বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৭)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মদ খেতে খেতে বৃত্ত কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো তার কোনো খেয়াল নেই! সকাল ৭টা। সুহানের আজকে টিউশনির ক্লাস রয়েছে! সামান্য নাস্তা খেয়ে বের হলো । যে বাসাতে টিউশনি করায় ঐ বাসাটি কাছে হওয়ায় যেতে বেশি সময় লাগলো না। ১৫ মিনিটেই পৌঁছে গেল। এদিকে বৃত্ত জেগে উঠে প্লান অনুযায়ী সবকিছুর প্রস্তুতি নিতে থাকে। সবকিছু ঠিকটাক করে ফোন দিল সুহানকে! একদম স্বাভাবিকভাবে সুহানকে জিজ্ঞাসা করলো, সুহান তুই কোথায়? সুহান যথারীতি টিউশনির কথা বললে বৃত্ত তাকে বলল,টিউশনির পর অর্পিকে সাথে নিয়ে দেখা করতে ! এও বলে যে আজকে তাকে আর অর্পিকে ট্রিট দিবে! সুহান অনেক খুশি । বৃত্তের প্রস্তাবে রাজি হয়। সুহান ফোন কেঁটে সানন্দে টিউশনি করাতে থাকে। বৃত্ত হাহা করে মীর জাফরের মত হাসতে শুরু করলো! আর মনে মনে বলল, হায়রে বোকা বন্ধু আমার তোকে কোন ট্রিট দিমু সেটা এখনও তোর মাথায় আসেনি। আরো কিছুক্ষণ পর সেটা ভালো করে বুঝবি! আবার হাহাহা করে হাসতে লাগলো! সুহান টিউশনির মাঝখানে অর্পিকে ফোন দিল। অর্পি ফোন ধরার সাথে সাথে সুহান বৃত্তের কথাটি অর্পিকে বলল। অর্পিও সানন্দে রাজি হয়ে গেল। অর্পি ধীরে ধীরে সাঁজা আরম্ভ করলো । সুহানেরও টিউশনি শেষ! বের হয়ে সোজা বাসায় চলে আসলো। আজ প্রাণের প্রিয় দোস্ত প্রেমিকা সহ তাকে ট্রিট দিবে একটু ভালো করে না সাজলে কি হয়? তাড়াতাড়ী গোসল করতে চলে গেল। তারপর এসে সবচেয়ে ভালো নীল পাঞ্জাবীটা বের করলো। ভালো করে সারা শরীরে বডিস্প্রে করে পাঞ্জাবীটা পড়ে, সাদা রঙ্গের একটা প্যান্ট পরলো। তারপর চুলগুলোতে সামান্য জেল লাগিয়ে অনেক স্মার্ট ভাবে বের হলো। কয়েকদিন আগে একটা ডায়েরী লিখেছিল ওইটা পাঞ্জাবির পকেটে রাখল, ডায়েরীটা ছোট ছিল তাই পাঞ্জাবির পকেটে রাখতে কোনো সমস্যা হলো না। ধীরে ধীরে পা ফেলে দরজারকাছে আসলো। দরজা থেকে বের হতেই হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল! তখনই তার মনে পড়লো, মা বলতেন, কখনও দরজার কিনারায় হোঁচট খেয়ে পড়লে অনেক বড় বিপদ আসে! তাই ঐদিন আর বাসা থেকে না বের হয়ে বাসায় থাকাটা শ্রেয়! সুহান কিছুটা পিছুটান দিল। কিন্তু বন্ধুত্বের অটুট বন্ধনের কাছে সে ব্যর্থ হলো। সুহান না যাওয়াটাকে অপরাধীর মতো ভাবলো। এই অচেনা শহরে এই বন্ধুটিই তার সব! যদি বন্ধুর এই কথাটি না রাখে তাহলে সে অনেক কষ্ট পাবে। আর এই কষ্টটা সুহান কখনও মেনে নিতে পারবে না । হেঁটে হেঁটে সামনের দিকে এগোতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। আসার সময় কতই না কান্না করছিলেন। বারবার তার কাছে বলতেন, বাবা কিভাবে একা অচেনা এক শহরে থাকবে? কিভাবে খাবে? সুহান মাকে বিভিন্ন ভাবে শান্তনা দিত । এসব কথা বলার পর সে মাকে বলতো,মা আমার কোনো সমস্যা হবে না, আমি এমনিতে সেখানে ভালোভাবে থাকবো। আর ভালো একটা চাকরি পেয়ে গেলেই তোমাদেরকেও সেখানে নিয়ে যাবো। আমার বাবার অসুখ আর থাকবে না। অনেক ভালো ডাক্তার দ্বারা বাবার চিকিৎসা করাবো। এসব ভেবে ভেবে সুহান দুচোখ পানিতে ভরিয়ে দিল । আজ মাকে আর অসুস্থ বাবাকে খুবই দেখতে মন চাচ্ছে। আমার ছোট বাবুনি বোনটা মনে হয় কতই না ভাইয়া বলে হাহাকার হয়ে খুজছে! এখন কে আমার বোনটাকে চকলেট এনে দিবে? হয়তো পথের ধারে এখনও আগের মত দাঁড়িয়ে আছে, আর ভাবছে ভাইয়া কখন এসে আমাকে চকলেট দিবে! অঝোরে চোখ থেকে পানি পড়ছে। এই কয়েক মিনিটে এইসব ভেবে ভেবে সুহানের মনটা কেমন জানি হয়ে গেল। চোখের পানি টিস্যু দিয়ে মুছে একটা রিকশায় উঠলো। ফোন আসলো! অর্পি ফোন করেছে। ফোন ধরল অর্পি বলে সে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঐইখান থেকে তাকে সাথে করে নিতে। সুহান রিকশাওয়ালাকে অর্পির বাসার দিকে যেতে বলল। রিকশাচালক ঐদিকে যেতে লাগল। অর্পির বাসার সামনে গিয়ে দেখতে পেল অর্পি দাঁড়িয়ে আছে। অর্পি রিকশায় উঠে সুহানের দিকে তাকালো। অর্পি বুঝে ফেললো, সুহানের মন খারাপ! সুহানকে জিজ্ঞাসা করলো, মন খারাপ কেনো? (অর্পি) বহুদিন মা-বাবা ও বোনটিকে দেখিনা , হঠাৎ তাদের মনে পড়ছে তাই খুবই কষ্ট হচ্ছে (সুহান) তাহলে একদিন চলে যাও। দেখে আসো। (অর্পি) হুম ভাবছি এই মাসের বেতন পাওয়ার পরই গ্রামে গিয়ে মা-বাবাকে আর আমার বোনটিকে দেখে আসবো। (সুহান) আমাকে সাথে নিবা... (অর্পি) অর্পি এমনভাবে বলল যাতে সুহানের মুখে হাসি চলে আসে! সুহান সত্যিই সত্যিই মুচকি হাসি দিল! আর বলল, না তোমাকে এখনও নিবো না, পরে একদিন সারাজীবনের জন্য নিয়ে যাব। তারপর আর সুহানের মুখে কোনো কষ্টের ছাপ দেখা যায়নি। অর্পি তার অসাধারণ গুণাবলীর দ্বারা সুহানের হাসিমাখা মুখটি আবার ফিরিয়ে আনলো। রিকশাচালক মনে মনে মেয়েটির প্রশংসা করতে লাগল। একটা মেয়ে হয়ে দশমিনিটেই একটা ছেলের মন ভালো করে দিল। সত্যি বাহবা পাওয়ার যোগ্য। "হে নারী স্যালুট তোমায় " রিকশা এসে থামল। দুজন নেমে গিয়ে একটা দাঁড়ালো। বৃত্ত তো এখানে থাকার কথা। মনে হয় এখনও আসেনি। ফোন বের করলো সুহান ! ফোন দিতে যাবে তখনই বৃত্তকে দেখতে পেল। মোটরসাইকেলে করে এদিকে আসছে। সুহান খুশি হয়ে অর্পিকে বলল, এই যে বৃত্ত আসছে। অর্পিও খুশি। বৃত্ত পাশে মোটরসাইকেল রেখে সুহানের কাছে এসে স্বাভাবিক ভাবে দুজন কোলাকুলি করল। তারপর ক্যাফের মধ্যে প্রবেশ করতে যাবে ঠিক তখনই একটা কালো গাড়ী এসে থামলো তাদের পাশে! কয়েকজন ছেলে এসে সুহানকে ধরলো। টেনেহেঁচড়ে তাকে গাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অর্পি এসে ছেলেদের পা জড়িয়ে ধরে সুহানকে ছেড়ে দেয়ার জন্য আকুলভাবে মিনতি করল। অর্পিকে ধাক্কা মেরে ওরা সুহানকে গাড়ীতে তুলতে যাবে ঠিক তখনই....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(শেষ পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব : ১২)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব : ১১)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ১০)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব ৯)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৮)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৭)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব ৬)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব :৫)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(পর্ব :৪)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ(৩য় পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (২য় পর্ব)
→ অভিশপ্ত ফ্রেন্ডশীপ (পর্ব-১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now