বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ১০)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X গ্রামের সকল মানুষ এসে ভিড় জমালেন। বৃত্ত এসব নিজের চোখের সামনে দেখছে। কি পাষন্ড কাজই না করলো। ঐদিকে সুহানের বাবাকে এনে তার পাশে শুইয়ে রাখলেন। বাবুনি এসে বাবাকে ডাকছে। এবার সে বুঝতে পারলো তার বাবা আর ভাই দুনিয়াতেই নেই। সাদা কাপড় দিয়ে দুজনকেই মোড়ানো! হাউমাউ করে অবুঝ শিশুটি কান্না করছে সবাই তাকিয়ে দেখছেন! কারো কিছু বলার নাই। পাশের মানুষেরা সবাই ঐ খুনির বিচার উপরওয়ালা যেন করেন তার প্রার্থনা করছেন। বৃত্ত তো সবকিছু কান দিয়ে শুনছে। বিকাল ৪.০০। সুহান আর তার বাবাকে জানাজার উদ্দেশ্যে ঈদগাহ মাঠে নেয়া হচ্ছে । বৃত্ত সাথে আছে।জানাজার নামাজে হাজারো মানুষের ঢল। সবারই কণ্ঠে হায় হায় একি হলো! বাঁপ আর ছেলের একসাথে মৃত্যু! সবারই চোখের কোন একফুটো জলে আবদ্ধ। জানাজা শেষ! দুজনকেই পাশাপাশি দুই কবরে শায়িত করা হলো। বৃত্ত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে। মাটি দেয়া শেষ সবাই চলে আসলেন। বৃত্ত এবার শুধু পেছনের দিকে তাকাচ্ছে। এবার তার চোখেও পানি!!!! একটা মেয়ের মোহে পড়ে একি করলো!!! চুপিসারে বাড়ীতে চলে আসলো। সুহানের ছোট বোনটিকে একটু আদর করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো। গাড়ীতে বসে আছে বৃত্ত। হঠাৎ মনে হলো সুহান একটা ডায়েরি দিয়েছিল। বের করলো ডায়েরিটা। পড়তে লাগলো প্রথম থেকেই.. " কলিজার একটা অংশ, প্রাণপ্রিয় আমার একমাত্র বন্ধু বৃত্ত। পৃথিবীতে মা-বাবা ও আমার বোন বাবুনির পরই তোর স্থান। এতো এতো ভালোবাসি তোকে। প্রতিদিন তোকে না দেখলে আমার ভালোই লাগেনা। সেটা তো তুই ভালই জানিস। তোকে আমার বেস্টফ্রেন্ড হিসেবে পেয়ে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি।তোর ভালোবাসা মাঝে এই ঢাকা শহরে নিজের আলো খোজে পাই। বন্ধ আমার.... মনে আছে, সেই ০৫-০৫-২০১৫ সালের কথা... সবেমাত্র ২ মাস হইছে আমাদের বন্ধুত্বের! এরই মধ্যে আমরা দুজনই খুবই ঘনিষ্ট। আমি তোকে অনেক অনুরোধ করে আমার বাড়ীতে নিয়ে গেলাম। আমাদের গ্রাম তোর অনেক পছন্দ হলো। একজন শহুরে ছেলে এতো সহজে গ্রামের পরিবেশ মেনে নিবে আমার জানা ছিল না। মায়ের হাতের বানানো পিঠা গুলো খেয়ে মাকে জড়িয়ে বলতি মা আপনি এতো ভালো পিঠা তৈরি করেন? আপনার হাতের বানানো পিঠার স্বাদ অসাধারণ। আমার মাকে কখনও আন্টি বলে ডাকোস নি। সবসময় মা বলেই ডাকতি! মা তোকে পাশে বসিয়ে মুখে তুলে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন আর আমি দেখছিলাম। মাকে বললাম, কি গো আমি তোমার ছেলে নাকি বৃত্ত তোমার ছেলে? আমাকে মুখে তুলে একদিনও খাইয়ে দাও না আর বৃত্তকে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছো। তখন মা মৃদ হাসি দিলেও তুই বলে উঠলি, উনি আমার মা তাই আমাকে খাওয়াচ্ছেন । আমি চেয়েছিলাম তোর দিকে। এই সময় তোকে অনেক খুশিই দেখলাম । এটাই তো চেয়েছিলাম আমি। আমার ছোট বোনটি আমাকে ছেড়ে তোর সাথে খেলা করছে, আমি থাকিয়ে আছি। এইভাবে একসপ্তাহ থাকলাম বাড়ীতে। আসার সময় কি যে কান্না করছিলে , মনে হচ্ছিল একটা শিশু কান্না করছে। মা ও চোখের পানি ফেলে তোর কপালে একটা আর আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে আমাদের বিদায় করলেন। তুই সারাটা পথ কেঁদে কেঁদে আসছিলে । তারপর দুজনের ব্যস্থতার মাঝে আমি তোকে নিয়ে গ্রামে যেতে পারিনি । যাক আর ঐদিকে গিয়ে লাভ নেই। আজকের কথায় আসি, আজ আমার মনটা অনেক ভালো। একমনে টিউশনি করাচ্ছি। ঠিক তখনই ফোন দিয়ে আমাকে বললি, আমাকে আর অর্পিকে ট্রিট দিবি । আমার খুশি দেখে কে? বৃত্ত যে কত্ত ভালো বন্ধু তা বুক ফুলিয়ে অর্পিকে বলে দিতে পারবো।ইয়াউ তুই আমার দামটা বাড়িয়ে দিলি। এখন শোন আরেকটি কথা, আমারে ট্রিট দেয়ার পর আমার একটা কথা রাখতে হবে। না রাখলে খুবই কষ্ট পাবো। জানিস মা আমাকে খুব করে অনুরোধ করে বললেন, তোকে এবার বাড়ীতে নিয়ে যেতে হবে। প্লিজ এবার আর না, করিস না। মা তোকে অনেক মিস করছে। বাবুনি তো "লাল ভাইয়া, লাল ভাইয়া " পাগল হয়ে যাচ্ছে। এবার তোকে কিন্তু যেতেই হবে মনে রাখিস। তুই হয়তো ভাববি,আমি তোকে এই কথাগুলো সরাসরি বললেই তো পারতাম। হ্যা তা ঠিক, কিন্তু বলিনি কারণ ডায়েরি মতো এতো গুছিয়ে আমি বলতে পারতাম না। তাই লিখে দিলাম। আর লিখছি না..... বাই বাই " বৃত্তের দুচোখ পানিতে ভরে টলমল করছে। বারবার তার কৃতকর্মের জন্য নিজেকে দোষী করছে । একি করলো সে! গাড়ী এসে বাস স্ট্যান্ডে থামলো। বৃত্ত নেমে আরেকটা গাড়ীতে উঠে রওনা হলো বাসার দিকে! আজ বড়ই মিস করছে বন্ধুটিকে! সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগছে সুহানের বাবাও মায়ের জন্য। যেদিন বৃত্ত প্রথম গিয়েছিল সুহানের বাবা কত কিছু এনে তাকে খাওয়াচ্ছিলেন। পুকুর থেকে নিজে মাছ ধরে রান্না করে খাইয়ে দিয়েছিলেন!! আর আজ এ কি করলো সে!! সুহানের মা সুহানকে মুখে তুলে খাইয়ে না দিয়ে তাকে খাইয়ে দিয়েছিলেন তার পুরুষ্কারস্বরুপ তারা কি ছেলের লাশ চেয়েছিলেন!! নিষ্টুর বৃত্তের চোখে এখন শুধুই পানি।। আজ সুহান মৃত্যুর ৩য় দিন। অর্পি এই তিনদিনে নিজেকে কিছুটা হলেও শক্ত করে তোলেছে । বৃত্তের মনে আর সুহানের ভাবনা নেই। সে আবার অর্পিতে মগ্ন হয়ে গেছে। দেরি না করে অর্পিকে বিয়ে করতে চায় একথাটি মাকে জানালো। বৃত্তের মা প্রস্তাব পাঠালেন অর্পির মায়ের কাছে....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ১০)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now