবেন না, আমি কিন্তু নিতে পারবো না । সুহান : তাহলে কি দিলে নিতে পারবা??? অর্পি : কিছুই নিতে পারবো না...! সুহান : ভালোবাসা দিলেও নিতে পারবা না!! অর্পি : কি বললে আরেকবার বলেন প্লিজ! অর্পি অনেক বেশি হাঁপাচ্ছে! তার মনে হচ্ছে এই মূহুর্তেই এভারেস্ট জয় করে নিচ্ছে! আর একটু বাকি!! সুহান আবার বললো, ভালোবাসা দিলেও কি নিতে পারবেনা?? অর্পি : অবশ্যই নিতে পারবো! প্লিজ দিয়ে দিন না....এতোটা আকুল বললো, সুহান কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে তারপর বলল,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব :৪)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now