বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৮)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বৃত্ত এসে তাদেরকে বাঁধা দিলে, বৃত্তকেও তারা ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। অর্পিকে ধাক্কা মারার কারণে সে পড়ে যায়। পাশে একটা রিকশা দাঁড় করানো ছিল। অর্পির মাথাটা গিয়ে রিকশার চাকায় লাগে। মাথাটা ফেঁটে যায়। অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়। অনর্গল রক্ত বের হচ্ছে। বৃত্ত দাঁড়িয়ে অর্পিকে কোলে তুলে নিল। তারপর মোটরসাইকেলে করে অর্পিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে এলো অর্পির। পাশে বৃত্ত বসে আছে। অর্পি বৃত্তকে বলল, সুহান কোথায়? বৃত্ত অর্পিকে বলে, এখনও কোনো খোজ পায়নি। অর্পি হাসপাতালের মাঝে চিৎকার দিয়ে উঠলো। চারদিকে মানুষ জড়ো হয়ে আছে। সবারই চোখ অর্পির দিকে! এতো সুন্দর একটা মেয়ে এরকম করছে কেনো? বৃত্ত জোর করে অর্পিকে একটা গাড়ীতে তুলল। শান্তনা দিয়ে অর্পিকে বলল, সন্ধ্যার মধ্যেই যেকোনো কিছুর বিনিময়ে সুহানকে তার সামনে এনে দিবে। অর্পি কিছুটা শান্ত হলো। চেঁচামেচি বন্ধ করলেও এখনও কান্না থামছেনা। নিজের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসছে! কোনোভাবেই নিজেকে শক্ত করতে পারছেনা। অর্পিকে বাসায় পৌছিয়ে দিয়ে বৃত্ত চলে আসলো। সুহানকে গাড়ী থেকে নামিয়ে একটা অন্ধকার ঘরে নেওয়া হলো। মুখে কাপড় ডুকানো তাই সে কোনো কিছু বলতে পারছেনা । অঝোরে চোখের পানি ছেড়ে যাচ্ছে। একটা চেয়ারের সাথে সুহানকে বেঁধে রাখা হলো। এইদিকে অর্পি কাঁদতে কাঁদতে হয়ে গেল প্রায় অজ্ঞানের মত! একসময় তার চোখে ঘুম চলে আসলে একদম নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সুহানকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল, হঠাৎ ঘরটিতে আলো জ্বলে উঠলো । সুহানের মাথা নিচু ছিল, সে মাথা উচু করে সামনের দিকে তাকালো! একজন মানুষ তার দিকে আসছে! ভয় পেয়ে গেল সুহান! মানুষটি আরও সামনে চলে আসলো। এবার সে স্পষ্ট দেখতে পেল । সানন্দে উঠল! এই তো বৃত্ত! বন্ধুকে উদ্ধার করতে এখানে চলে আসছে! সুহানের মনে আর ভয় নেই! বৃত্ত ধীরে ধীরে সামনে এসে একটা চেয়ারে বসলো। সুহানের একদম সম্মুখে! সুহানের মুখের বাঁধ খুলে দেয়া হলো। বৃত্তকে সামনে দেখে সুহান আবেগে কান্না শুরু করে দিল। বৃত্তকে করজোড়ে বলল, এখান থেকে বের করে নিতে। বৃত্ত হেসে বলল, যাবি কোনো সমস্যা নেই,তবে এভাবে নয়! লাশ হয়ে! একটু অপেক্ষা কর! সুহান : মানে....? বৃত্ত : মানে সহজ, এই গুদামে যারা আসে তারা কখনও সুস্থভাবে যেতে পারেনা। সুহান : কি বলছিস তুই? বৃত্ত : যা বলছি তাই....! সুহান : বৃত্ত বন্ধু আমার, তুই আমাকে বাঁচা ! আমি বাঁচতে চাই। আমি তোর পায়ে পড়ি। যেকোনো ভাবে তুই আমাকে এখান থেকে নিয়ে চল। বৃত্ত হাহাহা করে হেসে দিয়ে একগ্লাস মদ পান করলো। পকেট থেকে রিভালবার বের করে সুহানের সামনে রাখলে সুহান আতঁকে উঠে ! বৃত্ত তোর হাতে রিভালবার কেন? তুই এটা কই পাইছোস? বৃত্ত : চায়না থেকে আমদানি করা, তোকে পরপারে পাঠাবো বলে এটা নিয়ে আসছি! সুহানের আর বুঝতে সমস্যা হলোনা। স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলো বৃত্ত তাকে মেরে ফেলতে চায়। সুহানের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। যে বন্ধুটিকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসলো সে কিনা আজকে তাকে মেরে ফেলতে চায়! কিন্তু কেনো মারবে? তার দোষটা কি? সুহান কাতর হয়ে বলল, আমি তোর কাছে কি এমন দোষ করলাম যে তুই আমাকে মেরে ফেলতে চাস..! বৃত্ত ক্ষ্রিপ্ত চোখে বলল, দোস্তরে তুই কোনো দোষ করছ নাই, দোষটা করেছি আমি! অর্পিকে ভালবাসছি। কিন্তু তুই সালা অর্পিকে ছোবল মেরে আমার সামনে থেকে নিয়ে গেছোস! এইটা কি ঠিক করছোস? ঠিক করস নাই! এখন আমি যদি অর্পিকে চাই তারপরও পাবোনা, কারণ সে তোরে ভালোবাসে তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোকে মেরে আমি অর্পিকে বিয়ে করবো!!! সুহান হা করে বৃত্তের মুখের থাকিয়ে আছে! চোখ থেকে অনর্গল পানি পড়ছে।বৃত্তকে কি বলবে? কিছুই তো বলার নেই! যে বন্ধু একটা মেয়ের জন্য এতো দিনের বন্ধুত্বকে এক নিমিষেই শেষ করে দিচ্ছে, তার কাছে কোনো কিছু বলার থাকে না। তারপরও ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে বৃত্তকে বলল, দেখ বৃত্ত, তুই আমাকে কখনও বলিস নি অর্পিকে ভালোবাসিস! তাহলে একারণে কেনো মেরে ফেলতে চাস...?(সুহান) তোকে বাঁচিয়ে রাখলে অর্পিকে কখনই পাবো না, তাই....!(বৃত্ত) শোন বৃত্ত, আমাকে ছেড়ে দেয়। আমি তোর কাছে প্রমিস করছি, অর্পিকে তোর কাছে এনে দিয়ে আমি গ্রামে চলে যাবো। আর কখনও এই শহরে আসবো না। জানিসই তো আমার মা বাবা অনেক অসুস্থ। আমি ছাড়া তাদের দেখাশোনা করার আর কেউ নেই। যদি আমি মরে যাই, তাদের কি হবে? প্লিজ বন্ধু আমাকে ছেড়ে দেয়। আমি তোর পায়ে পড়ি। (সুহান) আমি এতো বোকা না। তোকে এখান থেকে ছেড়ে দিলে তুই সবকিছু অর্পিকে বলে দিবি, অর্পি তখন আমাকে ভালোবাসা তো দুরে থাক আমার দিকে ফিরেও তাকাবে না! (বৃত্ত) আমি কিছুই বলবো তুই আমাকে ছেড়ে দেয় (সুহান) আচ্ছা ছেড়ে দিলাম বলেই বৃত্ত রিভালবার হাতে নিয়ে সুহানের বুকের গুলি ছেড়ে দিল। গুলির আওয়াজে চারদিক কেঁদে উঠলো। পেছনের বাঁধন খুলে দেয়া হলো। সুহান লুটিয়ে পড়লো মাটিতে! একদৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে বৃত্তের দিকে! অনর্গল রক্ত বেরিয়ে পড়ছে বুক থেকে! সুহান ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিয়ে ছোট সেই ডায়েরিটা বের করে বৃত্তকে দিয়ে বলল, অন্তত একবার হলেও এটা পড়তে! বৃত্ত ক্রোধ মুখে ডায়েরিটা নিয়ে প্যান্টের পকেটে রাখল। সুহান এবার সর্বশেষ একটা রিকোয়েস্ট করল, একটাবার সে মাথাটা নিচু করে সুহানের কাছাকাছি নিতে! বৃত্ত মাথাটা নিচু করলে সুহান বৃত্তকে দুইহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো। প্রাণপ্রিয় বন্ধুটির সাথে এভাবেই তো সারাজীবন থাকতে চেয়েছিল। বৃত্তকে ছাড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(শেষ পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব : ১২)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব : ১১)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ১০)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ৯)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৮)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৭)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৬)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব :৫)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব :৪)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(৩য় পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (২য় পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব-১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now