বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক শর্তে দিতে পারি... (সুহান)
অনেক আগ্রহ নিয়ে অর্পি বললো কি শর্ত! (অর্পি)
অনেক ভালোবাসতে হবে... আমার নিজ হাতে খেতে ভালো লাগেনা, মুখে তুলে খাওয়াতে হবে!
যাহ পাগল বলে অর্পি ফোন রেখে
দিয়ে মেসেজিংয়ে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক রচনাবলী লিখা করল শুরু!
" আমি সব শর্তে রাজি বলনা আমায় ভালোবাসো তুমি " বার্তাটি সেন্ড করেই অপেক্ষায় থাকলো, সুহান মেসেজের উত্তর কখন দিচ্ছে!
সুহান মেসেজের উত্তর দেয়নি! ফোন দিল অর্পিকে!
অর্পি ফোন ধরে কানের কাছে নিল না, হাতের কাছে ফোনটি রাখল, ফোন কানে ধরতে তার লজ্জা লাগছে! না জানি কি বলবে??
সাউন্ড একটু বাড়িয়ে শুনতে পেল " প্লিজ কথা বল"
যাক এবার কিছুটা সাহস পেয়ে কানের কাছে নিয়ে গেল। মৃদ স্বরে বলে উঠল, হ্যালো।
সুহান ওপরপাশ থেকে বলল, যাক রাজকন্যার মুখে কথা ফুটেছে। একটু হাসি দিয়ে কথাটা বলায় অর্পি সম্পুর্ণ সুহানে আকুল হয়ে পড়ল সাথে অনেক খুশি হয়েছে, সুহান তাকে রাজকন্যা বলেছে এই জন্য!
সুহান অর্পিকে দেখা করার কথা বলল!
অর্পি রাজি! সে দেখা করতে চায়।
সুহানের কাছে দেখা করার সময় চাইলে সুহান বলল, আগামীকাল সকাল ১০টা কলেজ ক্যাম্পাসে!
অর্পি আচ্ছা ঠিক আছে বলে
ফোন রেখে দিল। সুহান আজকে অনেক বেশি খুশি, লিখতে বসলো ডায়রী হাতে নিয়ে! আজ আর অন্যকারো গল্প লিখবেনা। আজ শুধুই অর্পিকে নিয়ে লিখবে। অর্পির মায়াবী মুখ, চাঁদের কিরণে আলোকিত দুটি চোখ, আকর্ষিত দুটি ঠোঁট! এইসব নিয়ে লিখলেই ১০০ টা ডায়রী শেষ হয়ে যাবে! ধুর আজ আর গল্প লিখতে ভালো লাগছেনা । শুধু অর্পিকে মনে পড়ছে ! মনটা এখনই অর্পির কাছে চলে যেতে চাইছে! উফফরে, এ কেমন জালারে বাবা!
অর্পির কাহিনীটা আরো জঠিল। খুশিতে কি করবে কিছুই তার মাথায় নেই । চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে পাগলের মত নাঁচতেছে! কিছুক্ষণ পর হাঁপিয়ে পড়লে একটা অট্টোহাসি দিয়ে বিছানার গভীরতায় লুকিয়ে বন্দিনী হলো কম্বলের নিচে! কিন্তু লুকিয়ে থাকতে পারলো কই! কোল বালিশটি এসেই তারকাছে হাজির! প্রতিটা মেয়েই প্রেম করার পর প্রেমিকের অবর্তমানে কোলবালিশকেই প্রেমিকের মর্যাদা দিয়ে ফেলে এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্পির ক্ষেতেও তাই ঘটল। অর্পি কোলবালিশের সাথে নানা স্বপ্নোত্থিত কথা বলেই যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সুহান মনে করে ঝাঁপটিয়ে ধরছে! এরকম পাগলামী করে দুজনই রাত পার করে দিল।
সকাল ৮টা....
অর্পি রেডি! দেখা করার কথা ১০ টায়!
আর সে আটটায় চলে যাচ্ছে, উফফ এতোক্ষণ একা থাকবে! সারাশরীর ঝিরঝিরিয়ে উঠল!
সকাল ৮.৪৫ !
অর্পি এখন কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকছে।
ধীরে ধীরে একটু একটু করে পা ফেলছে সামনের দিকে! চারদিকে একটাও মানুষ নেই। সামান্য ভয় পেল অর্পি!
হেঁটে হেঁটে সামনের দিকে চলল। প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বাংলা বিভাগের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল একজন মানুষ বেঞ্চে বসে কি যেন পড়ছে! কিছুটা ভয়ের সাথে কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে গেল ঐদিকে....
এবার সে যা দেখলো তাতে শুধু অবাকই হলো না, আনন্দে চোখের পানি ছেড়ে দিল! এই মানুষটি তো সুহান! এতো সকালে এসে তারজন্য অপেক্ষা করছে! সুহানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো!
উপরের তাকিয়ে অর্পিকে দেখে সুহান নিস্তব্ধ হয়ে পড়লো । অর্পির চোখের দিকে চেয়েই সে কল্পনা রাজ্যে চলে গেল। অনেকক্ষণ অর্পির চোখের তাকানোতে অর্পির লজ্জা চলে আসলো, সে চোখ নিচু করে সুহানকে বলল, কি দেখছো?
সুহান বাস্তবে চলে আসলো! তারপর বলল, তোমাকে দেখছি, মানুষ এতো মিষ্টি হয় তোমার দিকে না তাকালে বুঝতে পারতাম না। (সুহান)
যাহ বাড়িয়ে বলছো(অর্পি)
মোটেও বাড়িয়ে বলছি না। মাটির ওপর দাঁড়িয়ে বলছি,
আমার জীবনে যদি একটি সত্য কথা বলি তাহলে এই কথাটি হলো সেই কথা!
অর্পি আর কিছু বলছেনা। শুধু চেয়ে আছে সুহানের মায়াবী মুখটার দিকে।
পাশে রাখা ফুলের তোড়াটা সুহান হাতে নিয়ে অর্পিকে দিয়ে বলল, এটা তোমার জন্য।
অর্পি ফুলের তোড়াটা নিয়ে যত্নসহকারে ব্যাগের মধ্যে রাখলো।
হাতটা বের করতেই সুহান হাতটা ঝাপটিয়ে ধরে ফেললো!
অর্পি ব্যর্থভাবে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। সুহানকে বলল,
এই কি করছেন? কেউ দেখে ফেলবে তো! ছাড়ুন না...!(অর্পি)
কেনো কোনো সমস্যা?(সুহান)
আমার শরীরে কেমন করতেছে! আমাকে এখনই না ছাড়লে হয়তো পড়েই যাবো (অর্পি)
সুহান কোন কথা বলল না। টান মেরে অর্পিকে কাছে নিয়ে বুকের মধ্যে আঁটকে দিল। চারদিক স্তব্ধ। আকাশ আর পাতাল এই মুহূর্তে এক হয়ে গেছে। পাখিরা তাকিয়ে এই দৃশ্যটাই দেখছে! গাছ আর নিরবতা সহ্য করতে পারেনি। কোলাহলময় বাতাস দিয়ে সুহান - অর্পির প্রথম অধ্যায়কে রাঙিয়ে তুলছে। অর্পি ইতিমধ্যেই সুহানের বুকে লুকিয়ে আছে। এখন আর শরীর কাঁপছেনা! তার ছাড়তেও ইচ্ছা হচ্ছে না! বারবার চাইছে উপরওয়ালা তাদেরকে যেন সারাজীবন এইভাবে রেখে দেন! আরো বেশি জড়িয়ে ধরলো সুহানকে ! সুহান এবার মুখ খুলে বলল,এই পবিত্র মাটির ওপর দাঁড়িয়ে, আকাশে নিচে থেকে, পাখিদের দৃষ্টির সামনে থেকে , কোলাহলময়ী বাতাসের সঙ্গে তালমিলিয়ে বলছি,
"আমি তোমাকে ভালোবাসি" I Love you so much......!
সুহান এবার আরো বেশি উষ্ণতা বুঝতে পেল। অর্পি আরো চেপে ধরেছে! মৃদ স্বরে,
"I Love you too" বলল! সুহান আর থামবে কিভাবে দিল আরো একটু চাপ! পরক্ষণে একটা শব্দ আসলো " এই আমাকে মেরে ফেলবে নাকি? "
না! তোমাকে বুকের মধ্যে সারাজীবনের জন্য সুপারগ্লো দিয়ে রেখে দেবো! যাতে কখনও ছেড়ে যেতে না পারো।(সুহান)
আমি তোমাকে কখনও ছেড়ে যাবো না। আর যদি যাই তাহলে আমি আর কখনও এই আমি থাকবো না। এখন চলো ঐ দিকে গিয়ে বসি। (অর্পি)
দুজন বসে পার্কের একপাশে একটা বটগাছের নিচে।
সুহানের মোবাইলে ফোন আসলো। মোবাইল বের করে দেখলো বৃত্তের নাম্বার।
হ্যালো.. (সুহান)
সুহান কই তুই (বৃত্ত)
এই আমি কলেজে আছি রে(সুহান)
এত সকালে কলেজে কেন? (বৃত্ত)
তুই তাড়াতাড়ী আয় সারপ্রাইজ আছে ! (সুহান)
সারপ্রাইজ! তুই দিবি সারপ্রাইজ! হাহাহা আচ্ছা আসছি (বৃত্ত)
আয়....
বৃত্ত তৈরি হতে বেশি সময় লাগলো না। মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে কলেজে চলে আসলো।
এসেই সুহানকে ফোন দিল,
কইরে তুই (বৃত্ত)
তুই কই... (সুহান)
আমি কলেজ গেটে আছি। (বৃত্ত)
তুই ছাউনীতে গিয়ে বস আমি আসছি। (সুহান)
বৃত্ত আচ্ছা বলে ছাউনীতে গিয়ে বসলো।
সুহান অর্পিকে নিয়ে বৃত্তের দিকে আসতে লাগলো।
বৃত্ত বসে বসে চারদিকে তাকাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখ পড়ল, সুহান আর অর্পির দিকে। এই সারপ্রাইজ! ওহ মাই গড!
সুহান অর্পিকে নিয়ে এইদিকে আসছে! সুহান কি জেনে গেছে আমি অর্পিকে ভালোবাসি!
সুহান কিভাবে জানলো আমি অর্পিকে ভালোবাসি। এই জন্যই গাঁদাটা আমার কাছে অনেক বেশি স্পেশাল। কিছু বলার আগেই বুঝে ফেলে। আল্লাহ , আমি এখন অর্পির কাছে এইভাবে যাব কেমনে?
সুহানের বাচ্চা আগে যদি বলতে তাহলে তো ভালো করে সেজেগুজে আসতাম! কি করলি তুই এটা!
সুহান আর অর্পি সামনে এসে দাঁড়ালো। বৃত্ত মিটিমিটি হাসছে!......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now