বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(৩য় পর্ব)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বৃত্ত : hi কেমন আছেন? অর্পি : জ্বি আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? বৃত্ত : আমিও ভালো আছি। অর্পি সুহানের দিকে হাঁটা শুরু করলো, বৃত্ত ও সাথে আছে! অনেক চেষ্টা করতেছে অর্পির সাথে আরো কথা বলতে কিন্তু কেনো জানি পারছেনা! অর্পি সুহানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো, সুহানের এই দিকে কোনো মনঃসংযোগ নেই, সে শুধুই লেখালেখিতে মগ্ন ! বাধ্য হয়ে অর্পি সুহানকে হ্যালো বলে ডাক দিল, তবুও মানুষটার কানে গেল না। একমনে কি যেন লিখছেই! এই সুযোগে বৃত্ত অর্পি সাথে কথা বলা চান্স পেয়ে গেল! অর্পিকে বলল, সুহান গল্প লিখছে, এখন তাকে ডাক দিলে শুনবে না! ধাক্কা মারতে হবে! এই বলে বৃত্ত সুহানকে ধাক্কা মারলো! সুহান কিছুটা ভীত হয়ে তাদের দিকে তাকালে অর্পি হেসে দেয়! বৃত্ত আবারও কাঁটা পড়ে অর্পির মায়াজালে! আনমনা হয়ে তাকিয়ে থাকে অর্পির দিকে! সুহান অর্পিকে দেখে কিছুটা অবাক হয়েছে, এখানে সে আসলো কেমনে! এরই মধ্যে অর্পি বলে উঠলো, কেমন আছেন আপনি? সুহান : আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? অর্পি : আমিও ভালো আছি। সুহান : আন্টির কেমন অবস্থা! উনি কি আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েছেন? অর্পি : জ্বি, মা এখন অনেক সুস্থ! সবই তো আপনার দয়ায় হয়েছে! সুহান : কি যে বলেন? মানুষ হিসেবে একটা কর্তব্য পালন করলাম, এই আর কি? আচ্ছা আপনি এখানে কিভাবে এলেন? আর জানলেন কেমনে যে আমি এখানে আছি? অর্পি : আমি তো এই ভার্সিটিতেই পড়ালেখা করি। গেটে যখন প্রবেশ করি ঠিক তখনই আপনাকে দেখতে পেলাম, তাই চলে আসলাম এখানে! সুহান : ওহ আচ্ছা ! আপনি এই ভার্সিটিতে পড়ালেখা করেন? অর্পি : অবাক হলেন মনে হয়! আমি কি এই ভার্সিটিতে পড়তে পারিনা? অবশ্যই পারেন! বলে সুহান একটা হাসি দিল! বৃত্তের মত হয়ে গেল অর্পির অবস্থা! অর্পির ইচ্ছে হচ্ছে এখনই সুহানকে জড়িয়ে ধরে বলতে আমি তোমাকে ভালোবাসি! কিন্তু পারছেনা! সে ভাবছে, যদি এখনই সুহানকে বলে দেই সে বিশ্বাস না করার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাছাড়া লেখক মানুষ কথাটা কিভাবে নিবে সেটা কে জানে? আর সুহানের সামনে থাকতে পারছেনা। যদি আর কিছুক্ষণ সুহানের সামনে থাকে তাহলে হয়তো জড়িয়ে ধরেই ফেলবে! আসি বলে সুহানের সামনে থেকে চলে আসলো।অর্পি চলে যাওয়াতে বৃত্তের ঘোর কাঁটলো! সুহানের কাছ থেকে বৃত্তও উঠে আসলো, অর্পির পিছু নিল। অর্পি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দিকে যাচ্ছে, তারমানে অর্পি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করে। অর্পি ক্লাসে ডুকে পড়লো, বৃত্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে অর্পির অপেক্ষা করতে লাগলো। অর্পি ক্লাসের ভেতরে প্রবেশ করলো, স্যার সংবিধানের পাঠ পড়াচ্ছেন, আর অর্পি নিজের জীবনের নতুন সংবিধান কষছে, চিন্তাবিদ হয়ে বসে আছে! মাঝে মাঝে উকিলের মত পেঁচাচ্ছে, কিভাবে সুহানকে আয়ত্বে আনা যায়। কোন বুদ্ধি প্রয়োগ করলে আমার ভালোবাসার মধ্যমনি হবে। সারাজীবনের যতটুকু ভালোবাসা আমার মধ্যে বন্দি করে রেখেছি, সব উজার করেই তাকে ভালোবাসবো। বান্ধবীর ধাক্কা খেয়ে নিজের হুশ ফিরে পেল, কল্পনা জগতকে সামান্য ছাড় দিয়ে বাস্তবকে গ্রহণ করলো। বের হয়ে এসে সোজা বাসার দিকে রওনা হলো। বৃত্ত তার পিছু আসছে, অর্পি পেছনের দিকে তাকাতেই বুঝে ফেললো, বৃত্ত তার কাছে কিছু একটা চায়! থামলো অর্পি! ডাক দিল বৃত্তকে! বৃত্ত কিছুটা ভীত হয়ে তার দিকে আসছে! কাছে আসার পর বৃত্তকে জিজ্ঞাসা করলো, "কোনো দরকার" বৃত্ত সংকুচিত বোধ করে বললো 'না কিছু না। আচ্ছা বলে অর্পি হাঁটা শুরু করলো। গেটের পাশে গিয়ে আবার তাকালো সুহানের দিকে, দেখে এখনও ওই একই জায়গাতে বসে গল্প লিখছে! এই কোন আজব মানুষরে এক জায়গাতে এতোক্ষণ কেউ বসে থাকে! এই মানুষটারে নিয়া আমি সারাজীবন কিভাবে থাকবো? অর্পি এই কথাটি মনে মনে ভাবলো আর একটা রাজ্যজয়ী হাসি দিয়ে গেঁট পার হলো। বাসা গিয়ে মাকে খাইয়ে দিলো, তারপর নিজের খেয়ে ধেয়ে টেলিভিশন দেখতে বসলো! ভালো লাগছেনা কিছু, ফোন দিল সুহানকে। সুহান ফোন ধরলো, যখনই হ্যালো বললো, সুহানের কন্ঠের মায়াজালে আবার আবদ্ধ হয়ে কিছুক্ষন স্থব্ধ হয়ে বসে থাকলো, তারপর দিত্বীয়বার হ্যালো বলার পর অর্পি বললো, কেমন আছেন? সুহান : আমি সবসময়ই ভালো থাকি এখনও ভালো আছি। অর্পি : হ্যা, ভালো থাকারই কথা। যেসব মানুষ সবার বিপদে এগিয়ে আসে তারা সবসময়ই ভালো থাকে! সুহান : বিপদে এগিয়ে মানুষের কর্তব্য, তাই আমি এগিয়ে আসি। এটা বড় কোনো বিষয় না। অর্পি : কে বলছে বড় কোনো বিষয় না, অবশ্যই অনেক বড় বিষয়! সুহান : আচ্ছা যাইহোক, এখন বলেন আন্টির খবর কি? অর্পি : ভালো আছেন মা, আপনি প্লিজ একদিন আসেন না আমাদের বাসাতে। সুহান : সময় পেলে আসবো! অর্পি : আপনার সময় কখনও হবে না, সেটা আমি জানি। সারাদিন লেখালেখিতে ব্যস্ত থাকলে সময় পাবেন কিভাবে? মানুষ যে আপনার জন্য অপেক্ষা তার কি কোনো খেয়াল রাখেন? সুহান : অপেক্ষা!!? অর্পি : না মানে আপনি মাকে দেখতে কোনদিন আসবেন? তারজন্য তো অপেক্ষা করছি তাই না। সুহান : আচ্ছা ঠিক আছে, অপেক্ষা করার দরকার নাই। আমি শীঘ্রই আসবো! অর্পি : কাল তো শুক্রবার! প্লিজ কাল চলে আসেন না। প্লিজ না করবেন না। না করলে খুবই কষ্ট পাব! সুহান : আচ্ছা ঠিক আছে কাল সকালে আসবো। তারপর অর্পি ফোন রেখে দিল । খুশিতে নাচ শুরু করে দিল। তার বাসায় তার জীবনের প্রতিকৃত রাজকুমার কালই প্রথম আসবে, কতই খুশি সে! কি করবে? কি রাঁধবে? তা নিয়ে মহাচিন্তায় পড়ে গেল। ঘর গুলো এমনেই অনেক সুন্দর করে সাজানো তারপরও আরও সুন্দর করে সাজাতে শুরু করলো। এভাবেই সারারাত ঘুমাতে পারেনি । সকাল ১০ টা। সুহান বৃত্তকে ফোন দিয়ে বললো, তাড়াতাড়ী তৈরি হয়ে গাজী মিয়ার দোকানের পাশে দাঁড়াতে, তারপর দুজন মিলে অর্পিদের বাসায় যাবে। বৃত্ত তো মহা খুশি, তাড়াতাড়ী কাপড় চোপড় পরে রেডি হয়ে গেল! বের হলো মোটরবাইক নিয়ে। গাজী মিয়ার দোকানে গিয়ে দেখলো সুহান দাঁড়িয়ে, সুহানকে বাইকের ওপর ওঠতে বলল। সুহান বাইকে উঠলে দুজন অর্পির বাড়ীর দিকে রওনা হলো.... (wait for next part)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(৩য় পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now